বৃষ্টির রাতে হারানো দূরত্ব

বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছিল জানালার কাঁচে। ঢাকার একটা শান্ত আবাসিক এলাকার ছোট্ট ফ্ল্যাটে বসে আরিয়ান আর নয়নারা চা খেতে খেতে কথা বলছিল। বিয়ের পর তিন মাস কেটে গেছে। এখনো তাদের নতুন জীবনটা একটু একটু করে গড়ে উঠছে।
আরিয়ান ছিল একটা আইটি কোম্পানির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। নয়না পড়াতো একটা কলেজে ইংরেজি সাহিত্য। দুজনেরই স্বপ্ন ছিল একটা সুন্দর, শান্ত সংসার। বিয়ের আগে তারা অনেক কথা বলেছিল—কীভাবে একে অপরকে সময় দেবে, কীভাবে ছোট ছোট জিনিস নিয়ে খুশি থাকবে। কিন্তু বিয়ের পর জীবন যে এত সহজ হয় না, সেটা তারা ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিল।
একদিন সন্ধ্যায় আরিয়ান বাড়ি ফিরল দেরিতে। অফিসে প্রজেক্টের ডেডলাইন ছিল। নয়না রান্না করে বসে ছিল। টেবিলে গরম ভাত, মাছের ঝোল আর সবজি সাজানো। সে অপেক্ষা করছিল। ফোন করেছিল দুবার, কিন্তু আরিয়ানের ফোন ব্যস্ত ছিল।
দরজা খুলতেই নয়না বলল, “কত দেরি হলো? আমি এতক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম।”
আরিয়ান জুতো খুলতে খুলতে বলল, “অফিসে প্রেশার ছিল। তুমি জানোই তো। এখনো কাজ বাকি আছে।”
নয়নার কণ্ঠে একটু অভিমান ভরল। “প্রতিদিনই প্রেশার। আমিও সারাদিন ক্লাস নিয়ে এসেছি। তারপর রান্না করে বসে আছি। একটা কলও করতে পারলে না?”
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল, “আমার ফোন ব্যস্ত ছিল। তুমি এত ছোট বিষয় নিয়ে রাগ করছ কেন?”
সেই রাত থেকেই শুরু হলো ছোট ছোট অভিমান। প্রথমে তারা মনে করত এগুলো স্বাভাবিক। কিন্তু দিনের পর দিন সেই অভিমানগুলো জমে উঠতে লাগল।
এক সপ্তাহ পর আরিয়ানের মা ফোন করে বললেন, “বৌমাকে নিয়ে একদিন আয়। আমরা সবাই মিলে খাব।”
নয়না শুনে খুশি হলো। কিন্তু আরিয়ান বলল, “এ সপ্তাহে সম্ভব না। অফিসে মিটিং আছে।”
নয়না চুপ করে গেল। সে জানত আরিয়ানের অফিসের চাপ আসলেই বেশি। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল, আরিয়ান তার পরিবারকে একটু কম গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাতের খাবারের সময় নয়না খুব কম কথা বলল। আরিয়ান লক্ষ্য করল।
“কী হয়েছে?” সে জিজ্ঞেস করল।
নয়না মাথা নাড়ল। “কিছু না।”
“কিছু না মানে? তুমি চুপ করে আছ।”
“তুমি সব সময় বলো ‘কিছু না’। আমি যদি বলি কিছু আছে, তখন তুমি বলো আমি অতিরিক্ত ভাবি।”
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে উঠে গেল। “তুমি সব সময় এভাবে অভিমান করো। আমি ক্লান্ত। একটু শান্তি চাই।”
নয়নার চোখে জল এসে গেল। সে চুপ করে থাকল। সেই রাত থেকে তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হতে শুরু করল।
দিন যেতে লাগল। আরিয়ান অফিসে ব্যস্ত থাকত। নয়না কলেজ থেকে ফিরে একা একা সময় কাটাত। তারা একে অপরের সঙ্গে কম কথা বলত। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তর্ক হতো। কখনো রান্নার বিষয় নিয়ে, কখনো টাকার হিসাব নিয়ে, কখনো আরিয়ানের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে।
একদিন নয়নার সহকর্মী একটা পার্টিতে ডাকল। নয়না আরিয়ানকে বলল, “চলো না একসাথে যাই।”
আরিয়ান বলল, “আমার মন নেই। তুমি একা যাও।”
নয়না গেল। পার্টিতে সে হাসল, কথা বলল, কিন্তু মনটা ভারী ছিল। বাড়ি ফিরে এসে দেখল আরিয়ান ঘুমিয়ে আছে। সে পাশে শুয়ে ভাবল—এভাবেই কি তাদের জীবন চলবে?
