নীরব চোখের লুকোনো আগুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে রাইসা ভাবছিল, রুদ্রর মতো একটা মানুষ কীভাবে এত নিখুঁত হতে পারে। ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে শান্ত ছেলে, ক্লাসে লেকচার শোনার সময় একদম পাথরের মূর্তি, পরীক্ষার খাতায় বরাবর সবার ওপরে নম্বর—সব মিলিয়ে একটা বিরক্তিকর রকমের পারফেকশন। রাইসার স্বভাব তার ঠিক উল্টো। সে যেখানেই যায়, একটা ছোট্ট ঝড় বয়ে যায়। আড্ডার প্রাণকেন্দ্র, হাসিমুখ, আর একটু আধটু দুষ্টুমি তার প্রতিদিনের সঙ্গী। কিন্তু এই অদ্ভুত নিস্তব্ধতাওয়ালা ছেলেটাকে দেখলে রাইসার মাথার ভেতর খটকা লাগে। এই যুগে এত শান্ত একটা মানুষ থাকতে পারে? একে একটু নাড়া না দিলে দিনটাই যেন মাটি হয়।

পরিকল্পনাটা মাথায় আসতেই ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি খেলে গেল। রাইসা নিজের মনেই বলল, "দাঁড়াও মিস্টার পারফেক্ট, তোমার এই ভদ্দরলোকের খোলসটা আজকেই খুলছি।"

সুযোগটা এল দুপুরের দিকে, যখন ডিপার্টমেন্টের লাইব্রেরির সামনে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে। রুদ্র একটা মোটা বইয়ের পাতা উল্টে একা একা কি যেন পড়ছিল। তার চারপাশে একটা শীতল গাম্ভীর্য বজায় থাকে সবসময়, কেউ সহজে ঘেঁষতে সাহস পায় না। রাইসা ধীর পায়ে গিয়ে ঠিক তার সামনের চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ল। রুদ্র চোখ তুলল না, বই থেকে চোখ সরালও না।

রাইসা গলাটা একটু চড়িয়ে বলল, "শুনছেন মিস্টার সুব্রত দা... মানে অনিমেষ ভাইয়া... সরি, রুদ্র ভাইয়া!"

রুদ্র এবার শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল। চোখের চশমাটা সামান্য ওপরে তুলে বলল, "আমার নাম রুদ্র। এর মধ্যে ব্রত বা অনিমেষকে টানার কোনো মানে হয় না।"

রাইসা মিষ্টি হেসে বলল, "আরে নাম নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন! মানুষ তো ভেতরটা নিয়ে বাঁচে। আপনার ভেতরের গোলমালটা একটু দেখার শখ হলো আর কী।"

রুদ্র ভ্রু কুঁচকে আবার বইয়ে মনোযোগ দিল। "আমার ভেতরে কোনো গোলমাল নেই। পড়ার সময়টা অন্তত একটু শান্তি দিও, রাইসা।"

"শান্তি? সে তো কবরস্থানে গিয়ে পাবেন। এখানে থাকতে গেলে একটু কোলাহল সহ্য করতেই হবে," রাইসা খিকখিক করে হেসে উঠল।

পরের দুদিন রাইসা তার এই নতুন প্রোজেক্ট বেশ নিষ্ঠার সাথে চালিয়ে গেল। কখনো রুদ্রর নোটবুকটা লুকিয়ে রেখে বলত, "উইপোকা খেয়ে ফেলেছে বোধহয়!", কখনো ক্যান্টিনে ওর পছন্দের টেবিলে আগে থেকেই গিয়ে বসে বলত, "এই জায়গাটা আজ থেকে আমার রিজার্ভ।" রুদ্র প্রতিবারই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলত, বইয়ের পাতা উল্টে অন্যদিকে চলে যেত। রাইসার মনে তখন জয়ের উল্লাস—ছেলেটা আসলেই একটা আস্ত ভেজা বিড়াল! যা বল তাই শোনে, কোনো তেজ নেই।

