বৃষ্টির গন্ধে তোমার নাম

ঢাকার একটা ব্যস্ত সন্ধ্যার কথা। আকাশটা মেঘলা, হালকা বৃষ্টির গন্ধ বাতাসে মিশে আছে। রাস্তায় গাড়ির হর্ন, মানুষের কোলাহল—সবকিছুই চলছে নিজের মতো।

রিয়া দাঁড়িয়েছিল নিউ মার্কেটের সামনে। হাতে একটা ছাতা, কিন্তু সেটা খোলেনি। সে শুধু তাকিয়ে ছিল আকাশের দিকে। বৃষ্টির ফোঁটা তার চুলে পড়ছে, কিন্তু সে যেন কিছুই টের পাচ্ছে না।

ঠিক তখনই কেউ তার পাশে এসে দাঁড়াল।

“ছাতা খুলবেন না?”

রিয়া ঘুরে তাকাল। একটা ছেলে। সাদা শার্ট, হালকা দাড়ি, আর চোখে একটা নরম হাসি। হাতে তারও একটা কালো ছাতা।

রিয়া একটু বিব্রত হয়ে বলল, “না... আমি বৃষ্টি ভালোবাসি।”

ছেলেটা হাসল। “তাহলে আপনার সঙ্গে শেয়ার করি?”

রিয়া চুপ করে রইল। ছেলেটা ছাতাটা খুলে দুজনের মাথার ওপর ধরল। বৃষ্টির ফোঁটা ছাতায় পড়ছে, আর দুজনের কাঁধ কাঁধে লেগে আছে।

“আমার নাম আরিয়ান,” ছেলেটা বলল।

রিয়া একটু হেসে বলল, “রিয়া।”

আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে বলল, “রিয়া... নামটা শুনে মনে হচ্ছে বৃষ্টির মতোই সুন্দর।”

রিয়ার গালে একটু লালচে ভাব এল। সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল।

