হাসপাতাল থেকে বাসর রাত

উপমা :ওই তোর কি হইছে রে,,
কি হইছে শুনি,,,
সকালের ঘুমটা নষ্ট করলি কেন? (রাগি কণ্ঠে)
নিঝুম :তোর ঘুম নষ্ট হইলো ……
আর আমার জিবনটা নষ্ট হবার পথে,, (কান্না কণ্ঠ নিয়ে)
উপমা :তোর জিবন নষ্ট হবার পথে মানে?
নিলা :হে ও কখন থেকে এটাই বলে যাইতেছে, কিন্তু জিবন কোন দিক দিয়া নষ্ট হইছে সেটাই তো বলে না, আর তাই তোরে Campus এ ডাকা।
উপমা :ওই নিঝুম বলনা কি হইছে তোর,,
তুই কান্না করছ কেন?
নিঝুম :……….(নিশ্চুপ)
উপমা :তুই না বললে আমরা বুঝবো কিভাবে তোর কি হইছে,,,
নিঝুম কান্না থামা আর বলনা কি হইছে, (একটু চিল্লায়ে)
নিলা :বলনা নিঝুম কি হইছে,, তোর কান্না দেখলে আমাদের কি ভালো লাগে বল,, এখন কিন্তু আমরাও কান্না করে দিবো!
নিঝুম :………..(নিশ্চুপ কান্না করেই যাচ্ছে)
উপমা :ও…হ তুই এভাবে কথা বলবি না না,,,
দাড়া তোকে আজকে,,
এই নিলা গানটা শুরু করতো,,
নিলা :হুম, শুরু কর……..
উপমা :ও মাইয়া রে………..
বলার আগেই নিঝুম চুপ করাই দিছে,,
নিঝুম :ওই চুপ,, তোরা কি মাইয়া না পোলা,,
উপমা :আমরা পোলা না মাইয়া তুই দেখছ না,
এই নিলা আমগো নিঝুম যে অন্ধ হইছে তুই আমারে একটা বারও জানাইচছ,,
কেমন বন্ধ রে তুই?
নিলা :আমি কেমনে জানমো ……..
আমি তো এখন তোর থেকে শুনছি!
নিঝুম :এই একদম ফাইজলামি করবি না বলে দিলাম,,
তোরা মেয়ে হয়ে মেয়েরে কীভাবে অপরাধী বলতে পারছ!
উপমা :No Darling, আমরা মেয়েদের অপরাধী বলিনা,,
তোমাকে Just চেতানোর জন্য এটা বলি,,,
আমি বাসা থেকে কিছু খেয়ে আসি নাই চল কেন্টিনে যাই,, আর তোর কি হইছে সেটাও শুনি,,
নিঝুম :তোর তো খাওয়া আর ঘুম ছাড়া কোনো কাজ নাই,,,
আঙ্কেল তোরে সম্পূন স্বাধীনতা দিয়ে দিছে যা খুশি তাই করতে পারছ।
আর আমার Anger বাবা ওনার জন্য তো কিছুই করা যায় না।
আর কথা না বাড়িয়ে চল কেন্টিনে,,
তিন জনে চলে গেল কেন্টিনে ……..
উপমা :এই তোরা কিছু খাবি?
নিলা :আমার জন্য একটা ভার্গার আর জুস অডার দে,,
নিঝুম :আমি কিছু খাবো না,,,,
উপমা :হে আপনি কিছু খাবেন না, আর যখন আমরা খাই তখন আপনি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, আর আমাদের পেটে ডুকে যান ………
আর আমাদের অসুখ হোক তাই না!
নিলা :হুম ঠিক বলচছ,,
আমরা যেন অসুস্থ হই ওনি তো তাই চায়!
নিঝুম :তোদের খিদা লাগছে তোরা খা না আমারে কেন জালাছ………(রেগে গিয়ে)
উপমা gjk, এই মামা দুইটা ভার্গার আর দুইটা জুস আনেন,,,
হুম এবার বলতো তোর কি হইছে (দু হাত পিছনে চেয়ারের উপর দিয়ে মাথা রেখে)
নিঝুম :বাবা আবার আরেকটা বিয়ে ঠিক করছে!
উপমা :ও ভালোই তো একটা বিয়ের দাওয়াত পাইলাম,,
কি আঙ্কেল তোর আরেকটা বিয়ে ঠিক করছে পাগল নাকি (হুশে পিরে এসে)
নিলা :What, আঙ্কেল এর মাথায় এই বিয়ের ভূত কই থাইকা চাপছে!
নিঝুম :জানিনা,
প্লিজ দোস্ত তোরা কিছু কর ……
আমি বাবাকে বলছি আমার 3rd year Semester টা শেষ হোক তারপর ভাববো বিয়ের কথা কিন্তু তা না বাবা বিয়ের জন্য পাগল করে পেলছে ……..
বলনা আমি কি করবো?
উপমা gjon’t Worry Darling, No চিন্তা আমি থাকতে এতো Tension করো কেনো?
আগের বারে একটারে টাইট দিলাম না মনে আছে ………
এইবার এটাকে ও একটু অন্য রকম ভাবে দিবো ………
তোমরা তো জানো আমার খেলে মাথায় বুদ্ধি আসে,,
সেহেতু আমি খাই আর দেখি কি বুদ্ধি মাথায় আসে ……… .. ..
এইতো মামা খাবার নিয়ে আসছে ……
উপমা খেতে খেতে তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো,,
উপমা :এই আমার মাথায় একটা Idiea আসছে? (নিঝুমের দিকে তাকিয়ে)
.
নিঝুম :কি আইডিয়া তারাতারি বল……..?
উপমা :আগে বল ছেলে তোর সাথে কোনদিন দেখা করবে? (খাবার খেতে খেতে)
নিঝুম :কালকে,,,
উপমা :তাহলে কালকেই না হয় প্লেনটা বলি,,
আর কালকে আমি তোকে যা যা বলবো তাই করবি ঠিক আছে,, এখন চল ক্লাসে যাই,,
নিলা :হুম, চল!
তিনজনেই কেন্টিন থেকে ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হলো,,,
উপমা :ওই নিধির বাচ্চা,,
তোর মুখটা শুকাই এমন পেঁচার মতো করে রাখচছ কেন?
নিধি :আমার যায়গায় তুমি থাকলে বুঝতে আপু,,,
আমি কেন এমন করে আছে,,,
উপমা :ও আচ্ছা তাই নাকি তো বল দেখি তোর কি হইছে,,
নিধি :আপনাদের ক্লাসের সামনে চলেন আপু, এখানে অনেক রিস্ক আছে,,,
উপমা :আচ্ছা, চল দেখি?
হুম এবার বল তুই কেন এভাবে রইচছ,,(ক্লাসের সামনে এসে)
নিধি :আপু ওই যে আমাদের ভার্সিটির সামনে একটা ছেলে আছে না,,
বাইক নিয়া বসে থাকে,,,
মিন্টু ওই ছেলেটা অনেক খারাপ অনেক বাজে,,,
নিঝুম :ও কি কিছু করছে তোরে?
নিধি :আপু ও আমারে রোজ Distrube করে,,
বাসায় যাওয়ার সময় অনেক খারাপ কথা বলে,, আজকে ও আমার ওরনা ধরে টান দিছে কিছু ছেলের সামনে রাস্তায়,,
আপু রোজ রোজ আমার সাথে এইসব করে,,
মা -বাবাকে ও কিছু বলতে পারিনা!
যদি বাবা প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওই গুন্ডা ছেলেরা বাবার কিছু করে বসে।
উপমা :হুম, ঠিক বলছচ,,
তুই ভাবিস না এই আপু থাকতে তোর কিছ্ছু হতে দিবে না,,,
তুই মন দিয়ে পড়াশুনা কর, আর ওই ছেলে গুলারে দেখে ভয় পাসনা,
যতদিন তোদের এই আপু এই ভার্সিটিতে আছে, ততদিন এই ভার্সিটির একটা ছেলে মেয়েকেও কিছু হতে দিবে না,,
নিলা :আজ্ঞে মহারাজ,, Sorry Mistake মহারানী,,
আপনি তো আমাদের সবকিছু এই পযন্ত একটা কিছুও হতে দেন নাইই ভার্সিটিতে,,
নিজের বাচ্চাদের মতো আগলাই রাখছেন,,,
উপমা :ওই চুপ,, প্রতিদিন তোর এই এক ভাষন শুনতে শুনতে আমার কানটা পচা হই গেছে!
নিধি :আপু পচা হয় কিভাবে?
উপমা :হু ……..
হয় আরকি একভাবে তুই যা ক্লাসে,,
নিধি :হুহু,,,
নিধি চলে গেল ……
উপমা :মন্টু তোর জন্য আমি ভালো দেখে একটা যন্ত্র খুজে আনতেছি,,
মেয়েদের ডিস্টার্ব করা তোকে জন্মের মতো ভুলাই দিবো দেখিস তুই,,
হি……….হি…………হি.(শয়তানি হাসি দিয়ে)
নিলা :তুই কিন্তু ওর সামনে আমারে এই ভাবে বলে ঠিক করছ নাই,, আমার মান সম্মান সব টাকে উঠাস তুই সব সময়,,
আল্লাহ তোর বিচার করবো,, তোর কপালে একটা Angry Husband দিবো এটা মনে রাখিস (নেকা কান্না করে)
উপমা :রাক্ষসির আবার মান সম্মান আছে নাকি,,
নেকা কান্না বন্ধ কর আর ক্লাসে ডুক!
উপমা, নিলা, নিঝুম ওরা ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার উদেশ্যে রওনা দিলো………..
উপমা :ওই বান্দরীরা ওই দিকে কই যাস…….
নিঝুম :রিকশা খুজতে,, তুই যাবিনা বাসায়?
উপমা :গাড়ি যে পার্কিং করে রাখছি তোরা দেখছ না!
নিলা :Wow, তুই গাড়ি আনচছ,, আগে বললেই তো পারতি,,
এতক্ষণ রিকশার জন্য Wait না করতাম,,
উপমা :এ….ই আমি কি তোর বেতন দেওয়া পিওন যে খবর টা কানে দিয়ে আসবো,,
চোখ কই নিয়া হাটছ……..
নিলা :তুই কেন আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলিস একটু সাভাবিক ভাবে বলতে পারছ না!
উপমা :গাড়িতে উঠ পরে কথা বলিস,,
নিলা :এই ঠিক এই ভাবে বলতে পারিস না,
আহা …….কি মধুর কণ্ঠ শুনলে পরান জুরাইয়া যায় (বলেই গাড়িতে উঠে বসলো)
অতঃপর গাড়ি চালাচ্চে উপমা,,
নিঝুম :আজকে কি মনে করে গাড়ি আনলি উপমা?
উপমা :আরে তুই জানস না বাবার কথা,,
রোজ রোজ একই কথা মামুনি গাড়ি নিয়ে যাও, রোদৈ কালো হয়ে যাবি,, রাস্তার লোকে কি বলবে খান সাহেবের একমাত্র মেয়ে রিকশায় করে চলবে,,
জানিস এই সব না আমার জিবনটারে পেরাময় করে দিছে,, যা প্রেম করলে ও হয় না আরকি,,
কত করে বললাম যে আমি এইসব গাড়িতে উঠা পছন্দ করিনা তারপরও,,
নিলা :তোর যায়গায় আমি হলে তো বিন্দাস লাইফ কাটাতাম,,
নিঝুম :এই জন্যই তো হচনাই ……..
আরে আজব মেয়েটা হুট করে গাড়ি থামিয়ে কই গেলো,,
নিঝুম আর নিলা তারাতারি গাড়ি থেকে নেমে দেখলো,,,
নিঝুম :কি অদ্ভুত মেয়েটা দেখলি,, মানুষের জন্য কতো মায়া,, আর সেই মানুষটাই নিজের খুব কাছের একজনকে হারিয়েছে,,(উপমার দিকে তাকিয়ে)
নিলা :হুম, আল্লাহ ওর কেনো জানি এমন করছে কতো ভালোবাসতো সেই মানুষটাকে নিজের জিবনের থেকেও বেশী,, আমি মনে করি উপমাকে যে বিয়ে করবে সে খুব লাক্কি রে,,
নিঝুম :উপ…………..মা (জোরে চিল্লিয়ে)
দৌড়ে উপমার কাছে দুজনে গেলো,,(রাস্তার ওপর পাশে)

নিঝুম :উপ……………মা (জোরে চিল্লিয়ে)
দৌড়ে দুজনে উপমার কাছে গেল। (রাস্তার ওপাশে)
উপমা :আ……উচ……(রাস্তায় পড়ে গেল)
নিঝুম :তুই ঠিক আছিস তো?(রাস্তা থেকে উঠিয়ে)
নিলা :Are You Ok উপমা,,
কিছু হয় নাই তো তোর,,
উপমা :কে কার এতো সাহস হইলো,,
আমারে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার,,
আর আমি ঠিক আছি কিছু হয় নাই। (গায়ের ময়লা ঝারতে ঝারতে)
সামনে তাকিয়ে দেখে দুজন লোক গাড়ি থেকে নেমে এলো,,
উপমা একজন বৃদ্ধ লোককে রাস্তা পার করে দিতে গিয়েই গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে …….
উপমা বৃদ্ধ লোকটাকে রাস্তায় পৌঁছে দিয়ে,
উপমা :আপনি ঠিক আছেন তো দাদু?
বৃদ্ধ :হুম, আমি ঠিক আছি,,
তোমার কিছু হয়নি তো ……….?
উপমা :না দাদু,, আপনি এখন যান,,
সাবধানে যাবেন দেখেন আবার পরে যাবেন,,
বৃদ্ধ লোকটি চলে গেল,, উপমা লোকগুলোর সামনে গেল,,
উপমা :ওই মিয়া,,
গাড়ি ঠিক মতো চালাইতে না পারলে গাড়ি চালান কেন শুনি?
আদি gjorry, sorry Am Brealy Sorry,,(দুইটা ছেলে থেকে একজন বলে উঠলো)
উপমা :এখন আবার সরি বলতে আসেন,,,
লজ্জা করে না,,, সরি বলতে,,
এখন যদি ওই দাদুটা ধাক্কা খেত তাহলে কি হতো হে কি হতো,,,
গাড়ি যখন চালাতেই পারেন না তখন রাস্তায় নামেন কেন,,,
এই আপনাদের মতো 3rd Class এর Boy গুলা Style করে গাড়ি চালাতে গিয়ে কতো মানুষকে গাড়ি চাপা দেয় জানেন,,
একমাত্র আপদের মতো ছেলে গুলার কারনে বাংলাদেশে ঢাকায় এতো Accident হয়!
আদি :Hy You,, Mind Your Language Okk,
গাড়ির সাথে একটু ধাক্কা লেগেছে তাই বলে আপনি আমাদের এই ভাবে এত্তো গুলা কথা বলবেন,,
উপমা :অবশ্যই বলবো 100 বার বলবো কি করবেন আপনি,,
উচিত কথা বললেই দোষ না,,
গায়ে লাগে না,,
নিঝুম :উপমা থাম এভার বেশি হয়ে যাচ্ছে,,
উপমা :কি থামবো আমি হে কি থামবো,,
দেখছিস না উনি কি বলছে,,
গাড়ির সাথে ধাক্কা দিয়েছে,,
আবার বড় বড় কথা বলতে আসে,,
3rd class er লোক কোথাকার,,
আদি :আপনি কিন্তু আপনার সিমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন!
অন্তর : আদি Just Stop This,,,
আপু সরি আমাদের ভুল হইছে মাফ করে দেন!
আদি :তুই মাফ চাইছিস,,
আরে ওনার তো আমাদের কাছে মাফ চাওয়া উচিত,,
Rascal কোথাকার,,
উপমা :কি বললেন আমি Rascal আপনি Rascel, Stupid, ডায়েন, ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছু (রেগে গিয়ে)
আদি :How Stupid…………
আপনার সাহস কি করে হয় আমাকে এগুলো বলার,,,
কোথা থেকে ছুটে এসে গাড়ির নিচে পরে,,
আমাকে ইন্সাল্ট করছে,,,,
নিলা :উপমা প্লিজ চল,,,
শুধু শুধু ঝগড়া হইতেছে,,,
তোর কিছু হয় নাই এতেই আমাদের অনেক,,
চল মা প্লিজ
উপমা :নিলা শুধু যেতে বলছে দেখে,,
আমি আপনাকে কিছু বলছি না না হলে আজকে বুঝিয়ে দিতাম আপনি কাকে কি বলছেন,,,
যাওয়ার আগে একটা কথা বলে যাই Next Time এভাবে কাউকে যদি ধাক্কা দেন তো আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না,,,,
হাত থেকে কেপটা মাথায় দিয়ে উপমা,,
হনহন করে চলে গেল,,,
আদির রাগ প্রচুর পরিমাণ বেড়ে গেছে,, কোথাকার কোন অচেনা একটা মেয়ে তাকে এইভাবে রাস্তায় এতোগুলো কথা শুনালো,,
উপমা গাড়িতে উঠে বসে রাগি মুখ নিয়ে চলে গেল,,,
আদি :Innocence Girl,, হুহ………
অন্তর :তোকে আমি বলছিলাম আমি গাড়ি চালাই না তুই নিজেই এখন যদি কিছু হতো তাহলে,,,
এটা কোনো তোর দেশ না যে ইচ্ছে মতো গাড়ি চালাবি এখানে রাস্তা ঘাটে অনেক লোক থাকে,,
SO BE Cearful Drive Okk,,
আদি :মেয়ের সাহস দেখে তো আমি অবাক,,
আদি চৌধুরীকে এতোগুলো কথা শুনালো,,
এর প্রতিশোধ একদিন আমি নিবোই,,,
অন্তর :ওকে পেলেই তো নিবি, আমি গাড়ি চালাই তুই ওখানে গিয়ে বস,,
ওরাও নিজের গন্তব্যে চলে গেল,,,,
নিলা :বাবারে কি রাগি ছেলেরে বাবা,,
কি জেদ ছেলের,,, আমি তো ভয় পেগেই গেছিলাম,,
নিঝুম :হুম, আমিও,,
নিলা :এই রাগি ছেলেরা না অনেক রোমান্টিক হয় জানিস,,
উপমা :চুপ,,
ওই কালা চশমার কথা একদম বলবি না,,দু চোখ থাকতেও চোখে দেখে না আমার সানগ্লাস লাগইতে যায় যতোসব পাগল কোথাকার আমাকে দমকি দিচ্ছে,, এই উপমা রাহমান কে?
রাস্তা বলে কিছু বলি নি না হলে অবস্থা খারাপ করে দিতাম!
নিলা :আহা তুই কি,,
উপমা খান হবে রাহমান বলিস কেন হে,,,
উপমা :দেত কচুর খান,,,,
উপমা রাহমানই অনেক সুন্দর রাহমান টা যে একজনের দেওয়া,, (বলতেই চোখ থেকে এক ফোটা পানি পরে গেল)
নিঝুম :উপমা কান্না করিস না,, সবার ভাগ্য এক হয় না! আমি জানিনা আল্লাহ কেন তোর জিবনটা এমন করছে,,তুই তো কোনো ভুল করিস নি,, তাহলে কেন?
কিন্তু দেখিস তোর জিবনটা বদলে দিতে একজন আসবেইই,,
উপমা :আমার এই মনে শুধু একজনেরই যায়গা আর কেউ আসলেও ওর মতো যায়গা পাবে না।
(বলেই চোখের পানি মুছে পেলল)…….
After Day…………….
উপমা :আচ্ছা, তুই ছেলের পিক দেখচছ,,(রেস্টুরেন্টে বসে)
নিঝুম :না …..
উপমা :তাহলে চিনবি কিভাবে,,,
নিঝুম :বাবা কাল রাতে ছেলেকে আমার ছবি দিছে, আমারে দিছে আমি দেখি নাই, এই বিয়েতেই যখন মত নাই ছেলেরে দেখে কি হবে,,
উপমা :আচ্ছা, কোন সমস্যা নাই ছেলে যেহেতু তোরে দেখছে, সেহেতু তোরে ওই খুজে বের করবে?
নিঝুম :শুন না একটা কথা বলার ছিল,,
উপমা :কি বল?
নিঝুম :ওই যে কালকে ছেলে গুলার কথা মনে আছে?
উপমা :কোন ছেলে কতো ছেলেদের ই দেখলাম মনে কাকে রাখবো,,
নিঝুম :আরে না ওই যে তুই কালকে যার সাথে ঝগড়া করলি,, ওর সাথের ছেলে টা,,
উপমা :ওওওও
ওই সানগ্লাসের সাথের আপুটা,,
নিঝুম :হুম, আমি না ওরে,
উপমা :তুই কি ওরে,, বল
নিঝুম :আমি ওরে এই মনে গেথে পেলছি,,
.
উপমাতো আকাশ থেকে পরলো …………..
.
উপমা :What ……….?
ওই 3rd Class এর ছেলেগুলোরে তুই,,,,
তুই আসলে আমাদের নারী জাতীর মান-সম্মান সব ডুবাইবি!
নিলা :Hi,, সুইট হার্ড,,,(পাশের চেয়ারে বসে)
এমা তোরা এমন ভাবে আছচ কেন?
কি হইছে ………
Anything Wrong ………
উপমা :হুম,,,
নিঝুম নাকি আপুরে ভালোবেসে পেলছে,,,,
নিলা :কোন আপু,,,
কে সেই আপু?
উপমা :আরে কালকে ওই যে কালো চশমা,, আর সাথে একটা আপু ছিল,, ওই আপুরে নাকি,,
নিলা :নিঝুম তাই নাকি জান,,,
একটা Hipi দে দোস্ত,,,,
দুজনে একটা হাইপাই দিলো,,,,
উপমা :What is this,, Hipi Why?
নিঝুম :কেননা,, আমিও কালো সানগ্লাসের প্রেমে ওলরেডি পরে গেছি,,,
বল __________
ওর প্রতি আমার Love Attraction করছে,,
উপমা :হায়, হায়,,
তোদের জন্য আমাদের মতো অবোলা নারীদের মান, ইজ্জত সব যাইবো,,
আল্লাহ একটু দেখ মেয়েগুলার দিকে,,,,
অন্তর :হাই _________ (নিঝুকে উদেশ্যে করে)
উপমা :কি চাই এখানে,,,
কেন আসছেন এখানে আবার ঝগড়া করতে?



অন্তর :না আপু,,,
আমি আমার একটা কাজে আসছি,,,
উপমা :তো কাজে আসছেন যান না কাজে আমাদের কাছে কেন,,,
অন্তর :আপনাদের কাছেই তো সেই কাজের,,
জিনিস টা,,,,
এইদিকে তো নিঝুম চোখই সরাতে পারছে না অন্তরের দিক থেকে,,,,



উপমা :কই আছে যান নিয়া যান,,,
শুধু শুধু বেজাল কইরেন না তো,,,,
অন্তর :হুম ………
উপমা :এমা আপনি নিঝুম কে কোথায় নিচ্ছেন, ছাড়ুন ওকে,,,,
অন্তর :কেননা,,, এর সাথেই যে আমি দেখা করতে আসছি,,,, আমার হবু বউ,,,,
ওনি,,,
নিঝুম :আল্লাহ তুমি তাহলে আমার দিকে একটু তাকাইছো,,,,
যাকে প্রথম দেখায় ভালোবেসে পেলছি ……..
সে কিনা আমার হবু বর ………
অফ……….ফ ভাবতেই কি যে আনন্দ লাগে,,
মন চাইতেছে তারে নিয়া এখানে একটা নাচ দেই,,,,
(মনে মনে বলছে),,,



উপমা :ও আচ্ছা,,
তার মানে আপনি আমাদের জিজু,,,
অন্তর :আজ্ঞে হে,,
নিলা :আপনি কালকে আমাদের পরিচয় দেন নাই কেন?
আপনাদের সাথে অযথা যা খারাপ কথা বলছে উপমা!
অন্তর :এটা কোনো সমস্যা না,,
আমরাও তো আপনাদের চিনতাম না!
আমি কালকেই Australia থেকে পিরেছি দেশে,,,
আর যে আমার সাথে ছিল সে আমারে বন্ধ অনেক ভালো বন্ধু,,,
Australia ই থাকে,,,
ও অনেক রাগি তাই অল্প তে কিছু বললেই রেগে যায়,,,
আর আপনাদের সাথে ও যা বলছে তার জন্য আমার পক্ষ থেকে sorry,,
উপমা :ঠিক আছে,,,
আমরাও সরি,,,


।নিলা :আপনার দুজন এখানে বসেন আমরা পিছনের টেবিলে যাই,,,
চল ………
উপা………………
অন্তর :আচ্ছা, আপনাদের সাথে পরিচয় হলে ভালো হতো,,,
নিলা :আমি নিলা,,,,
আর ও উপমা খান,
আমরা সবাই এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ারে,,,
উপমা :তুই আবার খান লাগাইচ,,,
সরি Bro আমার নাম উপমা রাহমান,,,,
বলেই দুজনে পিছের টেবিলে চলে গেল,,,




অন্তর :বসুন মেম,,,
নিঝুম :জি,,,,
অন্তর :হুম, তুমি করে বলতে পারি,,
হবু বউ বলে কথা তো তাই,,
নিঝুম :বলুন সমস্যা নাই!
অন্তর :আমাকেও তুমি করে বলতে হবে,,,,
নিঝুম লজ্জায় মাথা নিচু করে পেলল,,
অন্তর :বাবা……বা কি লজ্জা আমার বউয়ের,,
কি খাবেন বলুন?
চা, কপি, সুপ, পিজ্জা, ভার্গার,,
নিঝুম :কপি হলেই চলবে,,,
দুজনে কপি অর্ডার দিয়ে কথা বলছে,,,
নিঝুম :আচ্ছা, আপনি আমাকে ছিনলেন কিভাবে?
অন্তর :আবার আপনি বললাম না তুমি করে বলতে,,,
নিঝুম gjk Sorry, তুমি?
অন্তর :কালকে তো প্রথম আমি আপনাকে দেখে এই বুকের বা পাশে গেথেই পেলছি,
রাতে ঘুমাতে দেয় নাই আপনার ওই মায়াবি মুখটা,, শুধু চোখের সামনে বেসে উঠতো,,
আর রাতেই মা তোমার ছবিটা দেখাইছে,, তোমার আর আমার বিয়ে, এই ভাবে দেখা হবে কল্পনাই করতে পারিনি,,,, আমি তো খুশিতে পুরো আত্ম হারা হই গেছি!
একটা কথা বলি?
নিঝুম :হুম বলো?
অন্তর :তোমাকে না আজ নীল ড্রেস টায় অনেক সুন্দর লাগছে,,,
নিঝুম :একটা হাসি দিয়ে,,
তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে,,,
অন্তর :আমরা তো কথা বলেই যাচ্ছি,, আমার সালি সাহেবাদের কিছু লাগবে কিনা তা তো জিজ্ঞেস করলাম না,,
এই যে সালি সাহেবা ?
উপমা :জি জিজু বলুন?
অন্তর :আপনারা কিছু খাবেন না, কিছু লাগবে আপনাদের,,,,
উপমা :হে আমাদের জন্য একটা পিজ্জা অডার দিন তাতেই হবে,,
অন্তর gjkk,
ওয়েটার ওনাদের একটা পিজ্জা দিন তো?
উপমা আর নিলা পিজ্জা খাচ্ছে আর সেলফি তুলছে,,
নিলা :আচ্ছা, আমি সানগ্লাসকে তো দেখলাম না?
উপমা :ওই আপদটা নেই ভালোই হলো,,, না হলে এতক্ষণ কতো যে ঝগড়া হইতো,,,
নিলা :Wow, Just Osam,, কি?
Handsam, ব্লাক জিন্স, হ্বাইট গেঞ্জি, ব্লাক জেকেট,, চোখে সানগ্লাস দেখতে পুরো হিরোর মতো লাগছে,,, অফ……..ফ
মনটা চাইতেছে ধরে এনে এই বুকে বন্ধি করে রাখি,,
উপমা :বাব্বা,,
ভূতের মুখে রাম রাম,,
ওই ভূত টার প্রেমে এতোই হাবু ডুবু খাইচছ,,
নিলা :বলতে না বলতেই চলে এলো রে পিছনে পিরে দেখ,,,,
আদি উপমার দিকে পিরতেই তার মাথা 100 ভোল্ডের বাতির মতো জলে উঠলো,,,
আদি :এই মেয়েটা এখানে কি করছে, নিশ্চয়ই আবার ঝগড়া করতে আসছে,, আজ আমি কালকের অপমানের শোধ তুলবোই,,
.

আদি রেস্টুরেন্টে ডুকেই উপমাকে দেখে তার মাথায় 100 ভোল্ডেজ এর বাতি জলে উঠলো,,,,
রাগে মাথা পুরো গরম হই গেছে,,,
আদি :আজকে ওকে আমি এমন কিছু করবো যে আদি চৌধুরীকে Insalt. করার নামই মুখে আসবে না,,,,
উপমা :নিলু তোর হিরো সালম চলে আসছে,,
থুক্কু হিরো আলম,,,
নিলা :ওই এভাবে বলছ কেন আমার কষ্ট লাগে,,,
উপমা :বাবারে যেভাবে আসতেছে,,,
আর রাগে তো মুখটা পুরো মরিচের মতো লাল হই গেছে,,,
আমার মনে হয় কালকের কথাগুলো,,,
বানুর পোলার গায়ে লাগছে,,,,
নিশ্চয়ই আমারে আজকে কিছু একটা করবে,,
কিছু করতে আসলে,,, আমি কি কম নাকি,,
মাথায় শয়তানি বুদ্ধির অভাব নাই,,,, আমি ও দেখাই দিতে পারবো,,
আদি :Bro,, ওই মেয়েটা এখানে কি করে? (অন্তরকে উদেশ্যে করে)
অন্তর :ভাই ওরা দুই জনই আমার সালি………
আর শুন কালকের সব কিছু মিটে গেছে কোনো বেজাল করিস না প্লিজ,,
আদি :হুম, ঠিক আছে,,,
হাই ভাবিজি,,,
HOW ARE YOU?
WHAT’S YOUR NAME?
নিঝুম :হুম ভালো,, আমার নাম নিঝুম,,
আপনি?
আদি : very fine,, Am Adi Chowdury,,
নিঝুম :হু…..হ,,,
আদি :আচ্ছা, আপনার দুজন কথা বলেন আমি আসি,,
নিঝুম :আরে কই যান বসেন?
আদি :এই তো পাশের টেবিলেই আছি,,,,
আদি :Hi, two in Baby? (নিলা আর উপমার সামনের চেয়ারে বসে)
উপমা :Hlw Fafa,,,,(একটা হাসি দিয়ে)
আদি :What nonsense,, আমি আপনার পাপা হলাম কবে?
নিঝুম অন্তর ও আশে পাশে যারা ছিল তারা হেসে দিল,,,,
উপমা :কেন পাপা,,
আমরা আপনার বেবি হলে আপনি তো আমাদের পাপাই হবেন?
Am I right Sweetheart,, (নিলাকে চোখ টিপ দিয়ে)
নিলা :কথাটা কিন্তু তুই ঠিক বলছচ,,
আদি :গাইয়া মেয়ে গুলো কোথাকার,,
বেবি কাকে বলে সেটাও এখনো মা-বাবা শিখায় নি,, শুধু শিখিয়েছে মানুষের সাথে রাস্তায় কিভাবে ঝগড়া করতে হয়!
Rabish,, এইগুলার সাথে কথা বলে আমার মুখটাইই নস্ট করলাম,,
হু……………হ
নিঝুম :আপনার বন্ধুকে বারন করেন,,
না হলে আজকে ওনার অশেষ দুঃখ আছে কপালে,,, উপমা একবার খেপলে কিন্তু,,,
অন্তর :Wait আমি দেখছি,,,,
উপমা :ওই কি কইলি তুই কি কইলি,,
আমরা গাইয়া মাইয়া,,,
হো আমরা গাইয়া মাইয়া তোর কোনো সমস্যা,,
যাস না যা যারা English বলে তাদের সাথে গিয়া কথা বল,,,
আমগো মতো গাইয়ার কাছে কি?
এহ…..হ
Australia থাহছ বইলা,, যে তোদের মতো 3rd class. এর পোলাগো মতো ইংলিশ বলবো,,
সেটা না,, ১৯৫২. সালে,,, রফিক, জব্বার, ইত্যাদি যারা আছে ভাষা শহীদ তারা কেন মরছে,,
কেন বলতো,, শুধু মাএ এই বাংলা ভাষার জন্য!
একটা কথা বলে দেই আমাদের বাংলাদেশের ভাষারে যদি গাইয়া বলছ তো,,
আপনার জিব টেনে ছিড়ে দিবো ছিনিস,,
তখন রাস্তায় দেখবো,, মানুষ আর বলবো,,
জিব কাটা মোল্লা,, দেখমো তখন কেমন লাগে!
ওই নিলু একটু পানি দেতো গলা শুকাই গেছে! (বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে)
অন্তর gjmg,,,
উপমা কি মেয়ে নাকি অন্য কিছু,,
আমি শুনে তো অবাক হইলাম,,
আদি এই আদি,, চল বাসায় চল,,
এখানে আর এক মূহূত তোর থাকা চলবে না!
Let’s go?
আদি :Just a minutes,,
এই মেয়ের সাহস দেখে তো আমি অবাক হচ্ছি,, কার সাথে পাঙা নিতে আসে সে,,,
এতোগুলো মানুষের সামনে আমাকে,, এই আদি চৌধুরীকে অপমান করা,,
Wait এই মেয়েকে তো আমি পুলিশে দিবোই,,
এখনি আমি ফোন করছি পুলিশ কে,,
অন্তর :আদি তুই এসব কি পাগলামি করছিস সামান্য একটা কিছুর জন্য পুলিশকে ফোন,,
আদি থাম বলছি,, আর বাসায় চল,,
উপমা :না জিজু ওনি পুলিশকে ডাকুক সমস্যা কি কে কার পাঙায় পরছে তা এখনি দেখা যাবে!
অন্তর :শালি সাহেবা আপনিও,,
নিঝুম :উপমা তুই এসব আবার শুরু করলি,,
তোর আগের সেই কথাগুলো মনে নাই!
অন্তর :মানে কি কথাগুলো,,
উপমা :চুপ একদম চুপ,,
তোরা এমন কেন বন্ধুর একটু সুখ দেখতে পারছ না আবার সেই কথাগুলো কেনো মনে করাই দেস…………………
বলেই কান্না করতে করতে দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে বসলো,, এবং কান্না জুরে দিলো!
অন্তর :আরে ওর কি হইছে চলে গেল যে,,
উপমা এই উপমা,,
নিঝুম :ডাকবে না ও কান্না করুক করে শান্তি পাক,, মনের সব কষ্ট দূর হোক!
কিছুক্ষণ পর……………….
নিলা :চল নিঝুম উপমার কাছে যাই!
নিঝুম :হুম চল…………
আমরা আসি হে কালকে দেখা হবে,
অন্তর :আমি কি তোমকে নিতে ভার্সিটিতে যাবো!
নিঝুম :সেটা আপনার ইচ্ছে (একটা মুছকি হাসি দিয়ে)
দুজনেই চলে গেল …………………
NEXT DAY…………………
আদি :Bro এই মেয়ে তো দেখি আস্তো গুন্ডী,,
.
দেখ কীভাবে ওই ছেলেটাকে দমকাচ্চে,,,
অন্তর :এই তোর আর কোনো কাজ ওর পিছে এমন পরে থাকছ কেন,,,
সেই প্রথম দিন থেকেই তোকে দেখছি ওর সাথে খারাপ ব্যবহার,,, আর কথা বলে যাচ্ছিস …..
একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারিস না।

আদি :সুন্দর করে কথা বলব,,,
তাও এই গাইয়া মেয়েদের সাথে,,
No way bro, no way,,
ওদের মতো মেয়েদের সাথে এই রকম ভাবে কথা বলাই উচিত,,,,
রাস্তার মেয়ে কোথাকার,,,
অন্তর :আদি মনে রাখিস এটা তোর শহর না,,,
এটা বাংলাদেশ,,,
আর ওকে যখন চিনবি তখন বুঝবি,,,,


অন্তর বলেই মোবাইল টিপতে টিপতে ভার্সিটির ভিতরে দরজা দিয়ে চলে গেল।
আদি :ও কি বলে গেল আমাকে?
দেত আমার মাথায় নেওয়ার দরকার নেই,,,(বলেই গাড়ির উপর সামনের দিকে উঠে বসে পরলো)
অন্যদিকে ………
উপমা :কিরে টন্টু,,
ও সরি মন্টু,,
তুই নাকি ওরে রোজ ডিস্টার্ব করছ,,
ওর ওরনা ধরে টান দেছ রাস্তায়,, কথা কি সত্যি,,(নিধির কাদে হাত দিয়ে হেলান দিয়ে)
.
মন্টু :হ…..
সত্যি,, তোমার কোনো সমস্যা, নাকি তোমারেও করতে হইবো!
এমনিতেও যে পরিমাণ হট আছো!
কোনো ছেলে দেখলে পাগল হই যাইবো,,
উপমা :ও আচ্ছা তাই নাকি,,
তুই কি পরচছ নাকি,,
মন্টু :হো পরছি, একটা রাত দিবা নাকি জান,,
উপমা :দিবো নিবি,,
মন্টু উপমার দিকে এগিয়ে আসছে,,
আদি :আরে এই মেয়ে ওর মতো খারাপ লোকের কাছে কি করছে,, যদি এখন উলটা পালটা কিছু করে দেয়,,দেত ওর কথা আমি ভাবছি কেন,

।উপমা :নিধি দরতো আমার কেপ মোবাইল আর বেগটা ……….
নিধির হাতে সবকিছু দিয়ে,,
উপমা :একটা রাত যখন তোরে আমি দিবোই, তখন কিছুক্ষণ হাডুডু খেলে নেই কি বলছ,,
মন্টু :তুমি যা বলবে তাই হবে জান,,
একজন :বস এই মেয়ে যেই মারামারি পারে এখন কিন্তু আপনার অবস্থা পুরো খারাপ করে দিবে,, (মন্টুর কানে কানে, তারই একজন সাথের)
.
মন্টু :দেখা যাক কে কেমন পারে,,
উপমার মারামারি শুরু,,
উপমা যা কেরাটি পারে তা আজকে মন্টুর উপর প্রতিক্রিয়া করাচ্ছে উপমা,,
আদি :Just wow মেয়েটা এতো সুন্দর কেরাটি পারে,,
আমার তো ওর থেকে ক্লাস নেওয়া উচিত,,
এই না না, দুর আমি কি সব আজে বাজে বকছি ওর মতো গাইয়া মেয়ের থেকে ক্লাস আমাকে পাগল পাইচে নাকি,,(গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নিছে নেমে দাড়িয়ে)
উপমা So, মন্টু, Kase laga mere carati ……….
নিধু ফোনটা দেতো ………
নিধি :এই নিন আপু,,
উপমা পুলিশের কাছে ফোন করলো এবং পুলিশ আসতে,,
মন্টু উপমার মার খেয়ে নিচে কাত্রাচ্চে,,


কিছুক্ষণ পুলিশ আসলো ——————–
ওখানে মানুষ জমেও গেছে,,
আদি সেখানে গেলো,,
আদি :আজকে এই মেয়েটার নামে আমি complain করবোই,,
আমাকে কালকে মানুষের সামনে অপমান করছে Stupid,
উপমা :এই তো আঙ্কেল চলে আসছে,,
পুলিশ :কেন ডাকছো মামুনি?
উপমা :আঙ্কেল, এই যে এই ছেলেটা (মন্টুকে উদেশ্যে করে)
প্রতিদিন এই ভার্সিটির কোনো না কোনো মেয়েকে ডিস্টার্ব করছে,,
তাদের মান সম্মান নিয়ে খেলা করছে,,,
রাস্তায় তাদের পথ আটকিয়ে খারাপ কথা বলছে,, তাদের ওরনা ধরে রাস্তার মানুষের সামনে টান দিচ্ছে,,
তাই আমি আজকে ওকে উচিত শিক্ষা দিয়েছি যেন ২য় বার কোনো মেয়ের সাথে এমন না করে,,
.
পুলিশ :great মামুনি Great,,
তোমার মতো এখন কার যুগে মেয়ে ধরকার যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে,,(উপমার দুকাদে হাত দিয়ে ঝাকিয়ে)
যারা এমন মানুষকে কোনো ভয় না করে চলবে!
তোমার কি দরকার ছিল ওকে মারার, আমাকে ফোন করলেই তো পারতে,,
তোমার বাবা যদি এখন যানে আমাকে বকা দিবে না!
বলবে আমি থাকতে তুমি কেন ওরে মারতে গেছো,,
আর তোমার কিছু হয় নাই তো!