কিন্তু মানুষের মন বোঝা বড় দায়। চতুর্থ দিনের বিকেলে লাইব্রেরির একটা কোণায় বসা ছিল রাইসা। চারপাশটা বেশ থমথমে, কারণ আজ ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। রাইসা খাতায় কি যেন হিসাব করছিল, এমন সময় হঠাৎ করেই তার চেয়ারের পেছনের অন্ধকার করিডোর থেকে একটা গভীর কণ্ঠস্বর কানে এল।

"অন্যের জিনিস লুকিয়ে রেখে নিজের বুদ্ধিমত্তা জাহির করার আনন্দটা কেমন, রাইসা?"

রাইসা চমকে পেছনে ফিরল। রুদ্র খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তার চশমাটা একটু নামানো, চোখে এক অদ্ভুত মিটমিটে আলো—যে আলো রাইসা আগে কখনো দেখেনি। ওই শান্ত, নিষ্প্রাণ চেহারার আড়ালে এই রূপ লুকিয়ে ছিল, ভাবাই যায় না।

রাইসা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে বলল, "কীসব আজেবাজে বকছেন! আমি আবার কী করলাম?"

রুদ্র এক পা এগিয়ে এল। তার উচ্চতার কারণে রাইসাকে একটু ওপরে তাকাতে হচ্ছিল। রুদ্রর শরীর থেকে ভেসে আসা হালকা উড ও পারফিউমের সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল। ছেলেটা তার দিকে এমনভাবে ঝুঁকে এল যে রাইসার পিঠটা সরাসরি চেয়ারের সাথে সেঁটে গেল।

রুদ্র খুব নিচু, ফিসফিসিয়ে ওঠা গলায় বলল, "তুমি যা করেছ, তার হিসাব তো এক লহমায় চুকিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, আমি সুদ সমেত ফেরত নিতে পছন্দ করি।"

রাইসার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। সে শুধু দেখল, রুদ্রর ডান হাতটা তার চেয়ারের হাতলের ওপর এমনভাবে রাখা, যাতে সে নড়াচড়াও করতে না পারে। একটা অদ্ভুত উষ্ণতা যেন হঠাৎ করেই চারপাশের বাতাসকে ভারী করে তুলল। রাইসা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল, আর রুদ্রর ঠোঁটের কোণে তখন এক বিপজ্জনক পুরুষের হাসির ঝিলিক।

লাইব্রেরির এক কোণে থমথমে পরিবেশ। রুদ্রর গলার আওয়াজ আর চোখের দৃষ্টিতে এমন কিছু একটা ছিল, যা রাইসার বুকটা দড়াস করে বাড়িয়ে দিল। যে ছেলেটা গত তিনদিন ধরে কোনো কথার জবাব দেয়নি, মুখ বুজে সয়ে গেছে, সে আজ এতটা সাহসী? রাইসা কিছুটা থমকে গেলেও নিজের আত্মসম্মান আর জেদ বজায় রাখার চেষ্টা করল।

সে হালকা একটা ঢোক গিলে চোখ দুটো বড় বড় করে বলল, "সুদ সমেত ফেরত নেবেন মানে? আপনি কি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন, রুদ্র ভাইয়া?"

রুদ্রর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসিটা আরও একটু গভীর হলো। সে একটুও না সরে, রাইসার একেবারে কাছাকাছি ঝুঁকে এল। তাদের মধ্যে ব্যবধান এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির। রুদ্রর নিঃশ্বাসের ওম রাইসার গালে আর গলায় এসে লাগছে।

"হুমকি? না তো," রুদ্রর কণ্ঠস্বর এখন এক নিঃশব্দ সুরের মতো শোনাচ্ছে, "ভদ্র ছেলেরা কখনো হুমকি দেয় না, রাইসা। তারা কাজের কাজটা করে দেখায়। তুমি আমাকে তিনদিন ধরে নাচাচ্ছ, তাই না? নাম ভুল ডাকছ, পছন্দের সিট দখল করছ, নোটবুক লুকাচ্ছ... তোমার কি মনে হয় আমি বুঝতে পারি না?"