বৃষ্টি তখনও পড়ছে। দুজন কেউই যেতে চাইছে না।

বৃষ্টিটা আস্তে আস্তে থেমে গিয়েছিল। আকাশের মেঘগুলো সরে গিয়ে হালকা কমলা রঙের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল রাস্তায়। নিউ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে তখনও ভিড়। কেউ দোকান থেকে বের হচ্ছে, কেউ ছাতা গুটিয়ে হেঁটে চলেছে। কিন্তু রিয়া আর আরিয়ানের কেউই নড়ছে না।
আরিয়ান ছাতাটা আস্তে করে গুটিয়ে নিল। তার হাতের পিঠে এখনও বৃষ্টির ভেজা ছোঁয়া। সে একটু সরে দাঁড়াল, যেন রিয়ার ব্যক্তিগত স্পেস নষ্ট না হয়। কিন্তু তার চোখ বারবার রিয়ার দিকেই ফিরে যাচ্ছিল।
রিয়া নিচু গলায় বলল, “ধন্যবাদ... ছাতার জন্য।”
আরিয়ান হালকা হাসল। “আমি তো কিছুই করিনি। আপনিই বৃষ্টি ভালোবাসেন বলে আমি দাঁড়িয়েছিলাম।”
রিয়া তার দিকে তাকাল। ছেলেটার চোখে একটা অদ্ভুত সরলতা ছিল। কোনো কৃত্রিমতা নেই। যেন সত্যিই বৃষ্টির জন্যই দাঁড়িয়েছিল, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।
“আপনি কোথায় যাচ্ছিলেন?” আরিয়ান জিজ্ঞেস করল।
রিয়া একটু দ্বিধা করল। তারপর বলল, “বাসায়। ধানমন্ডিতে।”
“আমিও ওদিকেই যাচ্ছি,” আরিয়ান বলল। “চাইলে একসঙ্গে হেঁটে যেতে পারি। যদি আপনার আপত্তি না থাকে।”
রিয়া চুপ করে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর আস্তে করে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
দুজনে পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল। রাস্তার ধারে গাছের পাতা থেকে এখনও পানি ঝরছে। রাস্তায় জমে থাকা পানিতে গাড়ির চাকা পড়ে ছোট ছোট ঢেউ তৈরি করছে। বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ।
আরিয়ান হঠাৎ বলল, “আপনি কি সবসময় এভাবে বৃষ্টিতে দাঁড়ান?”
রিয়া হাসল। “না। আজ একটু... অন্যরকম লাগছিল। মনটা ভারী ছিল।”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল। “মন ভারী থাকলে বৃষ্টি ভালো লাগে?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। মনে হয় সবকিছু ধুয়ে যাচ্ছে।”
আরিয়ান চুপ করে রইল। তারপর বলল, “আমারও কখনো কখনো তাই মনে হয়। বিশেষ করে যখন একা থাকি।”
রিয়া অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। “আপনি একা থাকেন?”
আরিয়ান হালকা হাসল। “না মানে... পরিবার আছে। কিন্তু মনের ভিতরটা অনেক সময় একা লাগে। বুঝতে পারছেন?”
রিয়া ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। সে বুঝতে পেরেছিল। খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিল।
তারা ধানমন্ডির দিকে হাঁটছিল। রাস্তার দুই পাশে দোকানপাট, চায়ের স্টল, ফুটপাতের বইওয়ালা। কেউ তাদের দিকে তাকাচ্ছে না। শহরের ভিড়ে দুজন অচেনা মানুষ পাশাপাশি হাঁটছে—এটা তো নতুন কিছু নয়। কিন্তু রিয়ার বুকের ভিতরটা কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল।
আরিয়ান হঠাৎ থেমে গেল। “চা খাবেন?”
রিয়া অবাক হয়ে তাকাল। “এখন?”