উপমা :আমার কিছু হয়নি আঙ্কেল, আর বাবা যেন এই সব একদম না জানে ঠিক আছে,,
পুলিশ :ঠিক আছে মামুনি,,
এই ওটাকে উঠা গাড়িতে সালাকে আজকে রাম দোলাই দিবো,,
উপমা :wait আঙ্কেল,
শুন মন্টু এইসব কাজ ছেড়ে দে কি লাভ এইসব করে, তোর বাসায় কি তোর মা বোন নাই, ওদের কথা একবার ভাব আমাদের কথা না হয় বাদ ই দিলাম,,
তোর মা কিংবা বোনকে যদি কেউ এই রকম ভাবে রাস্তায় ডিস্টার্ব করে,, তখন তোর কাছে কেমন লাগবো,,,
খুব খারাপ লাগবে ঠিক না!
ঠিক তেমনি আমাদের বাবা ভাইদের কাছেও লাগবে!
Next time যদি কাউকে এইরকম কিছু করার কথা ভাবিস তাহলে এখন যা দিসি না তার ডাবল খাইবি,,,
আঙ্কেল এখানের সব কটাকে নিয়ে যান,, যতদিন না ওরা ভালো হয় ততোদিন আটকে রাখবেন,,,

মন্টু ও তার সাথে যারা ছিল কিছু ভেগেছে, আর কিছু পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে,,,,
নিধি :Thank you so much আপ্পি,, (উপমার গালে একটা কিস করে)
আপ্পি তুমি আমার এতো বড় একটা কাজ করে দিছো, সত্যি আমি তোমার কাছে চির ক্রিতজ্ঞ,,
উপমা :এই এভাবে বলিস কেন, তোদের বড় আপ্পি হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব,,,
এখানের সব কটা মেয়েকে বলে দিচ্ছি,,
অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখো, ভয় পেলে চলবে না। কেউ তোমাদের সাথে অন্যায় করে আর তুমি তা মুখ ভুজে মেনে নিবে,,, তখন তোমাকে সে আরো অত্যাচার করতে শুরু করবে,,
আমাদের এখন অনেক ক্ষমতা আছে,,,
আর কারো কোনো সমস্যা হলে এই আপ্পির কাছে আসবা সমাধান করে দিবো,,,,

।বলেই ভার্সিটির ভিতরে চলে গেল।
আদি অভাক দৃষ্টিতে উপমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,,
আদি :এই মেয়ে এতো সতিলক্ষী আমার জানা ছিল না,,,,
কতো ভালো মেয়েটা!
নিধি :ভাইয়া মুখ বন্ধ করুন মশা ডুকবে,,,,
আদি লজ্জা পেয়ে মুখ বন্ধ করলো,, নিধি চলে যেতে নিলেই,,,,
আদি :আপু শুনেন,,
নিধি :জি বলেন?
আদি :ওই কেপটা আমাকে দিবেন?
নিধি :এটা তো উপমা আপুর কেপ আপনি নিয়ে কি করবেন,,,
আদি :এখানে যে একটু আগে এইসব করলো তার নাম কি?
নিধি :আপুর নাম উপমা খান,, কিন্তু আপু উপমা খান না বলে উপমা রাহমান বলে,,
মা-বাবার অনেক আদরের একটি মাএ মেয়ে,,
সব কিছুতে Expart,,


আদি :উপমা রাহমান কেনো লাগায় নামের শেষে? আর আমাকে ওটা দিয়ে যান প্লিজ,,
নিধি :আমি আসলে ওতো কিছু জানিনা,,, আপনি যখন এতো করে কেপটা চাইছেন এই নিন,, আমি আপুকে বলে দিবো এটা আপনি নিয়েছেন,,,
আদি :এই না না আমার নাম বলতে হবে না,, বলবেন এটা আপনি কোথাও রেখেছেন মনে নাই,,,
নিধি :আচ্ছা ঠিক আছে,,
নিধি চলে গেল,,
কিছুক্ষণ পর আদি উপমার ক্লাসে হাজির,,,

কিছুক্ষণ পর আদি উপমার ক্লাসে হাজির,,,,,
উপমা ক্লাসে সার যেখানে বসেন সেখানে সামনে টেবিলের উপর বসে,,, আর ক্লাসের অন্যরা নিজ নিজ সিটে বসে আছে,,
উপমার পাশে তার কিছু Friends দাড়িয়ে আছে,,,
উপমা কানে হেডফোন লাগিয়ে……….
গান গাইছে,,,,
.
উপমা :4botol boot ka kam mera roj ka, ,,
Na toj ko koi rokke, ,,,,,,,
Na kisi ko rokka, ,,
O……….ooo……………..o(মুখের সামনে একটা কাগজ মুরিয়ে ধরে)
I ona let’s o………
বলার আগেই আদি থামিয়ে দিলো!
এদিকে উপমার গান শুনে সবাই একটা হাতে তালি দিলো,,,
.
উপমা :ও মিয়া আপনার এতো সাহস. আসে কই থাইকা হু কই থাইকা আসে,,
কারো সাহস হয় না আমার কান থেকে হেডফোন খোলার আর আপনি খোলে পেললেন,,,,
আদি :এতে সাহসের কি আছে,,,
হেডফোনই তো খুলছি অন্য কিছু তো আর না,,,,(একটা মুছকি হাসি দিয়ে)
.
উপমা :Hop,,,
মাঝে মাঝে মনটা চায় আপনারে একদম কাচা চিবিয়ে খাই,,
শুধু কথায় পেচ লাগায়,,,,
এহন বলেন এখানে আসছেন কেন?
আদি :আপনাকে একটা ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য,,
.
উপমা :এই তানু আমারে একটি চিমটি কাট তো,,
তানিয়া :কেন?
উপমা :আরে কাট না!
তানিয়া :এই কাট লাম,,,
উপমা :
উ…..প আস্তে কাটতে পারছ না,,
ব্যথা পাই না!
আরে পাস তার মানে আমি কানে ঠিকই শুনছি,, ভুতের মুখে রাম রাম,,,
তাও কালো সানগ্লাসের মুখে (একটা অত্র হাসি দিয়ে)
আদি :What is this,, who is black sanglas,?(রাগি চোখে উপমার দিকে তাকিয়ে)
.
উপমা :কে আবার আপনি?
আদি :মুখ সামলে কথা বলুন মিসেস রাহমান,,,
উপমা :এই আপনি আমার বিখ্যাত নামটা মুখে নিলেন কেন,,,
দেত আপনার মতো একটা বলদের মুখে আমার নামটা কেমন গন্ধ হই গেছে,,,,
ওয়াহ থু …….থু,,
.
আদি নিজের রাগ Control করে রেখে,,,
আদি :শুনেন, আমি আপনার সাথে ফাজলামো করতে আসি নাই,,
আসছি একটা Thank you দেওয়ার জন্য,,, কেননা আপনি যেকোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জানেন তাই,,,
উপমা :ওহ না ঠিকই আছে,,
আমরা মেয়ে বলে কোনো দিক দিয়েই কম নয়,, এখনকার যুগের মেয়েদের অনেক ক্ষমতা আছে,,
আর উপমা রাহমান না কোনো কিছুকেই ভয় পায় না,,
তানিয়া :হে ভাইয়া আমাদের উপমা সব কিছুতেই পারদর্শী,,,
.
আদি gjh Really,, তা কি কি পারেন শুনি?
তানিয়া :আমি বলি বলি হে,,,
উপমা :মানা করছে নাকি কেউ বল,, তোদের এই যিনিয়াস আপ্পি টা কি কি পারে,, (টেবিল থেকে লাফ দিয়ে নেমে, একটা টেবিল থেকে নিজের বেগটা নিয়ে)
তানিয়া :উপমা,, গাড়ি ড্রাইভ করতে জানে,,
এই পযন্ত একটা মেসও হারেনি,,
ভার্সিটির যে কয়টা ছেলে ওর সাথে Car Res লাগছে সবকয়টা হারছে,,,
ভালো dancer, Singer,, মারামারিতে এক্সপার্ট,,
গল্প লিখে, কবিতা, ছন্দ,,, রান্না কাজটা পারেনা আর কি,,, ধরুন রান্না ছাড়া অন্য সব কাজই পারে,,,
.
আদি :Very,,,Good,,
আপনি যিনিয়াস প্রমাণ করে দেখাতে হয় তো,,
অন্তর :আরে আদি তুই এখানে আর আমি তোকে খুজে বেরাচ্ছি,,


উপমা :বাব্বা নিজের হবু বউকে রেখে বন্ধুকে চোখে হারাচ্ছে আমাদের জিজু,,,,
উপমার কথা শুনে প্রায় ক্লাসের সবাই হেসেই দিলো,,,
অন্তর :না ও এখানে কিছু ঠিক করে চিনে না তো তাই,,,,
উপমা :না ঠিকিই আছে,,
আমার জানপাখি কই,,,,
নিঝু,,,,
নিঝুম :এই তো আমি,,
উপমা :হুম, আছিস তাহলে,,
SO, Mister black sanglas আপনি যেনো কি বলতে নিচি লেন?
আদি :বলতেছিলাম,,,
আপনি তো যিনিয়াস তাহলে আমাদের প্রমাণ করে দেখান,,, (পকেটে হাত দিয়ে)
উপমা :You sure আমি করে দেখাবো,,,
নিঝুম :না না বাবু তোমার কিছুই করতে হবে না, তুমি যে লিজেন্ড আমরা তো জানি,,
শুধু শুধু কেন রেস লাগতে যাবি,,
আদি :no ভাবিজি,,
ওনাকে প্রমান করতে দিন,,,

ক্লাসের সবাই :হে হে আমারও চাই উপমা রেসটা লাগুক আর প্রমাণ হয়ে যাক কে যিনিয়াস,,
আমাদের উপমা নাকি,, ওই বিদেশি Bro টে।
উপমা :টেনশন নিয়ো না তোমরা বাবু,, উপমা রেসটা লাগবে ok,,
সবাই খুশিতে শিঝ বাঝাতে শুরু করলো,,
তানিয়া :তাহলে এবারের রেসটা,,
“উপমা রাহমান VS আদি চৌধুরী ”
একসাথে লরবে,,,
সবাই একটা হাত তালি,,
আর রেসটা আজকে ই হচ্ছে,,,
নিঝুম অন্তরকে এতটা পাশে নিয়ে,,
নিঝুম :প্লিজ রেসটা থামাও,,
আদি উপমার সাথে যদি একবার হারে তো,,
আদি ভাইয়ার মান সম্মান সব যাবে,,
অন্তর :আদিও কিন্তু কার রেসে চেম্পিয়ান,,,,
লারলে সমস্যা কই,,,,
তুমি টেনশন নেও কেনো,,,
আমরা একটা রেসও দেখবো,,
আর এটাও দেখা হবে দুজনের মধো কে যিনিয়াস,,,,
কিছুক্ষণ পর……………
উপমা আর আদির কার রেস শুরু ,,,,
.
দুজনে তৈরি হচ্ছে,,,,
ভার্সিটির সবাই উপমার জয়ধ্বনি গাইছে,,,
উপমা উপমা বলে অনুপেরনা দিচ্ছে,,,,


তানিয়া :উপমা আজকে তোকে জিততেই হবে,,
না হলে পুরো ভার্সিটিতে তোর কি হবে জানিস তো,,,,
উপমা :অবশ্যই জানি,,
না হলে উপমার মান সম্মান যাবে,,,,
এটাই তো?
তানিয়া :হুম,,,
কোনো দিকে কোনো নজর দিবি না,,,
তোর খেয়াল থাকবে শুধু কিভাবে জিতবি তুই,,
অন্তর ভাইয়ার কাছে শুনছি,,,
আদি ভাইয়া নাকি Car race এ Campian,,
উপমা :তুই এতো Tension নেচ কেনো বাবু,,, জিতলে আমি এমনিতেই জিতবো,,,
ওতো campian এর দরকার পরে না,, বুঝলি পাগলি (তানিয়ার গালে হাত দিয়ে)


নিঝুম :উপমা তুই সত্যি এই রেসটা লরবি,,
উপমা :হুম কোনো সমস্যা,,,
নিঝুম :আমার সমস্যা হতে যাবে কেনো,,
আমি তো তোর কেউই না, না আমার কথা কেন শুনতে যাবি,,,,
আবি ভাইয়া যদি এখন থাকতো,,,,
তখন তোর রেসের তেরোটা বাজাইতো,,,,
উপমা :আ…….,বি (একটু কাপা গলায়)
কি করতো ও একটু শাষন করতো, বকতো,,
এইতো,, না,
তুই আমাকে তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে,,
ভেঙে পেলতে চাসনা আমার মন,,,
আমি আগের সব কথা ভুলতে চাই,,,
নিজে নিজেকে শক্ত করে রাখতে চাই,,,
আর কথা বারানোর দরকার নেই।

কলেজের একটা স্তেজ থেকে কেউ বলে উঠলো,,
আদি এবং উপমা আপনারা দুজন তৈরি তো!
আদি :yea bro আমরা তৈরি,,
উপমা নিঝুম ও তানিয়াকে দু চোখ দিয়ে শাইখ দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো,,
উপমা আর আদির গাড়ি ভার্সিটির সামনে,,
একটা লাল পিতা দিয়ে দাগ টানানো ছিল,,
ওখানেই আছে,,,
দুজনের গাড়িই স্তাট দেওয়া শুধু বললেই চালু করবে,,
স্টেজ থেকে কেউ বলছে,,
Ready, 1,2,3,
আদি একবার উপমার দিকে তাকালো,,
কিন্তু উপমা একটি বারের জন্য ও আদির দিকে তাকালো না,,
আদি মুখ বাঁকিয়ে আবার সামনে তাকালো,,,
স্টেজ থেকে Go ……………

উপমা :আমার যতো জেদ আছে সব দিয়ে আজকে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম,,
এতো জোরেই গাড়ি চালাচ্ছি যে সামনে পিছনে কোনো দিকে খেয়াল নেই,,
আদিকে পিছনে পেলে চলে আসলাম অনেক সামনে,,
একটা যায়গায় এসে থেকে গেলাম,,,
মন চাইছে না এখান থেকে যেতে,,
কেননা এখানে যে আমার আর আবির কতো সৃতি জমে আছে,,
গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গেলাম সেই লেকের পাড়ে,,
ওখানে একটা বেন্স রাখা,, যেখানে আমি আবির জন্য প্রতি দিন অপেক্ষা করতাম,,
আজ দু বছর পর এখানে আসা।
গিয়ে সেই বেন্সটার পাশে দাড়িয়ে আবি যেখানে বসতো সেখানে হাতটা রাখলাম,,
এখানে বসে আমি আবির কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পারতাম আর আবি আমাকে বসে বসে দেখতো,,
উপমা চোখের পানি পেলছে আর আবির সাথে করা এখানে দুষ্টামি গুলো মনে করে হাসছে,,
লোকে উপমাকে দেখলে বলবে যে একি পাগল নাকি কাদে আবার হাসলেও,,
কিন্তু এই কান্না হাসি দুটুই তো উপমার কষ্টের,,


আদি :এটা মেয়ে নাকি ছেলে,, আমাকে পিছনে পেলে দিয়ে চলে গেল।
অনেক Dangerous তো মেয়েটা,,,
আদি সামনে তাকাচ্ছে কিন্তু দেখতে পাচ্ছে না, উপমার কোনো নিশানাই নেই,,,
আদি :আমি এখানের রাস্তা ভালো করে চিনিনা তাই আজকে এতো পিছে না হলে,, আজকে দেখিয়ে দিতাম,,
কিছু সামনে যেতেই দেখি,,
আদি :এটা তো উপমার গাড়িই,,
দেখতে তো তাই মনে হচ্ছে,,
মেয়েটার কোনো বিপদ হয়নি তো,,
কেউ কি ওকে ধরে,,
দূর কি ভাবছি এইসব আমি,,
নেমে খুজে দেখি কোথায় ও,,
আদি উপমাকে খুজছে কিন্তু পাচ্ছে না।
ওরতো এখানে যায়গাটা চিনে না খুজবেই কিভাবে,,


আদি :দেত ওকে তো পাচ্ছি না, কোথায় গেলো,,
আরে এটা উপমার আওয়াজ না,
ওই দিক থেকে আসছে,,
দৌড়ে আমি লেকের পাড়ের কাছে গেলাম,,
যায়গা টা তো শুংসাং, কেউ নেই,কিন্তু এইদিন থেকেই তো আওয়াজ টা আসছে,,,
উপমার নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে,,,
আমি এখান থেকে চলে যাবো,,
যেতে পা বাড়ালাম আবার পিছে চোখ যেতেই দেখি,,
কেউ একজন একটা বেন্সিতে মাথা ডুকরে বসে কাঁদছে,,
ওহে একটু আগে উপমাই আবি বলে জোরে একটা চিতকার করছিল,,
আর আদি তা শুনে দৌড়ে এলো,,


আদি :আমার কেমন জানি ভয় করছে উপমার কি কিছু হয়েছে,,
ভয়ে ভয়ে ওর পিছনে কাদে হাত দিয়ে,,
উপমা………মা
এই উপমা,,
উপমা উঠে দাড়িয়ে আদিকে জোরিয়ে ধরে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো,,,
উপমার এভাবে জরিয়ে ধরাতে আদি অনেকটা অভাক হয়ে যায়,,,
আদি :আ……আপনি কাদছেন কেন? (কাপা কণ্ঠে)
উপমা :আবি তুমি এসেছো, আমি জানতাম তুমি আসবে,, সবাই বলে তুমি নাকি আমাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছো,, আর কখনো আসবেনা আমার কাছে,,,,
কেন ছেড়ে চলে গেলে,,, তুমি জানোনা তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারিনা।
আবি………..এই আবি কথা বলছোনা কেনো,,,
বলেই আদিকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে আদির সাথে পুরো মিশে যায়,,,
আদি উপমাকে ছাড়তে পারছে না,,,
যতই ছাড়ার চেষ্টা করছে উপমা ততই আরো বেশি করে জরিয়ে ধরছে,,,


আদি উপমাকে জরিয়ে ধরতে একবার হাত বারায় আবার সরিয়ে পেলে!
যদি উপমা কিছু মনে করে,,,,
আর ওইদিকে সবাই তাদের জন্য অপেক্ষা করছে,,,
অন্তর :এতোক্ষন সময় হয়ে গেলো,,,
ওরা কেউ আসছেনা যে,,,
নিঝুম :am sure কিছু একটা হয়েছে,, উপমাকে এতো করে বারন করলাম কিন্তু কিছুতেই শুনলো না,,, আঙ্কেল যদি একটি বার জানে তাহলে ওনার হুশ হারাবে,,
অন্তর :এই চলো আমরা দুজন গিয়ে দেখি ওরা কোথায়,,,,
নিঝুম :হে চলো,,,
তারা দুজনই রওনা দিলো ওদের খুজতে,,
আদি :উপমা আমাকে ছাড়ুন,,, আমি আপনার আবি নই,,,
কিন্তু কে শুনে কার কথা,, উপমা আদিকে ছাড়ছেই না,,,
একটা সময় উপমা নিচে ধপাস করে পরে যায়,,
নিচে,,
আদি :উপমা এই উপমা,,
কথা বলুন কি হয়েছে আপনার,,
উপমা ……….
উপমা,, (উপমার দুই গালে হাত দিয়ে)
উপমার মাথা আদির কোলে নিয়ে উপমাকে ডাকছে কিন্তু উপমা কোনো কথা বলছে না,,,
আদি :কি হয়েছে ওনার,,
এতো কিছু ভাবার সময় নেই,, হসপিটালে নিয়ে যাই সেই ভালো,,
উপমাকে কোলে নিয়ে গাড়ির সামনে আসতেই দেখে অন্তর আর নিঝুম চলে আসছে,,
নিঝুম দৌড়ে গাড়ি থেকে নেমে এসে,,
নিঝুম :উপমার কি হয়েছে ভাইয়া,,
ওকে এভাবে রাখছেন কেনো,,
উপমা এই উপমা কথা বল,,,
আদি :আমি জানিনা ভাবিজি ওনার কি হয়েছে,, আমার মনে হয় ওনি Sence হাড়িয়ে পেলেছে জলদি হসপিটালে নিতে হবে,,

আদি :আমি জানিনা ভাবিজি ওনার কি হইছে,,, কিন্তু আমার মনে হইতেছে ওনি Sence হারিয়ে পেলেছে জলদি হসপিটালে নিতে হবে,,,,
নিঝুম :হে তারাতারি গাড়িতে ওঠান,,,,
উপমাকে ধরে তিনজনে গাড়িতে উঠিয়ে,,,, হসপিটালে নিয়ে আসলো,,,,,
আদি gjoctor, Doctor Emergency,, Please,,
Doctor :কি হয়েছে উপমা,,
Sister, Sister,, তারাতারি এসো,,,, ওকে একটা বেডে নেও,,,
আদি :I Don’t Know Doctor,,, ওনি কাদতেঁ কাদতেঁ হঠাৎ ই Sence হারিয়ে পেলে,,,
নিঝুম gjoctor, একটু তাড়াতাড়ি ওর কি হয়েছে বলুন,,
Doctor :You Don’t worry ,,,
আমি দেখছি,,
উপমাকে একটা বেডে দুজন Sister এসে নিয়ে গেল,,,,


নিঝুম উপমার বাবাকে ফোন করলো,,,
নিঝুম :হেলো,, আসসালামু ওলাইকুম আঙ্কেল, উপমার বাবা :ওলাইকুম সালাম,, নিঝুম কি হইছে তোমার তোমার কণ্ঠ এমন লাগছে কেনো?
কিছু হয়েছে কি?
নিঝুম :হে আঙ্কেল,,,
উপমা হঠাৎই sence হারিয়ে পেলেছে,,,
ওকে নিয়ে একটা হসপিটালে এখন আছি,,,
উপমার বাবা :what?
কোন হসপিটালে তারাতারি বলো,,,
কি হয়েছে আমার Princess এর,,


নিঝুম উপমার বাবাকে হসপিটালে নাম বললো,, কিছুক্ষণ পরই উপমার বাবা ও মা দুজনি উপস্থিত,,,,
উপমার মা :কি হয়েছে আমার মামুনি তার কোথায় ও?(দৌড়ে নিঝুমের কাছে এসে হাপাতে হাপাতে,)
নিঝুম :জানিনা আন্টি,,,
তুমি চিন্তা করোনা, উপমা ঠিক হয়ে যাবে,,
উপমার মা :তুমি বলছো চিন্তা করবো না,
মেয়েটাকে নিয়ে আমার কতো চিন্তা হয়,,
একটা কথাও শুনে না নিজের মর্জি মতো চলে,,
যা মন চায় তাই করে,,,,


উপতার মা নিঝুমকে ধরে কান্না করতে লাগলো,,
নিঝুম :আন্টি কাঁদবেন না প্লিজ,,
আঙ্কেল প্লিজ আন্টিকে সামলান,,,
আঙ্কেল :তুমি বঙ্গে পারছো কেন?
নিজেকে সামলাও উপমার কিচ্ছু হবে না,,,,
আল্লাহর উপর ভরশা রাখো,,,,
আন্টি :আচ্ছা, আমার মেয়েকে হসপিটালে আনলো কে?
নিঝুম :ওই যে আদি ভাইয়া,,,
ওনিই উপমাকে হসপিটালে আনছে,,(আদিকে দেখিয়ে)
আদির মাঝেও একটা ভয় ডুকে গেছে,,, কি হয়েছে মেয়েটার,,
উপমার মা :তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা,,,
তুমি আমার মেয়েকে হসপিটালে এনেছো,, (আদির দু হাত নিজের হাতে মুস্টি বদ্দ করে)
আদি :No No আন্টিজি,,
এভাবে বলছেন কেনো,,, ওকে এভাবে দেখলে যে কেউ হসপিটালে নিয়ে আসতো ঠিক তেমনি আমি ও নিয়ে আসছি,,


উপমার বাবা :আচ্ছা, তুমি আমার Princess টাকে কীভাবে দেখেছো আর তুমি কোথায় পেয়েছো ওকে?
আদি একবার নিঝুমের দিকে তাকায়,,,
চোখ দিয়ে ইশারা দিয়ে বলছে,, রেসের কথাটা বললে কি ঠিক হবে,,
নিঝূম :মাথা নাড়িয়ে বললো না যেনো না বলে রেসের কথা,,,,
আদি আবার চোখ দিয়ে বলছে না মিথা বলা ঠিক না যা সত্য তাই বলি,,
আদি সব কিছু খুলে বললো উপমার বাবাকে,,
উপমার বাবা :আবার আমার মেয়েটা পাগলামি শুরু করেছে,,,
কি করবো মেয়েটাকে,, নিজের যা খুশি তাই করে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে,,কে সামলাবে ওকে, কে দেখবে,
আদি :আঙ্কেল, উপমা কি আবি নামের কোনো ছেলেকে পছন্দ করতো, I mean Love করতো,,


উপমার বাবা :তুমি আবিরের কথা বলছো,,
আদি :হয়তো আবিরই হবে,,
ওনি আবিরের নাম ধরেই কাদতেঁ কাদতেঁ মাথা গুরে পরে যায়,,,
উপমার মা :দু দুটো বছর কেটে গেলো,,
এখনো ও নিজের মন থেকে আবিরকে মুছতে পারেনি,,,
ওতো আবিরকে হারানোর পর থেকেই কেদে কেদে আরও একবার এই অবস্থা করে ছিল,,
আচ্ছা, উপমার বাবা, তোমার মনে আছে Doctor আমাদের বারন করেছিল যেনো আমরা আর উপমাকে কখনো কাদতেঁ না দেই,,
কিন্তু কি হলো সেই আবার হলোই?


কিছুক্ষণ পর Doctor এলো,,
Doctor :জাফর তুই চিন্তা করিস না উপমা ঠিক আছে,,
ও কান্না করার ফলে,, Sence হারিয়েছে (উপমার বাবার কাদে হাত দিয়ে)
আদি :Thank God, ওনি তাহলে ঠিক আছে,,
উপমার বাবা :আচ্ছা, আমরা কি ভিতরে যেতে পারি,,,
DOCTOR :হুম, যা শুন বেশি জোরে আওয়াজ করিস না, ওর সমস্যা হবে,
ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পারিয়ে রেখেছি,,
আদি উপমার দিকে এক নজর তাকিয়ে দেখে,,
ও নিশফাপ বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছে,,
যেনো কিছুই বুজে না, কাদতেঁ কাদতেঁ মেয়েটার চোখ গুলো পুরো লাল হয়ে পুলে গেছে,,
আদি :আচ্ছা, আঙ্কেল আমরা তাহলে আসি,
উপমার বাবা :ঠিক আছে, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা, আমাদের বাসায় এসো ঠিক আছে,,
আদি gjkey আঙ্কেল,


আদি আর অন্তর দুজনেই চলে গেল,
নিঝুম থেকে গেলো,,
আজকে যাবৎ তিনদিন উপমা ভার্সিটিতে আসছে না,,
আদি :আচ্ছা, ভাবিজি মিসেস রাহমান ভার্সিটিতে আসছেনা কেনো ওনি তো এখন সুস্থ আছেন,,
নিঝুম :হুম, ওর বাবাই আসতে দিচ্ছে না!
আরো কিছুদিন বাসায় থাকুক তারপর আসবে,,
ভার্সিটির সামনেই তিনজন দাড়িয়ে,,
অন্তর :তা আদি, তুই হঠাৎ আজ আমার সালিশ সাহেবাকে কি মনে করে খোঁজ নিলি?
তুই তো ওকে দেখতেই পারিস না,,
আদি :তুই কিন্তু, বেশী করিস অন্তর,
ওকে আজকে তিনদিন যাবৎ ভার্সিটিতে আসতে দেখছিনা তাই জিজ্ঞেস করলাম,,,
এতে মনে করার কি হলো আজব,,
অন্তর :না এমনিতেও তোকে দেখছি তুই উপমাকে খুব চোখে হারাচ্ছিস,,
ওর প্রেমে পরে যাসনি তো,,,
তোর তো আবার একটা মেয়ে দারা হয় না
100 টার সাথে প্রেম করিস,,,
আদি :Just Chill bro,,
আমি কই ওদের প্রেমে পরি,,
ওরাইতো আমাকে Proposed করে,,
আমার আর কি করার তাদের propose accept না করলে Mind করবে, কষ্ট পাবে তাই আমি ওদের সাথে একটু ফাজলামো করি And ওরাও করে,,
আমার ও সময় কাটে ওদের ও,,


অন্তর :হুহ ভালো,,
আচ্ছা, আমি আর তোর ভাবি একটু বের হই,, তুই বাসায় চলে যা,,
আদি :দূর বাসায় আমার একটুও ভালো লাগে না, আর এখানে আমার তুই ছাড়া আর কেউ নাই যে একটু আড্ডা দিবো,,
নিজে তো বউ নিয়া বিজি থাকিস আমার নেই বলে আজ আমি অসহায়,,, (একটু কান্না ভাব নিয়ে)
অন্তর :হা হা এভাবে বলছিস কেনো,,
একটা কাজ কর তুই উপমার বাসায় চলে যা ওর মনটা একটু ভালো করার চেষ্টা কর, আর তোর সময় ও কাটবে, ওর সাথে Friend Ship করার চেষ্টা কর,,
ওর অতিতের কথাগুলো ভুলাই দে,,,
নিঝুম :হে ভাইয়া অন্তর ঠিকিই বলছে,,
প্লিজ একটু করুন,,,,


আদি :আ…আ…আমি (ঠোক গিলতে গিলতে)
ভাবারে যেই রাগি মেয়ে আমাকে আবার খুন করবে না তো,,,,
নিঝুম :আরে না কিযে বলেন,,
ও দেখতে রাগি হলেও মনের দিক থেকে অনেক ভালো,,
আপনি যান কিচ্ছু করবে না, ও
আদি :এতো করে যখন বলছেন তাহলে যেয়েই দেখি, আর আমাকে আঙ্কেল ও বলছে জাইতে,,
ওর সাথে আড্ডা দিয়ে একটু Friend ship ও করি,,
কিন্তু ……………...
.
কিন্তু Bro,,,
আমি তো ওদের বাড়িই চিনিনা।
কোথায় অবস্থিত তাদের বাড়ি?
অন্তর :তোর বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়া অবস্থিত ফাজি কোথাকার,,,,
.
নিঝুম :হা হা হা ……….
আদি :ওই এভাবে বলছ কেন,,,, জানস না এইখানে লাগে,,,,(বুকের বা – পাশে হাত দিয়ে)
নিঝুম :wait,,, এই তানিয়া,,,,
শুন এদিকে আয় …………
তানিয়া :হে বল?
নিঝুম :তুই তো এখন বাসায় যাবি তাই না?
তানিয়া :হুম, কেন,,,
নিঝুম :এই যে ভাইয়া (আদিকে দেখিয়ে)
উপমাদের বাসায় যাবে,,,,
তোদের বাসা আর ওদের তো কাছেই তাই ভাইয়াকে একটু উপমাদের বাসাটা দেখিয়ে দিস,,,


তানিয়া :তানিয়া Don’t Miss,,
চলে যা এই Crush Boy টাকে মিস করিস না,,
কি হেন্ডসেম, ও….হ
বলে বুঝানো যাবে, গায়ে পড়া, Black Shirt, চোখে সানগ্লাস, হাতে ব্রেস্লেট, পরনে ছেলেদের Scene Chocolate color পেন্ট,, গলায় ছেলাদের পরা চেইইন. ওহ দেখতে যে কি লাগছে না,,
তানিয়া এতোক্ষন মনে মনে বলছে,,,
নিঝুম :আরে কই হারালি আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি,, (সামনে একটা হাত দিয়ে বাজি ফাটিয়ে)
তানিয়া :ওওওওও……হে,
কি বলছিলি যেন তুই,
নিঝুম :তুই কি যাবি ভাইয়ার সাথে?
তানিয়া :আচ্ছা, ঠিক আছে, সামনে তো আমারই বাসা যেতে সমস্যা কই, (একটা হাসি দিয়ে)


আদি :বাবারে এই মেয়ে যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, মনে হয় প্রেমে পরে গেছে,,
পরারই তো কথা, এতো Smart, একটা ছেলেকে দেখলে যে কোন মেয়েই প্রেমে পরবে,,
হে সবাই পরবে, শুধু ওই কি যেন নাম মিসেস রাহমান ই পরবেনা হুহ। (মনে মনে)
অন্তর :তো তুইই এর সাথেই চলে যা!
আদি :এর সাথে ঠিক আছে,


তানিয়া :ও…হ এভাবে তাকায় কেন?
ও বুঝেনা,
Hay Re mey marjaba, ay larka to muje marne ke liye plen karta hy,
না না বাবা আমি জিনধা থাকতে মরতে চাই না।


আদি :চলেন Sister,
তানিয়া :হুহ,
আরে এই Larka to muje sister bana diya,
বলছে তো কি হইছে, একটা ধরে বলছে তো,
YOU Mera janer Jigar, Tum jo name py muje bolaye gi, Me sunle ki liye tayer ho,
এই আমি এতো হিন্দি বলি কেন থোরি,
আমি তো রোমান্টিক সিনেমার Dialogue মারি,
মাথা ঝাকিয়ে মনে মনে, গাড়িতে উঠে বসে।


আদি :Bro, I go to Khan Industry,
Please prey to God,
যেনো ওই মিসে উপমা থুক্কু রাহমান, আমার সাথে ঝগড়া না করে,
অন্তর :হে তুই যা, আমরা Pray করবো, তোকে যেনো আমার শালি এমন মার মারে জন্মের সাধ ভুলে যাস,,


আদি :দূর হারামজাদা,
তোর কথা শুনে টা কে?
দিলাম গাড়ি Start,,
গাড়ি চালাতে চালাতে,,
আচ্ছা, আমি এই হারামজাদা, Language টা কই শুনছি,
নিশ্চয়ই মিসে রাহমান এর কাছ থেকে কেননা ওনিই এই সব কিছু প্রতিটি কথায় বলে,,
এগুলো, আমাকে বাদ দিতে হবে, না হলে Mom, আমার কানটা টেনে ছিরবে,,


তানিয়া :আচ্ছা, আপনার নাম কি?
আদি :কার আমার,
তানিয়া :নিশ্চয়ই এখানে আপনি আর আমি ছাড়া অন্য কেউ নেই,
আদি :ওহে আমার তো মনেই ছিলোনা,
AM Adi Chowdury,
From Australia, বেকার কিচো করিনা,
আপনি?
তানিয়া :আমি তানিয়া আক্তার,
বি.এ Final. Year,
আচ্ছা, আপনি বেকার কেনো?
আদি :হিহিহি,
পড়াশুনা শেষ তো এখন বেকারই তো,,
কিছুদিন পর Dad এর অফিসে Join করবো,,
আর কতো দূর বলবেন প্লিজ?
তানিয়া :এই তো রাখেন চলে আসছি,,,
তানিয়া নেমে পরলো,,,


তানিয়া :সামনে গিয়ে বা -পাশে যাবেন,
আর একটা বড় বাড়ি দেখবেন, ওইটাই,,
আদি gjkkk,
আদি চলে গেল।
তানিয়া :কি ছেলে একটা Thanks ও দিলো না, কথাও অনেক পাকা,
দূর এতো কি ভাবছি ওর সাথে কথা বলার সুযোগ পাইছি এটাই অনেক।


আদি :Wow Amusing,,
কি সুন্দর বাড়িটা।
বাড়ির বারান্দায় ফুলের গাছ,
ওইদিকে তো বাগান ও আছে দেখছি,
ওহ…হ এই বাড়ির যদি জামাই হয়ে আসতাম আমি,,
তাহলে আমার বউটার সাথে রোজ বিকালে এই বাগানে দোলনায় বসে বসে দুলতাম আর সুন্দর বিকেল টা উপভোগ করতাম।
দেখতে হবে এই বাড়িতে অন্য কোনো সুন্দরী আছে কি না,
মিসেস রাহমান তো যা এক মেয়ে মনে হয় কোনোদিন আমার বউ হইবে না।


কথা না বাড়িয়ে বাড়ির মেইইন দরজার সামনে গিয়ে গিয়ে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম,,,
আদি :আরে কি আজব, দরজা খুলতে সময় লাগে কেন?
আচ্ছা, আমি বাড়িতে ডুকলে যদি মিসেস রাহমান জিজ্ঞেস করে কেনো কেন আসছি তখন কি বলবো,, দ
দুর বলে দিবো, আন্টি & আঙ্কেল আমাকে আসতে বলছে, তাই আর হাত ছাড়া করলাম না।


বাড়ির ভেতরে …………
উপমা :মাম্মা …………মাম্মা,
কে আসছে? দেখো না কতক্ষন ধরে বেল বাজাচ্ছে,,
উপমার মা :আমি একটু রান্না করছি তোর জন্য,
তুই খোল না, তোর আন্টি কই?
উপমা :আন্টি,
উপরে আমার রুম ঠিক করছে,,
থাক আমিই দেখি,,,
দরজাটা খুললাম,
আদি :আরে আরে,
মেয়েটা বাসায় এসোব কি পরে আছে,,,
আমার মাথা তো গেছে এখনকার যুগে তো এইসব পোশাক ই পরে,,
পায়ের নিচ থেকে তাকে আমি দেখছি,,


মেয়েদের জিঞ্চের ছোট পেন গুলা পরা, আর গায়েও একটা মেয়েদের গেঞ্জি,,
দেখতে কিন্তু অসম্ভব সুন্দরী লাগছে,,
উপরে মুখের দিকে তাকাতেই দিলাম এক চিৎকার,,
আদি :আহ…………..আহ………
উপমা নিজে ভয় পেয়ে তার সাথে চিল্লানো শুরু করলো,,,,
উপমার মা :এই কি হইছে কি তোমরা চিল্লাচ্ছো কেন?
উপমা :মাম্মা, কে আসছে?
কণ্ঠ টাও কেমন চিনা চিনা লাগে,,
আদি :হাই আন্টি,,
উপমার মা :হেলো, তুমি আসছো বাবা,
আদি :জি, আন্টি, আপনি বললেন আর আমি চলে আসলাম,,
আচ্ছা, ওনি মুখে এটা কি দিয়েছে তাই দেখেই তো আমি ভয় পেয়ে গিয়েছি,,,,
উপমা :আপনি এখানে আসছেন কেনো?