রাইসা নিজের অজান্তেই চেয়ারের পেছনে আরও সেঁটে গেল। রুদ্রর এই অচেনা রূপটা তার চেনা সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিচ্ছে। সে তো চেয়েছিল একটা ভেজা বিড়ালকে ক্ষ্যাপাতে, কিন্তু এ তো পুরো এক বুনো বাঘ!

রাইসা নিজের নার্ভাসনেস ঢাকতে বলল, "সরে দাঁড়ান! কেউ দেখে ফেললে কিন্তু কেলেঙ্কারি হবে।"

"দেখুক," রুদ্রর গলায় কোনো ভয় বা অনুশোচনার চিহ্নমাত্র নেই। সে ডান হাতটা বাড়িয়ে রাইসার গালের ওপর থেকে একগোছা চুল খুব আলতো করে সরিয়ে কানের পেছনে গুঁজে দিল। রুদ্রর আঙুলের আলতো স্পর্শ রাইসার তুলতুলে চামড়ায় লাগতেই একটা তড়িৎ প্রবাহ বয়ে গেল যেন তার সমস্ত শরীরে। রাইসার শিহরণ দিয়ে উঠল। সে হাত দুটো শক্ত করে নিজের কোলে চেপে ধরল।

রুদ্র এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে এল। তার শরীরের উত্তাপ রাইসা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে। রাইসার ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছিল। রুদ্র তার দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল, "তুমি ভেবেছিলে আমি খুব শান্ত, তাই না? কিন্তু রাইসা, সমুদ্র যখন শান্ত থাকে, তখন কিন্তু তলের জলটাই সবচেয়ে বেশি গভীর আর বিপজ্জনক হয়।"

কথাটা শেষ করেই রুদ্র হঠাৎ করে রাইসার ডান হাতের কবজিটা চেপে ধরল। টান দিয়ে তাকে চেয়ার থেকে দাঁড় করিয়ে দিল। রাইসা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করল রুদ্রর বুক আর দেয়ালের মাঝখানের অল্প একটু জায়গায়। রুদ্র তার এক হাত দেয়ালে রেখে রাইসাকে পুরোপুরি ঘেরাও করে ফেলেছে।

রাইসার বুক ধড়ফড় করছে, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে এই নিস্তব্ধতায়। সে রুদ্রর দিকে তাকাল—অদ্ভুত এক নেশাক্ত, তীব্র দৃষ্টি নিয়ে রুদ্র চেয়ে আছে তার ঠোঁটের দিকে।

"এখন বলো," রুদ্রর বুকটা রাইসার বুকের সাথে ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রায়, "পরেরবার আমাকে ভুল নামে ডাকার আগে অন্তত দশবার ভাববে তো?"

রাইসার চোখের মনি দুটো কেঁপে উঠল। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না, শুধু রুদ্রর গায়ের সোঁদা সুবাস আর এই অদ্ভুত, গরম নিশ্বাসের উত্তাপে নিজের ভেতরের সব প্রতিরোধকে মুহূর্তে গলে যেতে দেখল। পরিস্থিতিটা পুরোপুরি বদলে গেছে—রাইসা যে ফাঁদ পেতেছিল, সে নিজেই এখন সেই ফাঁদের সবচেয়ে বড় শিকার!