“হ্যাঁ। ওই যে সামনে একটা চায়ের দোকান। গরম চা আর সিঙ্গাড়া। বৃষ্টির পর চা না খেলে যেন কিছু মিস হয়ে যায়।”
রিয়া একটু হাসল। “ঠিক আছে।”
তারা ছোট্ট চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দোকানি একটা বেঞ্চে চা আর সিঙ্গাড়া সাজিয়ে দিল। দুজনে পাশাপাশি বসল। গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে রিয়া এক চুমুক দিল। চায়ের তাপ তার হাত দিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল।
আরিয়ান বলল, “আপনি কী করেন?”
রিয়া বলল, “ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। ইংরেজি সাহিত্য।”
আরিয়ানের চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। “সাহিত্য? তাহলে তো গল্প, কবিতা—সব পড়েন?”
রিয়া হাসল। “চেষ্টা করি। আপনি?”
“আমি গ্রাফিক ডিজাইন করি। একটা ছোট অফিসে।”
রিয়া অবাক হয়ে বলল, “ডিজাইন? তাহলে আপনি নিশ্চয়ই রঙ আর আলো নিয়ে ভাবতে ভালোবাসেন।”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। আর বৃষ্টির সময় আকাশের রঙগুলো... সেগুলো আমাকে সবসময় টানে।”
রিয়া তার দিকে তাকাল। ছেলেটার কথাগুলো যেন খুব সহজ, অথচ খুব গভীর। কোনো অভিনয় নেই। কোনো অতিরিক্ত কথা নেই।
তারা চা শেষ করল। সিঙ্গাড়াও শেষ। তারপর আবার হাঁটা শুরু করল।
রাস্তায় তখন অনেকটা অন্ধকার নেমে এসেছে। রাস্তার লাইটগুলো জ্বলে উঠেছে। দূরে একটা মসজিদের আজানের আওয়াজ ভেসে আসছে।
রিয়ার বাসার কাছাকাছি এসে আরিয়ান থেমে গেল। “আপনার বাসা কাছেই?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। ওই বিল্ডিংটা।”
আরিয়ান একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, “আজকের জন্য ধন্যবাদ। কথা বলে ভালো লাগল।”
রিয়াও বলল, “আমারও।”
আরিয়ান তার পকেট থেকে একটা ছোট কাগজ বের করল। সেখানে একটা নম্বর লিখে রিয়ার হাতে দিল। “যদি কখনো আবার চা খেতে ইচ্ছে করে... বা বৃষ্টিতে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে...”
রিয়া কাগজটা নিয়ে হাতের মুঠোয় চেপে ধরল। কিছু বলল না। শুধু মাথা নাড়ল।
আরিয়ান এক পা পিছিয়ে গেল। “আচ্ছা... তাহলে...”
রিয়া হঠাৎ বলল, “আরিয়ান।”
আরিয়ান ঘুরে তাকাল।
রিয়া একটু হেসে বলল, “আগামীকাল যদি বৃষ্টি হয়... আমি আবার নিউ মার্কেটের সামনে থাকব।”
আরিয়ানের চোখে একটা নরম আলো খেলে গেল। সে মাথা নাড়ল। “আমিও থাকব।”
তারপর সে চলে গেল। রিয়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে যেতে দেখল। যতক্ষণ না সে রাস্তার বাঁকে মিলিয়ে গেল।
রিয়া বাসায় ঢুকল। দরজা বন্ধ করে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে এখনও হালকা ভেজা বাতাস। সে হাতের মুঠোয় থাকা কাগজটা খুলে দেখল। নম্বরটা। আর নিচে ছোট করে লেখা—“বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করব।”
রিয়া জানালার কাঁচে কপাল ঠেকাল। তার মনে হচ্ছিল, আজকের বৃষ্টি শুধু বাইরেই পড়েনি। মনের ভিতরেও কিছু একটা ভিজে গেছে। নরম করে। আস্তে আস্তে।