উপমার মা :ও মুখে একটু Dry করছিলো,,
দিনদিন কালো হয়ে যাচ্ছে তো তাই,,,
আদি :বাবা, মেয়েরা মুখে যে কতো কি মাখতে পারে,,,
ওই সব কিছু আমার মনে থাকে না।
উপমা :মাম্মা, ওনাকে বারন করো,,
কি বলছে কি?

উপমা :মাম্মা,,, ওনাকে বারন করো,,,,
কি বলছে কি?
আদি :যা সত্যি তাই বলছি,,,,
মেয়েগুলা দিনদিন যা হইতেছে না,,,,
পার্লারে গিয়ে গিয়ে বাবার আর জামাইর অন্যধংস করছে ,,,,,,
উপমা : Just Shat Up,,,,
আমি চোখ খুলতে পারতেছি না দেইখা,,,
কিছু করতে পারতেছি না।
না হলে আজকে আপনাকে বুঝাই দিতাম উপমা কি,,,,


আদি :আচ্ছা, আন্টি আপনার মেয়েটা এমন কেন,,, কথায় কথায় শুধু রেগে যায়,,,,
উপমার মা :ও ছোটবেলা থেকেই এমন,,,
অনেক জেদি,,,,
আমাদের একটি মাএই তো মেয়ে।
আর ও না ওর বাবার মতো পুরো হইছে,,
বাবা এত্ত আদর করে,
আর আমি ডাক দিতে গেলে বাপ মেয়ে দুজনে উঠে পরে লাগে।
আদি :হা হা হা……
আন্টি জানেন তো আমার Dad ও,
এমন আমার মম যখনই আমাকে একটু আদর করে তখন Dad উঠে পরে লাগে।


উপমা :মাম্মা, আমি উপরে যাচ্ছি,
আর নীলা আসলে বলবা যে আমি উপরে ঠিক আছে!
উপমার মা :আচ্ছা, ঠিক আছে।
উপমা :এখন ওনাকে পাইছো তো আমাকে আর পাপাকে ভুলে যাইও না,,
আদিকে মুখ ভেকিয়ে সিরি দিয়ে চলে গেল।
উপরে ……………
উপমার মা :তুমি বসো বাবা,,
আদি :জি আন্টি,,,
উপমার মা :আচ্ছা, কি খাবে বলো চা কপি,,,
আদি :কপি হলেই চলবে,,,,
উপমার মা :মালিহা, মালিহা এখানে দুই কাপ কপি আনতো,,,
মালিহা :হে আনছি,
মালিহা বাড়ির কাজের লোক,,,,


উপমার মা :তো তোমার বাড়ি কোথায়?
আদি :আমি Australia. থাকি,
এখানে আসছি, আমার Friend. অন্তর ওর বিয়ে উপলক্ষে,,,
আপনার মেয়ে উপমা ওনার বান্ধবী নিঝুমের সাথে বিয়ে।
উপমার মা :নিঝুমের সাথে,
হে উপমা মনে হয় আমাকে বলছিলো,,,,
তুমি পড়াশোনা করো নাকি জব,,,
আদি :পড়াশুনা শেষ কিছুদিন পর বাবার অফিসে জয়েন করবো,,
উপমার মা :হুম, Good!
জানোতো আমার মেয়েটার না Singer হওয়ার অনেক শখ,,,
আমরাও এতে সম্মতি দিছি,,,
কিন্তু এখন ও আবার মত পাল্টিয়ে পেলছে,,,,
আদি :উপমা গান গাইতে পারে,,,,
উপমার মা :হে আমার মেয়েটা অনেক সুন্দর গান গাইতে পারে,,,
গান লিখে ও,,,
গানের গলাটা না ওর সত্যি অনেক সুন্দর,
আদি :আরে তাহলে তো শুনতে হয়।
উপমার মা :ও না এখন আর গান গায় না,,,
না হলে রোজ রাতে গিটার নিয়ে এখানে বসে আমাদের গান শুনাতো,,,(ড্রইংরুমে কথা বলছে, চোখের পানি এক ফোটা পেলে)
আদি :আচ্ছা, আন্টি,
এখন গান গায় না কেনো?


উপমার মা :দু বছর আগেই গান ছেড়ে দিয়েছে,
ও না আবির নামের কোনো এক ছেলেকে খুব ভালোবাসত, ও শুধু একা না দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসত।
দু বছর আগেই আবির Australia কার একসিডেন্ট এ মারা যায়,,,,
উপমার গান, ছন্দ, কবিতা সব জুড়ে ছিল আবির।
অবশ্য আবিরই তাকে এইসব করতে অনুপেরনা জুগিয়েছে,,,
আবির চলে যাওয়ার সাথে সাথেই ওর সব কিছু থমকে গেছে,
ও নিজের সবকিছু হারিয়ে পেলেছে।
রোজ রাতে কেদে কেদে বালিশ ভিজিয়েছে,,,,
আমরা কিছুই করতে পারিনি।
না খেয়ে খেয়ে জানো এই পর্যন্ত কয় বার অসুস্থ হয়েছে,,,
একজন Doctor Already বাড়িতে রাখতে হইছে ওর জন্য,,,
কে আসবে আমার মেয়েটার জিবনে, কে আবার সুন্দর করে গুছিয়ে দিবে তার জিবনটাকে।
যে ছিলো সে তো আর নেই, ও কেনো বুঝে না মানুষ তো আর সারা জিবন বেচে থাকে না একদিন না একদিন তাকে চলে যেতেই হয়।
আর আবিরের ও তাই হয়েছে,
আদি :আন্টি শান্ত হন,,,
এভাবে ভেঙে পরছেন কেনো,,
আপনি নিজে ভেঙে পরলে ওকে কে সামলাবে,
প্লিজ কান্না বন্ধ করুন,,,


উপমার মা আদিকে জরিয়ে ধরে কাঁদছে,
আদি বারন করছে কিন্তু কিছুতেই শুনছে না।
আদি :আন্টি আপনি কান্না করলে কিন্তু আমি এখন চলে যাবো,
উপমার মা :আচ্ছা, ঠিক আছে বন্ধ করলাম,
তুমি যদি আমার যায়গায় থাকতে তখন বুঝতে একটা মায়ের বুকের ভিতরে কি চলছে,
আদি :হে আমি জানি আন্টি,
তবুও আমি এখানে বাংলাদেশে যতোদিন আছি, উপমাকে একটু বুঝাবো।
উপমার মা :হুম, একটু বুঝিয়ো বাবা,
নিজের জিবনটাকে মেয়েটা শেষ করে দিচ্ছে,,,


উপমার মা চোখের পানি মুছে …………
উপমার মা :আচ্ছা, তুমি বসো এখানে আর আজকে দুপুরে কিন্তু এখানে খেয়ে যেতে হবে কোনো বারন শুনছি না।
আদি :আমার আন্টি বলেছে বারন করতে পারি নাকি (একটু হেসে)
উপমার মা :হুম ঠিক আছে (আদির কপালে একটা কিস করে)
আদি :আন্টি, তোমাদের বাড়িটা না অনেক সুন্দর একটু ঘুরে দেখতে পারি,
যদি কিছু মনে না করো।
উপমার মা :এতে বলার কি আছে, দেখো সমস্যা কি?
আদি gjk, আন্টিজি,,,


উপমার মা দুপুরের জন্য রান্না করতে চলে গেল,,
আদি পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখছে।
দেওয়ালে উপমার অনেক ছবি টাংগানো,,,
আদি সব গুলোই দেখছে,,,
একটার পাশে এসে আটকে গেলো,,,,
আদি :Just Osam,,,
উপমাকে কাপড় পরলে এতো সুন্দর লাগে,
ভাবতেই পারছি না,
কি সুন্দর বাচ্চাদের মত লাগছে,,,
পরীরা যে এর কাছে হার মানবে না,
একটা সাদা রং এর শাড়ি পরা, চুল গুলো ছাড়ানো, ঠোটে হালকা লিপ্সটক,চোখে কাজ।
অসম্ভব সুন্দরী লাগছে,,,
আদি :অহ….হ
আমি তো উপমার উপর চরম ক্রাশ খাইছি,,,
ইশ যদি এই ছবিটি আমি নিতে পারতাম,
একটা কাজ করি মোবাইল দিয়ে একটা পিক তুললেই তো হয়,,,,
আদি একটা পিক তুলে পেললো,,,


আদি এক এক করে ছাদ বাড়ির সবকিছু দেখলো,,
এভার উপমার রুমে ডুকলো,,,
আদি :রুমটা তো অনেক সুন্দর,,,
একটু ভিতরে ডুকি তো,,,
ভেতরে ডুকেই আদি রুমটাকে দেখছে কি সুন্দর করে রুমটা সাজানো,,,
বিচানার চার পাশে কিছু পুতুল,,,
বারান্দায় অনেক গুলো ফুলের টপ জুলানো।
অনেক সুন্দর করে সাজানো।
আদি যেতে যেতেই বিচানার পাশের ওয়ার ডোফটার উপর একটা ডাইরি দেখতে পেলো।
গিয়ে ডাইরিটা হাতে নিয়ে, পাতাগুলো উলটিয়ে দেখছে আর পরছে,,,
আদি :আন্টি, ঠিকই বলছে উপমা অনেক সুন্দর করে ছন্দ লিখতে পারে,,,,
কি সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা ছন্দ গুলো,,,
আল্লাহ একটা মানুষের মধো এতো শুন দেয়।
লোকে ঠিকই বলে সৃষ্টির শেরা জিব মানুষ।


কতো সুন্দর করে একজন মানুষকে তৈরা করলো তার মধো কতো গুন দিলো।
এতো সুন্দর করে কি ভাবে আল্লাহ একজন মানুষকে বানায়।

আদি একটা ছন্দে এসে জোরে পরতে থাকে একটু মুছকি হেসে,,,
“একটি জিনিস সবার ভাগ্যে জুটে না,
ভালোবাসা।
একটি জিনিস অনেকের মাঝে থাকে না,
মন।
একটি জিনিস সুন্দর হলে সব কিছুই সুন্দর,
চরিত্র।
ভালোবাসা, মন, চরিত্র।
এই তিনটি জিনিস পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি জিনিস। কিন্তু, ভালোবাসা তার মধো একটু বেশি,, হয়তো এটাই শ্রেষ্ঠ জিনিস সবচেয়ে।
ভালোবাসা শব্দটি বড়ই অদ্ভুত, হঠাৎ করেই মানুষের জিবনে চলে আসে।কেউ কাউকে বলে আসেনা। যেখানেই যায় সেখানেই বিন্দু পরিমান হলেও ভালোবাসা আছে। ভালোবাসা হলো এক আত্মায় দুই দেহ।
ভালোবাসার মাঝেই একটি মানুষ নিজের জিবন সাথিকে পায়।অনেকে আবার পায় ও না, ভালোবাসা টিকলে সারাটি জিবন আর না টিকলে এতটি দিনের জন্য ও না।
পরতে পরতেই হঠাৎ উপমা পিছন থেকে,
উপমা :এই যে আপনি আমার রুমে কেন?
আদির উপমার ডাকে হুশে পিরে আসে,,,
উপমা :আপনি আমার ডাইরিটা পরছেন সাহস কতো,, দিন আমার ডাইরিটা।
বলেই আদির হাত থেকে টান দিয়ে নিয়ে যায়।


আদি উপমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে,যেনো কতো দিন পর উপমাকে দেখছে,
নিজের মন ভোরে কাছ থেকে দেখছে।
উপমা আদির সামনে একটা হাত দিয়ে চিটি মেরে,,,
উপমা :আপনি কি শুনতে পারছেন না?
আদি :ও…হ হে বলেন,,,
উপমা :আপনি আমার রুমে কি করছেন, হুম কি করছেন শুনি,,
ভাঙিস আমি এখনো শাওয়ারে জাইনি,,,,
JUST ফ্রেশ হতে গেছিলাম,,,
না হলে তো সব দেখে পেলতেন,,,,
আদি উপমার সামনে একটু একটু করে পা বাড়িয়ে যাচ্ছে,
আর উপমা ভয়ে পিছে যাচ্ছে,,,,
.
উপমা মনে মনে,,,
উপমা :এই রে আমি হুট করে বলে পেললাম এই শয়তান টা আবার আমাকে কিছু করে বসবে না তো,,,,
না না আমাকে কিছু করতে আসলে আজকে মেরে নাক পাটিয়ে দিবো ……
হুহ,,,,
উপমা যেতে যেতে পুরো দেওয়ালের সাথে লেগে গেছে।
তাদের মাঝে কিঞ্চিত বিন্দু মাএ দূরত্ব,,,,
উপমা ভয়ে কাপতে থাকে,,
নিজে নিজে ভাবতে থাকে ওনি যদি আমাকে কিছু করে,,,
আদি এক দৃষ্টিতে উপমার দিকে তাকিয়ে থাকে …


উপমা :আ…আপ……আপনি কি ….কি করছেন? (কাপা কণ্ঠে)
আদি আস্তে করে উপমার চুল গুলো কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে,,,
এক হাত দেওয়ালে রাখলো আর অন্য হাত পকেটে ডুকালো,,,,
উপমা তার পকেটে ডুকানো হাতের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,,,
আদি :এই নেও এটা তোমার জন্য?
উপমা :Wow
Kit-ket , &Dairy Milk
its my very favorite Chocolate,,,
আদি :হুম…….
উপমা চকলেট গুলো হাতে নিয়ে খুশিতে লাপাতে থাকে,,,
উপমা :আচ্ছা, চকলেট যে আমার পেবারিট আপনি জানেন কীভাবে?
আদি gjimple,সব মেয়েরাই এগুলো পছন্দ করে,,, (একটা মুছকি হাসি দিয়ে)
উপমা :হুম, কিন্তু?
সবাই তো আর Kit-ket and Dairy milk Like করে না,
নিশ্চয়ই আপনাকে কেউ বলছে যে এগুলো আমার পছন্দ,,
তাইনা বলেন কে বলছে আপনাকে?
আদি :কই কেউ বলেনি,,
কে আমাকে বলতে যাবে,,,
এখানে তো আমি কাউকে চিনি ই না কাকে জিজ্ঞেস করবো যে আপনার এই চকলেট গুলো পছন্দ,,,,
কিছুটা দুরে গিয়ে।
উপমা :এই শুনেন একদম ফাইজলামি করবেন না, আপনাকে কেউ বলছে আমি Sure …
আমার ফাজলামো করার এখন একদম মুড নাই,,,,
SO তারাতারি বলে পেলুন,,,
আর না বললে?
আদি :না বললে কি করবেন?
উপমা :কি করবো আর আপনার চকলেট গুলোই আর খাবো না, এই নেন?
আদি :এই না না বলছি তো,,,
এতে রাগার কি আছে?
আমাকে আপনার Sister নিধি বলছে,
আমি ওকে জিজ্ঞেস করছি আর ও বলছে,,,,
উপমা :ও আচ্ছা,,,
তাহলে এই বেপার,,,
তো আমার জন্য কি মনে করে আনছেন (চকলেট খেতে খেতে)


আদি gjnly Friend হিসেবে,,,
তুমি তো ওইদিন অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলে,,,
এখন কেমন আছো?
উপমা :অনেক ভালো,,,
কিন্তু একটা জিনিস মোটেও ভালো লাগছে না,,,
আদি :কি?
উপমা :আজকে তিনদিন ভার্সিটিতে যেতে পারতেছি না, আমার বাচ্চা গুলোর জন্য মনটা কেমন জানি করতেছে,,,
আদি :ওমা ভার্সিটিতে তোমার বাচ্চা ও আছে, বিয়ে করছো কবে?
উপমা :দেত আপনি এতো বোকা কেন,,,
আমি বিয়ে করতে যাবো কেন,,
আমি তো কোনো দিন বিয়েই করবো না,,,
বিয়ে ছাড়া কি বাচ্চা থাকে না,,,
আদি :আমি প্রথম শুনলাম বিয়ে ছাড়া নাকি বাচ্চা হয়!
হে হয় যদি বিয়ের আগে কোনো মেয়ে ছেলের আগে থেকেই Physical রিলেশন থাকে তাহলে,,,
কিন্তু তুমি কি,,, I mean তুমিও বিয়ের আগেই এইসব?


উপমা :দূর মিয়া সানগ্লাস আপনি এতো বোকা কেন শুনি,,,
ভার্সিটিতে যে ছেলে মেয়ে গুলা আছে আমার ছোট ভাই বোনেরা তাদের না আমি বাচ্চাদের মতো দেখি বুঝলেন,,,
আর ওরাই আমার বাচ্চা,,,
ওদের না দেখে মনটা কেমন জানি করে।
আদি : ওওওও আচ্ছা, সেটা তো বলবা, আমি তো কি না কি ভাবে বসছি,,,
উপমা :হে আপনি উলটা পালটা জিনিসই ভেবে বসবেন।
আদি :হুম, তো আপনি বিয়ে কেন করবেন না শুনি?
উপমা :বিয়ে করবো না মানে করবো না।
কেননা বিয়ে মানে জিবনটা পেরাময় দায়ক,,,
বাচ্চা কাচ্চা লালন পালন, রান্না করা, জামাইকে সামলানো, শুশুর শাশুড়ি, ইত্যাদি আরো কতো কি করতে হয়!
আমি এমনিতাই অনেক সুখে আছি, No জামেলা No চিন্তা, শুধু …..
আদি :শুধু আবিরের কথা মনে করে কান্না করবেন এইতো?
উপমা :আপনি আবিরকে চিনেন কিভাবে?
আদি :সাভাবিক, আপনি ওই দিন আমাকে আবির ভাবেই জরিয়ে ধরে কাঁদছিলেন,,,
আর আমি বুকে গেছি আপনি আবিরকে ভালোবাসেন,,, আর আরো বুঝতে আন্টি সাহায্য করছে,,, That’s Clear,,, (একটা হাসি দিয়ে)


উপমা ভাবতে লাগলো ছি ছি আমি ওই দিন ওনাকে জরিয়ে ধরছি, ছি ভাবতেই কেমন লজ্জা লাগে!
আদি :হইছে আর লজ্জা পেতে হবে না,
আপনার বান্ধবী চলে আসছে কথা বলেন,,
নিলা দরজার কাছেই দাড়িয়ে ছিল আদি তা লক্ষ করেছে,,,,
উপমা :আরে নিলু জান আমার চলে আসছো,,,
নীলা :হুম,,,
আদি :তো আপনারা কথা বলেন, আমি নিচে যাই, দুপুরের সময় দেখা হবে,,,
উপমা :হুম ধরে রাখছে নাকি কেউ?
আদি চলে গেল ………………..


নীলা :কিরে ওই বজ্জাত টা এখানে কি করে?
উপমা :আরে আর বলিস না, মাম্মা ওইদিন আসতে বলছে তাই আজকে আমাকে দেখার জন্য চলে আসছে,,,
নীলা :ওওওও
তো এখানে তোর সাথে কি কথা বলছে এতক্ষণ?
উপমা সব খুলে বললো,,,,
দু বান্ধবী তিনদিন দেখা না হওয়ায় আজকে মনের মতো করে কথা বলছে,,,


দুপুরে Lance এর সময় …….
উপমার বাবা :আরে আদি যে,,,
কখন আসছো?
আদি :জি আঙ্কেল সকালে?
উপমার বাবা :হুম ভালো করছো,
তো বাড়ির কাজের লোক কই?
তুমি যে খাওয়ার ঠিক করতেছো!
উপমার মা :আরে এই পযন্ত কয়বার বারন করছি শুনে নাই?
আমার সাথে রান্নার কাজে যোগ দিছে আর এখন টেবিলে খাওয়ার ও ঠিক করছে,,,
জানো আজকে আদিই রান্না করছে আমাকে একটুও করতে দেয় নাই!
আদি :এভাবে বলছো কেনো আন্টি,,
লজ্জা লাগে তো?
উপমার মা :আমার বাচ্চাটার আবার লজ্জা ও আছে (আদির মাথার চুল গুলো একটু দাড়া দিয়ে)
উপমার বাবা :আদি খুবই ভালো কথা তো।
আজকে আমরা আদির হাতের রান্না খাবো ভাবতেই কি আনন্দ লাগছে,,,,


আমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসি,,,
তারপর জমিয়ে খাবো,,,
আদি :হ্যাঁ আঙ্কেল জান।
উপমার বাবা অফিস থেকে বাসায় এসে দুপুরে লাঞ্চ করে,,,
ওনি চলে গেলেন উপরে,,,
আদি অনেক টা উপমার মার সাথে মিশে গেছে,
নিজের মায়ের সাথে যেমন করে ঠিক তেমনি উপমার মায়ের সাথে,,,
আদি :এই বাড়ির মানুষ গুলো কতো ভালো, আমাকে চিনে না জানেনা নিজের কাছের মানুষের মতো আপন করে নিয়েছে, সেই দিনই দেখা হলো আর আজ আজই কতো আপন জনের মতো ব্যবহার করছে কথা বলছে,,, সত্যি এই একটি দিনেই আমিও তাদের কতো আপন করে নিয়েছি,,,
এই বাড়ির সবাই ভালো শুধু ওই উপমাটা ছাড়া কি জেদি মেয়েরে বাবা,
আদি নিজেই মনে মনে বলছে।
ভাবছিলাম এই বাড়িতে উপমা ছাড়া অন্য কোনো মেয়ে আছে, আর আমি এই বাড়ির জামাই হয়ে আসবো, এখন দেখি ওই ঝগড়াটে টা ছাড়া আর কেউই নাই, দেত এই বাড়ির জামাই হওয়ার আশাটাই বৃথা গেল।


কিছুক্ষণ পর উপমা নীলা তারা নিচে নেমেছে,,
উপমা :এতো সুন্দর ভালো একটা কাজের লোক থাকতে আমরা কেন যে এতো গুলা কাজের লোক বাসায় রাখছি,,
উপমার মা :উপমা ঠিক করে কথা বলো,,,
ও কাজের লোক হতে যাবে কেন,, শখ করে রান্না করছে কাজ করতেছে আমার সাথে তাতে কাজের লোকের সাথে তুলনা করার কি হলো, আদি তুমি কিছু মনে করো না বাবা।
উপমা :মাম্মা, তুমি না,
আমি তো Just একটু ফাজলামো করতেছি,,,
উপমার বাবা :আর ফাজলামো করতে হবে না, সবাই খেতে বসো।


সবাই একসাথে খেতে বসছে খাবার মুখে দিয়েই সবাই আদির রান্নার তারিফ করছে,,,
খাওয়ার শেষে,,,
উপমা :সত্যি আপনার রান্না টা খুব মজা হইছে,,,
আপনার বউটা না খুব লাক্কি হবে, আপনার মতো জামাই পেয়ে।
নীলা :হে উপমা ঠিকই বলছে,,,
আদি :Thank You,
আমার বউয়ের আশা ছেড়ে দেন,
আমি আর বিয়ে করছি না।
উপমার মা :এমা কেনো, বিয়ের আশা কেন ছেড়ে দিবো?
আদি :কেননা আমার খুব ইচ্ছে এই বাড়ির কোনো মেয়েকে বিয়ে করা,
আমার এই বাড়িটা খুব পছন্দ হইছে,,,
বিশেষ করে ফুলের বাগান টা,
এখনো দেখছি যে এই বাড়িতে উপমার মতো জঙলি একটা মেয়ে ছাড়া আর কোনো মেয়ে নাই, আছে শুধু ওই,,
তাই বিয়ে করার আশাই ছেড়ে দিলাম,,,


সবাই আদির কথা শুনে হেসে দিলো,,,
উপমা :আপনার রান্না টা আমার কাছে খুব ভালো লাগছে তাই কিছু বলছি না আজকে না হলে আজকে নাকটা ফাটিয়ে দিতাম,,,
আদি gjmg,,,
এতো সোজা নাকি নাক পাটানো।
আদি :আচ্ছা, সবাইকে তো আমি আজকে রান্না করে খাওয়ালাম, তো আমি একটা জিনিস চাইবো দিবে,,,,
উপমা :কি চাই বলেন ………..
আদি :আগে প্রমিস করেন দিবেন তাহলেই বলো,,,,
উপমার বাবা :উপমা প্রমিসটা করে পেল,,, দেখি কি চায়।
উপমা :ওকে প্রমিস এভার বলেন ……
আদি :বেশি কিছু না চাইবো ……
শুধু উপমার……………
.

আদি :বেশী কিছু চাইবো না,,,
শুধু উপমার কাছেই একটা জিনিস চাইবো।
উপমা :কি চান সেটা বলবেন তো?
তাহলেই তো আমি দিবো।
আদি :প্রমিস যেহেতু করেছেন সেহেতু দিতেই হবে,,,
আমি উপমার কাছে একটা জিনিসই চাই যে,,,


সবাই মনে মনে ভাবতেছে উপমার কাছে আদি কি এমন চাইবে।
আর এভাবেই বা বলতেছে কেনো,,
আদি :আমি উপমার কণ্ঠে একটা গান শুনতে চাই, তার নিজের লেখা তাও,,,
সবাই আদির কথা শুনে তো খুশিতে শেষ অনেক দিন পর উপমার কণ্ঠে আবার গান, ভাবতেই কি যে আনন্দ লাগছে,,
.
উপমা কিছুটা দূরে গিয়ে …….
উপমা :না আমি পারবো না গাইতে,,
চাইলে অন্য কিছু চাইতে পারেন, কিন্তু আমি গান গাইবো না।
আদি :প্রমিস করেছো কিন্তু,
প্রমিস করলে যে রাখতেই হয় সেটা ভালো .
করেই নিশ্চয়ই জানো,,
.
উপমা :আরে ও কিভাবে জানে যে আমি গান করি এবং লিখি,,
নিধি বলেছে, না নিধি তো শুধু জানে আমি গান গাই লিখি সেটা তো জানে না, আমি যে গান লিখি সেটা তো আবির ,পাপা , মাম্মা, আর নিঝুমই জানে,, এদের মধ্যই কেউ বলছে,,
কে বলতে পারে নিঝুম না ও কাউকে বলবে না,
পাপা তো অফিসে ছিলো, তাহলে নিশ্চয়ই মাম্মা বলছে,, মাম্মাকে আমি পরে দেখে নিচ্ছি, এখন আমি এইদিকে দেখি। (এতক্ষণ মনে মনে বলছে)
.
আদি :মাম্মার ব্যবস্থা পরে করবেন এখন আমাদের সকলকে গান শুনান।
উপমার বাবা :হ্যাঁ মামুনি অনেক দিন হইছে আমরা তোর মুখে গান শুনি নাই,,
আজকে এই পাপার জন্য না হয় একটা গান গা।
নিলা :উপমা প্লিজ একটা গানই তো।
.
সবাই উপমাকে গান শুনাতে বলছে কিন্তু উপমা নাই করছে,,
উপমার মা :তোর এই মা তোকে বলছে একটা গানই শুধু গা প্লিজ।
.
উপমা কিছুক্ষণ ভাবার পর …….
হুট করেই উপরে চলে যায়।
উপমার বাবা :আর ঠিক হলো না মেয়েটা,
দুবছর হলো একটি বারের জন্য ও গান গাইলো না,
কে ঠিক করবে আমার Princess টাকে কে আবার তাকে নতুন জিবনে পিরিয়ে আনবে।
উপমার বাবা প্রায় কেঁদেই দিলো।
আদি :আঙ্কেল প্লিজ কাঁদবেন না একজন না একজন আসবেই, ওর জিবনটা সুন্দর করে সাজায়ে দিতে, আবার ঠিক আগের মতো করে দিতে।
.
উপমার বাবা :তোমার কথা যেন সত্যি হয়, এমন একজন ওর জিবনে আসুক যে সবকিছু ই ওর জিবনের পালটে দিবে।
আদি উপমার বাবাকে ধরে একটা আসসাস দিলো।
.
উপমা কিছুক্ষণ পর একটা গিটার নিয়ে নিচে নেমে এলো,,
আদি :ওইতো দেখুন আঙ্কেল আমি বললাম না
উপমা তো আমাদের প্রমিস রাখবেই, আর দেখুন চলেও আসছে,,
সবাই উপমাকে দেখে এক গাল হেসে দিলো,,
.
সবাই সোফায় গোল করে বসলো,, উপমা সবার সামনে যে সোফাটা ওটায় বসছে,,
আদি :Ladies And Gentleman,,
Our Now In Front Of Song Dispensing
Lis UPOMA Rahman
Everybody One Hand patch ……..
.
সবাই একটা হাত তালি দিলো,,
উপমা গিটার হাতে নিয়ে ধীর মগ্নে বাজাচ্ছে,,
আদি এক দৃষ্টিতে উপমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
আর মনে মনে ভাবছে ……
আদি :যার গিটারের সুর এতো সুন্দর তার কণ্ঠ তো নিশ্চয়ই আরো সুন্দর হবে ………
.
উপমা গিটারের সুরে সুরে চোখ বন্ধ করে গান গাওয়া শুরু করলো …………….
স্তব্ধ সময়টাকে গুছিয়ে নিয়েছি,,
নিজের মতো করে আমি,,
হু….হু……..হু………
ভালো করেছিস তুই দুরে গিয়ে,,
গুছোতে পেরেছি নিজেকে আমি. ,……………2
.
শত আবেগের মাঝে ছিলাম আমি বেচেঁ,,
তোকেই শুধু ভালোবেসে।
অভিনয়টাও না বা করতি,,
চেয়ে চলে যেতি আগেই।
হো……..হো…………হো……………..
.
মনে পরে না এখন আর,
তোর সেই হাসিটি।
খুব ভালো আছি এখন আমি,
হ.হ.হ………..
ছায়াগুলো গিরে আজওও…………..
.
ভালো আছি আমিইইইইইইইই……………2
ভালো আছি আমিইইইইইইইই…………….2
ভালো, ভালো, ভালো আছি……………
.
আবার সু দেওয়া শুরু করলো,,
আদির চোখ তো উপমার থেকে সরছেই না,,
তাকিয়েই আছে ……….
উপমা একবার সবার দিকে তাকিয়ে আবার নিজের গানের তালে সুর দিতে ব্যস্ত।
.
ছায়া হয়ে আছে আজওওওওওওওওও
সেই আবেগটুকু…………
সৃতি হয়ে আছে আজওওওওওওওওও
সেই অভিনয়টাওওওওওওওও
.
স্তব্ধ সময়টাকে গুছিয়ে নিয়েছি,
নিজের মতো করে আমি।
ভালো করেছিস দূরে গিয়ে,
গুছাতে পেরেছি নিজেকে আমি।
.
ভালো আছি আমিইইইইইইই
ভালো আছি আমিইইইইইইইই………..2
.
অচেনা পথে খুজে আজও তোকে,
এই মন ওওওওওওওওওও
রাতের জোনাকিরাও বলে যায় আমায়,
পাশে আছি সারাক্ষণ …………..2
হু.হু.হু………………..
.
স্তব্ধ সময়টাকে গুছিয়ে নিয়েছি,
নিজের মতো করে আমি।
ভালো করেছিস দূরে গিয়ে,
গুছোতে পেরেছি নিজেকে আমিইইইইইইইইইইই,,,,,,
হোওওওও,হোওওওওওও,হোওওওওওও।
.
সবাই উপমাকে কিছু বলার আগেই উপমা এক দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা মেরে দেয়।
কেউ তাকে বাদাও দেয় না,,
সেদিনের মতো আদি চলে যায়, উপমার মা বাবা আবার আসতে বলে আদিকে এই বাসায়।
.
পরেরদিন,,,
আদি, অন্তর, নিঝুম ও তানিয়া দাড়িয়ে ফুসকা খাচ্ছে,,
অন্তর :আরে মামা একটা ফুসকা খেয়ে দেখ, কেমন লাগে সত্যি অনেক টেস্ট,,
আদি :তোকে বললাম না আমি রাস্তার জিনিস খাই না, দেখতেই তো পাচ্ছিস রাস্তার ধুলা বালি সব এখানে এসে পরছে,,
এগুলো খেলে পরে আমার. Poisoning হবে,,
আমাকে হসপিটালে থাকতে হবে।
আর আমি এইসব কোনো দিন খাই ও নি খাবো ও না।
অন্তর :As are Your Wish, আমাদের তাহলে আর কিছু করার নাই,,,
.
আদি :আমার এমন লাগছে কেনো, কাকে যেন খুব মিস করছি, কিন্তু কাকে করছি, আমি কারো সাথে তেমন কথা ও বলি না, বুকের বা পাশটায় কেমন ব্যথা করছে, আমি কি কাউকে খুব ভালোবেসে পেলছি,, না না আমি আবার কাকে ভালোবাসবো, কিন্তু মনে তো হচ্ছে আমার মনের মাঝে কেউ আছেই,,
আদি নিজে নিজে ভাবছে।
সামনে তাকাতেই দেখি,,
আদি :আমার মনটা খুব ভালো হয়ে গেছে, মুখে হাসি ফুটে উঠলো, হ্রিদস্পন্দন গুলো কেমন জানি করছে,,
তবে কি এর,,
জন্য ই এতোক্ষন আমার মন খারাপ করেছে, বুকে ব্যথা হয়েছে,, কিন্তু আমি তো ওকে ভালোবাসি না, ওর সাথে সারাক্ষণ, দেতে বাদ দেই ওর কাছে যাই,,
.
মেয়েটা কেমন বাচ্চাদের মতো,,
নিজেই একটা বাচ্চা আবার অন্য দের বাচ্চা বানিয়ে রেখেছে নিজের কাছে অদ্ভুত,,
আদি ওর কাছে একটু দূরে দাড়িয়ে তার বঈি গুলো দেখছে,, .
.
মেয়েটা সবার সাথেই ভালো ব্যবহার করে, মনে হয় আমার সাথেই শুধু এমন করে।
হুহ, আমিও কিন্তু কম না আমিও করতে পারি আপনার সাথে এমন ব্যবহার
.
.
উপমা সবার সাথে কথা বলছে ভার্সিটির, তাকে ছেলেমেয়ে গুলো অনেক দিন পর দেখেছে, তাই সবাই একটু ভালোমতো কথা বলছে,,,
উপমা সবার সাথে কথা বলে আসতেই দেখে আদি তার দিকে তাকিয়ে আছে,,
আদির কাছে এসে …..
.
উপমা :এই যে মিস্টার কি দেখছেন এভাবে?
আদি :ক..কই কিছু না তো?
উপমা :ও.আচ্ছা,
আদি :Thanks,
উপমা :কেনো?
আদি :কালকে গানটা গাওয়ার জন্য &তোমার গলাটা অনেক সুন্দর গানের।
উপমা :হুহ,
.
অন্তর :আদি এই আদি,
কই গেলো ছেলেটা,
নিঝুম :সামনে তাকিয়ে দেখো?
অন্তর :সত্যি দুজনকে বেশ লাগছে,
কিন্তু ওরা এতো সাভাবিক ভাবে কথা বলছে কিভাবে?
একজন আরেক জনকে তো সহ্য করতে পারে না।
নিঝুম :কালকে নিশ্চিত ই ভাব হয়েছে, দুজনের।
অন্তর :হলে তো ভালোই, চলো ওদের কাছে যাই।
তানিয়া :হুম চলেন জিজু ।
.
অন্তর :কি করছেন দুজন এখানে?
আদি :ওই তো উপমার সাথে …..
বলার আগেই উপমা চোখ দিয়ে ইশারা দিয়ে না করে দিয়েছে।
অন্তর :থেকে গেলেন যে বলেন?
আদি :আরে উপমা আমার রান্নার তারিফ করছে, কালকে আন্টির সাথে আমি ও একটু রান্না করছিলাম তো তাই।
অন্তর :ওওওও আচ্ছা,
.
উপমা নিঝুম ও তানিয়াকে অনেক দিন পর দেখা হওয়ার কারনে জরিয়ে ধরেছে।
উপমা :জানিস এতো দিন তোদের আমি এত্তো গুলা মিস করছি,,,
নিঝুম :আমরাও কিন্তু কম করিনি।
.
আদি শুধু ভার বার উপমার দিকে তাকাচ্ছে কেননা উপমা অন্য দিনের তুলনায় আজকে অনেক সুন্দর লাগছে,,,
আজকে একটা নেবি -ব্লু কালের গ্রাওন পরেছে,,
চুল গুলো ছারানো,, উরনাটা একপাশে। অসম্ভব সুন্দর লাগছে। .
আদিকেও কিন্তু কম লাশছে না স্মার্ট ও সুন্দর ছেলেদের তো যেকোন কিছু গায়ে দিলাই মানায় তেমনি আদিকেও ব্লাক সার্ট ও ব্লাক জিন্স এ অনেক সুন্দর লাগছে।
ভার্সিটির মেয়েগুলো শুধু আদির চারপাশে ঘুরাপেরা করছে।
.
উপমা :চল ক্লাসে যাই, কিছুক্ষণ পরই তো শুরু হবে।
অন্তর :তো আপনারা ক্লাসে যান, আমরা ক্লাস শেষ হলেই আসবো,
উপমা :হুম আইসেন আজকে আমার মাথায় একটা ভূত চেপে আসছে না বললে বৃথা যাবে।
আদি :কি ভূত চেপে আসছে,,,
শেওরা না তাল গাছের,,
উপমা :শেওরা গাছের আজকে আপনাদের গাড় মটকাবে।
আদি :ওরে বাপরে তায়লে আমি নাই,,,
আমি কিন্তু ভূতে অনেক ভয় আছে।
.
উপমা :আপনার একা না আমাদের ও আছে,,,
আদি :আমার জানা ছিল না যে ভূতের ও আবার ভূতের ভয় আছে,
হি …হি…হি
.
উপমা :তোকে তো?
অন্তর :আদি চুপ কর আর চল আমি কিছু শপিং করবো।
আদি gjkk, চল,
ভূত আপু বায় পের আবার দেখা হচ্ছে।
.
নিঝুম, তানিয়া, উপমা সবাই ক্লাসে চলে গেল।
.
উপমা ক্লাসে বসে নিজে নিজে ভাবছে,,,
কলম মুখে দিয়ে,,
উপমা :আমি কি আগের জিবনে থেকে পনিরের আসতে পারিনা, নতুন করে আবার জিবনটা সুন্দর করে সাজাতে পারিনা। হে পারিতো, বার বার আবিরের কথা না ভেবে সামনে অন্য কারো কথা ভাবলেও তো পারি, ও তো আর এই পৃথিবী তে নেই, চাইলেও তাকে আমি আর পাবো না।
আমাকে ওর কথা, পুরোনো সৃতি গুলো ভুলে যেতে হবে, সব ভুলে আমি আবার আমার জিবনকে খুব সুন্দর করে সাজাবো, নিজের মতো করে, আমি আবার গান গাওয়া শুরু করবো।
আচ্ছা, আমি এটাই বুঝিনা আদি আমার মনের কথা বুঝে কিভাবে আমি যে মনে মনে ভাবলাম নিশ্চয়ই মাম্মা আদিকে বলেছে আমি গান গাই, আর মাম্মার কে কিছু করবো আমি, ওতো ঠিকই ধরে পেলছে,,,
কিভাবে বুঝে আমার মনের কথা।
ওকি আমাকে ভালোবাসে,,, না না আমি কি সব আবোল তাবোল ভাবছি, ওতো আমাকে সহ্য করতে পারেনা।
সব সময় নিজেকে নিয়ে ভাবে, কয়জনের সাথে প্রেম করে আল্লাহ জানে, ও যদি কোনো দিন আমাকে প্রপোজ ও করে I Don’t. Accept, হুহ
.
.
নিঝুম :ওই কি এমন ভাবছিস রে? (উপমাকে ঠেলা দিয়ে)
উপমা :কক…কই কিছু না তো?
নিঝুম :তুই কিছু এতটা ভাবছিস দেখাই বুঝা যাচ্ছে!
উপমা :হুম আমি একটা জিনিস ভাবছি!
নিঝুম:কি বলনা?
উপমা :ক্লাস শেষে জানতে পারবি?
নিঝুম :আচ্ছা, ঠিক আছে( মন খারাপ করে)
.
ক্লাস শেষে …….
আদি :Bro, এই মেয়ে গুলো আমাদের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন?
অন্তর :তোকে পছন্দ হইছে তাই।
আদি :কছু পছন্দ হইছে, পছন্দ হলে উপমা এমন ভাবে বসে আছে কেন?
এই এই কি বলে পেললাম দেত।
অন্তর :কি কি বললি তুই?
আদি :কই কিছু না তো? (একটা হাসি দিয়ে)
.
অন্তর :আমি Sure তুই উপমাকে ভালোবেসে পেলচছ, একদম মিথ্যা কথা বলবি না এখন,
আদি :হেরে ভাই পেলছি!
(মাথা চুলকাতে চুলকাতে)
.
অন্তর :তো বলিস না কেন?
আদি :সময় হলেই বলবো।
অন্তর gjk, তোর ইচ্ছে।
ওই তো তোর ভাবি চলে আসছে,
উপমা :আমরা চলে আসছি,,,
অন্তর :খুব ভালো করেছেন, শালি সাহেবা।
উপমা :চলেন?
আদি :কইইইইই?
উপমা :কোথায় আবার রেস্টুরেন্টে?
আদি :ও আচ্ছা, চলেন।
.
আদি, উপমা, নিঝুম, অন্তর চার জনেই রেস্টুরেন্টের উদ্দেশে রওনা দিলো।
নিঝুম :ওই উপমা নিঝুম আসে না কেন রে ভার্সিটিতে?
উপমা :ওর বাসায় একটু প্রবলেম হইছে তাই,
নিঝুম :ওওওওও.
.
সবাই গাড়ি থেকে নেমে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলো।
চারজনেই একসাথে একটা টেবিলে বুক করে বসলো।
আদি :আমি গিয়ে খাবার অডার করি।
অন্তর :হুম যা,
.
আদি কিছুক্ষণ পর খাওয়ার নিয়ে এসে বসলো, সবাই খাচ্ছে,, হঠাৎ একটা লোক এসে,,,
লোক:আরে আপনি,,,
এখানে?
নিঝুম :আ…আ আমি,,,
লোক :হে আপনি?
বাবারে ওনি নিজেও তো আছেন (উপমাকে উদেশ্যে করে)
উপমা :কি কি এখানে?
লোক :ভাই আপনার কি হয় ওনারা?
অন্তর :ও আমার বাগদওা (নিঝুমকে দেখিয়ে)
আর ও আমার শালি, (উপলাকে দেখিয়ে)
লোক :নিঝুম আপনার বাগদওা মানে?
আদি :বাগদওা মানে কি বুঝেন না,,,
লোক :হে বুঝি কিন্তু ও তো অন্য কারো বাগদওা!
.
উপমা :এই রে সালা দেখি এখানে বেজাল লাগাহইতে আইছে,,, (মনে মনে)
অন্তর :অন্য কারো,,,
ভাই আপনি একটু বুঝাই বলেন তো?
উপমা :বুঝাই বলার কি আছে,,,
অন্য কারো হবু বউ মানে আপনাকেই বলছে জিজু,,,
অন্তর :উপমা তুমি কথা ঘুরিও না,,,
আমি ওনার সাথে কথা বলছি ওনাকে বলতে দেও,,,
উপমা :জিজু আপনি আমার কথা শুনেন, অচেনা অজানা লোকের কথা শুনার তো কোনো দরকার নাই,,,
আদি :আমি তো কিছুই বুঝতেছি না, কি বলছে কি, মাথায় কিছু ডুকছে না,,
.
উপমা :ওই সালা দাড়া তুই এখানে কেন আইসছ, মার খাইতে, দাড়া কেবল তুই, নিঝুম বাইর হো তো,,,
লোক :আমাকে একদম ভয় দেখাবেন না,
আপনারা মেয়েরা একজনের সাথে বিয়ে করবেন আর গুরছেন, খাচ্ছেন অন্য ছেলের সাথে, আর এর প্রতিবাদ করতে আসলেই খারাফ।
উপমা :মুখ সামলিয়ে কথা বলেন না হলে আজকে মাথা পাটিয়ে দিবো।
অন্তর :ভাই আপনি ওর কথা শুনবেন না, আমাকে বলুন,,,
লোক :এই যে নিঝুম দু মাস আগে প্রেগন্যান্ট ছিলো,,, তার সাথে আমার বিয়ের কথা চলছিলো,,,
উপমা :চুপ একদম চুপ আজে বাজে কথা বলেন কই থেকে,,,
আজকে তোকে তো??
.
লোকটা ভয়ে এক দৌড়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেলো।
কেননা সে উপমার আগের কথা গুলো মনে করে, কর যদি এখন আবার তার মান সম্মান নিয়ে উপমা কিছু করে সেই ভয়ে পালিয়ে গেল।
.
অন্তর :নিঝুম কি এইসব,,, (রাগিব চোখে নিঝুমের দিকে তাকিয়ে)
নিঝুম :আমি তোমাকে বলছি, চুপ করে বসো এখানে?
অন্তর :চুপ করে বসবো আমি হে চুপ করে,,, 100 ছেলের সাথে লাইন মারো, আর না জানি কতো ছেলের সাথে রাত কাটিয়ে ছো,,,
উপমা :জিজু আমার …..
অন্তর :চুপ একদম চুপ আমি তোমার কোনো কৈপিয়ত শুনতে চাচ্ছি না,,,
আমি ওর সাথে কথা বলছি,,,
আদি :অন্তর তুই এভাবে কথা বলছিস কেনো,?
অন্তর :আমি আজকে বাসায় গিয়ে এই বিয়ে ভেঙে দিবো, এই বিয়ে আর হবে না, মা বাবা না জেনে শুনে একটা খারাপ মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দিতে গিয়েছিলো,,,
কথাটা বলায় নিঝুমের বুকে খুব আঘাত পায়, আর চোখ দিয়ে অনোবরত পানি পরতে থাকে,,
ঠিকই তো পরবে না কেনো ভালোবাসার মানুষ যদি এমন কথা বলে তো কার না চোখ দিয়ে পানি পরবে।
.
নিঝুম অন্ততরের কথা গুলো আর নিতে না পেরে এক মিনিট ও রেস্টুরেন্টে দেরি না করে কাদতে কাদতেঁ বেরিয়ে গেলো,,,
সাথে উপমা ও দৌড়ে গেল,,
ওদের এই অবস্থা দেখে রেস্টুরেন্টের অন্য রা তাকিয়ে আছে,,
অন্তর :কি দেখছেন এভাবে,,
এখানে কি কোনো নাটক হচ্ছে, চিনেমা হল এটা তাই এভাবে দেখছেন,,,
কথা টা বলাতে অন্য সবাই আবার নিজের সামনের দিকে তাকিয়ে পরে,,,
অন্তর টেবিলে হাত দিয়ে একটা বাড়ি দিয়ে সেখান থেকে সোজা বাড়িতে চলে যায়,,
.
রাতে………………
.