পরের দিন সকালে আরিয়ান উঠে চা বানাতে গেল। নয়না এসে বলল, “গতকাল তুমি একা থাকতে চেয়েছিলে। আজও কি একা থাকতে চাও?”
আরিয়ান ঘুরে তাকাল। “তুমি কী বলতে চাচ্ছ?”
“আমি বলতে চাচ্ছি যে তুমি আমাকে দূরে সরিয়ে রাখছ। বিয়ের আগে তুমি বলতে আমরা সব সময় একসঙ্গে থাকব। এখন তুমি শুধু অফিস আর ঘুম।”
আরিয়ানের মুখ লাল হয়ে গেল। “আমি পরিবার চালাচ্ছি। টাকা উপার্জন করছি। তুমি কি সেটা বোঝো না?”
“টাকা সবকিছু না। আমি তোমার সময় চাই। তোমার মনোযোগ চাই।”
তর্ক বেড়ে গেল। শেষে আরিয়ান চলে গেল অফিসে। নয়না একা বসে কাঁদল। সে ভাবল, হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিয়ে করে।
সেই দিন থেকে তাদের মধ্যে কথা কম হয়ে গেল। তারা একই ঘরে থাকত, একই বিছানায় শুতো, কিন্তু মন দুটো আলাদা হয়ে গিয়েছিল। নয়না কখনো কখনো ভাবত চলে যাওয়ার কথা। আরিয়ানও ভাবত, হয়তো তারা মিলেনি।
একদিন রাতে বৃষ্টি পড়ছিল। আরিয়ান দেরিতে ফিরল। নয়না ঘুমিয়ে ছিল। আরিয়ান পাশে শুয়ে নয়নার মুখের দিকে তাকাল। বৃষ্টির আলোয় নয়নার মুখটা কোমল লাগছিল। আরিয়ানের মনে পড়ল বিয়ের আগের দিনগুলো। কীভাবে তারা হাসত, কীভাবে একে অপরকে চিঠি লিখত, কীভাবে নয়না তার জন্য গান গাইত।
সে নয়নার হাত ধরল। নয়না জেগে উঠল।
“কী হয়েছে?” নয়না ফিসফিস করে বলল।
আরিয়ান চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আমি দুঃখিত। আমি জানি আমি ভুল করছি। কিন্তু আমি কীভাবে ঠিক করব জানি না।”
নয়নার চোখে জল এসে গেল। “আমিও জানি না। আমরা এত দূরে চলে গেছি।”
তারা সেই রাতে আর কিছু বলল না। শুধু একে অপরের হাত ধরে শুয়ে রইল। বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ল।
পরের দিন সকালে আরিয়ান উঠে চা বানিয়ে নয়নাকে দিল। নয়না অবাক হয়ে তাকাল।
“কী হলো?” সে জিজ্ঞেস করল।
আরিয়ান হাসল একটু। “কিছু না। শুধু চা।”
সেই ছোট্ট জিনিসটা নয়নার মনটা একটু নরম করল।
কিন্তু সমস্যা সহজে যায় না। কয়েকদিন পর আবার তর্ক হলো। এবার টাকার বিষয় নিয়ে। নয়না একটা বই কিনতে চেয়েছিল। আরিয়ান বলল, “এখন খরচ কমাতে হবে।”
নয়না বলল, “তুমি তোমার বন্ধুদের সঙ্গে কফি খাও, সেটা খরচ না? আমার বই খরচ?”
আবার রাগ। আবার অভিমান। আরিয়ান ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নয়না একা বসে ভাবল—এভাবে আর কতদিন?
সেই রাতে নয়না তার ডায়েরিতে লিখল: “আমি তাকে ভালোবাসি। কিন্তু ভালোবাসা কি শুধু রাগ আর অভিমান নিয়ে বেঁচে থাকে?”
আরিয়ানও সেই রাতে অফিসের ছাদে বসে ভাবছিল। তার মনে পড়ল নয়নার হাসি। নয়না যখন হাসত, পুরো ঘর আলো হয়ে যেত। এখন সে হাসি দেখে না।
পরের সপ্তাহে আরিয়ানের এক বন্ধু বিয়ে করল। তারা দুজনেই গেল। অনুষ্ঠানে নয়না খুব সুন্দর লাগছিল শাড়ি পরে। আরিয়ান দূর থেকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, এই মেয়েটা তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। কিন্তু সে কেন এত দূরে চলে গেছে?
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাড়িতে নয়না চুপ করে ছিল। আরিয়ান হঠাৎ বলল, “তুমি আজ খুব সুন্দর লাগছিলে।”
নয়না তাকাল। “ধন্যবাদ।”
“আমি মিস করি তোমাকে। আগের মতো।”
নয়নার গলা কেঁপে উঠল। “আমিও। কিন্তু তুমি কি শুধু কথায় বলবে, না কাজও করবে?”