পরের দিন সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। রিয়া ঘুম থেকে উঠেই জানালার বাইরে তাকিয়েছিল। মেঘগুলো ভারী। যেন আজকে সত্যিই বৃষ্টি হবে।
সে নাস্তা করতে গিয়েও মনটা অন্য জায়গায় ছিল। মা যখন জিজ্ঞেস করল, “আজ ক্লাসে যাবি?”, রিয়া শুধু মাথা নাড়ল। কিন্তু তার মনে কোনো ক্লাসের কথা ছিল না। মনে ছিল শুধু নিউ মার্কেটের সামনের সেই ফুটপাতটা। আর আরিয়ানের সেই নরম হাসি।
দুপুরের পর মেঘ আরও ঘন হয়ে এল। বিকেল চারটার দিকে হালকা বৃষ্টি শুরু হলো। রিয়া আর অপেক্ষা করতে পারল না। সে ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
নিউ মার্কেটের সামনে পৌঁছাতেই সে দেখতে পেল—আরিয়ান ইতিমধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে। সাদা শার্টের জায়গায় আজ গাঢ় নীল একটা শার্ট পরেছে। হাতে ছাতা। বৃষ্টির ফোঁটা তার চুলে পড়ছে, কিন্তু সে সরে যাচ্ছে না।
রিয়া কাছে যেতেই আরিয়ান ঘুরে তাকাল। তার চোখে একটা স্বস্তি মিশে থাকা খুশির ভাব।
“এসেছ,” সে শুধু এটুকুই বলল।
রিয়া হাসল। “তুমি আগে থেকেই এসেছিলে?”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “একটু আগে। ভয় করছিল হয়তো আসবে না।”
রিয়া চুপ করে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, “আমি বলেছিলাম না, আসব?”
আরিয়ান হাসল। “হ্যাঁ। বলেছিলে।”
বৃষ্টিটা এবার একটু জোরে পড়তে শুরু করল। দুজনে একই ছাতার নিচে দাঁড়াল। গতকালের মতোই। কিন্তু আজকের নীরবতাটা অন্যরকম ছিল। কোনো অস্বস্তি নেই। যেন দুজনেই জানে, এখানে দাঁড়িয়ে থাকাটাই এখন সবচেয়ে স্বাভাবিক কাজ।
আরিয়ান হঠাৎ বলল, “চলো। আজ অন্য কোথাও যাই।”
রিয়া অবাক হয়ে তাকাল। “কোথায়?”
“একটা জায়গা আছে। খুব একটা লোকজন থাকে না। বৃষ্টির সময় সেখানকার দৃশ্য... দেখলে ভালো লাগবে।”
রিয়া একটু দ্বিধা করল। তারপর মাথা নাড়ল। “চলো।”
তারা হেঁটে হেঁটে একটা সরু গলি দিয়ে গেল। গলির শেষে একটা পুরনো পার্ক। গেটটা আধখোলা। ভিতরে গাছগুলো অনেক বড়। বৃষ্টিতে পাতাগুলো চকচক করছে। মাঝখানে একটা ছোট পুকুর। পুকুরের পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ছোট ছোট ঢেউ তৈরি করছে।
আরিয়ান বলল, “এখানে মাঝে মাঝে একা বসি। কেউ তেমন আসে না।”
রিয়া চারদিকে তাকাল। সত্যিই প্রায় ফাঁকা। শুধু দূরে একটা বৃদ্ধ মানুষ বেঞ্চে বসে আছে। আর কেউ নেই।
তারা পুকুরের পাশের একটা বেঞ্চে বসল। ছাতাটা মাথার ওপর খোলাই রাখা। বৃষ্টির শব্দ আর পাতার ওপর পানির ঝরঝর আওয়াজ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না।
রিয়া বলল, “এখানে এত শান্তি...”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “শহরের মধ্যেও কিছু জায়গা আছে, যেখানে শহরটাকে ভুলে যাওয়া যায়।”
কিছুক্ষণ দুজনে চুপচাপ বসে রইল। তারপর আরিয়ান জিজ্ঞেস করল, “গতকাল তুমি বলেছিলে মনটা ভারী ছিল। এখন কেমন আছো?”
রিয়া একটু হাসল। “এখন... হালকা লাগছে।”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল। “কী কারণে ভারী ছিল?”
রিয়া চুপ করে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, “কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনা, বাসা, রাস্তা—সবই একই রকম। কেউ যেন সত্যি করে কিছু জিজ্ঞেস করে না। শুধু ‘কেমন আছো’ বলে চলে যায়।”
আরিয়ান মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।
রিয়া আবার বলল, “গতকাল যখন তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে, ‘মন ভারী থাকলে বৃষ্টি ভালো লাগে?’—তখন মনে হয়েছিল, কেউ প্রথমবার সত্যি করে শুনতে চাইছে।”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “আমিও প্রায়ই সেটা অনুভব করি। মানুষ কথা বলে, কিন্তু শোনে কম। তাই আমি কম কথা বলি। যখন বলি, তখন সত্যি করে বলতে চাই।”