অন্তর টেবিলে হাত দিয়ে জোরে একটা বাড়ি দিয়ে সেখান থেকে সোজা বাড়িতে চলে যায়।
.
রাতে,………
নিঝুম :উপা প্লিজ তুই কিছু কর,
আমি ওকে ছাড়া বাচবো না,,,
এই কয়দিনে ওকে বড্ড ভালোবেসে পেলছি,,,
.
উপমা :হুম, দেখাই বুঝা যায় তোকে,,,
আর ভালোবাসা হারানোটা যে কতোটা কষ্ট দায়ক সেটা আমিও বুঝি রে।
অন্তর ভাইয়া ও তোকে কিন্তু কম ভালোবাসে না, ওনিও তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে।
.
নিঝুম :ভালো যদি ভাসতো ভালো তাহলে এভাবে কথাগুলো বলতো না,,,
.
উপমা :কথাগুলো রাগের চোটে বলে পেলছে,, এমনটা শুনলে কেই না রাগ করতো বল।
তুই কান্না থামা আর আমি একটা ব্যবস্থা করছি,,,,
নিঝুম :যা করিস না কেন প্লিজ যেন আমি অন্তর কে পাই।
.
উপমা :বাবুটা আর কাদে না, আজকে সারাটা দিন কাদতেঁ কাদতেঁ চোখ গুলো পুলে কেমন লাল হয়ে আছে দেখ।
নিলা ফোন করছে আমি একটু কথা বলে আসি, Wait………
নিঝুম :ঠিক আছে যা,,,,
.
নিলা :কিরে ভাই তোর কোনো খোজ খবর নাই, আজকে একটা ফোন করে খবর ও নিলি না, ভুলে গেচছ গা না।(ফোনে)
উপমা :কে বলছে,,, ভুলে যদি যাইতাম তায়লে ফোনটা রিসিব করছি কেন (বারান্দায় গিরিল ধরে দাড়িয়ে)
নিলা :হুম, হইছে থাক,,,(মন খারাপ করে)
.
উপমা :ওই জানিস আজকে না,,,
অন্তর ভাইয়া নিঝুমকে এত্তো গুলা কথা শুনাইছে,,,
বাবারে যে ভাবে বলছে,,, আর আমাকেও ধমকদিছে আমার তো ভয়ে কলিজার পানি সব শুকাই গেছে,,,
নিলা :বেজাল টা হইছে কি নিয়া।
উপমা নিলাকে সব খুলে বলল,,,
প্রথম থেকে।
.
নিলা :ও আচ্ছা, তাহলে ওই সালা বেজালটা লাগাইতে আসছে,,, ওই বারে যে টাইট দিছিলাম শিক্ষা হয় নাই এই বার আমার দিলে ঠিকই হইবো।
উপমা :হুম, ওরে শুধু পাই তারপর দেখিস কি করি আমি, এমন পিটা দিমো সালারে,,,,
বিয়ের নাম এবারের মতো ভুলেই যাইবো।
.
তারপর আনিলার সাথে আরও কিছুক্ষণ কথা বলে ফোনটা রেখে দেয়।
.
নিঝুম :ওই এখন কি করবি বলনা!
উপমা :ভাবতে হবে রে ভাবতে হবে,,,
অন্তর ভাইয়া তোকে কেমন ভালোবাসে,
তাতো পরীক্ষা করবোই, আর একটু কষ্ট ও দিবো,,,, তোকে যেমনটা দিছে।
.
নিঝুম :কিভাবে,, ওতো বলছে বিয়ে টাই ভেঙে দিবে,,,
উপমা :আরে ভাঙবে না, তুই দেখিস, এটা কি মুখের কথা নাকি যে বললেই ভেঙে দিবে।
তুই চট করে আমার জন্য এককাপ কপি নিয়ে আয়তো, কপিটা খেলে আমার পট করে একটা আইডিয়া মাথায় চলে আসবে,,,,
হি.হি.হি
.
নিঝুম :আচ্ছা,
আর শুন তুই কি বাসায় চলে যাবি নাকি থাকবি!
উপমা :নারে চলে যাবো,,,
পাপা মিস করবে,, আমাকে তো আবার না দেখলে ঘুম আসে না।
নিঝুম gjkk আমি আম্মুকে বলে দিচ্ছি।
নিঝুম কপি আনতে চলে গেল।
.
আদি :তুই আজকে ভাবির সাথে এমনটা না করলেও পারতি,,,
অন্তর :না করলেও পারতাম মানে,,
লোকটা কি বললো শুনলি না তুই।
আদি :তুই কেমন রে ভাই,,,
নিজের ভালোবাসাকে বিশ্বাস করিস না, অজানা অচেনা কোথাকার কোন লোকের জন্য তুই নিজের বিয়েটা ভাঙতে যাইতেচিস।
অন্তর :তো কি করবো, বল,,
নিঝুম প্রেগন্যান্ট ছিল কথাটা শুনার পর তো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো তুই জানিস, আমার নিজের নিজের কাছে কেমন লেগেছে সেটাশুধু আমিই জানি।
আদি :Chill Bro Chill,,,
নিজেকে শান্ত রাখ,,,
তুই তো ভাবিকে ভালোবাসিস কেমন আমি জানি, ওর সাথে একদিন কথা না বলে থাকতে পারিস না!
অন্তর :আমার ওকে ওইভাবে বিয়ে ভাঙ্গার কথাটা বলা উচিত হয়নি, ওনেক কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা মনে হয়, আর উপমার সাথে ও কেমন ভাবে কথা বলেছি,,, ওদেরকে সরি বলা উচিত আমার।
আদি :হুম, তোকে বলতেই হবে,,,
অন্তর :আমার এখন মনে হচ্ছে কি জানিস,,,
লোকটার কথা না শুনে নিঝুমের কথাটা একবার শুনা উচিত ছিল!
.
আদি :হুম আমি তোকে কখন থেকে সেই একই কথা বলছি,,,
যাক বাবা তাহে তুই এখন বুঝেছিস।
.
আদি :ভাবিকে একটা ফোন লাগাতো,,,
অন্তর :পারবো না আমি,,,
ওর সাথে ওই ভাবে কথা বলার পর এখন আমার ফোন করাটা ঠিক হবে না।
আদি :আচ্ছা, তাহলে আমিই দিচ্ছি।
.
আরে Bro,ফোনটা তো বন্ধ বলছে,,,
অন্তর :বলিস কি, মেয়েটা উলটা পালটা কিছু করেনিতো,,, না না হয়তো ফোনের চাজ শেষ,,
.
থাক পরে ফোন করিস,,
.
নিঝুম :এই তুই সেই কখন থেকে দেখছি ফোন গোটাচিস,,, কোন কথা বলছিস না কেন?
উপমা :একটা জিনিস খোজতেছি বাবু,,
আচ্ছা, অন্তর ভাইয়ার সাথের ওই ছেলেটার আদির পুরো নাম কি যেনো।
নিঝুম :আদি চৌধুরী,,,
উপমা :হুম,,,,
নিঝুম :কি করবি তুই এখন,,,
উপমা :কি করবো সেটা তোকে পরে না হয় জানাবো,,,, এখন আমাকে একটু একা থাকতে দে,,, আর তুই ও গিয়ে রেস্ট নে বাবু,,,
নিঝুম :আচ্ছা,,,,
.
উপমা এক হাতে কপি ও এক হাতে মোবাইল নিয়ে টিপতে টিপতে আবার গেল বারান্দায়,,,
.
আদি :অন্তর তোকে আন্টি ডাকছে,,,
আর আমি বারান্দায় ঠিক আছে,,,
অন্তর gjkk,,,
.
অন্তর চলে গেল তার মার কাছে,,,,
আদি :অনেক দিন হইছে ফেসবুকে ডুকিইয়েছেনাই একটু ডুকি তো,,
লেফটপটা হাতে নিয়ে,,, বারান্দায় রকিং চেয়ারটায় গিয়ে বসলো,,,
আদি :আরে কোনো মেয়ে একজনের SMS, দেখি তো,,,
Sms টা পরতেই দেখি উপরে উপমা রাহমান নাম লেখা,,
আদি :ওহ আমার মায়াবতি টা মনে হয় দিয়েছে sms, ,,
আরে এতো উপমাই (প্রোফাইলে ডুকে)
ওহ কিযে কিউট লাগে ওকে শাড়ি পরলে,,, বলে বুঝানী অসম্ভব,,,
থাক পরে দেখবো,,, ওর প্রোফাইল এখন দেখি কি মনে করে এস এম এস দিয়েছে।
ফেসবুকে …….
.
উপমা :আপনার ফোন নাম্বার টা আমার কাছে নেই তাই ফেসবুকে এস এম এসটা করতে হলো,,,
আদি :কি জন্য করেছেন sms মিস রাহমান,,,
উপমা :আপনার সাথে কিছু কথা আছে,,
আদি :কি বলুন,,,
উপমা gjms. বলা যাবে না, ফোনে বললে ভালো হয়।
আদি :আরে হাতে নাতে প্রমাণ মেয়েরা ছেলেদের ফোন নাম্বার কিভাবে নেয়,,,
আমি এখনিই status দিয়ে দিচ্ছি,,,
উপমা :ওই মিয়া আমি কি আপনার সাথে ফাইজলামি করতেছি,,,
আদি :ফাইজলামি কেন করবা,,, একটু প্রেম করলেই তো হয়,,,
উপমা :আমার বয়ে গেছে এমন হেঙলা ছেলের সাথে প্রেম করার,,
আদি :কি আমি হেঙলা ছেলে?
হেঙলা হই আর যাই হবোই তোমার মতো আর ওতো শাক চুন্নি না, শেওরা গাছের পেত্নী না,
উপমা :মুখ সামলিয়ে কথা বলুন বলতেছি,,,
এই সব কিছু আপনি আমি না,,,
আদি :ছেলেরা এই সব হয়,
হায়রে দুনিয়া, এই মেয়েগুলা ছেলেদের এখন মেয়ে বানিয়ে রেখেছে
.
উপমা :ঝগড়া অফ, কাজের কথায় আসি,,,
আদি :ওকে,
তারপর দুজনে ফোনে কিছু বলে,,,,
আদি :তাহলে ওই কথাই রইলো,,,
শেওরাগাছের পেত্নী,,,,
হিহিহিহি
উপমার রাগ এভার চরম সিমানায়,,,
উপমা :ওই ওই গরু, ছাগল, বানর, জিরাফ, হাতির বাচ্চা,,, তোকে আমি শুধু একটা বার হাতের কাছে পাই তখন দেখিস তোর গলা কেটে আমি কিভাবে পার্টি দেই।
আদি :আমাকে Invite করতে ভুলবে না কিন্তু, সুইটহাট,,,
উমমমমা……
উপমা কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দিলো,,,
.
উপমা :সালা লুচু তুই বড্ড বার বেড়েছিস,,
দাড়া হাতের কাছে একবার পাই,,,
তখন মজা বুঝাবো।
হুহ
.
উপমা নিঝুমের কাছে বলে বাসায় চলে যায়, সকলের সাথে মানে নিঝুমের, নীলার বাসার সবার সাথে কথা বলে তারা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্লেন করছে,,, উপমার কথা শুনে সকলে রাজি,,,
উপমা :তো আঙ্কেল,, বুঝেছেন তো,, আমরা কেন ঘুরতে যাচ্ছি।
নিঝুমের বাবা :হে মা বুঝেছি,,,
আপনাদের Next week এ তো পরীক্ষা আর দেখা হয় কি না হয় সেই জন্য কিছু দিনের জন্য সবাই একসাথে থাকতে চাচ্ছেন,,,
উপমা :এই তো Good boy,,,
কি সুন্দর সব কথা বলে পেলেছে,,,
নিঝুমের বাবা :হুহ,,,
.
তারপর ফোন কেটে দিলো।
পরেরদিন …….
নিঝুম :কিরে বলা নেই কওয়া নেই হুট করে সিলাটে যাওয়ার জন্য বলে দিলি,,,
উপমা :কথা না বলে গাড়িতে উঠ দেড়ি হচ্ছে,,,
.
তারপর উপমা গাড়ি চালাচ্ছে,,,, নিঝুম উপমার পাশেই মানে সামনে বসেছে, আর নিলা পেছনে বসেছে।
গাড়ি চলতে চলতে ঢাকার বাইরে চলে আসছে ……..
.
নিলা :কিরে সেই কখন থেকে চুপ করে আছি, কোনো কথা বার্তা নাই মরা মুগদার এর মতো রইছি।
উপমা :তোরে কেউ বলছে নাকি মরার মুগদার এর মতো থাকতে,,,
কথা বল,,, নিজে যা পারছ আবল-তাবল বক সমস্যা কি,,
নিলা :হ্যাঁ আমি নিজে নিজে বকি আর রাস্তার মানুষ আমারে দেখি বলবে ওই দেখ পাগল নিজে নিজে বকে,,
.
উপমা :পাগলরে পাগল বলবে না তো লোকে কি ছাগল বলবে নাকি হুহ
নিলা :তুই সব সময় আমার সাথে এমন করছ,, আল্লাহ তুমি ওর বিচার কইরো,,,
তার কপালে একটা বুইরা জামাই জুটাই দিও,,
আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলার এটাই তোর অভিশাপ দিলাম আমি যা,,,
উপমা :শুনে রাখ শখুনের দোয়ায় গরু মরে না। এটা মাথায় রাখিস, আর তোর তো কপালে জামাই জুটবো না। শাকচুন্নী কোথাকার।
নিলা :হিহিহি ……
কেউ শুনো নিজে নিজেকে গরু বলে,,
উপমা লজ্জা পেয়ে,,
উপমা :চুপ থাক, শেওরাগাছের পেত্নী, আমারে জ্ঞান দিতে আসছে,,,
কিরে নিঝুম তুই কথা কছ না কেন,,,
.
নিলা :হ্যাঁ ঠিকই তো, আমরা সেই কখন থেকে বকবক করছি ও তো কিছুই বলছে না,,,
উপমা :দেত আমার এখানে আশাটাই ভুল হইছে,,
যার জন্য আসা সেই মন খারাপ করে বসে আছে,,,
নিলা :নিঝুম কথা বল মন খারাপ করছ কেন উপা তো একটা না একটা উপায় বের করবেই।
উপমা :হ্যাঁ আমি তো উপায় বের করে রাখছি, কিন্তু ওনিতো কথাই বলছে না,,,
নিঝুম :ওরে আমার সোনার ময়না পাখিরা রে আমি মন খারাপ করে বসে আছি বলে ওনারাও মন খারাপ করে বসে আছে,,
উপমা :তো কি করবো, আমার বেবি টা মন খারাপ আর আমরা বুঝি হাসাহাসি করবো।
নিঝুম :ওকে বাবা, আর মন খারাপ করবো না, হইছে,,,
উপমা :হুহ,,
আরে আরে সামনে দেখ,,,
নিলা :ওয়াও জাস্ট ওয়াও,,,
এতো সুন্দর যায়গা আমি আর দেখি নাই,,,
গাড়ি থামা গাড়ি থামা।
উপমা গাড়ি থামিয়ে,, তিনজনে দৌড়ে সেই যায়গাটায় গেলো,,,
অসম্ভব সুন্দর লাগছে যায়গাটা,,, চারদিকে ফুল, গাছে গাছে সবুজ পাতা, আর এখন বসন্ত কাল ও তাই গাছের পাতা ঝরে নতুন ফুল ও পাতা বের হয়েছে,,,
উপমা :সত্যি যায়গাটা অনেক সুন্দর না,,
নিঝুম :হুহ আমার খুবই ভালো লাগতেছে রে,,,
নিলা :এই উপমা একটা গান ধর তো,,,
নিঝুম :হ্যাঁ উপমা ধর প্লিজ,,,
উপমা :হুম, আমার সাথে তোরাও গাইতে হবে,,,
নিঝুম ও নিলা :ওকে,,
.
উপমা একটা গাছের কাছে গিয়ে গাছটাকে একহাত দিয়ে ধরে আরেক হাত অনেক দিকে বাড়িয়ে ঘুরছে,,,,
সবাই একসাথে মিলে একটা গান ধরলো,,,
.
আমি বৃষ্টির ফোঁটায় তোমায় দেখছি,,,
জানিনা তুমি আমায় দেখছো কি।
উধুশি বিকেল আর ক্লান্ত দুপুরে ভাবছি,,,
জানিনা, তুমি আমায় ভাবছো কি।
কথা হয়, দেখা হয় না,,,
জানিনা, জানিনা কেনো।
শোনা হয় বুঝা হয়না,,,
বুঝিনা, বুঝিনা কেনো।
জানিনা আর কতো দিন চলবে চলছে যেভাবে,,,
চলোনা মেতে উঠি কাছে আসার এই উৎসবে,,,……..2
কাছে আসার এই উৎসবে।
[তারপর আপনারা শুনে নিয়েন, এটা মিনারের গান মেঘ এনেছি ভেজা নাটকের,,, অনেক সুন্দর গানটা, আমি দেই নাই পুরাটা কারন গল্পে ব্যাঘাত ঘটবে ] .
আদি :অন্তর এই অন্তর,,,
অন্তর :কি হয়েছে কি বল,,,
আদি :আমার বাসায় বসে থাকতে একদম ভালো লাগছে না, ১৫ দিন হলো তোদের দেশে আসছি কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাসনা কেন,,
কেমন বন্ধুরে তুই,,
অন্তর :তোর ঘুরার প্লেন আমি মরছি আমার জালায়!
আদি :তুই মরলে আমার কি, আমি বলছি আমাকে কোথাও ঘুরতে নিতে নিবি ব্যাস।
কথা ফাইনাল আর কিছু শুনতে চাচ্ছি না,,,
অন্তর :ভাই এখন ঘুরতে যাবো কিভাবে,,, নিঝুমের ফোন সেই রাত থেকে বন্ধ,,, কি হয়েছে মেয়েটার,,, এতো ফোন করলাম, এতো মেসেজ নো রিপলাই,,,
আমার তো মন চাইতেছে নিজে নিজেকে শেষকরে দেই ,,,,
আমি যেতে পারবো না,
আদি :আন্টি, আন্টি,, শুনো এই দিকে আসো,,, (দরজা দিয়ে উকি মেরে ডাক দিয়ে)
অন্তর এতো পায়চারী করছিলো, দৌড়ে আদির কাছে এসে,,,
অন্তর :ওই মাকে ডাকছিস কেন,,,
আদি :কেন ডাকতেছি,, তোরে বলবো কেন,,,
অন্তর :প্লিজ কালকের ব্যাপার নিয়ে কিছু বলিস না,,,
আদি :বলবো একশো বার,, তুই তো নিঝুম ভাবিকে ভালোবাসিস না, তো বলবো না কেন আমি বিয়েই ভেঙে দিবো।
অন্তর :না ভাই প্লিজ, এমন করে না,,, ওরে আমি অনেক ভালোবাসি,,, নিজের জিবনের থেকে ও বেশি,,, (আদির দুই হাত নিজের মুঠোই করে)
.
অন্তরের মা :কি হইছে আদি ডাকছো কেনো?
আদি :আন্টি তোমার ছেলে,,,
অন্তর নিষ্পাপের মতো আদির দিকে তাকিয়ে আছে আদি তা লক্ষ করেছে,,
অন্তরের মা :আমার ছেলে কি করেছে,,,
বকেছে তোমায়, মেরেছে,,, বলো,,,
আদি :আন্টি, আমি ওরে বলছি আমায় কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে ও নিয়ে যাচ্ছে না,,, (একটু মায়া লাগিয়ে আন্টিকে বলছে)
.
অন্তরের মা :অন্তর যা ওকে বাইরে কোথাও নিয়ে যা,,, ছেলেটা এই প্রথম বাংলাদেশে আসছে,,, ওকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আয় যা,,,,
আদি ও তোমায় নিয়ে যাবে,,,
আমি বলে দিছি,,,
আদি :ওকে আন্টি Thanks,,,
ইউ ইজ দা বেস্ট আন্টি,,,
অন্তরের মায়ের গালে হাত দিয়ে
.
অন্তরের মা চলে গেল।
অন্তর :তোকে তো,,,
আদি :এই এই কিচ্ছু করতে আসলে আবার আন্টিকে ডাক দিবো,,,
অন্তর :হ্য খোদা আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও, আমি আর এই অশান্তি ময় পৃথিবীতে থাকতে চাই না,,,
আদি :না খোদা নিয়ো না, ওকে নিলে আমাকে কে ঘুরতে নিয়ে যাবে,,,
প্লিজ নিও না ওকে,,,
অন্তর তোকে উপর ওয়ালা এখন নিবে না আমি বলে দিছি, ওকে
এখন চল,,, আমি বইয়ে অনেক পরছি সিলেট নাকি চা বাগানের অভাব নেই,,, আর আমার চা বাগান দেখার অবিজ্ঞটা ৪ বছর ধরে,,
প্লিজ নিয়ে চল,,,
অন্তর :তোকে নিয়ে গেলে নিঝুম,,,
আদি :ওটা পরে আমি মেনেজ করে দিবো,,,
চল আমরা বেরিয়ে পরি অনেক লেট হয়ে গেছে,, চল চল
.
এই দিকে উপমা, নিঝুম, নিলা, সিলেট পৌঁছে, একটা ভাংলো উপমা আগেই বুক করে রেখেছে,, সেখানে গিয়ে উঠেছে,,,
সবাই ফ্রেশহয়ে ঘুরতে বের হয়েছে,,
উপমা :এই শুন,, এখানে ঝরনার কাছেই একটা সমুদ্রের কিনারা আছে আমরা ওখানেই যাচ্ছি,,,
নিঝুম :সত্যি,,, ওহ আমি ওনেক দিন দেখি নাই,,, ঝরনায় ও যাবো,,,
নিলা :হ্যাঁ আমিও,,
উপমা :হুম, আমরা সবাই যাবো চল।
.
তারা সেই সমুদ্রের কাছে পৌঁছে একটা বিচের উপর বসে বসে ডাবের পানি খাচ্ছে,,,
এই দিকে অন্তর ও আদিও পৌঁছে গেছে,, তারাওসসমুদ্রের কাছে গেল,,,
আদি :অস্তির bro,, যায়গাটা কিন্তু ওনেক সুন্দর আমি আগামী ৭ দিন এখানে কাটাচ্ছি,,,
অন্তর :তুই কাটা আমি কান্না করি,,, .
.
আদি :আচ্ছা, ব্রো,,,
আরে সামনে তাকা কারা ওরা,,, (চোখ থেকে সানগ্লাসটা খুলে)
অন্তর তো অবাক.
.