আরিয়ান চুপ করে রইল। সে জানত নয়না ঠিক কথা বলছে।
সেই রাতে আরিয়ান সিদ্ধান্ত নিল। সে পরের দিন অফিস থেকে একটু আগে বেরোবে। নয়নার সঙ্গে সময় কাটাবে।
পরের দিন সে সত্যিই আগে ফিরল। নয়না অবাক হয়ে গেল।
“কী হলো আজ?”
“আজ আর অফিসে থাকব না। চলো একটু বাইরে যাই।”
তারা গেল কাছের এক পার্কে। সন্ধ্যা হচ্ছিল। আকাশ লাল হয়ে গিয়েছিল। তারা পাশাপাশি হেঁটে বেড়াল। প্রথমে কথা কম ছিল। তারপর ধীরে ধীরে কথা বাড়ল।
আরিয়ান বলল, “আমি জানি আমি ভুল করেছি। অফিসের চাপ আমাকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। আমি তোমাকে অবহেলা করেছি।”
নয়না বলল, “আমিও অনেক সময় অতিরিক্ত অভিমান করেছি। আমি বুঝতে পারিনি তোমার ওপর কত চাপ।”
তারা হাত ধরল। পার্কের বেঞ্চে বসে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর নয়না মাথা রেখে দিল আরিয়ানের কাঁধে।
“আমরা কি আবার শুরু করতে পারি?” নয়না ফিসফিস করে বলল।
আরিয়ান তার চুল স্পর্শ করল। “হ্যাঁ। আমি চাই।”
সেই রাত থেকে তাদের মধ্যে একটা নতুন শুরু হলো। তারা প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা একসঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করতে লাগল। কখনো চা খেয়ে কথা বলত, কখনো সিনেমা দেখত, কখনো শুধু চুপ করে একে অপরের পাশে বসত।
কিন্তু জীবন এত সহজ হয় না। কয়েক সপ্তাহ পর আবার সমস্যা এলো। আরিয়ানের অফিসে বড় প্রজেক্ট এলো। সে আবার দেরি করতে লাগল। নয়না আবার অভিমান করতে লাগল।
একদিন রাতে নয়না বলল, “তুমি আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছ।”
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল, “আমি কী করব? চাকরি ছেড়ে দেব?”
তর্ক বেড়ে গেল। শেষে নয়না কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমি আর পারছি না। হয়তো আমাদের আলাদা থাকাই ভালো।”
আরিয়ান থমকে গেল। সে নয়নার দিকে তাকাল। নয়নার চোখে জল। তার মুখটা ভেঙে পড়েছে।
সে ধীরে ধীরে কাছে গেল। নয়নাকে জড়িয়ে ধরল।
“আমাকে ছেড়ো না। আমি চেষ্টা করব। সত্যি করে চেষ্টা করব।”
নয়না কাঁদতে কাঁদতে বলল, “তুমি প্রতিবারই বলো। কিন্তু পরিবর্তন হয় না।”
আরিয়ান তার গালে চুমু খেল। “এবার হবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে কাঁদল। তারপর ধীরে ধীরে শান্ত হলো।
পরের দিন আরিয়ান অফিসে গিয়ে তার বসকে বলল যে সে আর ওভারটাইম করতে পারবে না। পরিবারের সময় দিতে হবে। বস একটু বিরক্ত হলেও রাজি হলো।
আরিয়ান সেদিন সময়মতো ফিরল। নয়নার জন্য ফুল কিনে আনল। নয়না অবাক হয়ে গেল।
“এগুলো কী?”
“তোমার জন্য। আর একটা কথা। আমি অফিসে বলে এসেছি আর দেরি করব না।”
নয়নার চোখে আবার জল এসে গেল। কিন্তু এবার খুশির জল।
সেই রাতে তারা একসঙ্গে রান্না করল। হাসল। কথা বলল। অনেক দিন পর তাদের ঘরে আবার হাসি ফিরে এলো।
দিন যেতে লাগল। তারা একে অপরকে আরও ভালো করে বুঝতে শুরু করল। আরিয়ান বুঝল যে নয়নার অভিমান আসলে ভালোবাসারই একটা রূপ। নয়না বুঝল যে আরিয়ানের রাগ আসলে ক্লান্তির প্রকাশ।
একদিন সন্ধ্যায় তারা ছাদে উঠল। আকাশ ভরা তারা। নয়না আরিয়ানের হাত ধরে বলল, “মনে আছে আমাদের প্রথম দেখা?”
আরিয়ান হাসল। “হ্যাঁ। তুমি বই পড়ছিলে লাইব্রেরিতে। আমি তোমার পাশে গিয়ে বসেছিলাম।”
“তুমি বলেছিলে, ‘এই বইটা কি ভালো?’”