রিয়া তার দিকে তাকাল। আরিয়ানের চোখে কোনো অভিনয় ছিল না। শুধু একটা শান্ত, গভীর দৃষ্টি।
বৃষ্টিটা এবার হালকা হয়ে এল। আকাশের এক কোণে একটু আলো দেখা যাচ্ছিল।
আরিয়ান হঠাৎ বলল, “তুমি কি কবিতা লেখো?”
রিয়া অবাক হয়ে বলল, “কীভাবে জানলে?”
আরিয়ান হাসল। “অনুমান। সাহিত্য পড়ো, আর বৃষ্টিতে দাঁড়াও—এমন মানুষ সাধারণত কবিতা লেখে।”
রিয়া লজ্জায় একটু মাথা নিচু করল। “লিখি... কিন্তু কাউকে দেখাই না।”
আরিয়ান বলল, “দেখাবে?”
রিয়া চুপ করে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, “কখনো... হয়তো।”
আরিয়ান আর চাপ দিল না। শুধু মাথা নাড়ল।
তারা আবার চুপচাপ বসে রইল। সময় যেন থেমে গেছে। পুকুরের পানিতে পাতা ভাসছে। দূরে পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে।
রিয়া হঠাৎ বলল, “তুমি কেন ডিজাইন করতে শুরু করলে?”
আরিয়ান একটু হাসল। “ছোটবেলায় আমি সবকিছু এঁকে রাখতাম। খাতার কোণায়, দেয়ালে, এমনকি হাতের পিঠেও। মা রাগ করত। পরে বড় হয়ে বুঝলাম, আমি শুধু ছবি আঁকতে চাই না। আমি এমন কিছু তৈরি করতে চাই, যেটা দেখে মানুষের মনে কিছু অনুভূতি জাগে। একটা রঙ, একটা আলো, একটা ছবি—যেটা দেখে কেউ হয়তো এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়।”
রিয়া মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিল।
আরিয়ান আবার বলল, “বৃষ্টির সময় আকাশের রঙগুলো আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। ধূসর, নীল, একটু সোনামাখা আলো... সেগুলো মিশিয়ে কিছু একটা বানাতে ইচ্ছে করে।”
রিয়া বলল, “তুমি কি কখনো নিজের জন্য কিছু ডিজাইন করেছ?”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “করেছি। একটা ছোট বইয়ের কভার। শুধু নিজের জন্য। কেউ দেখেনি।”
রিয়া হাসল। “দেখাবে?”
আরিয়ান এবার লজ্জা পেল। “কখনো... হয়তো।”
দুজনেই হেসে উঠল। সেই হাসিটা ছিল খুব হালকা, খুব স্বস্তিময়।
বৃষ্টি একেবারে থেমে গেল। আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করল। সূর্যের শেষ আলো গাছের পাতায় এসে পড়ল।
আরিয়ান উঠে দাঁড়াল। “চলো। অন্ধকার হয়ে আসছে।”
রিয়াও উঠল। দুজনে আবার পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল। এবার আর তেমন কথা হলো না। কিন্তু নীরবতাটা ভারী লাগছিল না। যেন দুজনেই একই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছে।
বাসার কাছে এসে রিয়া থেমে গেল। “আজকেও... ভালো লাগল।”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “আমারও।”
রিয়া একটু দ্বিধা করে বলল, “তুমি কি... কালকেও আসবে?”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল। চোখে একটা নরম হাসি। “বৃষ্টি হোক আর না হোক—আমি আসব। যদি তুমি আসো।”
রিয়া কিছু বলল না। শুধু হাসল। তারপর বাসার দিকে হাঁটতে শুরু করল।
আরিয়ান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে যেতে দেখল। রিয়া একবার পেছন ফিরে তাকাল। আরিয়ান তখনও দাঁড়িয়ে। দুজনে চোখাচোখি হলো। কেউ কিছু বলল না। শুধু একটা নীরব প্রতিশ্রুতি যেন বাতাসে ভেসে রইল।
রিয়া বাসায় ঢুকে জানালার পাশে গিয়ে বসল। আকাশ এখন পরিষ্কার। কিন্তু তার মনে তখনও বৃষ্টির গন্ধ। আর আরিয়ানের কণ্ঠস্বর।
সে খাতা খুলে একটা কবিতা লিখতে শুরু করল। প্রথম লাইনটা লিখল—
“তুমি এলে বৃষ্টির মতো,
আমি ভিজে গেলাম নীরবে...”
কবিতাটা শেষ করতে করতে তার চোখ দুটো একটু ভিজে এল। কিন্তু সেটা দুঃখের জন্য নয়। একটা অদ্ভুত সুখের জন্য। যে সুখটা এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি। শুধু অনুভব করা যাচ্ছে।