আদি :আচ্ছা, ব্রো,,,
আরে সামনে তাকা ওরা কারা,, [চোখ থেকে চানগ্লাসটা খুলে ] অন্তর তো অবাক
.
অন্তর :মামা আমি কি ভুল দেখছি, নাকি সত্যি,,,
মনে হয় সবকিছু ভুল,,
আদি :হুম, বুঝলাম তোর না হয় ভুল হচ্ছে,,, কিন্তু আমার আমি ও তো দেখছি তুই যা দেখতেছোছ,,,
অন্তর :তার মানে আমি ঠিকই দেখতেছি,,,
আদি :হুম, (অন্তরের কাদে হাত দিয়ে)
.
অন্তর :কেউ বলবেই না যে কাল ওনার কিছু হয়েছে,,,
কি হাসাহাসি করে কথা বলছে দেখ,,,
মনটা চাইতেছে গিয়ে,,,,
আদি :কিছু করতে হবে না,,,
ভাবি কি তোর মতো নাকি নাকে তৈল দিয়ে বসে বসে কাদবে,,,
দেখ সবাই বসে বসে আড্ডা মারছে,,, আর ডাবের পানি খাচ্ছে।
.
আরে ব্রো,,,
ওই ছেলে গুলা কে,,,,
অন্তর :হে তো কে ওই ছেলে গুলা,,
ওমা একজন আরেকজনকে জরিয়ে ধরছে,,,,
কোথাকার কোন অজানা অচেনা ছেলে গুলাকে জরাই ধরছে ,একটা দিন শুধু আমাকে পারলো না ,আমি তো এবার পুরো কেদেই দিবো
আর না আমি আর সহ্য করতে পারছি না,,, ছেলেগুলাকে তো দেখ গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতেছে,,,,
.
আদি ও অন্তর দুজনে দৌড়ে উপমা, নিঝুম, নিলা ও ওই ছেলেগুলার কাছে আসলো,,
.
উপমা :আরে বল্টু আর শয়তান কয়দিন পর তোদের সাথে দেখা,, প্রায় দু বছর পর,,,
রাফিন :তুই এখনো নামটা চেঞ্জ করলি না আমার,,,,
আগে যেমন ছিলি এখনো তেমনি,,,
উপমা :শুন, তোরে আমি আজিবন বল্টু বলেই ডাকবো,,,, একবার যখন নামটা দিছি তখন No চেঞ্জ,,
নিঝুম :হাহাহা,,,
একদম ঠিক বলছচ দোস্ত ওর নাম আর চেন্জ করিস না,,, এটাই থাক।
রাতুল :ওই ওর টা না হয় না পালটা কিন্তু আমার টা তো পালটাবি,,, প্লিজ,,,
উপমা :তুই কলেজে সবসময় একটু বেশী ফাইজলামি করতি এবং শয়তানি আর এখনো মাঝে মাঝে ফোনে কথা বললে করছ,,, তাই তুই শয়তান ই থাক।
এই শুন বলে দিচ্ছি আমি কারো নাম পাল্টাতে পারবো না,
নিলা :হুম, উপা, আমিও তোর সাথে একমত ওদের নাম পালটাবি না।
নিঝুম :মি টু,,,
.
রাফিন :ওকে, উপা আমি তোমার একটা সুন্দর নাম রাখছি,,, আজকে থেকে তোকে শাকচুন্নী ডাকবো কি বল রাতুল,,,
রাতুল :একদম সেই হইছে ভাই,,,
ওর নাম ই কি কেবল রাখবি ওই পাজি দুইটার,,,
রাফিন :হুহ, নিলু তোর নাম হইলো গিয়া ওমমম…..
তুই তুই হইলি গিয়া একটা শেওরাগাছের পেত্নী,,,,
আর নিঝুম,,, একটা পেকাটি রাক্ষসি,,,
রাতুল :হাহাহাহাহা ……
দোস্ত,,,, তুই না,,,,
.
উপমা :তবে রে তোকে দাড়া বল্টু,,,,
রাফিন :এই এই একদম আমাকে মারতে আসবি,, না কলেজে তোর মাইর গুলা এখনো আমার গায়ে লেগে আছে,,
.
উপমা রাফিনকে দৌড়ে ধরতে গিয়ে ধপাস….
করে পরতে গেলে আদি ধরে পেললো,,,
আদি উপমাকে একহাত দিয়ে ধরে রাখলো,,,
একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে এক নজরে,,,
উপমা কিছুক্ষণ পর হুশে পিরে আসলে মনে মনে বলে,,,
উপমা :আরে এই লুইচ্ছা দেখি এখানে আরে আমাকে ধরে ও রাখছে,,,
ওই ছাড়েন ছাড়েন বলছি,,,
আদি :ও হে,,,
উপমাকে ছেড়ে দিলো,,,
অন্তর নিঝুমার দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে, চোছে চোখ রেখে কিছু বলতে চাইছে,,,
নিঝুম চোখ অন্য দিকে পিরিয়ে নেয়,,,
.
অন্তর :সরি নিঝুম, (নিঝুমার কাছে এসে হাত ধরে)
নিঝুম :ডোন্ট টাস্ মি,,,
হাতটা ঝারা দিয়ে পেলাম দিয়ে,,,
উপমা কিছু বলতে গেলে আদি আটকায়,,,
নিঝুম :আমার সাথে একদম কথা বলবেন না এবং আমাকে ধরার চেষ্টা ও করবেন না,,,
আমি তো খারাপ মেয়ে একশ ছেলের সাথে রাত কাটাই,,, চলি পিরি তো এই খারাপ মেয়ের কাছে কি,,,,
রাতুল :নিঝু কি বলছিস তুই,,,
তুই খারাপ কে বললো এইসব,,,
তোর মতো মেয়ে পাওয়া কারো ভাগ্যের ব্যাপার,,,
নিলা :নিঝুম তুই জিজুর সাথে এমন ভাবে কথা বলছিস কেনো,,,,
নিঝুম :তো কেমন ভাবে বলবো হু কেমন ভাবে, আমি তী খারাপ ওনি নিজের মুখে বললো,,,
অন্তর নিস্পাপ বাচ্চাদের মতো নিঝুমের কথা গুলো শুনছে,,,
নিঝুম :ইউ লিচেন,,,
আমার কাছে আসবেন না,,, আর বিয়েটা ভেঙে দিয়েন, বিয়েটা প্রয়োজন মনে করি না, দোয়া রইলো আপনার ভাগ্যে একটা ভালো মেয়ে জুটুক,,,
.
বলেই নিঝুম দৌড়ে ভাংলোতে চলে গেল,,,
পিছনে পিছনে তার বন্ধুরাও,,
উপমা :কিছু মনে করবেন না ভাইয়া,,,
আপনার কথায় ও অনেক আঘাত পেয়েছে মেয়েটা,,, আর আপনি যেভাবে সবার সামনে বললেন যে কাউ ই কষ্ট পেতো শুনলে,,,
আর নিঝুমকে এখানে আনছি ওর মনটা ভালো করার জন্য,,,
আমি চেষ্টা করবো আপনাকে নিঝুমের সাথে মিল করিয়ে দেওয়ার, ওকে বুঝাতে জানেন নিঝুম না আপনাকে পাগলার মতো ভালোবাসে,,, ওর ভালোবাসা কখনো হারাবেন না,,,, আমি বুঝি ভালোবাসা হারানোর কষ্ট,,,
আদি আপনাকে যা বলাছি তা মনে আছে তো,,,
আদি :হুহু,,,
উপমা :কালকে রাতে ঠিক সময় ভাইয়াকে নিয়ে ওখানে পৌঁছে যাবেন,,,
আর ভাইয়া যা বলছি একটু ভাববেন,,, আপনি তো আমাদের কথা না শুনে ওই লোকটার কথা শুনে নিলেন,,,
চলি……
.
উপমা চলে গেল,,,
অন্তরের নিঝুমের কথা গুলো শুনে চোখে পানি এসে টগবগ করছে,, মন চাচ্ছে জোরে চিৎকার করে কান্না করে,,,
আদি :এইবার বুঝ ভাবির কেমন লেগেছে,,,
আর ভাবি সত্যি অনেক ভালো,,,
ওনাকে হারবি না,,, আমি ওনাকে তোর করে দিবোই.,,, বন্ধ হিসেবে বলে দিচ্ছি।
চল বাসায়।
.
সবাই যে যার মতো চলা গেল,,,
রাতে নিঝুমের কাছে উপমা …….
.
উপমা :আসতে পারি,,,
দরজা সামনে দাড়িয়ে নক করে।
নিঝুম :বলার কি আছে আয়,,,
উপমা :আর কতো কান্না করবি,,,
কান্না করতে করতে চোখ লাল হয়ে গেছে (দু গালে হাত দিয়ে)
নিঝুম :আমি কীভাবে ওকে কথা গুলো বলেছি, কীভাবে কতোটা কষ্ট পেয়েছে ও জানিস,,
উপমা :হুহ জানি,,
বুঝিনা ভালোবাসা কেনো এতো কষ্টের হয়!
কিছু একটা না একটা নিয়ে ভুল বুঝা বুঝি হয়ই,,, এটাই কি ভালোবাসার নিয়ম,,,
আর যাই হোক তোকে অন্তর ভাইয়া খুব ভালোবাসে তা দেখেছি আমি,,,
তুই কথাগুলো বলে চলে যাওয়ার পর,,,
ওনার চোখে পানি টলমল করছিল কিন্তু আমাদের সামনে পেলেনি চোখের পানি ,,
হয়তো এখন গিয়ে দেখ কতো কান্না করছে,,,
একটা কথা বলি ভাইয়া ওই দিন রাগের চোটে কথাগুলো বলে পেলছে ওই গুলো ভুলে যা,
ভুলে গিয়ে নিজের করে নে ভাইয়াকে, ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়েও হারাস না।
ভালোবাসা পাওয়াটা খুবই কঠিন জানিস তো।
বল তুই অন্তর ভাইয়াকে ভালোবাসিস?
.
নিঝুম :নিজের জিবনের থেকেও বেশি বাসি,,,,
এই কয়টা দিনে খুব ভালোবেসে পেলছি,,,
আচ্ছা, আমি ও তো জেদ করে বলে পেলছি,,, বিয়ে টা ভেঙে দিতে ও কি সত্যি ভেঙে দিবে।
উপমা :বিয়ে ভাঙবে এটা মুখের কথা নাকি।
ভাইয়া ওতো সহজে ভাঙবে না,,, বিয়ে যদি ভাঙতো তাহলে কালকেই ভেঙে দিতো,,,
নিঝুম :ঠিকই তো।
কিন্তু এখন কি করবো আমি,,,
.
উপমা :সেটা পরে দেখা যাবে,,, এখন নে খেয়ে নে, কতো রাত হয়েছে,, ঘুমাতে হবে তো,,,
নিঝুম :খাবার আমার গলা দিয়ে নামবে না,,,
আমি খেতে পারবো না।
উপমা :হা করতে বলছি হা কর,,,
না হলে একটা কিল মারবো,,,
নিঝুম :তুই মার আর যাই কর আমি খাবো না,,,
উপমা :তুই খাবি তোর চোদ্দ গোষ্ঠী খাবে,,,
এই দুইটা দিনে কেমন শুকাই গেছোছ,,
.
উপমা জোর করে নিঝুম কে খাইয়ে,,, নিজের রুমে চলে গেল।
কাল সারা দিন ঘুরা ঘুরি আড্ডা দেওয়া, এইনিয়ে গেল।
রাতে,,
উপমা :এই নিঝুম এই ড্রেস টা ধর আর রেডি হয়ে আয় আমার কাছে,,,
নিঝুম :কেনো, এটা দিয়ে আমি কি করবো,,,
উপমা :আমি আর তুই ঘুরতে বের হবো।
নিঝুম :সারাদিন ঘুরলি তাও হলো না, তোর,,,
উপমা :এই তোকে যা বলছি তা কর যা,,,
নিঝুম :এমন করে বলছিস কেন,,, ভয় করে তো,,,
যাচ্ছি তো।
উপমা :এতোক্ষন লাগে যেতে, ড্রেসটা পরে আমার কাছে আসবি,,, আমি সুন্দর করে সাজিয়ে দিবো।
.
কি আর উপমার দমক শুনে নিঝুম ড্রেসটা পরে ওর রুমে আসলো,,,
উপমা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিচ্ছে নিঝুমকে,,
নিলা :এই নিঝুমকে এতো সাজাচ্ছিস কেনো,,, কেউ দেখতে আসবে নাকি,,,
উপমা :আসলে তাতে তোর কি ভাগ এখান থেকে,,
নিঝুম :ওহহ আর কতো সাজাবি এতো সাজ ভাল লাগেনা আমার কাছে,,,
উপমা :চুপ, এখনো বাকি আছে,,,
নিঝুম :আমাকে সাজিয়ে যাচ্ছিস তুই কখন রেডি হবি,,,,
উপমা :হবো কথা বলিস না,,, আমার রেডি হতে দুই মিনিট লাগে না বুঝেছিস,,,
.
নিঝুমকে সাজিয়ে সামনে দাড় করালো,,
উপমা :Wow, Just Wow,,
কি সুন্দর লাগছে আমার বাবুটাকে,,,
নিঝুম :যাহ এভাবে বলছিস কেনো লজ্জা লাগে,,,
নিঝুমকে একটা নেবি ব্লু আর লাল কালারের মধ্য ড্রেস পরিয়েছে,,, উপরের বুকের অংশ লাল আর নিচের সম্পূর্ণ অংশ নেবি ব্লু,, বেশ লাগছে নিঝুম কে তার ফর্সা গায়ে অনেক মানিয়েছে,,, চুল গুলো স্টাইলিশ খোপা, গলায় সিম্পল একটা গয়না,,, কানে মেস করা দুল।
যে কেউ দেখলে পাগল হয়ে যাবে।
উপমা সাধারণ একটা ড্রেস পরে মানে মেয়েদের শার্ট আর জিন্স পেন্ট,,,
.
নিঝুম কে নিয়ে উপমা বেরিয়ে পরেছে,,,
আদি :এই শুন অন্তর আমি কিন্তু তোর জন্য মেয়ে দেখতে যাচ্ছি,,, সেহেতু তোকে সুন্দর করে সাজতে হবে,,,
অন্তর :এই একজনের সাথে এমনিতেই আড়মরা বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, তুই আবার মেয়ে দেখতে যাবি,,,
আদি :আরে ভাই নিঝুম ভাবির থেকেও মেয়েটা অনেক সুন্দর,,, দেখলে তুই হা করে থাকবি,
অন্তর :এই বললাম না আমি কোনো মেয়ে দেখতে যাবো না, তোর শখ হইছে তুই যা,,,
আদি :আমি এখন তো কলোনী বিয়ে করবো না, তাহলে আমার জন্য মেয়ে দেখে লাভ নাই,,
অন্তর :ভাই তোর জন্য তাহলে মেয়েটা ঠিক করে রাখ পরে এসে বিয়ে করে নিস,,
আদি :এই আমার তিনি তাহলে রাগ করবে বুঝিস না,,,
আবার মেয়ে দেখতে যাবো।
আচ্ছা, যা আমরা একটা যায়গায় ঘুরতে যাবো, সেই জন্য রেডি হো।
অন্তর :ওকে,,,
আদি ও সেম অন্তরকে একটা নেবি ব্লু সুট পরিয়ে বেড়িয়ে পরলো।
.
নিঝুম :এই আমরা এটা কোথায় আসছি,,,
উপমা :মনে নেই তোর ওই চা বাগানের কাছে একটা বাড়ি দেখলি না ওইখানে,,
নিঝুম :কিন্তু আমরা তো অন্য যায়গায় যাইতেছিলাম,,,
উপমা :একটা কথাও না বেরিয়ে আয় গাড়ি থেকে,,
উপমা ও নিঝুম বাড়িটার ভেতরে ডুকলো,,,
নিঝুম :ওয়াও এখানে কি কোনো অনুষ্ঠান আছে নাকি তাই আমাদের আসা,,,
কি সুন্দর করে বেলুন আর কেন্ডি লাইট দিয়ে সাজানো,,,
আর ওই সোফার সামনের টেবিলটায় কিছু মোমবাতি।
.
নিঝুম :আচ্ছা, এখানে তো মানুষ নেই সব সুনসান,,
উপমা :আছে ভেতরে চল।
.
আদি আর অন্তর ও তাৎখনিক চলে এসেছে,,,
অন্তর :আমাকে কই আনচোছ বলবি তো।
আদি :সার্প্রাইজ,,,
অন্তর সামনে তাকাতেই হা করে গেলো।
আদি :কিরে বললাম না যে মেয়েটাকে দেখতে আসবো দেখলে তুই পুরো হা হয়ে যাবি,,,
অন্তর :এটা তি কোনো পরী মামা।
.
নিঝুম ও পুরো অভাক অন্তরকে নেবি ব্লু সুটে দারুণ লাগছে।
উপমা :সো জিজু এবাবে আর নো হা,,,
এখানে সামনে আসেন,,,
আদি :হ্যাঁ চল।
.
অন্তর :নি…নিঝুম,,,
নিঝুম :আপনি এখানে,,,
অন্তর :আমারও একই প্রশ্ন,,,
নিঝুম :উপমা তুই এইসব করেছিস,,,
আদি :হুহ ভাবি উপমাই এইসব করেছে,,,
অন্তর :নিঝুম সরি, সরি ওইদিন আমি রাগের চোটে বলে পেলছি,,
নিঝুম :আমি ও সেম কালকের জন্য সরি,,,
.
আদি :আচ্ছা, ওই লোকটা কেনো ওইসব বললো,,, কিছুই তো বুঝলাম না।
উপমা :আমি বলছি,,,
আসলে নিঝুমের এর আগে একবার ওই লোকটার সাথে বিয়ের কথা চলছিলো,,, আর দেখা করতে রেস্টুরেন্টে যেতে বলছে নিঝুমকে নিঝুম বিয়ে করবে না,,, আমি ও একটা বুদ্ধি খাটিয়ে,, একটা ছেলে ভাড়া করে ওর বিএফ বানাই,,, আর ওকে দুমাসের প্রেগন্যান্ট করে দেই,,, এটা করলে লোকটা ওকে ছারতোই না,,,
ওই লোকটার সাথে কিছু বেজাল হয় আমার কথা নিয়ে তাই আমি রাগের চোটে ওর মাথায়টেটেবিলে উপর থেকে সসের বোতলটা নিয়ে মাথায় ঠেলে দিই,,, ওখানে এটা দেখে লোকে হাসাহাসি করতে শুরু করে,,, ওখান থেকেই ওই লোকটা আমাকে ভয় পায়,, আর ওই দিন রেস্টুরেন্টে আমি গেলেই ও দৌড়ে পালায়,,, আর প্রেগন্যান্ট নিঝুম লোতটা জানতো তাই আপনাদের ওইদিন লোকটা এটাই বলছিল,,,
ওনেক অভিনয় করে কথা বলে ওই লোকটার থেকে পরিএান পায় নিঝুম বুঝলেন তো,,,
.
আদি :হাহাহা,,,
উপমা ইউ ইজ দা গ্রেট,,,
অন্তর দেখতে হবে তো কার সালি,,,
.
অন্তর একটা রিং নিয়ে হাটু গেড়ে বসে নিঝুমেরসাসামনে,,
অন্তর :Will You marry me Nijum,
নিঝুম :ইয়া সোর,,, হাতটা সামনের দিকে দিয়ে।
নিঝুমকে অন্তর রিংটা পরিয়ে দিয়ে,, জরিয়ে ধরতে গেলেই,,
নিঝুম :আরে কি করছো কি,, ওরা এখানে,,
উপমা :ওকে আমরা এখানে সরি সরি,,,
চলে যাচ্ছি,,, আপনারা থাকেন,,
নিঝুম :কোথাও না সমুদ্রের কাছেই,,,
আদি :আমিও যাই হে,,,
অন্তর :আচ্ছা, যা।
.
আদি আর উপমা দুজনে নিরলে সমুদ্রের কিছুটা হালকা পানিতে পা ভিজিয়ে হাটছে,,,
দুজনেই চুপ,,
কেউ কথা বলছে না।
তখনই আদি বলে উঠলো…………..
.

উপমা ও আদি দুজনে সমুদ্রের কিনারায় নিরলে হাটছে কেউ কোনো কথা বলছে না। তখনই আদি বলে উঠলো,,
.
আদি :তুমি অনেক ভালো,,
সবার সুখে দুঃখে নিজেকে বিলিন করে দেও।
উপমা :হুম, ঠিকই বলছেন,
আমি সবার সুখে দুঃখে নিজেকে বিলিন করে দেই। কেননা আমাকে একজন ভালোবাসা শিখিয়েছে, মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, সাহায্যে করতে হয় সব।
.
আদি :নিশ্চয়ই আবির,
উপমা :হুহ, ও শিখিয়েছে ওর থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, পেয়েছি, কিন্তু ওকেই পেলাম না।
আদি :সবাই তো সব কিছু পায় না, মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় তা পেয়েছো, শুধু ভালোবাসাকে পেলেনা।
.
আদি :তোমাকে একটা কথা বলি, নিজেকে আর আগের জিবনে পিরিয়ে নিও না, নিজেকে নতুন করে গড়তে শিখো, তোমার মা বাবার দিকে তাকাও ওদের তোমাকে নিয়ে কতো সপ্ন আছে, কতো আশা আছে।
.
আদির কথা গুলো শুনে উপমা তার মায়ের সেই পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে পরে যায়।
যেদিন উপমার জন্ম দিন ছিল ,,
উপমা :মাম্মা আমাকে এই ডায়মন্ড নেকলেসটায় কেমন লাগছে,,
উপমার মা :আমার মাম্মাটাকে ঠিক পরীর মতো লাগছে,
উপমা :হিহিহি সত্যি,,
.
উপমার মা :হেরে বাবা সত্যি বলছি,,
জানিসতো তোকে নিয়ে আমার কতো সপ্ন, কতো কি,,(উপমার গালে হাত দিয়ে)
একদিন তোকে আমি খুব সুন্দর করে বউ সাজাবো, তোকে বিয়ে দেব একটা রাজপূএরের কাছে।
উপমা :বাব্বা আমাকে নিয়ে আমার মাম্মার এতো সপ্ন,,
.
উপমার মা :হুম কতো সপ্ন তোকে গিরে, আমার জামাই না, অনেক সুন্দর হবে তোকে খুব ভালোবাসবে, আগলে রাখবে। ঠিক মিলিয়ে নিস।
.
উপমার মনে করতেই হেসে দিলো।
আদি :জানতো এই বাংলাদেশটা না অনেক সুন্দর,,
উপমা এখনো তার মায়ের সেই কথাতেই ডুবে আছে।
আদি :এই যে আপনাকে বলছি,,(জোরে বললো)
উপমা :কি….কি?(জোরে বলাতে একটু ভয় পেল)
আদি :বলছি এই দেশটা না মানে বাংলাদেশটা অনেক সুন্দর,
উপমা :হ্যাঁ অনেক সুন্দর সবুজ শ্যামলা গাছপালা, কতো শত পাখি, ফুল, নদ -নদী, শত রঙের প্রজাপতি।
একটা সপ্নের দেশের মতো, আমার দেশকে আমি খুবই ভালোবাসি।
.
আদি :আমি ও অনেক মায়ায় জরিয়ে গেছি এই দেশটার।
উপমা :আপনি তো এখনো ভালো করে দেখেননি,,
আদি :আরো একজনের মায়ায় ও জরিয়ে গেছি,
উপমা :কে সে শুনি?
আদি :যদি বলি তোমাকে,,
উপমা :হাহাহাহাহা,,
ফাজলামো করতে আসছেন না।
.
আদি এক দৃষ্টিতে উপমার হাসির দিকে তাকিয়ে আছে, আদি যে তার ভালোবাসার কথা সত্যি বলেছে উপমা তা ফাজলামো হিসেবে ভেবেছে।আদি সত্যিই উপমাকে খুব ভালোবাসে তাইতো সব সময় পাশে থাকে, তার মনের কথা বুঝে।
আদি -আচ্ছা, চল যাই অনেক রাত হয়েছে।
.
উপমা :হুম, চলেন,,
তারা দুজনে আবার নিঝুম আর অন্তরের কাছে যাচ্ছে,,
আদি :এই তুমি আমাকে আপনি করে বলো কেনো?
উপমা :আপনি করে বলবো না তো কি করে বলবো, হুহ কি করে বলবো ওগো শুনছো
বলবো?
আদি :বললে তো ভালোই হয়,, (চুলে হাত দিয়ে)
উপমা :আচ্ছা, আপনার বয়স কতো?
আদি :কেনো?
উপমা :আগে শুনি তারপর দেখবো আপনি না অন্য কি করে বলা যায়,
বলেন না?
.
আদি :এই মেয়েটা এমন ভাবে বলে শুনলেই মনটা গলে যায়,,,
যাও একটু রাগ আনছিলাম তাও পুরুৎ করে উড়ে গেল ওর কারনে(মনে মনে)
উপমা :আচ্ছা, ঠিক আছে, না বললে তো আর কিছু করার নেই,,,
আদি :হ্যাঁ,
আমার বয়স 24,,
উপমা :ওমা আপনি আমার ২৩ বছরের বড়,,
আদি পকেটে হাত দিয়ে হাটছে, উপমা এক হাতের উপর একহাত দিয়ে হাটছে আর কথা বলতে গেলেই আদির দিকে তাকাচ্ছে,,
আদি উপমার থেকেও সামান্য টুকু লম্বা।
.
আদি :মানে কি আমি তোমার ২৩ বছরের বড়,,
উপমা :মানে বুঝেন নাই,, আপনার তো ২৪ বছর আর আমার মাএ একবছর,, তাহলে আপনি আমার কতো বড় এবার দেখুন,,
আদি :হাহাহা,,,
তুমি এখনো বাচ্চা,,
উপমা :হিহিহি,,
হ্যাঁ আমি বাচ্চা, এখনো কোলের শিশু ললিপপ খাই।
আদি :তুমি যেহেতু কোলের বাচ্চা তাহলে আমি বাচ্চাটাকে কোলে নেই দেখি,,
.
উপমা :এই না না কি করছেন?
আদি :কেনো তুমিই তো বলছো তুমি এখনো কোলের বাচ্চা তাই কোলে নিলাম,,
উপমা :আমি তো ওটা জাস্ট ফাজলামো করলাম নামান বলছি,, লোকে দেখলে কি বলবে,,
আদি :লোকে যাই বলুক আমি তো একটা বাচ্চাকেই কোলে নিছি,,,,
.
কে শুনে কার কথা আদি কোল থেকে নামালোই না উপমাকে,,
কোলে করে বাড়ির সামনে নিয়ে আসলো।
উপমা :আরে এখন তো নামান,,
আদি :হুহ,,
ওই তো ওরা এসে গেছে,,
উপমা :কিরে নিঝুম আমার বেবি প্রেম কেমন করলি,,,
আমাকে ছাড়া তোরা নিজেরাই করলি,,
নিঝুম উপমার কথাতে কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায়।
উপমা :আমার বেবিটা আবার লজ্জা ও পায়।(নিঝুমকে একটা ঠেলা দিয়ে)
নিঝুম :যা পাজি কোথাকার,,
.
উপমা আচ্ছা চল আমরা বাসায় যাই,,,
অন্তর :হ্যাঁ আমরাও বাসায় চলে যাই চল আদি?
আদি :হুহ,,,
আদি বারবার উপমার দিকে তাকাচ্ছে তার উপমাকে রেখে যেতে মন চাইছে না,,
মন চাইছে উপমাকে কাছে টেনে বুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে রাখতে।
উপমা :আপনারা কোথায় উঠছেন?
আদি :একটা হোটেল এ,,
.
উপমা :আমি একটা পুরো ভাংলো নিয়ে নিছি এখনো অনেক রুম খালি আছে,,
সো, আপনারা ও ওখানে চলেন,,
আদিতো খুশিতে আত্মহারা মন চাইছে উপমাকে জরিয়ে ধরে একটা চুমু খেতে কিন্তু এটা সম্ভব না।
.
আদি :ওকে আই ডোন্ট মিস।
উপমা :নিঝুম তোর আর জিজুর ও ভালো একটা সুবিধা করে দিলাম কি বল।
অন্তর আর নিঝুম তো লজ্জায় মুখ নিচে করে পেললো।
উপমা :ওকে বাবা আপনাদের লজ্জা পেতে হবে না। এখন চলেন,,
আদি :আরে কি করছো কি ওদের একসাথে যেতে দেও।
উপমা :ওকে তাহলে আমি একাই যাই,
আদি :আমি তাহলে কার সাথে যাবো। আমি আপনার সাথেই যাবো মেম।
উপমা :আচ্ছা, চলুন স্যার।
.
আদি আর উপমা এক গাড়িতে, নিঝুম আর অন্তর এক গাড়িতে চলে গেল………….
.
নির্জন রাস্তা দু একটা গাড়ি চলছে,, মানুষের কোনো কোলাহল নেই। এখানে যদি কেউ কাউকে মেরেও ফেলে দেয় কেউ জানতেও পারবে না।
আদি :তুমি লংড্রাইব ওনেক ভালোবাসো,,,
.
উপমা :হুম, আমি ওনেক ভালোবাসি সেই ছোট বেলা থেকেই,,
আদি :আমিও,,
আমি প্রতিদিন রাতেই লং ড্রাইভে যাই,,
এখানে তো কোনো খোলা মেলা যায়গা নেই,, আমাদের এখানে তেমন গাড়ি চলে না,,
আর ওখানে চালাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
.
উপমা :জানি,,
আদি :তুমি কীভাবে জানো?
উপমা :অস্ট্রেলিয়া আমি না গেলেও খবর কিন্তু রাখি প্রতিদিনের,,
আদি :নিশ্চয়ই কেউ থাকে তোমার,,
উপমা :আমার বড় জেঠুর ছেলে মিথুন,, ওখানেই জব করে ওর বিজনেস ও ওখানে,,
বউকে নিয়ে ওখানেই থাকে।
.
আদি :হুহ,,
সেদিনের মতো সবাই খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরলো।
পরেরদিন সবাই চা বাগান দেখতে ব্যস্ত হয়ে যায়,, সারাদিন বিভিন্ন যায়গা দেখে আবার রাতে ক্লান্ত হয়ে চিৎপাত হয়ে শুয়ে পরে।
রাতে উপমার পানির পিপাসা পেয়েছে,,
.
উপমা :আরে দেত আন্টি কি গ্লাসে পানি রাখে নাই,,
এখন কি করবো,,
কি আর যাই নিচে,,
উপমা সিড়ি দিয়ে নেমে টেবিলের উপর থেকে পানি নিয়ে খাচ্ছে,,,
রাত তখন প্রায় ২টা বাজে,,
.
উপমা :আরে ওইটা কিসের ছায়া,,
না না আমি মনে হয় ভুল দেখলাম,,
ঘুমের তালে কিসব দেখছি,, (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)
সিড়ি দিয়ে উঠতে গেলাম,,
এমা আমি তো ঠিকই দেখলাম কিসের ছায়া ওটা,, নিশ্চয়ই বাড়িতে চোর ডুকছে,, তবেরে বেটা তোকে দাড়া,,
এমা এটা তো ভূত ও হতে পারে (কিছুটা ভয় পেয়ে)
এখন যদি আমাকে একা পেয়ে বসে তাহলে,,
আমি বাবা এখান থেকে তারাতারি চলে যাই।
.
উপমা :এমা এটাতো আমার দিকে আসছে,,
বাপরে দরতে পারলে এখন গাড় মটকাবে।
.
হালকা বাইরে জালানো আলো বেতরে আসছে,,
তা দিয়েই কিছুটা বিতরে দেখা যাচ্ছে,, কিন্তু কারো মুখ ঠিক করে দেখা যাচ্ছে না।
উপমা আর কিছু না ভেবে,,
উপমা :ভূ……ভূ……ভূতততততততততত
.
ধপাস পরে গেল।
কিছুক্ষণ পর উপমা,,
উপমা :আচ্ছা, নিঝুম আমি কি মরে গেছি না বেচেঁ আছি,,
ওই ভূতটা কি আমায় মেরে পেলেছে,,,
.
আরে ওইটা যে আর কেউ ছিল না ছিল আদি।
আদি :ভুত আসবে কই থেকে ওটা তো আমি ছিলাম,, আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে।
উপমা :কি কি আপনি ছিলেন? (শোয়া থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে)
.
আদি :আরে এতো লাপাচ্চো কেনো,,
হে আমি ছিলাম,, আমার ফ্রেন্ড তুবা ফোন করেছিল London থেকে,, আমার রুমে নেটওয়ার্ক ছিল তাই বাইরে বের হইতে হইছে,,
.
উপমা :হুম, তাহলে ভুতের মতো আমার দিকে এগিয়ে আসলেন কেনো,, জানেন না আমি ওনেক ভয় পাইছি।
আদি :ও সরি সরি আমার জানা ছিল না,,
.
উপমা :যান বের হন এখন আমার রুম থেকে,,
ভূতের বাচ্চা কোথাকার,, আমাকে ভয় দেখাইতে আসছে,, এখন যদি আমি স্টক করে মারা যেতাম তাহলে আমার পাপার কি হতো,,
.
আদি :আরে বাবা সরি বললাম তো,,
আচ্ছা, আমি যাই তুমি শুয়ে পর,,,
বাজ্ঞিস কেও জাগেনি,,,
উপমা :হুম যান।
.
তারা টানা সাতদিন সিলেটে কাটিয়ে ঢাকা পিরার উদ্দেশে রওনা দিবে।
উপমা আদির সাথে এখন ওনেকটা ক্লোজ হয়ে গেছে,, ফ্রিলি কথাও বলে,, আবিরকে প্রায় ভুলেই গেছে।
নিলা :এই আমি সামনে বসবো।
উপমা :ওকে বস তাহলে আমি জিজুর সাথে বসা মিস করছি না।
.
আদির মনটা খারাপ হয়ে গেল। উপমা পিছে বসবে বলে গাড়ি আদিই চালাচ্ছে,,
নিঝুম :হুম আমি নিশ্চিত দেখতে পারছি আদি ভাইয়ার মনে উপমার জন্য ভালোবাসা জেগেছে,,
উপমা সামনে বসেনি বলে বেচারা মুখটা কালো করে রাখছে,,
ওকে তাহলে আমিই কিছু করি (মনে মনে)
.
অন্তর :কি এতো ভাবছো সুন্দরী,, (নিঝুমকে ঠেলা দিয়ে)
নিঝুম :কই কিছুনা,,
অন্তর :আমি যা ভাবছি তুমিও নিশ্চয়ই তাই ভাবছো তাই না।
নিঝুম :হুম, কিন্তু তুমি কি ভাবছো,,
অন্তর :কি আবার উপমা আদির কথা,,
.
নিঝুম :Great তাহলে আমাদের দুজনের ভাবনাই এক,,
এই নিলা,,
নিলা দরজা খোলে গাড়িতে বসতে গেলে আবার নিঝুমের ডাকে বেরিয়ে আসে।
.
নিলা :কি?
নিঝুম :তোর সাথে আমার কথা আছে,, আমার সাথে বস,,
নিলা :এখানে বল সমস্যা কই?
নিঝুম :যেতে যেতে বলবো,, আমার সাথে বসতে বলছি বস।
নিলা :আচ্ছা।
.
নিঝুম :এই বাইর হো গাড়ি থেকে,,
উপমা :এভাবে বলছিস কেনো,, আর কেনো বাইর হবো?(সংকোচ বোধ করে)
নিঝুম :গিয়ে সামনে বস আমার সাথে নিলা বসবে,
উপমা :আমি জিজুর সাথে বসবো,,
নিঝুম :আপনার জিজুর সাথে বসতে হবে না, যান এখান থেকে,,
.
উপমা :জিজু কিছু বলো,,,,
আদি :এই অন্তর কালকে তুবা ফোন করে বলেছে ও তোর বিয়েতে আসতে পারবে না,
অন্তর কিছু বলার আগেই আদি বলে পেললো।
.
আদি :আরোহী আর ইলফা আসবে,,
অন্তর :হুম, তুবা কেনো আসবে না জানি আমি,, আচ্ছা আমি বাসায় গিয়ে দেখছি,,
এখন চল ……………….