রুদ্রর বুকের সাথে সেঁটে থাকা অবস্থায় রাইসা অনুভব করছিল তার হৃদস্পন্দন কেবল দ্রুত নয়, রীতিমতো অস্বাভাবিক গতিতে ছুটছে। দেওয়াল আর রুদ্রর চওড়া বুকের মাঝখানে সে পুরোপুরি বন্দি। যে পুরুষকে সে এতদিন একটা নিস্তেজ, ক্যাবলা টাইপের ছেলে ভেবে এসেছে, তার গা থেকে এখন তীব্র এক পৌরুষের উত্তাপ ঠিকরে বের হচ্ছে। রাইসার ভেতরের সব জেদ আর দম্ভ মুহূর্তেই উবে গেল, জায়গা করে নিল এক অজানা, মাতাল করা শিহরণ।

রুদ্র তার চোখ জোড়া সরাচ্ছে না। তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো দ্বিধা বা সংকোচের চিহ্নমাত্র নেই, আছে কেবল গভীর এক অধিকারবোধ। সে নিজের এক হাত দেওয়াল থেকে নামিয়ে এনে ধীরে ধীরে রাইসার থুতনিতে রাখল। বুড়ো আঙুল দিয়ে তার নিচের ঠোঁটটা খুব আলতো করে স্পর্শ করতেই রাইসা চোখ দুটো এক নিমেষে বন্ধ করে ফেলল।

"চোখ বন্ধ করছ কেন, রাইসা?" রুদ্রর গলাটা এখন ভারী, অনেক বেশি গম্ভীর। "খেলাটা তো তুমিই শুরু করেছিলে, তাই না? তাহলে মাঝপথে চোখ বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়াটা কি ঠিক হচ্ছে?"

রাইসা কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার গলার নালি শুকিয়ে কাঠ। রুদ্রর বুড়ো আঙুলটা তখন তার ঠোঁটের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে নেমে এসে থামল গলার নিচে, সুফ্ট স্পর্শে নেমে গেল কলার বোনের খাঁজে। রাইসার শরীরজুড়ে এক তীব্র কাঁপন খেলে গেল। সে নিজের দুটো হাত দিয়ে রুদ্রর জামার বুকের কাছটা শক্ত করে চেপে ধরল—ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং নিজের শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যেন পড়ে না যায় সেই আশঙ্কায়।

রুদ্র নিজের মাথাটা নামিয়ে আনল রাইসার ঘাড়ের ভাঁজে। তার গরম নিশ্বাস রাইসার সংবেদনশীল চামড়ায় পড়তেই রাইসার শরীরটা ধনুকের মতো বেকে উঠল। রুদ্রর ঠোঁটের নরম ছোঁয়া যখন তার গলার বাঁকে লাগলো, তখন রাইসার মুখ দিয়ে একটা হালকা ফিসফিসানি বেরিয়ে এল, "রুদ্র... প্লিজ..."

"কী প্লিজ?" রুদ্রর ঠোঁট তখনো তার গলার মসৃণ চামড়া ঘেঁষে নামছে, "থামব? নাকি আরও গভীরে যাব?"

কথাটার সাথেই রুদ্র তার অন্য হাতটা রাইসার কোমরে চেপে ধরল। সে রাইসাকে এক নিমেষে নিজের আরও কাছাকাছি টেনে আনল, যাতে তাদের শরীরের মাঝে সুতো পরিমাণ ফাঁকও আর বাকি না থাকে। রাইসার উদোম পেটের কাছে রুদ্রর আঙুলের উষ্ণ স্পর্শ লাগতেই সে একটা গভীর নিশ্বাস নিল। রুদ্র তার চোখ দুটো তুলে রাইসার চোখের দিকে তাকাল—অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে সেই দুটি চোখ, এক তীব্র কামনার আগুনে তারা ঢাকা।

রাইসা বুঝতে পারল, সে যে আগুনে হাত দিয়েছিল, সেই আগুন তাকে এখন পুরোপুরি পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর সবচেয়ে বড় কথা, সে নিজেও এখন এই আগুনে পুড়তে চাইছে!