পরের দিন আকাশ পরিষ্কার ছিল। কোনো মেঘ নেই। রোদ ঝলমল করছে। রিয়া সকালে উঠেই জানালার বাইরে তাকিয়ে হতাশ হয়েছিল একটু। বৃষ্টি নেই। তাহলে কি আরিয়ান আসবে?
তবুও সে বিকেলের দিকে বেরিয়ে পড়ল। নিউ মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখল—আরিয়ান আছে। ছাতা হাতে নয়। হাতে একটা ছোট কাগজের ব্যাগ।
রিয়া কাছে যেতেই আরিয়ান হাসল। “দেখো, বৃষ্টি হয়নি। তবু এসেছি।”
রিয়াও হাসল। “আমিও।”
আরিয়ান ব্যাগটা তার দিকে এগিয়ে দিল। “এটা... তোমার জন্য।”
রিয়া অবাক হয়ে ব্যাগটা নিল। ভিতরে একটা ছোট নোটবুক। কভারে সুন্দর করে আঁকা একটা বৃষ্টির দৃশ্য—ধূসর আকাশ, ভেজা রাস্তা, আর দূরে দুটো অস্পষ্ট ছায়া।
রিয়া চোখ তুলে আরিয়ানের দিকে তাকাল। “তুমি এঁকেছ?”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “গতকাল রাতে। ঘুমোতে পারছিলাম না। তাই...”
রিয়া নোটবুকটা বুকে চেপে ধরল। কিছু বলতে পারছিল না। গলায় যেন কথা আটকে যাচ্ছিল।
আরিয়ান আস্তে করে বলল, “ভিতরে কিছু পৃষ্ঠা খালি রাখছি। যদি কখনো কবিতা লেখো... সেখানে লিখতে পারো।”
রিয়া মাথা নিচু করে রইল। তার চোখ দুটো একটু ভিজে এসেছিল। সে দ্রুত চোখ মুছল।
আরিয়ান বুঝতে পেরে বলল, “চলো। আজ অন্য জায়গায় যাই।”
তারা হেঁটে হেঁটে ধানমন্ডির একটা শান্ত রাস্তায় এল। সেখানে একটা পুরনো বইয়ের দোকান ছিল। দোকানটা ছোট, ভিতরে বইয়ের গন্ধ। আরিয়ান বলল, “এখানে মাঝে মাঝে আসি। পুরনো বইয়ের গন্ধটা আমার খুব ভালো লাগে।”
রিয়া দোকানের ভিতরে ঢুকল। তাকেও সেই গন্ধটা স্পর্শ করল। তারা দুজনেই আলাদা আলাদা বই দেখতে লাগল। কিছুক্ষণ পর আরিয়ান একটা ছোট কবিতার বই হাতে নিয়ে এল।
“এটা নাও,” সে বলল। “তোমার ভালো লাগতে পারে।”
রিয়া বইটা নিল। কভারে লেখা—“নীরবতার গান”। সে পাতা উল্টে দেখল। কবিতাগুলো ছোট ছোট, সহজ ভাষায় লেখা।
তারা দোকান থেকে বেরিয়ে একটা চায়ের দোকানে বসল। আরিয়ান চা অর্ডার করল। রিয়া নোটবুকটা খুলে প্রথম পাতায় আঙুল বুলিয়ে দিচ্ছিল।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল, “কী ভাবছো?”
রিয়া বলল, “ভাবছি... তুমি কেন এত সহজে আমার কথাগুলো বুঝতে পারো।”
আরিয়ান একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, “হয়তো কারণ আমিও একই রকম অনুভব করি। শহরে অনেক মানুষ আছে, কিন্তু সত্যি করে কেউ কাউকে দেখে না। সবাই ব্যস্ত। তাই যখন কেউ একটু থেমে দাঁড়ায়, তখন সেটা খুব দামি লাগে।”
রিয়া তার দিকে তাকাল। “তুমি কি সবসময় এতটা গম্ভীর থাকো?”
আরিয়ান হাসল। “না। শুধু যখন তোমার সঙ্গে কথা বলি, তখন মনে হয় সত্যি করে কথা বলা যায়। অন্যদের সঙ্গে অনেক সময় শুধু ভান করতে হয়।”
রিয়া আস্তে করে বলল, “আমারও তাই লাগে।”
চা এসে গেল। দুজনে চুপচাপ চা খেতে লাগল। রাস্তায় মানুষজন হেঁটে যাচ্ছে। কেউ তাদের দিকে তাকাচ্ছে না। যেন তারা দুজন এই শহরের ভিড়ের মধ্যে একটা ছোট্ট নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।