সবাই গাড়িতে উঠে বসলো।
আদি গাড়ি চালাচ্ছে আবার আড় চোখে মাঝে মাঝে উপমার দিকে ও তাকাচ্ছে …….
নিঝুম আর অন্তরের চোখ এড়ায়নি যে আদি উপমার দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকাচ্ছে …….
নিঝুম পিশ পিশ করে অন্তরের কানে কানে কিছু বলছে আর মিট মিট করে হাসছে।
উপমা তা দেখে বললো,,,
উপমা :নিঝুম বাবু তুমি এতো হাসছো কেন কি হইছে তোমার হঠাৎ (মোবাইল টিপতে টিপতে)
নিঝুম :কোথায়, কই কি হইছে। আমি কেনই বা হাসতে যাবো। এখানে কেউ কি কোনো হাসির কথা বলছে যে হাসতে যাবো আমি।
.
উপমা পিছে পিরে,,
উপমা :এই শুন তুই কিন্তু দিনদিন অনেক মিথ্যুক হয়ে যাচ্ছিস ……
আমার সাথে প্রায়ই দেখি তুই মিথ্যা কথা বলতেছোস ………
নিঝুম :ইন্নালিল্লাহ আমি বলে দিনদিন মিথ্যা কথা বলতেছি।
আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আমি বলি কেন আমি হাসতেছিলাম।
শুন তাহলে মনে আছে তোর ওই বিজয় দিবসের দিনের কথা ……..
উপমা :আমার জিবনে কতো বিজয় দিবসই তো গেছে কোনটার কথা মনে রাখবো বল ………
.
নিঝুম :ওই যে আমরা যখন মাধ্যমিকে পড়ি,,
বিজয় দিবসের দিন আমরা সকালে খালি পায়ে স্কুল যাইতেছিলাম …………
বিজয় দিবসের দিন………
উপমা :নিঝুম আমার কি মনে হইতেছে জানস,,
নিঝুম :এই তোর হঠাৎ কিরে মনে হইতেছে …….
উপমা :আমার মনে হইতেছে একটা ছেলেকে কিছুক্ষণ পানিতে চুবাই জানস ……..
নিঝুম :এমা কেন কেন, কি হইছে তুই হঠাৎ একটা ছেলেকে পানিতে কেন চুবাবি কারন ছাড়া ……….
উপমা :অফফফ……..
তুই না এতো বকিস কেন,,
নিঝুম মন খারাপ করে …….
নিঝুম :আমি বেশি বকি ……..
উপমা :আরে না না কে বললো তুই বেশি বকিস ওটা তো আমি এমনি বললাম তুই বেশি বকিস না। হ্যাঁ শুন যেটা বলতেছিলাম,
পিছনে দেখছোস আমাদের পিছে দুইটা ছেলে সেই বাড়ির কাছ থেকেই আসতেছে …….
নিঝুম পিছনে পিরে তাকিয়ে আবার সামনে তাকালো ………
নিঝুম :হে তো। কিন্তু এরা কেন আমাদের পিছে এমন হাটতেছে আবার হাতে ফুল ও …….
উপমা :আরে বুঝিস না ছেলেই মানেই তো কি মেয়ে দেখলে যা হয় আর কি তোকে নয় তো আমাকে পছন্দ হয়েছে তাই প্রপোজ করতে দেড়ি করছে না আর সেই জন্যই ফুল সাথে নিয়ে করে আসছে।
সালারা বিজয় দিবস উদযাপন করবো নাকি প্রপোজ দিবস. …………….
এই শীতের দিনের সকালে বেচারাদের কি হবে জানিনা, একটু ভয় নেই তাদের শরীরে। যার পিছন পিছন আসছে সে যে কি করবে তাদের যানা নেই আসলে ওয়েট জানিয়ে দিচ্ছি …….
নিঝুম :এই তুই উলটা পালটা কিছু করে বসিস না আবার …….
উপমা :তুই টেনশন নিস না আমি আছি তো ওদের কিছুক্ষণ ধোলাই দিবো তারপর চলে আসবো ………
এই নে শালটা ধর আমি এখনি আসতেছি……..
.
উপমা শালটা নিঝুমের হাতে দিয়ে ছেলে গুলোর সামনে গিয়ে দাড়ালো ……..
ছেলেগুলোর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে দু -হাত কোমড়ে দিয়ে ……..
উপমা :আঙ্কেল কেমন আছেন আপনারা?
ছেলেরা :জ্বি আমরা কি আপনার আঙ্কেল হই,,
হুট করে যে আঙ্কেল বলে পেললেন ………
উপমা :ওমা ছি ছি আমি কি আপনাকে আঙ্কেল বলতে পারি। আপনি তো আমার দাদুর বয়সী।
ছেলেরা :এই আঙ্কেল বলছেন আবার এখন দাদু ও বলছেন কি অদ্ভুত মেয়ে আপনি ……..
উপমা :আচ্ছা যাই হোক আমাদের পিছনে পিছনে আসছেন কেনো, সেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম আপনারা দুজন লোক আমাদের দুটো পিচ্চি মাসুম বাচ্চাদের পিছনে পিছনে আসছেন মতলব কি হ্যাঁ আপনাদের কাকু……….
ছেলেরা :এই যে শুনো আমরা তোমার কোনো কাকু, দাদা,বা আঙ্কেল নই। তোমাকে আমার ভালো লেগেছে আই লাভ ইউ (ফুলের তোরাটা সামনে দিকে ধরে)
.
উপমা :এহিহিহি……….
ফুলের তোরাটা উপমা হাতে নিলো ………
উপমা :ভালোবাসেন না আমায়…….
ছেলেরা :হ্যাঁ অনেক বেশি ……..
তুমি বিশ্বাস করো যা চাইবে আমার কাছে তাই দিবো তোমাকে ……..
উপমা :সত্যিই তাই দিবে গো……..
ছেলেরা :অবশ্যই ………..
উপমা :আমি যদি এখন ভালোবেসে আপনাকে কিছুক্ষণ ঠিক এইভাবে মারতে পারি সেটাও তো আদর করে আপনাকে আমি দিতে পারি তাইনা ………..
বলেই উপমা ফুলের তোরা দিয়ে কিছুক্ষণ মারলো ছেলেগুলোকে………
উপমা :আর আসবি আমাকে প্রপোজ করতে উগান্ডার বাচ্চা কোথাকার উগান্ডা……..
আরেকটা বার যদি পিছনে দেখি তোদের তোদের কি করবো জানিস………
ছেলেরা :প্লিজ দোহাই তোমার ছেড়ে দেও আমাদের আর কোনোদিন ও তোমাদের পিছনে যাবো না প্লিজ ………………
উপমা কিছুই না বলে তাদের গা থেকে শার্ট খুলে নিলো ……………
উপমা :মেয়েদের পিছনে ঘুরার নামই তোদের আজকে ভুলাই দিবো চল আমার সাথে ……………..
.
দুটোকে টেনে নিয়ে সামনেই রাস্তার পাশে একটা পুকুর আছে সেখানে এই শীতের দিনে ধাক্কা দিয়ে পানিতে পেলে দিলো……………..
ছেলে দুটো পুকুরে সাতার কেটে ওপারে গিয়ে শীতে কাপতে কাপতে জান নিয়ে দৌড়ালো………..
অন্তর :হাহা……………….
উপমা তুমি এতো ফাজিল কেনো শুধু শুধু ওদের শীতের দিনে পানিতে চুবানি খাওয়ালে……….
উপমা :একদম ঠিক করছি,
বেটারা বিজয় দিবসের দিন শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে আসছে আমাদের ফুল দিতে ……….
এগুলো বাঙালী নামে কল্ঙক।
আদি :নাহ এতোদিনে উপমা একটা গ্রেট কাজ করেছে…………….
তোমাকে কমেন্ট +লাইক দিলাম।
উপমা :ধন্যবাদ আদি বাবু………………
.
উপমা :কাহীনি এখানেই শেষ,,
চলো সবাই যেতে যেতে গাড়িতেইই বসে গানের লড়ি খেলা হয়ে যাক কি বলো…………
আদি :আমি ও একমত হয়ে যাক গানের লড়ি……..
সবাই হ্যাঁ সম্মতি দিলো……….
মেয়েরা একপক্ষ ছেলে আদি আর অন্তর একপক্ষ …………..
আদি :কে আগে শুরু করবে ………….
নিলা :আপনারা যেহেতু দুজন তাহলে আপনারাই আগে শুরু করুন ………….
নিঝুম :হ্যাঁ আগে আপনারা…….
অন্তর :ওকে……….
আমি বলি আগে ……..
ওমমম…………..
তোমরা “ব “অক্ষর দিয়ে বলো………..
উপমা :ওয়েট আমি বলি তোরা চুপ……..
নিঝুম :ওকে…………
উপমা :”বাঁশুরিয়ায় বাজায় বাসি আর নদী যানে ঢেউয়ের পালা………..
আর আমি জানি তোমার জন্য এই পৃথিবীতে আসা …..
ওরে আমার সোনা জাদু তোমায় ভাবি শুধু তুমি আমার ভালবাসা, তোমরাই জন্য এই পৃথিবীতে আসা।”
.
উপমা :এবার আমরা দিবো ……….
নিঝুম তুই দে………………..
নিঝুম :তোমরা” এ” তে বলো………….
অন্তর :আমি বলি আদি তুই চুপ ………..
“এ জিবনে যারে চেয়েছি ………….
আজ আমি তারে পেয়েছি………..
তুমি আমার প্রিয় তুমি আমার ………….
তোমারে খুজে পেয়েছি”………….
পরপর সবাই গাইলো একে একে …………
এবার সবাই মিলে এক সাথে গাইবে ……………
সবাই একসাথে……….
♬♬Jo sang tera laagi preet mohe………
Ruh baar baar tera naam le……..
Ki rab se hai maangi yehi dua……..
Tu hathan ki lakeerein tham le……………
Chup hai batein , dil kaise bayaan main karum ……………
Tu hi kahde ja baat mai kah naa sakun… …
ki sang tere paniyan sa paniya sa Bahta Rahun……..
Tu sunti raha mai kahaaniyaan si kahta rahun……………..
Ki sang tere, badlan sa badlan Udta Rahun……………
Tere ak ishara pe teri or mudta rahun♬♬
.
সবাই ঢাকা পৌঁছে গেল,,,
কিছুদিন পর সবাই শপিং নিয়ে বিজি যে যার মতো শপিং করছে……………..
অন্তর আর নিঝুমের বিয়ের জন্যে আলাদা বড় একটা বাড়ি বুক করে নিলো,,
যেনো আত্মীয় -স্বজন, মেহমান -অতিথি সবাই থাকতে পারে…………….
আদি আর উপমা লিস্ট তৈরি করছে কোনদিন কি করবে …………….
বেশ বড় সড় এক লিস্ট তৈরি করলো …………
.
আদি :এতো বড় লিস্ট,,,
নাহ বেশ ভালোই হলো সবাই একসাথে অনেকদিন মজা করতে পারবো এবং কাটাতে ও পারবো।
উপমা :হুম, তাই তো করলাম।
নিঝুম :হইছে আপনাদের?
আদি :হুম হইছে ………
নিঝুম :তা কোনদিন কি করবেন আপনারা শুনি?
আদি :ওয়েট আমি বলতেছি,,,
২০ তারিখে তোমাদের বিয়ে।
আমরা ১২তারিখ থেকে প্লেন করে রাখছি,,,
অন্তর :ওমা ৮ দিন লাগিয়ে আমাদের বিয়ে হবে,,,
উপমা :এতো তারা হুড়ো করছো কেনো শুনি,,,,
তোমার বউ তোমার কাছেই যাবে, আমরা কোনো ধরে বেধেঁ রাখবো না ওকে।
.
নিঝুম লজ্জায় মাথা নিচু করে পেললো,,
আদি :তুই হঠাৎ এতো বউ পাগল হলি কবে রে,,
আর হ্যাঁ ভাবি এতো লজ্জা পাওয়ার কি হইছে হ্যাঁ,,
আমরা আমরাই তো,,,
আর আমার বন্ধুটা একটু বেশিই পাগল তোমার জন্য তাই তারাতারি তোমাকে সাথে নিয়ে যেতে চায়।
উপমা :আমার একটা কথা বলার ছিল?
অন্তর :হ্যাঁ বলুন শালি সাহেবা,,,,,,
উপমা :তোমাদের বিয়ের পর তোমরা থাইল্যান্ডে চলে যাবা না নিঝুমকে সাথে নিয়ে (মন খারাপ করে)
অন্তর :হ্যাঁ, আমি ওখানেই থাকি। জব ,বাড়ি এখন সবকিছুই আমার ওখানে তাই ওকে সাথে করে নিয়ে যাবো।
উপমা :ওহ……..
আদি :এতো মন খারাপ করার কি আছে,,,,
তুমি চাইলে তোমাকেও সাথে করে নিয়ে যাবো আমরা। যদি তোমার সম্মতি থাকে।
উপমা :না না আমি যাব না,,,
উপমার দিকে তাকিয়ে নিঝুমের ও মন খারাপ হয়ে গেল।
নিঝুম :তোকে নিয়ে যাবো তো আমার সাথে পাগলি। ওখানে কোনো একটা রাজকুমারের সাথে তোকে বিয়ে দিবো।(উপমার কাধে হাত রেখে)
আমাদের দু বান্ধবীর বাড়ি পাশাপাশি হবে,,
আমাদের বর যখন বাসায় থাকবে না অফিসে চলে যাবে তখন আমরা দুজন একসাথে বসে গল্প করবো আরো কতো কি করবো।
উপমা :নাহ বিয়ে করার আর প্লেন নেই তোদের দেখেই আমি খুশি।
আচ্ছা বাদ দে আমরা কোনদিন কি করবো সেটা শুনে নে ……….
আদি সাহেব বলুন ওদের …….
.
আদি :হুম,,
পাস্ট আমরা বাড়িতে গিয়ে উঠবো,,
যে যার নিজের রুম বুক করে নিবো।
যেয়েই কিন্তু আবার কিছু শুরু হবে না,,,
প্রথম যেয়ে রেস্ট তার পরেরদিন,,
১২তারিখ জমিয়ে আড্ডা হবে,,,
মানে গল্প গুজব হবে নিজেদের সম্পর্ক এক আধটু জেনে নিবো।
১৩তারিখ বয়+গার্ল খেলা হবে,,
2টিম হবে হুম।
এখন খেলার নাম বলবো না ওখানে বলবো।
১৪ তারিখ একটা পার্টি আছে বয় &গার্ল উভয়ের।
১৫তারিখ মেহেদীর অনুষ্ঠান।
১৬ তারিখ মেয়েদের গায়ে হলুদ।
১৭তারিখ ছেলেদের গায়ে হলুদ।
কথা হলো গিয়ে ছেলেদের হলুদের দিন মেয়েরা সব ছাদে কাটাবে আর মেয়েদের হলুদের সময় ছেলেরা সব ছাদে কাটাবে যতক্ষণ হলুদমাখা হবে।
১৮ এবং ১৯তারিখ শুধু ডান্স হবে বর ও বউকে নিয়ে ১৮ তারিখ অন্যরা নাচবে। ১৯ তারিখ সবাই মিলে।
২০ তারিখ বিয়ে।
১০ তারিখেই আমরা সবাই ওই বাড়িতে উপস্থিত থাকবো। ১১তারিখের মধ্য আমাদের কাজিনরা চলে আসবে।
কেমন হলো এবার বলুন সবাই?
.
অন্তর :কেয়া বাত হ্যাঁ, অনেক সুন্দর হইছে আপনাদের দুজনের করা প্লেন।
নিঝুম :হুম ঠিক আছে।
উপমা আর আদি দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল।
থাইল্যান্ড থেকে আদির মা বাবা ও বন্ধুরা চলে আসলো।
১০তারিখ তারা সবাই রওনা দিলো যেই বাড়িটা বুক করেছে সেটার উদ্দেশে। দুটো বাস নেওয়া হয়েছে। বড়দের জন্য একটা আর ছোটদের জন্য মানে আদি ও তার বন্ধু উপমাদের সমবয়সীদের জন্য একটা।
বড়দের বাসটা ছেড়ে দিয়েছে।
আদিদের বাসটা এখনো ছাড়েনি,সবাই সবার মতো করে বসে গেছে। নীলার পাশেই রাহুল, ইলফা ও তার বয়ফ্রেন্ড একসাথে, আরোহী আর তার বয়ফ্রেন্ড একসঙ্গে। অন্তর -নিঝুম একসাথে, অারো অন্যরা বসে পড়েছে। আদি জানালার পাশেই বসে বাইরে দৃশ্য দেখছে, উপমা লেটলতিফ তাই তার আসতে দেড়ি হয়েছে।
উপমা দৌড়ে এসে বাসে উঠলো, গায়ে পড়া একটা মেয়েদের গেন্জি আর পরনে জিন্স পেন্ট সাথে কাধে একটা বেগ, মাথায় কেপ।
সামনে এসে দুহাত কোমড়ে দিয়ে দাড়িয়ে,,,,
উপমা :যাহ সবাই সবার মতো বসে পড়লো আমার জন্যই যায়গা নেই,,,
আদির উপমার মিষ্টি কণ্ঠটা শুনেই তার দিকে তাকালো বারি সুন্দর লাগছে তাকে।
.
অন্তর :আহারে আমার শালি সাহেবার জন্য মনে হয় আজকে যায়গা নেই,,,
এতো দেড়ি হয়ে গেল আসতে ………….
রাহুল :এই যে মিষ্টি আপু আপনার জন্য আদির পাশে একটা সিট অবশিষ্ট আছে,,,,
নিঝুম :একটা যখন খালি আছে যা গিয়ে বসে পড়,,,,
উপমা :হুম যাই,,
ওখানেই বসি না হলে অবশেষে যায়গা না পেয়ে বাসের উপর আমার বসতে হবে।
উপমা গিয়ে আদির পাশে বসে পড়লো,,,,
উপমা :আদি সাহেব ও দেখি একা বসে আছে,,,
আদি :কেউ নাই তো কি আর করার, তাই একাই এখন চালিয়ে দিচ্ছি।
দুঃখ আমার আজ একটা গার্লফ্রেন্ড নেই বলে………
এতক্ষণে বাস ছেড়ে দিয়েছে …………….
.
সবাই যে যার পাশের জনকে নিয়ে বিজি,,
উপমা :আহারে আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই না,,
কতোবড় মিথ্যুক হলে আপনি হতে পারেন হুহু,,,
জিজুর কাছে শুনেছি আপনার নাকি কম করে হলেও ৫টা গার্লফ্রেন্ড আছে অলরেডি। আর আপনি বলছেন নেই,,
হাউ চিপ (চোখ গুলো ছোট্ট করে আদির দিকে তাকিয়ে)
আদি :দূর ওইগুলোকে কেউ বলে নাকি গার্লফ্রেন্ড,,,
উপমা :কেনো কেনো আবার কি হলো,,
আদি :মানে হলো ওইগুলো আমার কাছের গার্লফ্রেন্ড না, এই ধরো নিজের ইচ্ছায় আমার কাছে আসে আবার নিজের ইচ্ছায় চলে যায়,,,,
আমি অবসরে ওদের একটু টাইম দেই,,
ওদের সাথে থাকলে আমার নিজের কিছুদিন সময় কেটে যায়…………
উপমা :টাইম পাস করেন ওদের সাথে,,
অন্য কিছু আবার করেন না তো?
আদি :আরে না না ওইসব কিছু আবার করতে যাব কেন,,
ওইসব কিছু করে বসলে পরে আমার বউ শুনলে তার কাছে না আবার মার খেতে হয়।
উপমা :গুড। সব ভালোবাসা, অনূভুতি, আবেগ, রোমান্স বউয়ের জন্যই রেখে দেন সেটাই ভালো।
.
আদি :হুম,
আমি সবকিছু তো ওর জন্যই রেখে রাখছি,,
শুধু শুধু অন্য কাউকে বিলিয়ে দিতে যাবো কেন,,
ইতিমধ্যে আমি একটা কথা ভাবছি,,,
উপমা :ওমা আপনি আবার কি ভাবছেন?
আদি :ভাবছি এখানে আমি তো আর কয়টা দিন আছি। তো তোমার সাথে প্রেম করলে কোনো আপওি আছে মানে কিছুদিনের জন্য গার্লফ্রেন্ড আরকি,,,
উপমা :এহহহ,,,
আমার আর কাজ নেই এই কয়দিন আপনার গার্লফ্রেন্ড হতে যাবো (মুখ বাকিয়ে)
যদিও আদি কথাটা সিরিয়াসলি বলেছে কিন্তু উপমা তা ফাজলামো ভেবেছে।
রাহুল :সুন্দরী আপনার নাম কী গো?
নিলা :জ্বি আমার,,
রাহুল :এখানে আপনি আর আমি ছাড়া অন্য কেউ আছে কি,,,
নিশ্চয়ই আপনাকে বলেছি,,
নীলা :আমার নাম নীলা আহমেদ,,,
আপনার?
রাহুল :আমি রাহুল চৌধুরী,,,
নীলা :আপনাদের সব বন্ধুর নামের শেষে চৌধুরী কেন?
.
রাহুল :বোকা মেয়ে চৌধুরী বংশের ছেলে হলে শেষে চৌধুরী হবে না।
এই আপনার নাম নীলা আহমেদ নিশ্চয়ই আপনার বাবার নামের শেষে ও আহমেদ তাই। তেমনি আমাদের বাবার ও নামের শেষে চৌধুরী তাই আমাদের ও।
নীলা :হুম,,,
রাহুল :একটা কথা বলি,,,,
নীলা :হ্যাঁ বলুন?
রাহুল :চশমা পড়লে আপনাকে খুব সুন্দর লাগে।
নীলা মুছকি হেসে,,,
নীলা :ধন্যবাদ,,,,
রাহুল :চোখে সমস্যা আছে তাই পড়েন না,,,
নীলা :না, আমার ফ্রেন্ড ওই যে উপমা (উপমাকে দেখিয়ে)
ও বলছে পরতে,,,
আমাদের ভার্সিটির ক্যাম্পাসে,,,
উপমা একদিন তার এই চশমা দিয়ে বলে,,,,
উপমা :নিলু এই নে আমার চশমাটা,,,,
নীলা :এটা দিয়ে কি করবো রে আমি,,
উপমা :সুন্দরী তোকে না চশমা পড়লে ভিষণ সুন্দর লাগে, সো তুই এখন এই চশমাটা পড়বি। আর এটা তোকে মানায় ও,,,
নীলা :সেই দিন থেকেই আমি চশমাটা পড়ি,,,
রাহুল :ওই মিষ্টি আফুটা ঠিকই বলছে একদম। আপনাকে সত্যিই কি কিউট লাগে,,,
নীলা মুছকি হাসি দিয়ে অন্য দিকে পিরিয়ে নিলো মুখ।
.
উপমা :এই যে শুনেন না?
আদি :হ্যাঁ বলুন ম্যাম,,,
উপমা :আমাকে জানালার পাশে দিয়ে দিন না। বাইরের দৃশ্য আর বাতাস মিস করছি খুব(বাচ্চাদের মতো বললো)
আদি :ওকে বসো।
উপমা উঠে বসতে গেলেই বাস মোড় ঘুরে যাওয়ায় উপমা ধাস করে আদির কোলে পড়ে যায়। আদি দু হাত দিয়ে উপমাকে জরিয়ে ধরে,,
দুজন চোখাচোখি হয়……………..

রাহুল ওদের এভাবে দেখে হো হো করে হেসে দিল,,,,
বাসের বাকি সবাই ও রাহুলের হাসি দেখে ওদের দিকে তাকায় এবং তারাও হেসে দিলো এক গাল,,,
উপমা আর আদি ওদের এভাবে হাসতে দেখে কিছুটা লজ্জা পায় এবং উপমা উঠে দাড়িয়ে পাশের সিটে বসতে নিলেই আবার ঠাস করে আদির কোলে পড়ে যায়,,,
সবাই এখনো হাসছে,,,
আদি :আস্তে উঠো,,,
এবার উপমাকে আদি উঠাতে সাহায্যে করলো,,,
উপমার এক হাত ধরে অন্য সিটে বসিয়ে নিজে এই সিটে বসে পড়ে,,,
রাহুল :কি জটিল রে তোদের প্রেম,,,
বাসে ও শুরু করলি নাকি …….
আদি :এক থাপ্পড়ে তোর সবগুলো দাত পেলে দিবো অসভ্য ছেলে কোথাকার,,
চোখে যখন এতোই কম দেখিস ডাক্তারের কাছে গিয়ে একটা চশমা কিনে এনে পড়লেই তো হয়।
অন্তর :এই তোর কোনো কাজ নাই অন্যদের দিকে চোখ তুলে তাকাছ কেন,,,,
নিজে বসে বসে প্রেম করতে পারিস না।
রাহুল :কেউ নাই তো কার সাথে করবো?
আদি :তোর যখন এতোই প্রেম করার ইচ্ছে তো পাশের জনের সাথে কর না আমাদের দিকে তাকাছ কেন,,,,
“পাশের জন “বলাতে রাহুল নিলার দিকে তাকালো। দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে মুখ পিরিয়ে নিলো।
.
উপমা ওদের এইসব প্রেম ট্রেমের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে লাগলো। যেনো তারা কি বলে তা শুনা না যায়। উপমা গান শুনতে শুনতে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলো।
কি সুন্দর আমাদের এই দেশ, আসলে কোনো তুলনা হয়না অন্য দেশের সাথে আমাদের এইদেশের। কতো শত পাখিরা উড়ে বেড়াচ্ছে, কতো রং মাখানো তাদের ডানায়। আবার কি সুন্দর আকাশটা নীল হয়ে আছে মাঝে মাঝে সাদা মেঘগুলো রয়েছে। যেনো পুকুরে খুদিপানা ভাসছে দল বেধে।
জানালা দিয়ে বাসের বাইরে তাকিয়েই আছে,,
আদি তার কথা আর কি বলবো। পায়ের উপর পা তুলে সিটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে আর মোবাইল আছে সাথে মেয়েদের সাথে চেটিং করার জন্য তা নিয়েই বিজি আর ঠিক হলো না এই আদি।
উপমার হঠাৎ চোখ যায় কিছু ফুলের উপর,,
উপমা দুহাত দিয়ে ধরে আদির এক হাত টানতে টানতে,,,,
উপমা :এই যে দেখুন না দেখুন,,,,,
আদি :কি দেখবো?
উপমা :দেখুন না গাছের ফুলগুলো কি সুন্দর না।
আদি :ওয়েট, এই ড্রাইভার বাস থামাও ……..
বলেই দৌড়ে বাস থেকে নেমে গেলো।
উপমা :আরে কি হলো এটা আমি এতো সুন্দর ফুল গুলো দেখালাম আর ওনি না দেখেই নেমে গেলো। এটা কি হলো (মন খারাপ করে)
.
কিছুক্ষণ পর আদি দৌড়ে এসে উপমার পাশে বসে হাপাতে হাপাতে লাগলো আর বাস ও ছেড়ে দিলো।
উপমা :আচ্ছা আমি তো আপনাকে ফুলগুলো দেখালাম শুধু। আপনি এভাবে দৌড়ে গেলেন কেনো,,,
আদি :আরো দাড়া ও একটু দম পেলতে দেও তো। তারপর বলছি………..
হুম চোখ বন্ধ করো,,
উপমা :কেনো,,
আদি :আহা বন্ধ করো না,,,
উপমা :ওকে ওকে করছি,,
উপমা দু হাত দিয়ে হালকা ভাবে চোখগুলো ধরলো বন্ধ করে,,,,
আদি পিছন থেকে ফুলগুলো বের করে উপমার সামনে ধরে,,,,
আদি :এই নেও,, এবার চোখ খোলো………..
উপমা চোখ থেকে হাত সরিয়ে ……..
উপমা :ওয়াও ওই ফুলগুলো ……..
আদি :হুম তোমার জন্য,,
নেও…..
উপমা ফুলগুলো হাতে নিলো আর ফুলগুলোর উপর হাত ভুলাতে লাগলো……..
আদি :এই ফুলগুলোর নাম কি জানো ………
উপমা :কি আপনি জানেন,,,
আদি :হুম, কৃষ্ণচূড়া।
.
তারপর কিছুক্ষণ পর তারা ওই ধানমন্ডিতে বুক করা বাড়িটায় পৌছে গেল,,,,
যে যার মতো রুম বুক করে ঘুমিয়ে পড়লো রাতে ডিনার করে,,
সকালে সবাই একসাথে বড় টেবিলটায় নাস্তা করতে বসলো বড়রা পড়ে করবে। আগে ছোটদের করিয়ে নেক,,
ছোট সবাই একসাথে নাস্তা করতে বসলো। সবাই একসাথে বসে নাস্তা করার মজাই আলাদা কতো ভালো লাগে।
সবাই নাস্তা করে বাইরে বিশাল বাগানটার কাছে গেল,,
ওখানে খালি যায়গা ছিলো খেলার জন্য,,,
উপমা আর আদি বলে দিলো ক্রিকেট খেলবে তারা প্লেন করে রাখলো,,
ছেলেরা একদল আর মেয়েরা একদল,,
বড়রা দর্শক হিসেবে থাকবে,,
আদির বাবা রেপারি হিসেবে রইলো,,
উপমা :শুনেন আঙ্কেল,
আপনার ছেলে ওই দলে মানে আপনিও তো ছেলে তাই ছেলেদের সাপোর্ট করে কোনো চিটিংবাজি করতে পারবেন না বলে দিলাম….
আদির বাবা :ঠিক আছে,
আপনি যা বলবেন তাই হবে মামুনি।
উপমা :ওকে আঙ্কেল,,
.
কিছুক্ষণ পর খেলার স্থান ঠিক করে ময়দা দিয়ে টেনে বাউন্ডারি করা হলো,,
টস হলো মেয়েরা পাস্ট নামবে মাঠে………
প্রথম নামলো আদির বোন আদিরা আর ইলফা …….
২০ ওভারে তাদের খেলা,,,
প্রথম ওভারে ইলফা আইট পরপর এভাবে অনেক আইট হয়ে যায় মেয়েদের দলের,,
উপমার রাগ চরম সীমানার বাইরে ১৫ ওভারে মাএ ৮০রান। আর ওইদিকে তো ছেলেরা খুশির চোটে সিস বাজাচ্ছে …………………….
উপমা আগুন দৃষ্টিতে আইট হওয়া মেয়েগুলোর দিকে তাকালো তারা উপমাকে এভাবে দেখে ভয়ে বড়দের পিছনে গিয়ে লুকালো,,,,
এবার উপমার নামার পালা,,
সবকয়টা ছেলের দিকে এক নজর ভালো করে তাকিয়ে নিলো। আদি বলিং করছে,,,
উপমা অনেক বার ক্রিকেট খেলেছে তাই সে এই খেলাতে অনেক এক্সপার্ট,,,,
নেমেই প্রথম মারলো একটা ছয়। উপমার ছয় মারা দেখে আদিরা সিস বাজানো শুরু করলো দু আঙুল মুখের সামনে দিয়ে,,
উপমা এভাবে চার ছয় মেরে ১২০ রান করলো।
উপমা দশ ওভারের সময় নেমে বলিং করলো আর ২ওভারেই ৪টা উইকেট করলো,,,
এভাবে চলতে চলতে খেলা শেষ পর্যায়ে চলে এলো ছেলেরা যদি একটা ছয় মারে তাহলে তারা পাস্ট আর ৪মারলে ম্যাস ড্র………
সবাই অধির আগ্রহে চেয়ে আছে কে হবে পাস্ট নাকি ম্যাস ড্র হবে ……………
ইলফা বলিং করতেই আদি মেরে দিলো চার ম্যাস ড্র …………….
হার জিত কারোই হলোনা বরংচ সমান সমান,,,
.
রাতে সবাই মিলে আড্ডায় বসলো,,,,,,
সবাই আদির কণ্ঠে গান শুনার জন্য অনুরোধ করলো কিন্তু তার একই উওর না সে গাইবে না।
আদিরা:প্লিজ ভাইয়া একটা গানই তো। গা না প্লিজ …………
আদি :আমি বললাম না। না ………
আরোহী :দোস্ত প্লিজ গা না সেই ভার্সিটিতে গান গাইছিলি আর গাস নাই প্লিজ একটা গান……..
উপমা :এতো করে সবাই অনুরোধ করছে। একটা গান গাইলে কি আপনার মুখ নষ্ট হয়ে যাবে নাকি,,,,
আদি :তা না আমার ভয়েস সুন্দর না তাই গাইবো না।
আদির মা :বাবু কি বললে তুমি। তোমার গানের ভয়েস সুন্দর না।যদি সুন্দর নাই হতো তাহলে ওরা তোমার গান শুনতে এমন উঠে পড়ে লাগতো……..
মায়ের অনুরোধ একটা গা বাবু,,
আদি :ঠিক আছে, রাহুল গিটারটা নিয়ে আয়তো ……
আদিরা তার মাকে জরিয়ে ধরে,,
আদিরা :থেন্কু মামুনি,,
আদির মা :ইউ আরএ মোস্ট ওয়েলকাম বেবি,,,,
.
রাহুল গিটার আনতে গেলো,,
উপমা বসে বসে মোবাইল টিপছে ………….
রাহুল গিটার এনে আদির হাতে দিলো,,,
আদি প্রথমে গিটারের সুর দিলো তারপর মুখ দিয়ে,,
♬♬ আমার সকল অভিযোগে তুমি, তোমার মিষ্টি হাসির ডাকে আমি, আমার না বলা কথার বাজে, তোমার গানের কতো সুর ভাসে।
তোমায় নিয়ে আমার লেখা গানে,
অযথা কতো স্বপ্ন বোনা আছে।
আমার হাতের আঙুলের বাজে,
তোমাকে নিয়ে কতো কাব্য রটে।
হে ভুলিনিতো আমি তোমার মুখের হাসি আমার গাওয়া গানে তোমাকে ভালোবাসি।
আসো আবারও কাছে হাতটা ধরে পাশে,
তোমায় নিয়ে যাবো আমার পৃথিবীতে।
হেহেহেএহেএ……..এই পৃথিবীতে হেএএএএএ………
উপমা আদির এতো সুন্দর কণ্ঠ শুনে তার দিকে না তাকালেই নয়। আদি গানের সাথে উপমাকে সেই প্রথম দিন থেকে দেখা সিনগুলো মনে পড়তে লাগলো,,,,,,
সবাই উপমাকে ইশারা দিয়ে বলছে তাকেও সাথে গাইতে। উপমাও না বলা শুরু করলো পরে সুর দিলো ………..
হাআায়া………………..হা….আ…য়া♬
হুম তোমার পথে পা মিলিয়ে চলা …..তোমার হাতটি ধরে বসে থাকে। আমার আকাশে তোমার নামটি লিখা, আমার আকাশে কালো আবছা বোনা।
.
♬তোমায় নিয়ে আমার লেখা গানে অযথা কতো স্বপ্ন বোনা আছে, আমার হাতের আঙুলের ভাজে, তোমাকে নিয়ে কতো কাব্য রটে।
দুলিনিতো আমি তোমার মুখের হাসি আমার গাওয়া গানে তোমাকে ভালোবাসি। আসো আবারো কাছে, হাতটা ধরে পাশে তোমায় নিয়ে যাবো আমার পৃথিবীতে।
♩হেএএএএ……..হেএ…….এই পৃথিবীতে ……এ…..
উপমা :ভুলিনিতো আমি তোমার মুখের হাসি,
আমার গাওয়া গানে তোমাকে ভালোবাসি।
আসি তোমার কাছে আবার হাতটা ধরে পাশে।
আমায় নিয়ে চলো তোমার পৃথিবীতে ……..
আদি গিটারের সুর আস্তে আস্তে বাজাতে এবার বন্ধ করেই নিলো। ওদের গান শুনে সবাই হাসি মুখে জোরে জোরে হাত তালি দিতে লাগলো,,,,
আদির মা :বাহ উপমা,
তোমার কণ্ঠটা তো বেশ সুন্দর।
তুমি আগেও অনেকে বার গান করছো না,
আর তুমি তো ভবিষ্যতে সিঙ্গার হতে পারবে,,,,
উপমা :জ্বি আন্টি,,,
আমি আগেও অনেক গান করেছি …….
আর আমার কণ্ঠ তো ওতোটা সুন্দর না যে সিঙ্গার হতে যাবো ………..
আদি :মম তুমি মোটেও বিশ্বাস করবে না ওর কথা। ওর কণ্ঠ সুন্দর হলেও বলবে সুন্দর না এটাই ওর অভ্যাস,,,
.
উপমা :এটা আমার অভ্যাস না এটাই আমার অভ্যাস তবে রে বেটা তোকে দাড়া………
বলেই সোফা থেকে বালিশটা নিয়ে দৌড়ে মাড়তে গেলো…….
আদি দৌড়ে তার মায়ের পিছে লুকালো,,,,,,
আদি :তুমি যেমন তেমনিই তো বললাম এতে আমাকে মারার কি হল,,,
উপমা :আবার কথা বলে,,,
আদির মা :আরে আরে তোমরা থামো,,,
যেভাবে দুজন আমাকে ঘিরে ধরছো আমি তো মরেই যাবো,,,,
উপমা :আপনাকে আজকের মতো ছেড়ে দিলাম এরপর আমার অভ্যাস নিয়ে কথা বলবেন না না হলে একদম মেরেই পেলবো ……..
আদি :মম দেখছো তোমার সামনে তোমার ছেলেকে হুমকি দিচ্ছে মারার………
উপমা :হুমকি না ওয়ার্নিং ……….
বলেই মুখ বাকা করে ভেঙিয়ে চলে গেল,,,,
একে একে সবাই চলে গেল,,,,
আদি আর তার মা ড্রয়িংরুমে ছিল,,,,
আদির মা :মেয়েটা বারি মিষ্টি টাইনা রে বাবু,,,
আদি :হ্যাঁ মম …….
আমাদের ঘরে এমন একটা বউ নিলে কি সুন্দর হতো না ……..(সিড়ির দিকে তাকিয়ে)
আদির মা :কি বললি?
আদি :ক…কই কি বললাম আমি,,,
আদির মা :আমাদের ঘরে এমন একটা বউ নিলে কি সুন্দর হতো এটা কে বলছে তাহলে,,,
আমাদের বাড়িতে তুই ছাড়া আর কোনো ছেলে আছে,,,
.
আদি :না কেনো,,,,
আদির মা :তোর বিয়ে করার খুব সাধ জাগছে ওটা বল এতো কিছু বলার দরকার নেই,,,,
আর মেয়ে ও রেডি আছে অন্তরের বিয়ের পর তোকে দিবো তারপর,,,
আদি :কে সেই মেয়ে মম,,,
আর আমি এখন বিয়ে করবো না,
ওটা তো আমি এমনিই বললাম,,,,
আদির মা :আর কথা বলতে হবে না,
আপনি যে লজ্জা পেয়েছেন এখন বিয়ের কথা শুনে ওটা আমি বুঝতে পেরেছি।
থাইল্যান্ড পিরে আমি আপনার বাবাকে বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলবো,,,,
আদির মা বলেই চলে গেল।
আদি :হায় হায় মুখ পসকে কেন যে বের হয়ে গেল এই কথাটা,,,,
বিয়ে এখন আমি ইয়াম পসিবল…….
তাও আবার কোন মেয়েকে……
আমি ভাবছি এই বিয়ের মাঝেই উপমাকে প্রপোজ করে দিবো আর হলো না তা।
এখন মমকে যে করেই হোক আমার বিয়েটা বন্ধ করবো। আগে এটা হয়ে যাক তারপর ………
সকালে বাড়ি সাজতে লোক আসছে,,,,
ওনারা বাড়ি সাজাচ্ছে সাথে বাড়ির ছেলেরা হেল্প করছে,,,,
আজ উভয়ের একটা পার্টির প্লেন করা আছে,,
রাত ১০ বাজে মেয়েরা সবাই লেহেঙ্গা আর ছেলেরা সেরোয়ানী এবং চুরিদার পায়জামা পড়েছে ………..
.
একেক জনকে বেশ সুন্দর লাগছে,,,
আদি :আরে ভাই খেতে এতো ভয় পাচ্ছিস কেনো,,
অন্তর :তোর ভাবি একবার যদি জানে তো আমাকে আর আস্তো রাখবে না।
তোরাই কর ড্রিংকস আমি না………………
রাহুল :এখনি বউকে এতো ভয় পাচ্ছিস,,
হায়রে কি যে হবে সামনে তোর,,,
আদি :ব্রো এটা সফট ড্রিং খেলে ওতো নেশা হবেনা।
পার্টিতে যদি একটু ড্রিং না হয় তাহলে তো মজাই নেই,,
একটু কর …………….
আদি জোর করে অন্তরকে খাওয়াতে গেলে উপমা টেনে অন্তরকে নিয়ে যায় ওইদিকে কেউ একজন গানও ছেড়ে দিয়েছে,,,,
নিঝুমের কাছে এনে অন্তরকে দাড় করিয়ে বলে তারা পাস্ট যেনো ডান্স করে,,,
সবার কথা মতো অন্তর নিঝুমের হাতটা ধরে টেনে ডান্স করতে চলে যায়। পরপর সবাই তাদের পার্টনারদের নিয়ে যায়। রাহুল ও নিলাকে নিয়ে যায়।
আদি বসে বসে ড্রিং করছে তারপর চোখ পড়ে উপমার উপর সে সবার ডান্স দেখছে দাড়িয়ে,,,
আদি গিয়ে উপমার পাশে দাড়ায়………
আদি :তুমি এখানে দাড়িয়ে,,,,
উপমা :হুম, কোনো সমস্যা ……..
আদি :No,
Thou If Some Think None Tax So The What We Dance Conferes…………
উপমা আদির দিকে এক হাত বাড়িয়ে,,
উপমা :Yeah Sure Why Not ………..
আদি gjkey………
.
আদি আর উপমাও ডান্সে জয়েন করলো,,,
সবাই (Mone Ba Lage) এই গানটা দিয়ে নাচলো ………..
উপমা টায়ার্ড হয়ে চলে আসলো……………..
আদি অন্য আরেকটা মেয়ের সাথে নাচতে লাগলো…………………
উপমা নাচ দেখছিল সবার, তখন অন্য একজন ড্রিংকস অডার দিয়ে ছিল। সে পাশের লোকটির সাথে কথা বলতে বলতে ওয়েটার টেবিলের উপর রাখলো উপমা ও পাশে না তাকিয়ে জুস মনে করে নিয়ে খেয়ে পেললো।
তার কিছুক্ষণ পর উপমার উপর ড্রিংকসের প্রভাব পড়ে মিউজিসিয়ানদের কাছে গিয়ে তাদের ঠেলে বার করে দিলাবার গানটা লাগিয়ে দেয়,,,
তারপর স্টেজে গিয়ে সে একলাই ডান্স করতে থাকে নেশার তালে সে নিজেকে কনট্রোল করতে পারেনি লেহেঙ্গার উপরের ওরনাটা পড়ে যায় তার গা থেকে,,,
অন্য ছেলেরা তাকে খারাপ নজরে দেখছে যা আদির মোটেও সহ্য হচ্ছে না।
সবার ডান্স অফ শুধু উপমাই করছে ডান্স।
সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে………..
আদি এপাশ ওপাশ না ভেবে উপমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসে,,
উপমা :আমাকে ছাড়ুন, ছাড়ুন আমাকে আমি ডান্স করবো………….(মাতালদের মতো কণ্ঠে)
দিলবার………দিলবার…………
আদির রাগ উঠে যায় আর উপমাকে জোরে এক দমক দেয়।বড়রা এখানে নেই তাই ওরা উপমাকে এই অবস্থায় দেখতে পারেনি।
উপমা যায়নি বলে আদি কোলে নিতে বাদ্য হয়, কোলে তুলেই ওর রুমে নিয়ে যায়………….
.
উপমা :আপনি খুব পচা, আমাকে দমক দিলেন কেনো। আমি কেদে দিবো এখন, আর পাপার কাছে বিচার দিবো তখন আপনাকে পাপা বকে দিবে………………..
আদি বিচানায় নিয়ে শুইয়ে দিলো,,
দিয়েই উঠে আসতে নিলে উপমা আদির সেরোয়ানীর কলার ধরে একটান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে……………
উপমা :আবির এই আবির,
কোথায় যাচ্ছো আমাকে রেখে তুমি,,,
আদির মুখটা উপমার মুখের একদম কাছাকাছি,, দুজনের প্রতিটি নিশ্বাস দুজনের মুখে এসে পড়ছে. ……………….
উপমা :এই আবির শুননা. ……..
আদি নিজেকে এই মায়া সুরে আটকে রাখতে না পেরে. ……………
আদি :হ্যাঁ বলো?
উপমা :তুমি আগে প্রতিদিন কপালে কিস্সি করতে। কিন্তু আমার ঠোঁটে একদিন ও করোনি, এই করোনা একটু …….
আদি ভেবে পাচ্ছে না কি করবে,,,,,
উপমা অনেক জোর করছে, আদি মায়া ভরা মুখটার দিকেই তাকিয়ে রইলো,, ,
আদি করছে না দেখে উপমা নিজেই আদিকে টান দিয়ে আরো কাছে আনলো,
.