রাইসার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় তখন অনুভূতির তুফান বইছে। লাইব্রেরির শেষ প্রান্তের এই নির্জন কোণটি যেন এক অচেনা পৃথিবীতে রূপ নিয়েছে, যেখানে নীতি-নিয়ম আর দ্বিধার কোনো জায়গা নেই। রুদ্রর শক্ত সামর্থ্য হাত দুটি তার কোমর চেপে ধরে আরও কাছে টেনে নিতেই রাইসার মাথাটা সম্পূর্ণ হালকা হয়ে গেল। তার হাত দুটো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উঠে গেল রুদ্রর কাঁধে, তারপর চুলগুলোর মধ্যে আঙুল চালিয়ে দিয়ে সে রুদ্রকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের দিকে টেনে নিল।

রুদ্রর ঠোঁট তখন রাইসার গলার খাঁজ ছেড়ে উঠে এসেছে তার চিবুকে, তারপর গালে। রাইসা নিজের চোখ দুটো বুঁজে আচ্ছন্ন হয়ে সেই তীব্র স্পর্শগুলো উপভোগ করছিল। রুদ্রর পুরুষালি সুবাস আর গরম নিশ্বাস তার শরীরের প্রতিটি কোণে এক মাতাল উন্মাদনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সে কখনো ভাবেনি, এই শান্ত চশমা পরা ছেলেটার ভেতরে এমন এক উগ্র আগ্নেয়গিরি সুপ্ত অবস্থায় ছিল।

"রুদ্র..." রাইসার কণ্ঠ দিয়ে কোনো স্পষ্ট শব্দ ফুটছিল না, কেবল এক ব্যাকুল আকুতি ঝরে পড়ছিল।

রুদ্র থমকে দাঁড়াল না। সে এক হাত রাইসার কোমরের বাঁধন আরও শক্ত করে অন্য হাত দিয়ে রাইসার পিঠের ওপর আলতো করে টেনে আনল। শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে একটু সরে যেতেই রুদ্রর গরম হাতের তালু সরাসরি স্পর্শ করল রাইসার খোলা পিঠের মসৃণ চামড়া।

রাইসার মুখ দিয়ে একটা হালকা গোঙানির মতো শব্দ বেরিয়ে এল। এক অদ্ভুত শিহরণে তার সমস্ত গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠল। সে রুদ্রর বুকের ওপর নিজের মাথাটা চেপে ধরল। রুদ্রর বুকের ভেতরের ধুকপুকানি তখন ভীষণ দ্রুত—ঠিক তার নিজের মতোই।

রুদ্র এবার নিজের মুখটা রাইসার চোখের খুব কাছে নিয়ে এল। তার চোখের দৃষ্টি এখন পুরোপুরি গাঢ় ও নেশাক্ত। সে নিচু, গম্ভীর স্বরে বলল, "এখনো আমাকে জ্বালাতন করার ইচ্ছে আছে, রাইসা? নাকি স্বীকার করবে যে তুমি সম্পূর্ণ হেরে গেছ?"

রাইসা রুদ্রর চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে হারের কোনো বিরক্তি নেই, আছে কেবল এক অনাবিল আত্মসমর্পণ। সে আধবোজা চোখে রুদ্রর ভেজা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে রইল। তার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠে খুব সামান্য ফাঁক হলো।

রুদ্র আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করল না। সে রাইসার কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই নিজের ঠোঁট দুটো চেপে ধরল রাইসার রসভরা নরম ঠোঁটের ওপর। এক মুহূর্তে যেন সময়ের গতি স্তব্ধ হয়ে গেল। রাইসা নিজের হাত দুটো রুদ্রর পিঠে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার এই প্রথম, গভীর আর তীব্র চুম্বনে নিজেকে পুরোপুরি ভাসিয়ে দিল।

গভীর সেই চুম্বনে রাইসা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছিল। রুদ্রর ঠোঁটের স্পর্শে ছিল এক অদ্ভুত তীব্রতা, যা রাইসার ভেতরের সব চিন্তাভাবনা আর যুক্তিবোধকে এক মুহূর্তে উধাও করে দিয়েছে। রুদ্র খুব ধীরে, কিন্তু গভীর এক আবেশে রাইসার ঠোঁট দুটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছিল। রাইসা কোনো বাধা দিল না, দিতে পারলও না। বরং সে নিজের হাত দুটি রুদ্রর গলার চারপাশে পেঁচিয়ে ধরে নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিল।