চা শেষ করে তারা আবার হাঁটতে শুরু করল। এবার কথা একটু কম। কিন্তু নীরবতাটা আর অস্বস্তিকর লাগছিল না। বরং ভালো লাগছিল।
রিয়া হঠাৎ বলল, “আরিয়ান।”
“হুম?”
“তুমি কি কখনো ভয় পাও?”
আরিয়ান থেমে গেল। “কীসের ভয়?”
রিয়া একটু দ্বিধা করে বলল, “যে... এই যে আমরা এভাবে কথা বলছি, হাঁটছি... হয়তো একদিন সব শেষ হয়ে যাবে। তুমি ব্যস্ত হয়ে যাবে, আমি ব্যস্ত হয়ে যাব। তারপর শুধু মনে থাকবে।”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল। চোখে একটা গম্ভীর ভাব। “ভয় পাই। খুব।”
রিয়া অবাক হয়ে তাকাল।
আরিয়ান বলল, “আমি জানি, জীবন সহজ নয়। মানুষ এসে যায়, চলে যায়। কিন্তু আমি চেষ্টা করব... যতদিন সম্ভব, সত্যি করে থাকার। কোনো ভান না করে।”
রিয়া কিছু বলতে পারল না। শুধু মাথা নাড়ল।
তারা ধীরে ধীরে রিয়ার বাসার দিকে এগোচ্ছিল। পথে একটা ফুটপাতের দোকান থেকে আরিয়ান দুটো চকলেট কিনে নিল। একটা রিয়াকে দিল।
“মিষ্টি খাও,” সে হেসে বলল। “মনটা হালকা রাখার জন্য।”
রিয়া চকলেটটা নিয়ে হাসল। “তুমি কি সবসময় এভাবে খেয়াল রাখো?”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “শুধু তোমার ক্ষেত্রে।”
কথাটা শুনে রিয়ার বুকটা কেমন করে উঠল। সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল।
বাসার সামনে এসে দুজনে থেমে গেল। আকাশ তখন লালচে হয়ে এসেছে। সূর্যাস্তের সময়।
রিয়া বলল, “আজকের নোটবুকটা... খুব ভালো লেগেছে।”
আরিয়ান হাসল। “ব্যবহার করো। খালি পাতাগুলো ভরে ফেলো।”
রিয়া একটু চুপ করে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, “কালকে... কি আসবে?”
আরিয়ান মাথা নাড়ল। “আসব। বৃষ্টি হোক বা না হোক।”
রিয়া হাসল। “তাহলে আমিও আসব।”
আরিয়ান এক পা পিছিয়ে গেল। “আচ্ছা... এবার যাই।”
রিয়া তাকে যেতে দিল। কিন্তু মনটা যেন তার সঙ্গেই চলে যাচ্ছিল। সে বাসায় ঢুকে সোজা নিজের ঘরে গেল। নোটবুকটা খুলে প্রথম পাতায় বসল।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল খালি পাতার দিকে। তারপর কলম নিয়ে লিখতে শুরু করল—
“তুমি এলে কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়া,
শুধু একটা ছাতা আর নরম হাসি নিয়ে।
আমি ভয় পেয়েছিলাম,
হয়তো এটাও একদিন শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু তুমি বলেছ—
চেষ্টা করবে সত্যি করে থাকার।
আমিও চেষ্টা করব।
যতদিন এই বৃষ্টির গন্ধ থাকে,
যতদিন এই নীরবতা ভালো লাগে।”
লিখে সে কলমটা নামিয়ে রাখল। জানালার বাইরে তাকাল। আকাশ তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে। কিন্তু তার মনের ভিতরটা আলোয় ভরা। একটা নরম, ধীর আলো। যে আলোটা আরিয়ানের হাসি থেকে এসেছে।
সে নোটবুকটা বুকে চেপে শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করে সেই মুহূর্তগুলো মনে করতে লাগল—বৃষ্টি, ছাতা, পুকুরের পাশের বেঞ্চ, বইয়ের দোকান, আর আরিয়ানের কণ্ঠস্বর।
মনে মনে সে বলল, “আরিয়ান... তুমি কি সত্যিই থাকবে?”
কোনো উত্তর এল না। শুধু বাতাসে হালকা একটা শান্তি ভেসে রইল।