উপমা টান দিয়ে আদিকে আরো কাছে নিয়ে আসে,,,,
আদি উপমার মুখে আবিরের নামটা শুনে মোটেও সহ্য হচ্ছিল না,,,,
তাই উপমার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সেখান থেকে চলে আসে।
উপমাকে আদি ভালোবাসে এটা কী আদি বলবে আর বললেও উপমা কী কনপার্ম করবে। করবে কীভাবে ওতো আজও আবিরকে ভুলতে পারেনি।
লোকে ঠিকই বলে প্রথম ভালোবাসা কখনো ভুলা যায় না, যা উপমার ক্ষেএে ও,,,,
আদি উপমার রুম থেকে চলে গেল নিচে ভালো লাগছে না কিছু সেখানে তাই নিজের রুমেই চলে গেল।
পরেরদিন সকালে,,,,,
উপমা :ওহ, মাথাটা এতো ভারি লাগছে কেনো,,,,
আর আমি তো ডান্স প্লোরে ছিলাম সবাই ওখানে ডান্স করছিল আমি দেখছিলাম।
এখানে আনলো কে,,,
আচ্ছা যাই হোক উঠে পরি এটাই ভালো একটু এদিক ওদিক দৌড়ে এক্সারসাইজ ও করে নেই…..
.
উঠে ফ্রেশ হয়ে উপমা একটা গেন্জি আর স্ক্যান ফ্যান পড়লো কানে হেডফোন লাগিয়ে বাড়ির বাইরে চলে গেল………..
রাস্তা দিয়ে আস্তে আস্তে দৌড়াতে লাগলো,,,,
আদি :গুড মর্নিং,,,,
উপমা :এই কে কে………..
আদি :আমি আদি,,
ভয় পেলে নাকি,,,
উপমা :পিছন থেকে যেভাবে বললেন গুড মর্নিং ভয় না পাওয়ার কি আছে,,,,
আদি :সরি, আমি বুঝতে পারিনি।
উপমা :হুম হইছে, গুড মর্নিং 2………
তো এতো সকাল কি করেন এখানে এই রাস্তায়?
আদি :একটু জগিং করতে বের হলাম,,,
বাসায় বসে খেয়ে খেয়ে আমি ভুরি বানাতে চাচ্ছি না, আর এমনিতেও আমার ভুরি বেড়ে যাচ্ছে,,,,
উপমা :ভালো ভালো গুড ডিসিশন,,,,
পথে যখন আপনার সাথে দেখাই হয়ে গেল,,
তখন চলেন দুজনই একসঙ্গে সামনে এগোই ……..
আদি :হুম চলো……….
.
দুজনে সামনের দিকে হাটা ধরলো,,,,
উপমা :একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
আদি :হুম, বলেন,,,
উপমা :আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে,,,
আদি :না,,,
উপমা :বিশ্বাস হয় না আমার। আপনার মতো এতো হ্যান্ডসেম ছেলের গার্লফ্রেন্ড নাই।
ব্লিভ হয় না……….
আদি :সত্যি বলছি আমার গার্লফ্রেন্ড নাই। এইসব প্যারা তাই করিনা,,,
উপমা :এইতো গুড বয়…………
আদি :আচ্ছা তোমার তো বয়ফ্রেন্ড নাই……
উপমা :হুম তো……
আদি :তোমায় যদি এখন কেউ প্রপোজ করে তাহলে তুমি তাকে কি করবে,,,,
উপমা :তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকবো যখন ফুল হাতে নিয়ে আমায় প্রপোজ করবে।
তার চোখগুলো দেখবো মায়া আছে কিনা তাতে তার ঠোঁটের দিকে দেখবো গোলাপী কিনা,
সে হ্যান্ডসাম কিনা, তার মনের মাঝে আমার জন্য কতোটুকু ভালোবাসা আছে। সে ভবিষ্যতে আমায় কতোটা ভালোবাসবে এইসব দেখবো। তারপর যদি এমন হয় তাহলে এক্সচাপ্ট ………
.
আদি :এতো কিছু দেখবে ভালো কথা। আবার গোলাপী ঠোঁট দিয়ে কি করবে,,,
উপমা :আমার কাছে খুব সুন্দর লাগে তাই।
আদি :ওহ,,,,,
আচ্ছা দেখোতো আমার এইসব আছে কিনা তাহলে তোমায় আমি প্রপোজ করবো,,,,
উপমা কিছুক্ষণ আদির দিকে তাকিয়ে থেকে,,,
উপমা :ওমম……….
ঠিকই আছে সবকিছু বাট আপনার মনের ভেতর অনেক মেয়ের বসবাস,,,,
সারাক্ষণ খালি মেয়েদের সাথে চেটিং যা আমার মোটেও পছন্দ না।
আদি :এমা তাই………
উপমা :হাহাহা………….
আমি ফাজলামো করছি কিছু মনে করবেন না,
উপমা আদির দিকে তাকিয়ে হাসছিল,
তখনই সামনে থেকে একটা গাড়ি উপমাকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল তার আগেই আদি দেখে উপমাকে টান দিয়ে নিজের বুকের ভেতর নিয়ে নেয়,,,,
আদি :গাড়ি যখন চালাতেই পারিস না,
তখন রাস্তায় নামিস কেনো তোদের মতো লোকদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া উচিত সালারা………….
উপমা এই কথাটি শুনে তো অবাক এই কথাটা পাস্ট আদি যখন উপমাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয় তখন উপমা বলেছিল,,,,
আর আজ আদি ও সেম ওই লোকটাকে বলেছে।
উপমা আদির দিকে তাকালো,,,
একহাত দিয়ে ধরে বুকে জরিয়ে আছে উপমাকে,,
কি আরাম লাগছে, শান্তি লাগছে উপমার।
আজ দু বছর হলো কেউ এভাবে তাকে আলতো করে জরিয়ে ধরেনি।
আর আদির শরীর থেকে ও কি মিষ্টি একটা গন্ধ বের হচ্ছে। যা উপমাকে পাগল করে দিচ্ছে আদির প্রতি তার মন টানছে,,,
.
আদি :এই যে চলুন,
এভাবে রাস্তায় হাঁটবেন না যখন তখন কেউ গাড়ি চাপা দিতে পারে,,,,
আর এখন আমি না টান দিয়ে আনলে আজ আল্লাহ না করুক হসপিটালে ঠিকানা হতো।
এই খুশির দিনে …………….
উপমা :হুম ধন্যবাদ আপনাকে…..
আদি :ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই। যে কেউ হলেই আমি এমনটাই করতাম,,,
আর আজকে তো মেহেন্দির অনুষ্ঠান রাতে ……….
উপমা :হ্যাঁ তাইতো আমার মনে নেই,
সবাইকে নিয়ে নাচ প্রেকটিস করতে বসতে হবে
জলদি চলুন…………..
আদি :হ্যাঁ চলো…………………..
বাসায় এসে ছাদে বসলো তারা নাচ প্রেকটিস করতে,,
আদি ছেলেদের দেখিয়ে দিচ্ছে দেন উপমা মেয়েদের……..
আজ যে যায়গায় উপমাকে আদি দেখবে সে যায়গায় উপমা আদিকে দেখছে,,,,
আদির মাঝে আলাদা একটা মায়া আছে,
ও যেমনি হোক না কেন। একনজর কেউ যদি আদির দিকে তাকিয়ে থাকে তার আদির জন্য মন গলে যাবে।
উপমাও এক নজরে তাকিয়ে আছে আদির দিকে,
নীলা :এই কিরে কি দেখছিস এভাবে ওই চানগ্লাসের দিকে?
উপমা :ক…ক.ই কই আমি কি দেখছি, আমি ওদের নাচ দেখছিলাম হচ্ছে কিনা।
নীলা :আমার কাছে লুকাচ্ছিস না তুই যে এই চানগ্লাসের দিকে তাকিয়ে আছিস আমি 200%সিউর করে বলতে পারবো।
উপমা :একটা থাপ্পড় দিবো যা নাচ প্রেকটিস কর গিয়ে ফাজিল মেয়ে……..
নীলা চলে গেল,,,,,
নিঝুম আর অন্তর দুজনকে একই পাশে বসানো হলো,,
উপমা বাচ্চাদের মেহেন্দি দিয়ে দিতে দিতে টায়ার্ড হয়ে গেছে,,
কিন্তু বাচ্চারা ছাড়ছেই না,
পরে আদি বাচ্চাদের সামলিয়ে নিয়ে গেলো।
উপমা নিঝুমের আর অন্তরের হাতে মেহেন্দি লাগাতে বসলো,
আদি :আমাকে ও লাগিয়ে দিন না,,
উপমা :আপনি কি বিয়ে করবেন যে মেহেন্দি লাগাতে যাবো আপনাকে………..
আদি :না, আর দিয়ে দিলে এমন কি হয়……….
কথা বলতে বলতেই গান বেজে উঠলো,,,
খুশিতে প্রথম উপমা নাচে জয়েন করলো ”
তারপর আদি………………..
.
প্রথম (Proper Petola) এই গানটা দিয়ে ছেলে একদল মেয়ে একদল হয়ে নাচলো।তারপর (Ishara)গানটা দিয়ে সবাই একজোট হয়ে নাচলো। নিঝুম আর অন্তরকে আদি উপমা গিয়ে টেনে আনলো……………..
পরেরদিন মেয়ে পক্ষের গায়ে হলুদ ছেলে থাকা নিষেদ তাই কোন ছেলেরা নাই,
সবগুলো মেয়ে আজ হলুদের কাপড় পরেছে,,,,
অন্তর চুরি করে হলুদ নিয়ে এসে নিঝুমকে লাগাতে গেলো রুমে
আর আদি পাহাড়া দিচ্ছে। তখনই উপমা আসছিল হলুদের বাটি হাতে করে নিয়ে।
উপমা :এমা আপনি এখানে আজকে না আপনাদের আসা নিষেদ,
আদি :তো কি হইছে। আমিও তোমায় হলুদ লাগাইতে আসছি,,
বলেই বাটি থেকে কিছু হলুদ নিয়ে উপমার গালে লাগিয়ে দেয়……………
উপমা :মাম্মা ও আমাকে গায়ে লাগিয়েছে………..
বলে নেকা কান্না করতে করতে চলে গেল।
.
উপমা নেকা কান্না করতে করতে চলে গেল……
আদি :যাহ একটু হলুদ লাগালাম বলে কেঁদেই দিলো কি আজব মেয়েরে বাবা,,,,
উপমা কিছু দূরে গিয়ে দেওয়ালের উপর সাইডে গিয়ে দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। যাতে আদি নিঝুমের রুমের সামনে থেকে না দেখে তাকে ……..
উপমা এক হাত দিয়ে গাল থেকে হলুদ নিয়ে হাতে তাকিয়ে থেকে একটা মুছকি হাসি দিল,,,
তারপর আবার যেটুকু হলুদ হাতে নিলো অন্য গালে লাগিয়ে নিলো নিজে নিজেই ……..
কি অদ্ভুত পাগলী একটা আদির প্রতি এই দুদিনে কেমন জানি হয়ে গেলো। আদি মনে হয় উপমা ভালোবেসেই পেলেছে ……..
আদেও কি উপমা ভালোবেসে পেলেছে নাকি একবার আদি জানতে পারলে তো তার আনন্দের সিমা রইলো না তাহলে ……..
উপমা লুকিয়ে দেখতে লাগলো আদিকে সাদা পান্জাবীতে বেশ লাগছে আদিকে। একটা ছেলে এতো সুন্দর হয় কীভাবে,,,,
আদির সাদা পান্জাবী গায়ে হাতে একটা কালো ঘড়ি চুল গুলোর কী স্টাইল ভাবে কাটা।
খুব সুন্দর লাগছে। আদি আর অন্তর সেখান থেকে চলে গেলে উপমা দৌড়ে নিঝুমের কাছে যায়………..
.
নিঝুম :এই উপমা তোর গালে হলুদ কে লাগিয়েছে রে …….
উপমা :কই কেউ না তো ……
নিঝুম :কেউ না তো মানে আয়নায় দেখ নিজেকে তোর দু গালেই তো হলুদ লাগানো, কে লাগিগেছে বল আদি ভাই নাকি……
উপমা :মাইর চিনিস ……
এটা ইলফা আপু আসার সময় আমাকে দেখে বাটি থেকে নিয়ে লাগিয়েছে বুঝেছিস গাধীঁ…….
নিঝুম :ওহ আমিতো ভাবলাম ভাইয়া লাগিয়েছে,
উপমা :আমার তো আর খেয়ে দেয়ে কাজ নাই ওই কালো চানগ্লাসের কাছে হলুদ লাগাতে যাবো হুহ…………..
তা আপনার গালে কে লাগাইছে হুহ………
নিঝুম :কে তুই জানিস না,,
উপমা :ওহ আমার জিজু কতো রোমান্টিক কতো ভালোরে। আর তোকে কতো ভালোবাসে দেখছিস ………..
নিঝুম :হুম হইছে বাদ দেন,,,
আপনার জামাই আমাদের জিজু আরো রোমান্টিক হবে দেখবেন সারাক্ষণ কী করবে জানেন তো……….
উপমা :ওতো জানার আমার দরকার নেই। এবার চলেন যাই …………
.
এভাবে পরপর গায়ে হলুদ হয়ে যায়,,,
বিয়ের দিন চলে আসে নিঝুম আর অন্তরের,,,
উপমা আর নীলা মিলে নিঝুমকে খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে নিচে নিয়ে যাবার পালা,,,,
সিড়ি দিয়ে যখন উপমা নিঝুমকে ধরে নামতেছিল তখন আদি দেখে তো উপমাকে হা করেই তাকিয়েছিল……………
আজকে উপমাকে অনেক সুন্দর লাগছে,,,,
উপমা সিড়ি দিয়ে নেমে নিঝুমকে অন্তরের পাশে বসালো,,,,
অন্তর ও নিঝুমকে দেখে পুরো হা করেই তাকিয়ে ছিল, পরে উপমা বলাতে লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে নেয়………..
তিনবার কবুল পরে বিয়ে হয়ে যায় তাদের,,,
আজকেই নিঝুমকে এই বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হবে……….
যখন নিঝুমকে বিদায় দিবে নিঝুম সবাইকে ধরে কাদতেঁ থাকে,,,,
উপমাকে খুজে ও পায়না আদি খুজতে গিয়ে দেখে উপমাকে বাড়ির পিছনে দোলনাটায় বসে আছে………..
আদি সামনে যেয়েই দাড়াতে দেখে উপমা কাঁদছে,,,,
আদি :এই পাগলী এভাবে কাদছো কেন,,,,
উপমা আদির কণ্ঠ শুনা মাএই অন্যদিকে মুখ পিরিয়ে চোখের পানি মুছে পেললো,,,
উপমা :কো..কো.থায় আমি কাদছি,,,,
আদি :আমার কাছ থেকে লুকাতে এসোনা, তোমার চোখে এখনো পানি আছে আর তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে তুমি কাদছো…….
আচ্ছা যাই হোক নিঝুম ভাবি তোমায় খুজছে আর তুমি এখানে কেনো,,,,
.
উপমা :ও এখনো যায়নি…….(বলার সময় গলাটা আটকে এসেছিল)
আদি :তুমি ওর বন্ধু কতো বছরের ও তোমাকে না দেখেই না বলেই চলে যাবে………..
উপমা আদির দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল,
আদি :প্রতিটি মেয়ের জীবনেই এমন একটা দিন আসে, একদিন তাদের স্বামীর ঘরে যেতেই হয়,
আর যে যায়গায় নিঝুম ভাবি কাদবে আজ সে যায়গায় তুমি কাঁদছো এটা কেমন হলো,
মনে হচ্ছে তোমারই বিয়ে হয়েছে আজ,,
উপমা :আপনি বুঝবেন কীভাবে,
ও আমার ১০ বছর আগের বন্ধু, সবসময় স্কুলে, কলেজে এমনকি ভার্সিটিতেও একই সাথে থেকেছি একই টেবিলে বসেছি। যার সুখে দুঃখে দুজন দুজনের পাশে থেকেছি। আজ ওর বিয়ে হয়ে গেছে আমার সাথে আর তেমন দেখা হবে না, ফোনে মাঝে মধ্য কথা হবে,,,
ওর সাথের থাকা আগের সৃতিগুলো মনে করে আজ খুব কষ্ট হচ্ছে কান্না আসছে।
ওর সামনে গেলে তো আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না। তাই চাচ্ছি না ওর সামনে যেতে,,,,
আদি :আমি বুঝতে পারছি তোমার কষ্টটা,
কিন্তু ভাবি তো তোমায় না দেখে যাবেনা,
এ সময় ওর তোমাকে পাশে পাওয়া জরুরি,
সো, প্লিজ চল,,,,
.
আদির অনেক বলাতে উপমা গেলো। যেয়ে উপমা নিজেকে সামলাতে পারেনি কেঁদেই দিলো নিঝুমকে ধরে, দুজন দুজনকে ধরে কেঁদেই চলছে। ওদের কান্না দেখে সবাই কেদে দিলো,,,
অন্তর কোনো রকমে নিঝুমকে ছাড়িয়ে গাড়িতে বসালো,
উপমাতো গাড়ির পিছু পিছু ছুটতে চাইছিল,,
কিন্তু আদি আর নীলা ওকে আটকিয়ে রেখেছে।
মেয়েদের জীবনে কেনো এইদিনটা আসে যে বন্ধু বান্ধব, মা -বাবা সবাইকে ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হয়। সত্যি এইদিনটি খুব কষ্টের হয়। মেয়েদের জীবনটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাণ কবিতার মতো,
আর বিয়ের বিদায়ের দিনের মতোই এই চরনটি অনেক মিল রয়েছে ………..
“হাসি মুখে নিয়ো ফুল, তার পরে হায়,
ফেলে দিও ফুল যদি সে ফুল শুকায়।”
.

মেয়ে যখন কোল আলো করে ঘরে আসে তখন মা -বাবা কতো খুশি হয়। আর আস্তে আস্তে বড় হলে তাদের মাথায় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার ভূত চাপে,,,
আস্তে আস্তে দিন কেটে যায় নিঝুম আর অন্তরের বিয়ে হয়ে গেছে আজ ১সপ্তাহ হয়ে গেলো।
উপমা নিঝুমের বিয়ের পর থেকে কেমন জানি একা হয়ে গেছে। যেনো বিয়েটা তার হয়ে সে স্বামীর বাড়ি চলে গেছে।
ভার্সিটিতে ক্লাস অফ পরীক্ষা কিছুদিন আগে গেলো,
রাস্তায় হাটছে উপমা একা,,,,
পিছনে আদি ছিল খেয়াল করেনি,,,,
উপমা সামনের দিকে এগোচ্ছে আর আদি উপমার পিছন পিছন যাচ্ছে,,,,
আজ আদি আবার ও মুগ্ধ হলো উপমাকে দেখে,,,
রাস্তায় একজন উপমার কাছে বিক্ষে চেয়েছিল হাত পেতে উপমা তার প্যান্টের পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে দিলো,,,,
আদি দৌড়ে উপমার কাছে গেলো ……..
আদি :হাই…….
উপমা :আরে আপনি কখন এলেন আর এখানে কি করে,,,,
আদি :আজকেই তো চলে যাচ্ছি, তাই ভাবলাম তোমার সাথে দেখা করে যাই…….
উপমা :ওহ আজকেই চলে যাবেন,,
আবার আসবেন আমাদের দেশে,,,
আদি :হুম, চেয়েছিলাম থেকে যেতে কিন্তু যার পিছনে পরে রেয়েছি সে এখনো আমাকে পাত্তাই দেয় না তাই থেকে আর লাভ কি চলেই যাই……….
.
উপমা :সে কে এখনো কিন্তু বলেন নি,
আমি আপনাকে বলছিলাম আমাকে বলেন আমি তাকে বলে দেখি। কিন্তু আপনি আজ অবধি তার নামটুকুও বলেননি, শুধু তার চরিত্র সম্পর্কে বর্ননা দিয়েছেন।
আদি :সে তো আমাকে সহ্যই করতে পারেনা। তোমাকে আর কি বলবো তাই না বলাই বেটার,,
আচ্ছা এই যে তুমি একটা লোককে এতোগুলো টাকা দিলে পকেট থেকে বের করে,,
কোনো কারন ছাড়াই ………..
উপমা :কারন ছাড়া মানে,,
ওর একটা বোনকে বিয়ে দিবে অনেক গুলো টাকার প্রয়োজন আর বাবাতো নেই। তাহলে ও টাকা পাবে কোথায়,,
আমার এমডি কার্ডটা বাসায় রেখে আসছি না হলে ওর বোনের বিয়ের জন্য আরো কতোগুলো টাকা দিতাম (মন খারাপ করে)
.
আদি :ভালো, নিজের বিয়ের খবর নেই এখানে আসছে অন্যকে সাহায্যে করতে হুহ …….
উপমা :এই কি বললেন আপনি,,
আদি :কই কিছুনা তো,
তোমার বাসায় কি এই রাস্তা দিয়ে যায় নাকি হুহ,
এইদিকে কোথায় যাচ্ছো……….
উপমা :এমনি ভালো লাগছিল না তাই ঘুরতে যাই একটু ওইদিকে ………
আদি :ওহ চলো আমি ও একটু যাই তোমার সাথে ওইদিকে,,,,
দুজনে চললো কথা বলতে বলতে,,
আদির সন্ধ্যায় প্লাইট তাই আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপমার সাথে বিভিন্ন যায়গায় ঘুরে বেড়ালো ……..
রেস্টুরেন্টে গিয়ে দুপুরের লান্স সেরে নিলো।
উপমাকে উপমার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিলো আদি,,,
আদি :শুনো,
উপমা :হ্যাঁ বলুন?
আদির মন কেমন জানি করছে, মন চাইছে একটিবার বলতে উপমা তোমায় আমি ভালোবাসি খুব। তোমায় ছেড়ে যেতে আমার মন চাইছে না বলোনা একটি বার, এই আদি থেকে যান না থাইল্যান্ড না গেলে কি হয় না।
আদি ভেবে উঠতে পারছে না বলবে কি বলবে না, বললেই বা হয় আবার মনে হচ্ছে এখন যদি উপমাকে সে বলে তাহলে উপমা যদি আবার রিয়েক্ট করে সেই ভেবে বলছে না।
.
উপমার ও মনে হচ্ছে আদি হয়তো তাকে ভালোবাসে সে হয়তো আজ বলবে উপমাকে “ভালোবাসি “এই কথাটা তাই অধীর আগ্রহে দাড়িয়ে আছে আদির সামনে।
উপমা :কি হলো বলুন?
আদি :বলছি যে তুমি খুব কেয়ারলেস নিজের খেয়াল রাখতে পারোনা, রাস্তায় ঠিক মতো চলতে পারোনা।
নিজের খেয়াল রাখবে, ঠিক মতো খাবার খাবে, ঘুমাবে তুমি তো আবার ঘুম পাগলী। আঙ্কেল আন্টিকে আমার সালাম জানিও বলবে আমি আজ চলে যাচ্ছি থাইল্যান্ড। আর আসবো কিনা জানিনা অন্তরের বিয়ে উপলক্ষে এলাম তোমাদের সাথে কয়েক দিন থাকলাম বেশ ভালোই দিন কেটেছে। আমি ফেসবুকে বেশি থাকি না যদিও ডুকি এস এম এস দিলে রিপলাই করো আসি হ্যাঁ ……………..
উপমা আদির মুখে না আসার কথা শুনে বুকে কেমন জানি ধুপ করে আওয়াজ হলো। আদি চলে যাচ্ছে বলে তার কেনো জানি কষ্ট হচ্ছে, ভেবেছিল আদি ভালোবাসি বলবে কিন্তু বলেনি। আর মনে হচ্ছে আদি তার কতো বছরের চেনা। আবিরের মতোই আজ শেষে কথাগুলো বলেছিল। আবির ও অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় ঠিক এইভাবে বলে গিয়েছিল।
উপমা :জানেন তো আজ আমার কেমন জানি আপনাকে আবিরের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে আপনি আবির। আপনি সত্যিই কি আদি নাকি আবির আমি বুঝে উঠতে পারছি না। ধানমন্ডি আমার খেয়াল রেখেছিলেন ঠিক আবির যেভাবে রাখতো।আর আজ চলে যাচ্ছেন নিজের দেশে বলে আমাকে একটু আগে কথাগুলো বললেন আবির ও ঠিক এভাবে বলে অস্ট্রেলিয়া চলে যায়।
.
আদি প্রথমে হো হো করে হাসলো,
আদি :আমি তোমার আবির হতে যাবো কেনো, আমি আদি, আদি রাজ চৌধুরী। আচ্ছা যাই হোক তুমি বাসায় যাও।
তারপর উপমা চলে গেল, আদি আজও সাহস করে বলতে পারলো না উপমাকে। তাই চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি পরে গেল।
উপমাও বাড়িতে ডুকে মেন ডোরের পিছনে লুকিয়ে দেখলো আদি চলে যাচ্ছে।
আদি বাসায় যায় ব্যাগ গুছিয়ে নেয়,
তখনই অন্তর বলে উঠলো,,,
অন্তর :কিরে বলেছিস উপমাকে,,
আদি :নাহ…………
অন্তর :হোয়াট……
তুই চলে যাচ্ছিস আর যাওয়ার আগে বললি না একটি বার,
আদি :বলে কি লাভ ওতো আমাকে পাত্তাই দেয় না, ও আজও আবিরকে পাগলের মতো ভালোবাসে। ওর মনে এতোদিনে একটুও যায়গা করে নিতে পারিনি আমি,,,
অন্তর :তাই বলে একটিবার ও ওকে বলে দেখলি না,
আদি :থাক বাদদে ও আমার কপালে লিখা থাকলে নিশ্চয়ই হবে। তুই যতোদিন আছিস একটু খেয়াল রাখিস,
ও খুব কেয়ারলেস একটা মেয়ে………
আদি তার মা বাবার সাথে চলে যায়,,,
মাঝে মধ্যে আদি আর উপমার ফেসবুকে কথা হয় আবার কোনোদিন হয় ও না,
এভাবেই দিন কাটতে লাগালো তাদের,,,,
.
আদিরা :ভাইয়া আসবো,,,
আদি :আমার রুমে তুই কোনদিন আবার বলে ডুকেছিস আয়,
আদিরা :বলছি আজ তুমি অফিসে গেলেনা যে,, আদি :এমনি ভালো লাগছিল না,
আদিরা :তোমায় বাবা আর মামুনি নিচে ডেকেছে তারাতারি আসো,,,
আদি :ঠিক আছে তুই যা,
আদিরা চলে যায়, আদি ভাবতে থাকে একটু আগেই তো ওর বাবা আর মামুনির সাথে কথা হয়েছিল।এখন আবার কেনো ডাকছে বিয়ে নিয়ে কোনো কথা বলবেন না তো মামুনি ওইদিন এমনিতেই বলেছে বাড়িতে এসে ওর বাবার সাথে কথা বলবে। যদি বিয়ে নিয়ে কথা হয় আদি তো উপমাকে ছাড়া আর কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে না।
ভয়ে ভয়ে নিচে গেল,,,,
উপমা :হ্যাঁ পাপা বলো কেনো ডাকছো আমায়,,
উপমার বাবা :বলছি মা তুই বড় হয়েছিস বিএ পড়া শেষ। আমার ইচ্ছে মরার আগে তোকে কারো সাথে সুখী হতে দেখে যাওয়া।
উপমা :পাপা তুমি কি বলছো আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। ক্লিয়ারলি বলো……………
উপমার বাবা :তোর কাছে কোনোদিন কিছু চাইনি আমি, আজ যে জিনিসটা চাইবো নিশ্চয়ই তুই পিরিয়ে দিবি না মা……………
উপমা :হ্যাঁ বলো পাপা………
.
উপমার বাবা :বলছিলাম যে পাপা এখন যা চাহবো তোর কাছে আমার মনে হয় না তুই না করবি।
উপমা :কি বলো…….
উপমার বাবা উপমার একটা হাত ওনার দুহাতের মুঠোয় নিয়ে,,,,
উপমার বাবা :কোন বাবাই না বেচেঁ থাকতে তার সন্তানের সুখ দেখতে চায় ঠিক তেমনি আমি ও তোর একটু সুখে থাকতে দেখার জন্য তোকে বিয়ে দিতে চাই।
উপমার মা :আদিকে তুই চিনিসই কতো ভালো একটা ছেলে। আমরা ওর সাথেই তোর বিয়ে ঠিক করছি মামুনি ………
উপমার বাবা :আদি খুবই ভালো একটা ছেলে ও তোকে খুবই সুখী রাখবে দেখিস মা। কোনোদিন কোনো দুঃখ দেখতে দিবে না তোকে। আমি ধানমন্ডিতে তোর উপর সকল খেয়াল তোকে চোখে চোখে রাখা সবই দেখছি আমি ………
আমি দেখেই বুঝেছি ও তোকে ভালোবাসে আর তোকে সবসময় ভালোবাসবে।
.
উপমা মা -বাবার দিকে তাকিয়ে আছে তারা কতো আশা নিয়ে বলছে উপমা কী মানবে এই বিয়ে। ও কী আজও আবিরকে ভুলতে পেরেছে।
মা বাবা দুজনে বলছে আদি নাকি খুব ভালো ছেলে। ও কী আদেও ভালো ছেলে নাকি মানুষের সামনে ভালো থাকার অভিনয় আর অন্যখানে একজন খারাপ লোক।
উপমা ওইদিন রাতে ফেসবুকে সেই মেসেজগুলো পাওয়ার পর থেকে আদির জন্য মনে ঘৃনা জন্মেছে। আস্তে আস্তে আদি উপমার মনের মাঝে যায়গা করে নিয়েছিল।
উপমাও আদিকে ভালোবাসার একটা চান্স দিয়েছিল। আদি থাইল্যান্ড যাওয়ার পর থেকে ও যে ফেসবুকে কথা বলতো আগে তো কখনো এমন করেনি। এতো খারাপ ভাষায় কথা বলেনি।
ওতো বলতো আমি কখনো মেয়েদের সাথে রাত কাটায়নি। আমার সব ভালোবাসা, মন, প্রান আমার ভালোবাসার মানুষটির জন্য তার ভবিষ্যতের বউয়ের জন্য। আদি কি সত্যিই ওই মেসেজ করে উপমার সাথে এমনভাবে কথা বলেছে নাকি অন্য কেউ।
উপমার মনে এমন হাজারো প্রশ্ন আসছে,বাবা কতো আশা করে তার কাছে এই বিয়েটা করার উপমার অনুমতি চাইছে। বাবার কাছে উপমা আজ অবধি যা চেয়েছে পেয়েছে, বাবাতো কোনোদিন কিছুই চায়নি তাহলে আজ প্রথম যখন হাসি মুখে বাবা এই বিয়েটি চেয়েছে তখন উপমা রাজি। সে করবে বিয়ে বাবার মুখের এই সুন্দর হাসিটি উদাও হতে দিবে না “না “শব্দটি বলে।
.
উপমা :হ্যাঁ পাপা, আমি রাজি………
তুমি ভাবলে কি করে তুমি যখন তোমার মেয়ের
কাছে এই একটি জিনিস চেয়েছো তা পাবেনা। আমি তো রাজিই (মুখে হাসি রেখে)
উপমার বাবা :আলহামদুলিল্লাহ ……..
আমার মাটা এই বিয়েতে রাজি………
উপমা :আমি জানি পাপা তোমারা আমাকে কোনো খারাপ লোকের কাছে বিয়ে দিবেনা। আমাকে কোনো মাতালের কাছে বিয়ে দিবেনা। তোমরা একটা তোমাদের পছন্দের বেস্ট বয়ের হাতে তুলে দিবে। যে আমায় খুব ভালোবাসবে, সুখী রাখবে, রাজরানীর মতো রাখবে।
উপমার মা :এই তো আমার লক্ষী মামুনি,
উপমা একটা হাসি দিয়ে চলে যায় নিজের রুমে…….
আদিরা :বাবা ওইতো ভাইয়া এসে গেছে…….
আদি :কেনো ডেকেছো বাবা………
আদির মা :তোকে অন্তরের বিয়ের সময় বললাম না বাসায় এসে তোর বিয়ে নিয়ে কথা হবে মনে আছে।
আদি :বিয়ে এখন, আমি মামুনি………
আদির বাবা :হইছে বিয়ের কথা শুনলে সবাই লজ্জা পায় পরে ঠিক হয়ে যায় আমাদের বেলায় ও ঠিক এরকমই হইছে।
আদির মা :আমি বলছিলাম না আমার একটা পছন্দ করা মেয়ের সাথে তোকে বিয়ে দিবো। মেয়ের মা বাবা এবং মেয়ে রাজি এখন তোর হ্যাঁ বলার পালা বাবু…………..
আদি কোথাকার কোন অচেনা অজানা মেয়ের সাথে বিয়ে করতে যাবে, সে তো উপমাকে ভালোবাসে।উপমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবে না সে, ও কী মা বাবাকে বলবে একটিবার উপমার কথা……………..
.
আদির বাবা :কী এতো ভাবছিস হ্যাঁ …………..
আদি :না বলছিলাম যে মেয়েকে তো আমি দেখিনি। ওকে একটা বার দেখে তারপর বলবো……….
আদির মা :মেয়েকে তুই আগেই দেখছিস বাবু,,
ও তোর পরিচিত ………….
আদি :আমার পরিচয় মানে তাকে চিনি আমি……
নাম কী তার?
আদির বাবা :উপমা খান রাফিক খানের একমাত্র মেয়ে। খান ইন্ড্রাস্টির মালিক রাফিক খান বাংলাদেশি…………….
আদি :উ…….প………..মা(বলার সময় গলাটা আটকে আসছিল)
আদিরা :তুই কী ভেবেছিস ভাইয়া তুই কেবল আসল কথা লুকিয়ে রাখবি। আজ তিনদিন ঠিক মতো খাচ্ছিস না ঘুমাচ্ছিস না সারাক্ষণ মোবাইলে কার ছবি দেখে হাসিস আবার কাঁদিস ও।
আদি :তুই এইসব জানিস কীভাবে…….
আদিরা :বাংলাদেশ থেকে ব্যাক করার আগে তুই রুমে জামাকাপড় গুচ্ছাছিলি, আমিও তোর কাছে যাচ্ছিলাম।
তখন অন্তর ভাইয়ার সাথে যা যা বলেছিস আমি সবই শুনেছি দরজার আড়ালে থেকে,,,,
তুই একটা গাদা একবারও আপুকে তোর ভালোবাসার কথা বলেছিস যে সে তোকে কিছু বলবে। ও যদি কিছুই বলতো তাহলে এই বিয়েতে হ্যাঁ বলতো না। আঙ্কেল আন্টি একবার বলেছে আপুকে তোদের বিয়ের কথা আপু হ্যাঁ বলে দিয়েছে।
.
আদির বাবা :আমাদের বললেও পারতি তুই ওকে ভালোবাসিস, আদিরা না বললে আজকে অন্য একটা মেয়েকে ঠিক করতে গেছিলাম।
আদির মা :বিয়ের কথা পাকা, আমরা অন্তরের বিয়ের মতো ওতোসব করতে পারবো না অনুষ্ঠান এখানেই মানে বৌভাত। আর বিয়ের দিন ওখানে আত্মীয় স্বজনদের ইনবাইট করবো। প্রথম দিন এন্গেজমেন্ট তার পরেরদিন বিয়ে ………………
আদি :ঠিক আছে তোমরা যা ভালো মনে করো,,
বলেই সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল।
তারপর ফোন দিলো অন্তরকে……….
আদি :হেলো………
নিঝুম :ভাইয়া কী খবর আপনার?
আদি :এইতো ভালো, তোমার?
নিঝুম :ভালোই।
আদি :অন্তর কোথায় ফোনটা একটু ওকে দাও ভাবি……….
নিঝুম অনন্তের হাতে ফোন দেয়,,,,
অন্তর :কিরে দোস্ত, কী খবর তোর?
আদি :এইতো ভালোই তোর,,,
অন্তর :হুম ভালোই।
আদি :শুননা মা বাবা উপমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে,,,
অন্তর :আরে মিষ্টি খাওয়া, তুই নিজের ভালোবাসার মানুষকে পাচ্ছিস………..
আল্লাহ তোর মনের ইচ্ছে পুরন করলো দেখলি,,
আদি খুশি হওয়ার কথা যে যায়গায় আজ যে এই বিয়েতে খুশি নয়, সে জানে উপমা মন থেকে এই বিয়ে মানেনি।ওর মা বাবার বলাতে রাজি, আর উপমা হঠাৎই বা তাকে ফোন নাম্বার, ফেসবুক দুটো থেকে ব্লক মারলো……..
.