“আর তুমি বলেছিলে, ‘পড়ে দেখো।’”
তারা হাসল। তারপর আরিয়ান নয়নাকে জড়িয়ে ধরল।
“আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। রাগ-অভিমান যাই হোক, আমি তোমাকে ছাড়ব না।”
নয়না তার বুকে মুখ লুকিয়ে বলল, “আমিও। তোমার অভিমানও আমার, তোমার রাগও আমার।”
সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ ছাদে বসে রইল। তারপর ঘরে এসে একে অপরকে আরও কাছে টানল। ভালোবাসা আবার জেগে উঠল। নরম স্পর্শ, গভীর চুমু, একে অপরের শরীরের উষ্ণতা—সবকিছু মিলেমিশে এক হয়ে গেল। তারা ভুলে গেল আগের রাগ-অভিমান। শুধু রইল ভালোবাসা।
কয়েক মাস কেটে গেল। তাদের জীবনে আবার শান্তি ফিরে এলো। তারা একে অপরের জন্য সময় বের করত। ছোট ছোট সারপ্রাইজ দিত। কখনো আরিয়ান নয়নার জন্য হাতে লেখা চিঠি লিখত। কখনো নয়না আরিয়ানের প্রিয় খাবার রান্না করত।
একদিন আরিয়ানের জন্মদিনে নয়না একটা স্পেশাল ডিনার সাজল। ঘর সাজাল। আরিয়ান ফিরে এসে অবাক হয়ে গেল।
“এসব কী?”
নয়না হাসল। “তোমার জন্য। আর একটা উপহার আছে।”
সে একটা ছোট বক্স দিল। ভেতরে একটা নোট। “আমরা বাবা-মা হতে যাচ্ছি।”
আরিয়ানের চোখ বড় হয়ে গেল। সে নয়নাকে জড়িয়ে ধরল। খুশিতে কাঁদল।
“সত্যি?”
“হ্যাঁ।”
সেই মুহূর্তে তাদের সব রাগ-অভিমান মুছে গেল। শুধু রইল একটা নতুন শুরু। একটা নতুন পরিবার।
পরের কয়েক মাস তারা আরও কাছে চলে এলো। নয়নার গর্ভকালীন সময়টা আরিয়ান খুব যত্ন করে কাটাল। রাতে নয়নার পা টিপে দিত। সকালে চা বানিয়ে দিত। তারা একসঙ্গে শিশুর নাম ঠিক করত। স্বপ্ন দেখত।
একদিন হাসপাতালে নয়না প্রসব করল। একটা সুন্দর মেয়ে। আরিয়ান মেয়েকে কোলে নিয়ে নয়নার দিকে তাকাল।
“ওকে দেখো। আমাদের মতো।”
নয়না ক্লান্ত হলেও হাসল। “হ্যাঁ। আমাদের ভালোবাসার ফসল।”
বাড়ি ফিরে এসে তারা নতুন জীবন শুরু করল। মেয়ের নাম রাখল “অভিমানী”—কারণ তাদের অভিমান থেকেই এই ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছিল।
বছর চলে গেল। অভিমানী বড় হতে লাগল। আরিয়ান আর নয়না এখনো মাঝে মাঝে রাগ করত, অভিমান করত। কিন্তু এখন তারা জানত কীভাবে ফিরে আসতে হয়। তারা জানত যে রাগ-অভিমান ভালোবাসার অংশ। যতক্ষণ না একে অপরকে ছেড়ে যায়, ততক্ষণ সব ঠিক হয়ে যায়।
একদিন সন্ধ্যায় তারা তিনজন ছাদে বসেছিল। অভিমানী খেলছিল। আরিয়ান নয়নার হাত ধরে বলল, “মনে আছে সেই রাতের কথা? যখন তুমি বলেছিলে আলাদা থাকার কথা?”
নয়না হাসল। “হ্যাঁ। ভয় পেয়েছিলে তো?”
“খুব। আজকে ভাবলে মনে হয়, সেই অভিমান না থাকলে হয়তো আমরা এত কাছে আসতাম না।”
নয়না মাথা রেখে দিল আরিয়ানের কাঁধে। “ভালোবাসা কখনো সহজ হয় না। কিন্তু যারা লড়ে, তারাই পায়।”
আকাশের তারাগুলো জ্বলজ্বল করছিল। অভিমানী দৌড়ে এসে দুজনের কোলে উঠে বসল। তারা তিনজন একসঙ্গে হাসল।
আরিয়ান নয়নার কপালে চুমু খেল। “আমি তোমাকে চিরকাল ভালোবাসব। রাগ-অভিমান নিয়েও।”
নয়না হাসল। “আমিও।”

....
👁 184