রুদ্রর এক হাত রাইসার পিঠের খোলা অংশজুড়ে ক্রমশ উঁচুতে উঠছিল, আর অন্য হাতটি রাইসার কোমর আঁকড়ে ধরে তাকে দেয়ালের সাথে আরও শক্ত করে চেপে ধরছিল। তাদের দুজনের উত্তপ্ত নিশ্বাস এক হয়ে মিশে যাচ্ছিল সেই নীরব, অন্ধকার ঘরে। রাইসা অনুভব করছিল রুদ্রর শরীরের প্রতিটি মাংসপেশীর দৃঢ়তা, আর সেই সাথে তার বুকের ভেতরের অনিয়ন্ত্রিত ধুকপুকানি।

কিছুক্ষণ পর রুদ্র সামান্য একটু সরে এসে রাইসার ঠোঁট দুটি মুক্ত করল। রাইসা তখন হাঁপাচ্ছে, তার চোখ দুটো নেশাগ্রস্তের মতো আধবোজা, কপালে আর গালে জমেছে একফোঁটা ঘাম।

রুদ্র রাইসার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে খুব নিচু স্বরে ফিসফিসিয়ে বলল, "তোমার কি মনে হয়, গল্পটা এখানেই শেষ?"

রাইসার মুখ দিয়ে কোনো কথা ফুটল না। সে কেবল চোখ তুলে রুদ্রর দিকে তাকাল। সেই চাহনিতে ছিল চরম আকুতি আর এক অপার তৃষ্ণা।

রুদ্র তার বুড়ো আঙুল দিয়ে রাইসার ঠোঁটের কোণ থেকে জমে থাকা আর্দ্রতাটুকু মুছে দিল। তারপর এক ঝটকায় রাইসাকে নিজের কোলে তুলে নিল। রাইসা চমকে উঠে রুদ্রর কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরল। রুদ্র তাকে নিয়ে পাশের এক কোণের টেবিলটার দিকে এগিয়ে গেল, যেখানে লাইব্রেরির অকেজো আর পুরোনো জিনিসপত্র রাখা থাকে—সম্পূর্ণ জনমানবহীন এক অন্ধকার স্থান।

রাইসাকে টেবিলের ওপর বসিয়ে দিয়ে রুদ্র আবার তার দুপাশের জায়গায় হাত রেখে তার ওপর ঝুঁকে পড়ল। এবার তার দৃষ্টিতে আর কোনো সুপ্ত ভাব নেই, এক অদম্য কামনার স্পষ্ট আলো জ্বলছে।

রুদ্র তার হাত দুটি রাইসার উরুর মসৃণ চামড়ার ওপর নামিয়ে আনল। রাইসার পরনের শাড়ির কুঁচি কিছুটা সরে গিয়ে উন্মুক্ত হয়ে পড়া উরুতে রুদ্রর গরম হাতের তালু লাগতেই রাইসা শিউরে উঠে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল।

"রুদ্র... আমরা কোথায় যাচ্ছি বলতো?" রাইসার কণ্ঠস্বর জড়িয়ে আসছিল।

রুদ্র রাইসার গালে নিজের মুখ ঘষে নিচু স্বরে বলল, "যেখানে শুধু তুমি আর আমি ছাড়া আর কোনো নিয়মকানুন থাকবে না।"