অন্তর :তো কবে বিয়ে তোদের,,
আদি :তুই উপমার কাছে একটু যেতে পারবি…..
অন্তর :কেনো বল আমায়,,,,
খুব মিস করছিস নাকি তাকে, আর বিয়ের আগে এইসব হয় বুঝলি। এখন কোনো মতে মানিয়ে নে বিয়ের পর ওকে নিজের কাছেই পাবি……..
আদি :তোকে একটা বলি তুই আরেকটা কথায় যাচ্ছিস কেনো……
উপমা আমাকে বিনে কারনে ফেসবুক আর ফোন নাম্বার থেকে ব্লক দিলো কেনো। কী হয়েছে ওর ………
আমিতো ওর সাথে কোনো ফালতু কথা বলিনি,,,
অন্তর :হুম, নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। নাহলে ও তোকে ব্লক দেওয়ার মতো মানুষ না আমার সালি আমি চিনি তাকে……..
আর আমিই কারন যেনে তোকে ফোন করে বলে দিবো ঠিক আছে………
আদি :আচ্ছা,,,,
তারপর ফোন রেখে দিলো অন্তর,,,,
আদির ফোনে গেলারি থেকে উপমার একটা ছবি বের করলো, ছবিটা দেখেই নিজের অজান্তে হেসে দিলো।
আদি একটাদিন উপমার সাথে কথা না বললে পাগলের মতো হয়ে যায়। আর আজ সেই যায়গায় তারা তিনদিন কথা বলেনি…….
.
অন্তর ফোন করে কিছুক্ষণ পর জানালো উপমা কিছুই বলেনি সে বললো আমাদের ব্যাপার আমাদের মাঝেই থাক আপনাকে মাঝে নাক গলাতে হবে না জিজু ………
অন্তর উপমার এমন ব্যবহারে কষ্ট পেয়েও ছিলো,,
আদি পরিবারের সবাই দেশে আসে,,
উপমার সাথে আজ এঙ্গেজমেন্ট আদি তার মা বাবা ও আদিরাকে নিয়ে উপমাদের বাসায় আসে,,,,
আংটিটা যখন উপমার হাতে আদি পরালো উপমা অন্যদিকে মুখ করে ছিলো। আদিকে পড়ানোর সময় ও অন্যদিকে মুখ করে পড়াতে নিলে হাত থেকে আংটি পড়ে যায় উপমার।
সবার মনে ভয় ডুকে গেলো নিশ্চয়ই কোনো অঘটন ঘটবে তাদের এই বিয়েতে,,,
আদি ও ভয়ে উপমার দিকে তাকিয়ে রইলো, পড়ে উপমা আংটিটা আবার উঠিয়ে পরিয়ে দেয়।
সবাই জোরে হাত তালি দিলো উপমা উপরে চলে যায় পিছন পিছন আদিও যায়। সবাই আদিকে উপমার পিছনে যেতে দেখে বললো কী বউ পাগলা আপনার ছেলে চৌধুরী সাহেব।
.
ওনারা তো আর জানিনা তাদের মাঝে কী হয়েছে,,
আদি :এই উপমা দাড়াও……
উপমা পিছন না পিরেই সামনে জোরে জোরে হাটতে লাগলো, নিজের রুমের সামনে চলে এসে দরজাটা লাগাতে গেলে আদি ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ডুকে পরে,,,,
আদি :তোমাকে ডাকছি তুমি শুনতে পাওনি,
উপমা বিরক্তি নিয়ে,,,,
উপমা :কেনো ডেকেছেন বলুন,,,
আদি :তোমার হঠাৎ কী হলো এমন বিহেভ করছো কেনো আমার সাথে,
উপমা :তো কেমন ভাবে কথা বলবো শুনি,,,
যেমন লোক তেমন ভাবেই কথা বলা উচিত।
কথাটা আদির বুকে গিয়ে লাগে,,,,
আদি :ফেসবুকে ব্লক দিলে কেনো, কোনো দোষ করেছি আমি। আচ্ছা যদি দোষ করে থাকি তাহলে বলো কী করেছি আমি তারপর ও এমন করে থেকোনা।
উপমা :বিয়ে করতে আসছেন না বিয়ে করে চলে যান, কোনো বাধা বিপত্তি করার দরকার নেই।সময় হলে আমিই বলবো আপনার চরিত্র সম্পর্কে কথা। কতো ভালো মানুষ আপনি, সবার সাথে কী ভদ্রতা।
আদি কোনো কথাই বললো না চুপ করে দাড়িয়ে উপমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
উপমা একনজর আদির দিকে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে যায়,,,,
আদির মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কী বললো উপমা। আদির চরিত্র কোনদিয়ে খারাপ, কী করলো সে এমন কতো কথাই মাথায় আসছে আর যাচ্ছে।
.
কমিটি সেন্টারে আদি আর উপমার বিয়ে হয়ে গেলো। নিঝুমের অসহ্য লাগছে উপমার সাথে কথা বলতে, এই কদিন উপমার ব্যবহার দেখে তার মাথা গরম হয়ে গেছে। অন্তরের সাথেও ওইদিন কেমন ভাবে কথা বললো।
উপমা সবার কাছে বিদায় নিয়ে এলো নিঝুমের কাছে,,,,
উপমা :তোর ইচ্ছে পূরন হলো নারে। দু বেস্টির একই যায়গায় আজ বিয়ে হলো। ঠিক না?
নিঝুম :হুম ছিল ইচ্ছে ও পূরন হলো। এটাই পাওয়ার অনেক শখ ছিলো আর তা হয়েছে।
উপমা :ঠিক আছে, আমি আসি।
উপমা চলে গেল। আজ বাংলাদেশ থেকে সে থাইল্যান্ড যাচ্ছে।
বিয়ের পোশাকেই প্লেনে উঠলো,,,,
আদি আর উপমা পাশাপাশি বসলো কিন্তু একটুও কথা বলেনি।
থাইল্যান্ড এসে প্লেন থামলো। তাদের বাড়ি থেকে আগেই তাদের জন্য গাড়ি এসে গেছে।
বাসার সামনে গাড়ি থামলে আদি তারা হুরো করে নেমে চলে যায়। আদিরা উপমাকে নিয়ে ভেতরে ডুকলো। আদি যখন চলে গেলো তখন তার মা -বাবা পিছন থেকে অনেক ডেকেছে শুনেনি।
.
পরেরদিন রাতে তাদের বাসর রাত উপমাকে সাজিয়ে বিচানার উপর বসে রেখেছে। কতক্ষন ধরে উপমা বসে আছে কিন্তু আদি এখনো আসছে না।
বসে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে, রাত ১২টা বাজে আদি আসছে না দেখে উপমা বিচানা থেকে নেমে আদির পুরো রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখলো।বেশ সুন্দর করে গুছানো রুমটা, একটা ছেলের রুম এতোটা গুছানো কী করে থাকে।
আদি অনেক গুছালো একটা ছেলে রুমটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
উপমা আবার এসে বিচানায় শুয়ে পরে।
আদি এইদিনটি নিয়ে অনেক কিছু ভেবে রেখেছিল। আর আজ সেই কিছুই পূরন হলোনা। উপমা তাকে এতো ঘৃনা করে কেনো। উপমাকে একটা আংটি উপহার দিবে কবে থেকে বানিয়ে রেখেছিল এটা।
হাতে ড্রিংকসের বোতল অন্য হাতে সেই আংটিটি। ছাদের উপর দোলনাটার উপর বসে আংটির দিকে তাকিয়ে এক চুমুক দিলো বোতলে। তারপর আংটিটা সেরোয়ানির পকেটে ডুকিয়ে নিলো।
ভোরের আলো যখন ফুটলো তখন আদি জেগে যায়।হাতে বোতল এটা নিয়ে নিচে নামা যাবেনা। বাবা দেখলে বলবে তুই সারারাত ড্রিং করেছিস। তাই গার্ডেনের দিকে ছুড়ে পেলে দেয় বোতলটি। নিচে নেমে নিজের রুমে গেল।
দরজাটা খোলা রুমের এখনো ভেতরে ডুকলো আদি, দেখলো উপমা গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। বউ সাজে উপমাকে বেশ লাগে আদি কিছুসময় উপমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কী মায়াভরা মুখটি। পরে আদির মনে পড়ে গেলো সেদিনের উপমার কথাটি।
আদি আর না দাড়িয়ে ফ্রেশ হয়ে অফিসের জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে যায়।আদি যাওয়ার পর সবাই আস্তে আস্তে ঘুম থেকে উঠলো।
উপমা উঠে দেখে আদি এখনো নেই রুমে। তাহলে কী রাতে আসেনি আদি। সেও উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়।
.
নিচে নেমে দেখে আদির বাবা বাইরে থেকে জগিং করে এসেছে। আদির মা কাজের লোকদের সাথে রান্নার কাজে হেল্প করছে। আদিরা বোধহয় এখনো উঠেনি ঘুম থেকে।
আদির মা :গুড মর্নিং বউ মা,
উপমা :গুড মর্নিং,,
আদির মা :এতো সকাল উঠে এলে যে,,,
উপমা :আমার সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস আছে, তাই উঠে পরলাম।
উপমা রুমে আদিকে দেখেনি তাই ভাবলো নিচে আছে হয়তো, কিন্তু নেই সে। একবার জিজ্ঞেস করবে আদির মাকে যে আদি কোথায় পরে আবার ভাবলো জিজ্ঞেস করলে আবার কতো প্রশ্ন হবে তাই আর জিজ্ঞেস করেনি।
আদির মা :আদি এখনো ঘুমাচ্ছে মনে হয় বউমা …..
উপমা কি বলবে ভেবে পায়না,
উপমা :ওনি কোথায় যেনো বের হলো আমাকে বলে যায়নি। শুধু বললো আমি একটা কাজে যাচ্ছি তুমি মামুনি আর বাবাকে বলে দিও…….
আদির মা :ও আচ্ছা ঠিক আছে।
তুমি বসো আমি তোমার জন্য নাস্তা আনছি,,,,
উপমা মিথ্যা বললো তার নতুন জীবন শুরুতেই। থাক তাও বাচা গেল, ওদের মাঝে কী হইছে তা না হলে জানাজানি হয়ে যেতো।
রাতে আদি আসলো বাসায় আসলো, দেখলো সবাই আড্ডা দিচ্ছে তার মা বাবা, আদিরা, উপমা।
উপমার দিকে পিরেও একনজর তাকায়নি আদি সোজা উপরে চলে গেল।
আদির মা :আমি খাবার বারছি ওর জন্য তুমি গিয়ে ডেকে আনো,,,,
উপমা :জ্বি, মা,,,,
উপমা উপরে গেলো রুমে ……..
আদি তখন চেন্জ করছিল,,,
খালি গায়ে ছিলো আলমারিতে জামা খুজছিল,,,,,,
.
উপমা :এই যে শুনছেন,,
আদি কোনো উওর দিলো না পিছনে পিরে একবার তাকিয়ে আবার জামা খুজতে লাগলো…
উপমা :আপনাকে মা নিচে খেতে ডাকছে,,
আদি :………(নিশ্চুপ)
উপমা গিয়ে আলমারীর ভেতর থেকে একটা জামা বের করে দিলো,,,,
উপমা :নিন পড়ুন,,,
আর কার সাথে রাগ দেখাচ্ছেন আপনি,,
আদি আবার কোনো কথা না বলেই লেপটপ নিয়ে সোফায় বসে পড়লো,,,,
উপমা :কথা বলবেন না আমার সাথে,,,
কী হইছে আপনার শুনি কাল রাতে ও আপনার দেখা মিলেনি,,
সারাদিন কোথায় ছিলেন খেয়েছেন আপনি,,,
আদি :এতো পকপক করছো কেনো আমার খিদে নেই আমি খাবো না। তুমি গিয়ে খেয়ে নেও ……….
বলেই লেপটপে কিছু খুজতে লাগলো……
উপমা :আমি পকপক আচ্ছা ঠিক আছে যান আমি পকপক করছি। তাও খেতে চলুন …..
আদি :এই মেয়ে তোমায় কতোবার বলবো যে আমি খাবো না ……
উপমা :আচ্ছা ঠিক আছে …….
উপমা নিচে চলে গেল,,,
আদি :এই নারী জাতী আর ঠিক হলোনা কানের কাছে এসে শুধু শুধু ঘ্যান ঘ্যান করে জাস্ট অসহ্য লাগে…….
উপমা নিচে গিয়ে,,
উপমা :মা খাবারটা আমার হাতে দিন আমি ওনাকে দিয়ে আসি, ওনি কাজ করছে কিছু অফিসের তাই নিচে আসতে পারবে না।
আদির মা :আচ্ছা নাও ধরো………
খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে চললো আদির রুমে,,
আদির মা :দেখলি আদিরা স্বামীর জন্য কতো আদর তোর ভাবির…….
আদিরা :হুম, এককালে তোমার ও ছিলো। বিয়ের পর আমার ও হবে আমার স্বামীর জন্য 
আদির মা :থাপ্পড় চিনিস এই বয়সে মেয়ে কতো পাকনা হয়ে গেছে স্বামীকে খাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ফাজিল 
আদিরা :আমি বাবার কাছে বলবো কিউটি ভাবির কাছে বলবো তুমি আমাকে থাপ্পড় মারবে এএএ……
আদির মা :যা গিয়ে বলে আয়……..
আদিরা নেকা কান্না করতে করতে তার বাবার কাছে চলে গেলো।
উপমা :এই নিন খান আপনার জন্য খাবার এনেছি,,,,,
আদি :কতোবার বলবো যে আমি খাবো না! কাল আমার আর্জেন্ট একটা মিটিং আছে কাজ করতে দাও শান্তিতে ……….
উপমা :আচ্ছা তাহলে আমি খাইয়ে দেই,,,
কাপড়ের আচলটা কোমড়ে গুজে এক হাতে প্লেট অন্য হাত দিয়ে মেখে,,,,
উপমা :নিন হা করুন ……….
আদি রাগী চোখে উপমার দিকে তাকালো, তার কাজ করার সময় যদি কেউ ডিস্টার্ব করে তার প্রচুর পরিমাণে রাগ উঠে ……….
উপমা :এই শুনেন আমি আপনার রাগকে না ভয় পাই না হা করবেন কিনা সেটা বলুন নাহলে আমি ও খাওয়াতে জানি বুঝলেন ……
আদি :ও আচ্ছা দেখি আমি না চাইলে তুমি কীভাবে খাওয়াতে পারো……..
উপমা :ওয়েট দেখাচ্ছি,,,,
আপনার বিয়ে করা বউ আমি গায়ে পরলে সমস্যা নেই তো
আদি :আমার গায়ে পরলে আমি কিন্তু ………
উপমা প্লেটটা হাত থেকে টেবিলের উপর রেখে আদির সামনে গিয়ে ঝুকে আদির মুখ এক হাত দিয়ে চেপে ধরলো,,,
জোরে চেপে ধরায় আদি ব্যথা পেয়ে ছাড়ো বলতে নিলেই উপমা এক লোকমা আদির মুখে ডুকিয়ে দেয়……….
উপমা :কী পারলাম তো……….
আদি :আজ প্রথম কোনো বউ আমায় খাইয়ে দিলো………….
উপমা :হোয়াট আপনি আগেও বিয়ে করছেন 
আদি :এমা না না আমি আবার বিয়ে করতে যাবো কেনো, বিয়ে আমি এক জঙ্গলী মেয়েকে করেছি আজ যে খাইয়ে দিলো,,,,
উপমার খাওয়ানো শেষ হলে,,
আদি :তুমি খেয়েছো……
উপমা :খাবো নাতো কী করবো আপনার জন্য বসে বসে কী অপেক্ষা করবো নাকি,,,
আমার খিদে পাইছে আমি খেয়ে নিয়েছি কারো জন্য অপেক্ষা করার টাইম নেই আমার …..
আদি :বাপরে …….
এন্গেজমেন্টের দিন আমার সাথে এতো খারাপ বিহেভ করলে আজ হঠাৎ এতো ভালো হলে কীভাবে আর প্লিজ আমার দোষটা কী বলো……
.
উপমা মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো,,
ও কী আসলেই এইসব কিছু জানেনা, জানলে কী এতোবার বলতো আমার দোষ কী আমার দোষ কী।ক্ষমা চাইতো নিশ্চয়ই এইসব বাজে মেসেজ গুলো করার জন্য,,
আর আমার মনে হয় ওর মোবাইল ওই সময় অন্য কেউ ধরেছে কে ধরতে পারে। এখানে কাউকে চিনিও না আমি। আদিকে দেখলে ও বুঝা যায় ও এইসব কথা আমায় বলবে,,,
আদি :হেলো কী ভাবছো,,
উপমা ডেসিনটেবিলের উপর থেকে মোবাইলটা নিয়ে আদির সামনে মোবাইলটা ধরে,,,
উপমা :এইসব কে করেছে বলেন আমায়,,
আদি ফোনটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো……
পাস্ট আদির দেওয়া মেসেজ …….
—হেই বেবি,,
—হোয়াট ইজ দিস এটা কি নামে ডাকছেন আমায়,,,
—তো কী নামে ডাকবো তোমায়, সুইটহার্ট, সেক্সি, বেবিডল, সানিলিউন এইসব নামে ডাকবো। আচ্ছা আজ থেকে এইসবই বলে ডাকবো …………
—
—কুল বেবি কুল এতো রেগে যাচ্ছো কেন,,
জানো আজ তোমার প্রপোইল দেখলাম কী সেক্সি সেক্সি পিক ছাড়ো তুমি,, পিংক কালারের শার্ট পড়ছো তুমি ওই ছবিটায় তোমার সাদা পেটটা দেখা যাচ্ছিল জানো। মন চাইছে আমার একটা কামুড় দেই ………..
—মাইন্ড ইউর লেন্গুয়েজ আদি চৌধুরী।
এতো খারাপ আপনি আগে জানতাম না প্রতিটা মেয়ের সাথে আপনি এইভাবে কথা বলেন তাই না।
—এইভাবে শুধু কথা নয় সুইটহার্ট রাতে হোটেলে গিয়ে মেয়েদের সাথে সেক্স করি।
—
আমার কাছে বললেন আজ অবধি একটা মেয়ের সাথে ঘুরতে যাননি আর এখন এইসব ছিঃছিঃ ……………
আপনি এতো খারাপ লোক এতো অভদ্র, নোংরা লোক। আজ জানা হয়ে গেছে আমার, নেক্সট টাইম আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন না। করবেন কীভাবে আমি তো আজই আপনাকে ব্লক লিস্টে রাখবো এমন লোকদের জন্য ব্লক লিস্টই বেটার …………
—ইউ লিসেন ব্লক দেওয়ার আগে চিন্তা করো বেবি আইডি হ্যাক হবে ………..
—আরে আপনি শুনুন আপনার মতো খারাপ লোককে না জেলে ডুকানো উচিত। মেয়েদের সম্মান করতে যানেনা আপনার ঘরে কী মা -বোন নেই ওদের কথা চিন্তা করুন ওদের যদি কেউ এভাবে কথা বলে তখন আপনার কেমন লাগবে…………
ব্লা ব্লা আরো অনেক কিছু বলে ব্লক দিলো উপমা।
ব্লক দেওয়ার সময় আদিকে একটু কষ্ট ও হয়েছিল আবিরের যায়গায় আদির নামটি বসিয়েছিল তার
#মনের_মাঝে
আর সেই আদিকে আজ ব্লক দিলো। চোখ দিয়ে এক ফোটা পানিও পরেছিল।
আদি :বিশ্বাস করো আমি এই মেসেজগুলো করিনি কে করেছে এটা আমি নিজেও জানিনা।
উপমা :আপনার মোবাইল আপনার একাউন্ট আর আপনি জানেন না।
আদি :আমার মোবাইলে তো লক করা থাকে তাহলে এইসব,,,,
আর আমার মোবাইল চেক করে দেখো এইগুলোর একটা মেসেজ ও নেই।
উপমা :হয়তো ডিলেট দিয়েছেন,,,
আদি আর কোনো কথাই বললো না উপমার কাছে তার চরিত্র খারাপ করলো কে,,,
তাকে খুজেঁ বের করতেই হবে ………
কিছু মনে করে আদি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
মোবাইলটা সোফায় মেলা দিয়ে রেখে গেলো যেনো কেউ তাকে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করতে না পারে।
.
উপমা বসে বসে আদির জন্য অপেক্ষা করছে আর ভাবছে এইগুলো না বললেও পারতো আজ যদি আদি নিজের কোনো ক্ষতি করে দেয়। না না এইসব করলে উপমার কী হবে আবির ছেড়ে চলে গেছে এখন শুরু তার জীবনে আছে ওর কিছু হয়ে গেলে ও নিজেকে রাখবে কীভাবে।
ফোন দিতে গেলেই দেখলো মোবাইল তো নেয়নি ও।
এক সময় উপমা ঘুমিয়ে পড়ে।
ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নিচে যেয়ে কাজের বুয়াদের সাথে সকালের নাস্তা তৈরিতে হেল্প করছে।
উপমা ভেবেছে আদি হয়তো কালকের মতো আজও সকালে অফিসে চলে গেছে তাই আর খোঁজ লাগায়নি। কিন্তু আদি কাল রাত থেকে এখনো বাড়িতে পেরেনি এটা ও জানেনা। সবার সাথে নাস্তা করে উপরে যায়, ভাবছে আজ তিনদিন হলো এই বাড়িতে কিন্তু আদির রুম মা বাবার আর আদিরার রুম ইত্যাদি ছাড়া আর কিছুই দেখা হয়নি। তাই ছাদে গেলো।
ছাদে বোধহয় কেউ আশে না বেশি দেখলেই বোঝা যায়। কাজের লোকরা এসে সাপ করে যায় দু একদিন পর …………..
ছাদের দরজা খুলে ভেতরে আসলো ছাড়পাশ ঘুরে দেখলো। অনেক সুন্দর তো ছাদটা। ছাদ থেকে নেমে রুমগুলো দেখতে গেলো,,,
কতো বড় বড় রুমগুলো বাড়িটাও তো কতোবড়,, বলতে হয় চৌধুরী বাড়ি এটা। সব রুমগুলো দেখলো, তারপর মোড়ঘুরে চলে যেতে নিলেই চোখ পড়ে একটা রুমের উপর ………….
ওটার সামনে গেলো দরজায় তালা আটকানো পাশে দেওয়ালে চাবি আটকানো। চাবি নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ডুকলো,,,
উপমাতো অবাক ওর এতো ছবি তাও জলরং দিয়ে আকা……….
একটা টেবিলের উপর ডায়রী খুললো তা উপমাকে নিয়ে লেখা কতো কী। আর পাশেই আরেকটা ডায়রী তাও উপমাদের বাড়িতে যেদিন প্রথম আদি গেলো ওইদিন যেই ডায়রিটা পড়েছে সেটা। উপমার পছন্দের নেবি -ব্লু কেপটা, কিন্তু এটা এখানে কী করে নিধি বলেছিল এটা হারিয়ে গেছে তাহলে।
নিশ্চয়ই নিধিকে আদি ঘুষ খাইয়ে কেপটা নিয়েছে ………
আদিকে একবার হাতের কাছে পাই তারপর ঘুষ খাওয়ানো দেখাবো।
তারপর অন্যপাশের দেওয়ালে উপমার কালো শাড়ি পড়া ছবিটা, আল্লাহ নিশ্চয়ই বেটা এইসব চুরি করেছে।
একটা বার হাতের কাছে আদিকে পাক তারপর মজা বুঝাবে। আর উপমাকে এতো ভালোবাসে বলেনি কেনো।
উপমা তো আদির বলার অপেক্ষায় ছিলো কিন্তু দাড়া বেটা তুই এতো লাজুক আমি বের করছি।
তারপর নিচ থেকে উপমার ডাক পরে আদিরা ডাক দিলো ………..
উপমা শুনে তারাতারি দরজা আটকিয়ে নিচে গেলো।
উপমা :হে বলো আদিরা,,
আদিরা :তোমায় রাইজান ভাইয়া ডাকছে কি জরুরি কথা বলবে,,,
উপমা :আমায় আবার কি বলবে আর ওনিই বা কে চিনলাম না তো…..,,
.
আদিরা :আদি ভাইয়ার বন্ধু এখানের তাই তুমি চিনোনা। আর আমি জানিনা কী বলবে জিজ্ঞেস করলাম আমায় বলো বললো না। বললো শুধু তোমাকেই বলবে যাও শুনে আসো …..
উপমা গেলো যেতে যেতে ভাবতে লাগলো আমায় আবার কী বলবে,,,
দূর সেসব ওনার কাছে শুনলেই তো বোঝা যাবে …..
.
উপমা :আমায় খুঁজছিলেন আপনি?
রাইজান :হুম আপনায় খুজছি আমি,,,,
উপমা :হ্যাঁ বলুন কী বলবেন,,
রাইজান :আদি আমার বন্ধু, অনেক দিন ধরেই বন্ধুত্ব। আমাদের সাথেনা কোনদিন খারাপ ব্যবহার করেনি।
আর আপনি ওকে ভুল বুঝবেন না ও কিন্তু ওইদিন মেসেজগুলো করেনি।
উপমা :তাহলে কে করেছে………
রাইজান :ওইদিন রাতে মেসেজগুলো করেছি আমি, আমার ফোনে ব্যালেন্স ছিলো না তাই ওর ফোনটা নিয়েছিলাম কথা বলতে! মোবাইল আমার কাছে ছিলো আমিই সব করি ওর কোনো দোষ নেই।
উপমা :এতো খারাপ হোন কী করে আপনি,,
আপনার ঘরে ও তো মা -বোন আছে তাদের কথা চিন্তা করবেন না আপনি,,, আজ আপনার কারনে আমি আমার স্বামীকে ভুল বুঝেছি।
রাইজান :সরি ভাবি আমি তার জন্য খুবই দুঃখীত। কিন্তু ভাবি আমি আগের তুলনায় এখন অনেক ভালো হয়ে গেছি।
এখন আর এইসব করিনা ………..
উপমা :এইতো গুড,,,,
আর খারাপ কাজ করবেন না এইসব ভালো না।
রাইজান :আদি কী বাসায় আছে?
উপমা :নাতো অফিসে গেছে ও………
.
রাইজান :ও অফিসে যায়নি,
আমি গিয়েছিলাম তার অফিসে ওর পিএ বললো আসেনি।
উপমা :ওতো বাসায় ও নেই তাহলে কোথায় গেলো। কাল রাতে বাড়ি থেকে বের হলো ……..
রাইজান :কালরাতে আমার কাছে এসেছিলো তারপর তো ও চলেই আসে,,,,
তাহলে কোথায় যেতে পারে ও,,,
অন্তর :কে কোথায় যেতে পারে শুনি,,
নিঝুম :ওরে আমার বেস্টিটারে কেমন আছিস রে বাহ শাড়ি ও পরিস তুই এখন দারুণ লাগছে কিন্তু শাড়িতে এখন থেকে শাড়ি পরবি।
উপমা :হ্যাঁ আমি ভালো আছি, তুই?
নিঝুম :এইতো ভালোই।
রাইজান :হেই ব্রো……….
হাউ আই ইউ……..(অন্তরকে জরিয়ে ধরে)
অন্তর :আম ফাইন ইউ……….
রাইজান :ফাইন।
নিঝুম :কি হয়েছে তোর মন খারাপ করে আছিস কেনো………….
অন্তর :আমার শালি সাহেবা এমন করে আছে কেনো শুনি,,,,
আর আমার ভাই কোথায় আদি………
রাইজান :কাল রাতে আমার কাছে এসেছিলো। তারপর আর বাসায় আসেনি ভাবি জানেনা আদি ইজ হোয়ার………….
অন্তর :হোয়াট,,,,
আদি কোথায় গেছে জানিস না,
ও কেনো বাসা থেকে বের হয়েছে আর ফোনতো করতে পারো উপমা,,,,
উপমা :ফোন রুমে রেখে গেছে নিয়ে যায়নি ……….
.
নিঝুম :তোর সাথে কোনো ঝগড়া হইছে রে উপমা,
উপমা :হুম, ঝগড়া তো আমি করেছি ওনার সাথে শুধু শুধু (মন খারাপ করে)
নিঝুম :তুই শুধু শুধু কেনো ঝগড়া করিস ওর সাথে কতো ভালোবাসে ভাইয়া তোকে জানিস।
উপমা :তুই এইসব জানিস কী করে…………….
অন্তর :আমার কাছে সবই বলে ও বোন, কতো ভালোবাসেও তোমায় জানো। থাইল্যান্ড এসে তোমায় না দেখে পাগলের মতো হয়ে গেছিলো আর আমি কয়দিন আগে যে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম শুধু বলতো তোমার ছবি তুলে দিতাম। তুমি কী করো, আবার বলে জানিস উপমার হাসিটা না অনেক সুন্দর, চেহারাটায় অনেক মায়ভরা। ওর চোখের দিকে তাকালে ডুবে যেতে মন চায় চোখের সমুদ্রে……………..
আমার বন্ধুটা না তোমার জন্য পাগল তাই এতো পাগলামি করে।
উপমা :আজ ওর পার্সোনাল রুমটায় অনেক কিছুই দেখলাম আমায় নিয়ে। কিন্তু, ও বলেনি কেনো?
অন্তর :বলেনি কেননা তুমি যদি রিজেক্ট করে দাও তার প্রপোজ। তাহলে কষ্টে ও না মরে যেত। ও রিজেক্ট করার ভয়ে তোমায় প্রপোজ করেনি। তোমায় শুধুই দেখে গেছে। কতোবার বললাম একবার বল ওকে বলতো সময় হলেই বলবো। এই শুধু বলতো।
.
উপমা :এখন কোথায় খুঁজবো আমি ওকে, কোথায় গেছে কি করছে, কিছুই তো জানিনা,,,
অন্তর :আমার মনে পরেছে আদি বলেছিল একবার যখন তার মন খারাপ থাকে তখন সে এই যায়গায় আসে। আমাকে একবার নিয়েও গিয়েছিল ……..
উপমা :কো…..কোথায় সেই যায়গা আমায় নিয়ে চলো জিজু ……….
অন্তর :আচ্ছা চলো……..
নিঝুম, অন্তর, উপমা তিনজন চললো সেই যায়গায় কিছুটা দূর এসে গাড়িটা থাকলো।
অন্তর :যাও এই সোজা বরাবর ……….
উপমা :তোমরাও আমার সাথেই চলো……
নিঝুম :আমাদের কাবাব মে হাড্ডি হওয়ার দরকার নেই, আপনার স্বামী সেটা আপনি বুঝবেন বুঝাবেন আমার গিয়ে কী করবো ……
উপমা আর কথা না বলে সামনে দিকে এগলো………
নিঝুম আর অন্তর ও কিছুটা সামনে এসে দাড়ালো যেনো দেখতে পায় উপমা যাচ্ছে কি না,,,,
উপমা যেতে যেতে এসেই পড়লো,,,,
সমুদ্রের কাছেই খোলা মেলা একটা যায়গা যে কেউ আসলেই মন ভালো হয়ে যাবে, কেউ একজন একটা বেঞ্চে বসে আছে পা উপরে উঠিয়ে। সমুদ্রের ঢেউগুলো একবার আসছে আবার যাচ্ছে সেগুলো দেখছে।
উপমা পিছনে দাড়িয়ে জামা দেখেই চিনতে পারলো এটাই আদি একটুও ভয় করছে তার এখানে একা বসে থাকতে। ওহ ছেলেরা তো আবার সাহসী ভয় করবে কেনো।
উপমা দু হাত পিছনে রেখে আস্তে আস্তে সামনে যেতে যেতে,,,,
উপমা :এই যে হিরো,,,
আদি কারো আওয়াজ শুনতে পেলো,,,,
উপমা :এই যে ড্রামা হিরো কী করছেন এখানে, আপনার বাসা কোথায়। আর থাকার যায়গা নেই তাই এখানে পড়ে আছেন,
আমাকে বললেও পারতেন আমার স্বামীর বাড়িতে একটা থাকার ব্যবস্থা করে দিতাম আপনাকে।
আদি শুনেও না শুনার বান করে সামনে তাকিয়ে আছে,,
উপমা আদির সামনে গিয়ে দাড়ালো,,,
উপমার এক হাত আদির গালে আরেক হাত চুলের উপর রেখে…….
উপমা :আহারে রাতে ঘুমাননি না তাই চেহারার এই অবস্থা আপনার হইছে আর চুলগুলো এতো এলোমেলো কেনো শুনি। আপনি জানেন না আপনার চুলগুলো আমার কতো ক্রাশ ………..
আদি :………..(নিশ্চুপ)
উপমা আদির দু গালে হাত রেখে,,,
উপমা :গাল দুটো বাচ্চাদের মতো কেমন ফুলিয়ে রেখেছে দেখো,
গাল ফুলিয়ে রেখোনা বাবু না হলে পরে বেলুনের মতো তোমায় উড়িয়ে নিয়ে যাবে আকাশে ……………………..
উপমা বাচ্চাদের মতো আদির কপালে একটা চুমু দিলো,
ওইদিন নিঝুম আর অন্তর উপমার কাহীনি দেখে হাসতে হাসতে পিট,,
নিঝুম :এই শুনো আজ রাতে ওদের জন্য একটা প্লেন করে রেখেছি,
অন্তর :কী শুনি সেই প্লেন?
নিঝুম :এখন এখান থেকে চলো যেতে যেতে বলছি,
অন্তর :আচ্ছা চলো,
.
আদি :কেনো এসেছো এখানে?
উপমা :আমার স্বামীর কাছে এসেছি আপনার কোনো সমস্যা আছে তাতে,
আদি :নাহ। আমার আবার কিসের সমস্যা থাকতে যাবে।
উপমা :সরি (এক কানে ধরে)
আদি :কেনো?
উপমা :ভুল বুঝার জন্য,,,,
আদি :ইটস ওকে যে কেউই এমন করতো এইসব মেসেজ দেখলে,,,
উপমা :বাসায় চলুন,
আদি :হ্যাঁ চলো, খুব খিদে পাইছে,,,,
দুজনে গাড়িতে উঠে বসলে,,
বাসা থেকে ফোন আসলো আজ রাহুলদের বাসায় কোনো অনুষ্ঠান আছে তাই মা, বাবা, আর আদিরা চলে গেছে ওরাও যেনো রেডি হয়ে চলে আসে।
আদি আর উপমা বাসায় না যেয়ে সোজা রেস্টুরেন্টে ডুকে উপমাই আদিকে খাইয়ে দিয়েছিল। মার্কেটে যায় শপিং করে সারা শপিংমল উপমা আদির হাত ধরেই হেঁটেছিলো কিছুই চিনেনা যদি হারিয়ে যায় সেই ভয়ে।
সারাদিন বাইরে ছিলো আদি আর উপমা,
রাতে বাসায় পিরে। মা বাবা আর আদিরাতো আজ বাসায় আসবেই না, আদি তার বাবাকে পরে ফোন করে জানিয়ে দিলো তার যাবেনা।
বাসায় আসলেই,,,
উপমা :আরে তুই আর জিজু বাসায়,
ভালোই করেছিস আড্ডায় বসবো।
নিঝুম :আমার সাথে আসুন আপনি, পরে সব হবে।
অন্তর :তুই ও আমার সাথে আয়,,
দুজন দুজনকে নিয়ে যায়। উপমার চোখে কালো ফিতা বাদা ছিলো আদির ও সেম। উপমাকে নেবি -ব্লু কালারের মধ্যে একটা শাড়ি পড়লো চুল গুলো খোলা ছিলো সামনে বেনি করে কানের কাছে গুজানো। কানে ঝুমকো গলায় ডায়মন্ড নেকলেস, হাতে চুরি।
আদিকে নেবি -ব্লু স্যুট পড়ালো অন্তর তারপর চোখ বেধেঁ রুমে ডুকালো। আর বাইরে থেকে দরজা আটকে নিঝুম অন্তর চলে গেলো।
উপমা চোখের বাধন অনেক আগেই খুলে পুরো রুম দেখে নিলো, আদি চোখের বাধন খুললো দেখলো মোমবাতি আর গোলাপ ফুল দিয়ে রুমটা সাজানো। বিচানায় গোলাপের পাপড়ী দিয়ে লাভ আকা।
তারপর সামনে চোখ পরতেই দেখে আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে উপমা তার ভালোবাসার মানুষ।
আদি হাত থেকে ফিতাটা পেলে উপমার দিকে এগোলো। দুজনেই বুঝলো নিঝুম আর অন্তর তাদের এক করার জন্য আজ তাদের সাজিয়েছে যেমন আদি আর উপমা তাদের জন্য করেছে।
.
আদি নিজেকে সামলাতে পারেনি উপমাকে আজ এতো সুন্দর ভাবে দেখে। আদি যেয়েই উপমাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে। উপমা শিহরিয়ে উঠে আদির জরিয়ে ধরায়। আজ আদির যা খুশি সব করেতে দিবে বাদা দিবেনা উপমা।
আদি উপমার ঘাড়ে নাক দিয়ে ঘষতে থাকে উপমা ভয়ে আদির হাত দুটো চেপে ধরে।
আদি :ভালোবাসি, খুব ভালোবাসি উপমা তোমায়। আই লাভ ইউ উপমা।
উপমা :লাভ ইউ ২ড্রামা হিরো।
আদির দিকে পিরে দাড়ালো।
উপমা এক হাত দিয়ে আদির গলার পিছনে জরিয়ে ধরে অন্য হাত দিয়ে নাকটা ধরে টেনে,,,,
উপমা :ঘুষখোর, চোর একটা,,
আদি :এইসব হলাম আমি কবে……
উপমা :হলেন কবে, নিধিকে ঘুষ খাইয়ে আমার শখের ক্যাপটা নিয়ে আসছেন তারপর আমার বাড়ি থেকে আমার ছবি চুরি করেছেন। এইসব করলে কী বলবো মনচোর নাকি ঘুষখোর চোর কোনটা বলবো।
আদি :”মনচোর “বলো না। তুমি আমার পার্সোনাল ঘরটায় ডুকে এইসব দেখছো তাই না।
উপমা :ইয়াহ ………..
আদি :তাহলে তো তুমি আরেক চোর,,,,
উপমা :হ্যাঁ আর আপনি চোরের বর হিহিহি …….
আদি :এইদিকে পিরো ……
উপমা :কেনো?
আদি :অনেকদিন ধরে একটা জিনিসের উপর আমার নেশা আছে তা টেস্ট করে দেখতাম।
উপমা :ওমা আপনি নেশা করেন,,,,
আবার টেস্ট ও করবেন,,,,
আদি উপমার মুখটা উপরে তুলে ধরেই আবার হাতটা উপরে পিঠে রেখে উপমার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দিলো। আদি কিছুক্ষণ পর ছাড়লে দুজনে কপালে কপাল রেখে বড় বড় নিশ্বাস নিতে থাকে ……….
আদি :এতো মিষ্টি কেনো,,,,
উপমা : যাহ লুচু কোথাকার ……….
আদি :আমি লুচু না দাড়াও এখনই দেখাচ্ছি কী পরিমাণ হতে পারি………
আর রোজ রোজ না আমার অত্যাচার সহ্য করতে হবে,,,,,
উপমা লজ্জায় আদির বুকে মুখ লুকালো,,,,
আদি :এই #হৃদয়ের_মাঝখানে শুধু তোমার জন্যই যায়গায় আছে থাকার জন্য, মাথা রাখার জন্য। না বুকটা আর কারো না। আর #হৃদয়ের_মাঝখানে শুধু তোমার নামই লেখা আর কারোর জন্য না।
তারপর আদি উপমাকে কোলে তুলে বিচানায় নিয়ে যায়।
ওদের জীবনের আজ নতুন অধ্যায় শুরু, ভুল বুঝাবুঝি শেষে দুজন দুজনাকে পেলো। আর যেনো কোনো বিপদ কোনো দুঃখের সম্মুখীন তারা হয় সবসময় ভালো থাকে এটাই আশা করি। সামনের মাসে রাহুল আর নীলার বিয়েটাও যেনো ঠিকঠাক মতো হয়। সবাই সবার ভালোবাসার মানুষকে পায়।
.

 

 

 

....
👁 199