আরও কয়েকদিন কেটে গেল। বৃষ্টি এল, গেল। প্রতিদিন বিকেলে নিউ মার্কেটের সামনে দেখা হতো তাদের। কখনো পুরনো পার্কে, কখনো বইয়ের দোকানে, কখনো শুধু রাস্তায় হেঁটে। কথা বাড়তে লাগল। নীরবতাও গভীর হতে লাগল।
একদিন সন্ধ্যায় আকাশ হঠাৎ ভেঙে পড়ল। প্রবল বৃষ্টি। রিয়া আর আরিয়ান একসঙ্গে একটা পুরনো বাসার ছাদে উঠে গেল। আরিয়ানের এক বন্ধুর খালি ফ্ল্যাট। চাবি ছিল তার কাছে। ভিতরে কেউ নেই।
দরজা বন্ধ করে দুজনে ভিতরে ঢুকল। বাইরে বৃষ্টির শব্দ। জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে।
রিয়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল। আরিয়ান পেছন থেকে এসে তার কাঁধে হাত রাখল। রিয়া ঘুরে তাকাল। চোখে চোখ পড়তেই দুজনের মধ্যে যে নরম দূরত্ব ছিল, সেটা যেন এক মুহূর্তে মিলিয়ে গেল।
আরিয়ান আস্তে করে বলল, “রিয়া… আমি আর দূরে থাকতে পারছি না।”
রিয়া কিছু বলল না। শুধু তার দিকে তাকিয়ে রইল। আরিয়ান দুই হাত দিয়ে তার মুখ দুটো ধরল। কপালে কপাল রাখল। তারপর আস্তে করে চুমু খেল।
প্রথমে হালকা। তারপর গভীর। রিয়ার হাত উঠে গেল আরিয়ানের গলায়। আরিয়ানের হাত তার কোমরে। চুমুটা দীর্ঘ হলো। নিঃশ্বাস গরম হয়ে উঠল।
আরিয়ান রিয়াকে জানালা থেকে সরিয়ে নিয়ে বিছানার কাছে নিয়ে গেল। রিয়া বাধা দিল না। তার শরীরও সাড়া দিচ্ছিল। আরিয়ান তার জামায় হাত দিল। রিয়া নিজেই জামাটা খুলে ফেলল। আরিয়ানও নিজের শার্ট খুলল।
দুজনের শরীর কাছাকাছি এল। আরিয়ানের হাত রিয়ার পিঠ বেয়ে নামল। রিয়ার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। আরিয়ান তার গলায় চুমু খেল, তারপর বুকে। রিয়া চোখ বন্ধ করে আরিয়ানের চুলের মধ্যে আঙুল বুলিয়ে দিল।
আরিয়ান তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। দুজনে পাশাপাশি শুয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর আরিয়ান আবার চুমু খেতে শুরু করল। এবার আরও গভীর। তার হাত রিয়ার শরীরের প্রতিটি অংশে ঘুরতে লাগল। রিয়াও সাহস করে আরিয়ানের শরীরে হাত রাখল।
জামাকাপড় একটু একটু করে সরতে লাগল। শেষ পর্যন্ত দুজনেই সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গেল। আরিয়ান রিয়ার শরীরের ওপর উঠে এল। চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করল, “তোমার… ভালো লাগছে?”
রিয়া মাথা নাড়ল। গলায় কথা জমছিল। “হ্যাঁ… চাই।”
আরিয়ান আস্তে করে তার দুই পা আলাদা করল। তারপর ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। রিয়া একটু ব্যথার শব্দ করল। আরিয়ান থেমে গেল।
“ব্যথা করছে?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “একটু… কিন্তু থেমো না।”
আরিয়ান আবার ধীরে ধীরে এগোল। এবার রিয়ার শরীর একটু নরম হয়ে এল। দুজনে একসঙ্গে নড়তে শুরু করল। প্রথমে ধীর। তারপর একটু দ্রুত। রিয়ার নখ আরিয়ানের পিঠে বিঁধে গেল। আরিয়ানের নিঃশ্বাস তার গলায় পড়ছিল।
বৃষ্টি বাইরে তখনও পড়ছে। জানালা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া আসছে। কিন্তু বিছানায় দুজনের শরীর গরম। ঘামে ভিজে যাচ্ছিল।
আরিয়ান রিয়ার কানে কানে বলল, “আমি… তোমাকে খুব চেয়েছি।”
রিয়া চোখ বন্ধ করে বলল, “আমিও…”
গতির বেগ বাড়ল। রিয়ার শরীর কেঁপে উঠল। আরিয়ানও তার সঙ্গে সঙ্গে শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। দুজনে একসঙ্গে মুক্তি পেল। আরিয়ান রিয়ার ওপর ভর দিয়ে পড়ে রইল। দুজনের নিঃশ্বাস তখনও দ্রুত।
কিছুক্ষণ পর আরিয়ান সরে গিয়ে রিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরল। রিয়া তার বুকের ওপর মাথা রাখল। বাইরে বৃষ্টির শব্দ। ভিতরে দুজনের হৃদয়ের শব্দ।
আরিয়ান আস্তে করে বলল, “রিয়া… আমি শুধু শরীর চাইনি। আমি তোমাকে চেয়েছি। পুরোটা।”
রিয়া চোখ তুলে তাকাল। “আমিও। আজকের পর… আর দূরে থাকতে চাই না।”
আরিয়ান তার কপালে চুমু খেল। “তাহলে আর থাকব না।”
তারা সেই রাতটা একসঙ্গে কাটাল। কখনো কথা বলে, কখনো চুপচাপ শুয়ে থেকে একে অপরের শরীর ছুঁয়ে। রাত গভীর হলে আবার একসঙ্গে মিলিত হলো। এবার আরও আরামে, আরও গভীরে। রিয়া আরিয়ানের ওপর উঠে বসল। নিজে থেকে তাল রাখল। আরিয়ানের হাত তার কোমরে। দুজনের চোখে চোখ। শেষ পর্যন্ত আবার একসঙ্গে শেষ হলো।
ভোরের দিকে বৃষ্টি থেমে গেল। আরিয়ান রিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল, “এবার থেকে প্রতিদিন দেখা হবে। আর কোনো ভয় নেই।”
রিয়া মাথা নাড়ল। “নেই।”
সকালে তারা একসঙ্গে বেরোল। রাস্তায় ভেজা মাটির গন্ধ। আকাশ পরিষ্কার। রিয়া আরিয়ানের হাত ধরে বলল, “বৃষ্টির গন্ধে তোমার নাম… এখন থেকে সবসময় থাকবে।”
আরিয়ান হাসল। “আর তোমার নামও আমার সব বৃষ্টিতে মিশে থাকবে।”
দুজনে হাত ধরে হেঁটে চলল। শহরের ভিড়ের মধ্যে। কিন্তু এবার আর কেউ একা নয়।

....
👁 17