পুরোনো টেবিলের ওপর বসে থাকা রাইসার শরীরের প্রতিটি পেশি তখন রুদ্রর স্পর্শের মোহে থরথর করে কাঁপছিল। টেবিলের ওপর জমে থাকা ধুলো কিংবা চারপাশের অন্ধকার—কোনো কিছুই তাদের দুজনের ভেতরের এই মাতাল উত্তাপকে আড়াল করতে পারছিল না। রুদ্রর হাতের তালু রাইসার উন্মুক্ত উরু ঘেঁষে ধীরে ধীরে আরও ওপরের দিকে উঠে আসছিল। প্রতিটি ইঞ্চিতে তার শক্ত, গরম আঙুলের স্পর্শ রাইসার শরীরের গভীরে এক অজানা আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছিল।

রাইসা দুই হাতে রুদ্রর কাঁধের শার্টটা আঁকড়ে ধরল। তার নখগুলো রুদ্রর শার্ট ফুড়ে পিঠের চামড়ায় গেঁথে যাচ্ছিল। সে মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে দিল। তার ফর্সা, মসৃণ গলা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে উঠতেই রুদ্র আর দেরি করল না। সে নিজের মুখটা নামিয়ে এনে রাইসার কলার বোন আর গলার ভাঁজে তীব্রভাবে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল।

"উফফ... রুদ্র..." রাইসার মুখ দিয়ে এক গভীর আর্জি বেরিয়ে এল। সে নিজেকে আর সামলাতে পারছিল না।

রুদ্র তার ঠোঁট দিয়ে রাইসার চামড়ায় হালকা কামড় বসিয়ে দিল। সেই মৃদু কামড়ের সুখানুভূতিতে রাইসা এক অন্য জগতে হারিয়ে যাচ্ছিল। রুদ্রর উগ্রতা আর ভালোবাসার এই অদ্ভুত মিশ্রণ তাকে পুরোপুরি পাগল করে দিচ্ছিল। রুদ্র তার শাড়ির আঁচলটা পুরোপুরি সরিয়ে দিল। রাইসার পাতলা ব্লাউজের ওপর দিয়ে রুদ্রর হাতের বুনো স্পর্শ নেমে এল তার বুকের ওপর।

রাইসার বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছিল। রুদ্রর হাতের উষ্ণ চাপ আর আঙুলের সুক্ষ্ম নাড়াচাড়ায় সে নিজের ওপর থেকে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। রুদ্র তার ভেজা ঠোঁট জোড়া রাইসার গলার খাঁজ থেকে নামিয়ে এনে ব্লাউজের উন্মুক্ত অংশের ওপর চেপে ধরল। সে রাইসার পেটের ওপর নিজের গরম নিশ্বাস ছাড়ছিল, আর প্রতিটি নিশ্বাসে রাইসার শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠছিল।

"তুমি এতদিন আমাকে জ্বালিয়েছ, তাই না?" রুদ্র রাইসার নাভির কাছে নিজের ঠোঁট ছোঁওয়াল, গভীর আর উগ্র সেই স্পর্শ। "আজ তার পুরো দাম আমাকে দিতে হবে, রাইসা।"

রাইসা আধবোজা চোখে তাকাল। তার দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন কোনো অহংকার নেই, কোনো জেদ নেই—আছে কেবল নিজেকে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দেওয়ার এক চরম আকুলতা। সে হাত বাড়িয়ে রুদ্রর শার্টের বোতামগুলো একের পর এক খুলতে শুরু করল। রুদ্রর চওড়া, গরম বুকটার স্পর্শ নিজের হাত দিয়ে পেতেই রাইসার ভেতরের কামনার শিখা আরও দ্বিগুণ হয়ে জ্বলে উঠল।

দুই উত্তপ্ত শরীর এখন একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে গেছে, যেখানে কোনো দূরত্ব বা আড়াল রাখার সুযোগ নেই। রুদ্র রাইসার কোমর দুটো আরও শক্ত করে চেপে ধরে তাকে নিজের আরও কাছাকাছি টেনে আনল, আর রাইসা এক অদ্ভুত তৃষ্ণায় রুদ্রর ঠোঁটে আবার নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল।

....
👁 22