ইসরাত বারান্দায় দাঁড়াতেই নিচ থেকে নীলা ডাক দিল।
"এ ইসরাত্রি কি করিস?"
" কিছু নারে এমনি।"
"ওহ আচ্ছা আমি ঘুরতে যাচ্ছি।"
"ওহ যা উনি মনে হয় ওয়েট করছেন তারাতারি যা।আর হেটে কেন যাস?"
"এমনি থাক যাই।"
ইসরাতের মনে হলো একটু ঘুরে আসতে।রিফাহর কাছে গেল।রিফাহকে বলল,"এই রিফাহ নে ঘুরতে যাই।"
"ওহ আমি তো খালার বাড়ি যাবো।চল তুইও চল।"
"আমি যাবো?"
"হ্যা চল না কিছু হবে না।আহা চল ভালো লাগবে ।"
"কোথায় কতদূর?"
"বেশি দূর না।চল না যাই প্লিজ।"
ইসরাত অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,"কতদিন থাকবি?"
"এইতো দুইতিনদিন।"
ইসরাত অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,"কি দুই তিনদিন!!মজা করছিস নাতো।"
"মজা না।চল ভালো লাগবে।আর খালাকেও বলেছি তোর কথা যে তুইও যাবি।"
"তুই আমার কথাও বলেছিস?"
"হ্যা এখন চল নইলে ওরা মন খারাপ করবে।"
"ঠিক আছে।"
ইসরাত কাপড় গোছাতে লাগলো।যদিও ইসরাতের যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না।বিকেলে রিফাহ খালার বাসায় গেল।
ইসরাত বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখছে।ইসরাত অন্যদিকে তাকিয়ে হাটছে।রনির সাথে ধাক্কা খেল।রনি ফোন টিপতে টিপতে আসছিল।ধাক্কা লেগে ফোন হাত থেকে পরে গেল।রনি এতক্ষন ইসরাতের দিকে তাকাতেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো।ইসরাতের এটা ভালো লাগলো না।ইসরাত বলল,"একটু সাবধানে চলাফেরা করেন।"
"কে তুমি?"
"আমি ইসরাত।রিফার ব্রেস্ট ফ্রেন্ড।"
"ওহ আচ্ছা।আমি রনি।"
রনি নিজের পরিচয় দিয়ে বাইরে গেল।রিফাহ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।কাছে এসে বলল,"আমার রনি ভাই।দুষ্টু রনি ভাই।"
"ওহ।"
"হুমম চল ছাদে যাই।"
"চল।"
রিফাহ আয়শাকে ডাক ছিল ছাদে যাওয়ার জন্য।আয়শা রনির ছোট বোন। তারা তিনজনের গল্প করতে লাগলো আর চা খেতে থাকলো।
রনি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।কিন্তু কেন যেন একটা চেহারায় চোখের সামনে ভাসছে।
শান্ত বলল,"কিরে রনি কিছু হয়েছে?"
রনি বলল,"নারে কিছু হয়নি।"
নীরব বললো,"হয়েছে রে কিছু একটা।আমরা তোর ফ্রেন্ড বল কি হয়েছে।"
রনি বলল,"জানিস একটা মেয়ে আমার খালাতো বোনের সাথে বেড়াতে এসেছে
রনির কথা শেষ না হতেই শান্ত বলে উঠলো,"ওই মেয়েটা তাহলে আমাদের ভাবি।"
রনি বলল,"কিযে বলিস।একটু ভালো লেগেছে তাই বলে কি।"
নীরব বলল,"আরে ধুর ভালো লেগেছে একদিনে কি ভালবাসা হয় বোকা ছেলে।"
শান্ত বলল,"ঠিকই তো একদিন কি ভালোবাসা হবে।তবে পিছে লেগেই থাকিস।"
রনি বলল,"ধুর তোরাও না সবসময়।"
রনি এজটু চুপ থেকে বললো,"তোরা থাক আমি যাই।"
রনি বাসায় আসলো।ফোনের দিকে তাকিয়ে নিজের ঘরে যেতে লাগলো।ইসরাত ছাদে যাচ্ছিল।রনির সাথে ধাক্কা খেল।ইসরাত বলল,"এই আপনি কি শুধু ধাক্কায় খান।"
"না,শুধু তোমার সাথেই ধাক্কা খাই।আর কিছুর সাথে ধাক্কা লাগে না।"
"বড়ই আচার্য ব্যাপার।"
ইসরাত ছাদে গেল।আয়শা আর রিফাহ গল্প করছে।
আয়শা বললো,"তোমার বাড়ি কোথায় আপু?"
ইসরাত বললো,"বগুড়ায়।"
"ওহ আচ্ছা।"
"হুমম।"
আয়শা নীচে গেল কফি আনতে।কিছুক্ষন পর কফি আনলো।
রাতে রিফাহ রনির ঘরে ঢুকলো।রনি একটা উপন্যাস পড়ছে।রিফাহ বললো,"ভাইয়া।"
রনি পড়তে পড়তে বললো"কি?"
"ভাইয়া ভাবি চাই।"
"কিসের ভাবি?"
"উঃ তোমার বউ।"
রনি রিফাহর দিকে তাকিয়ে বলল,"আমার বিয়ের বয়স হয়নি।"
"বাহ ভাইয়া পড়ালেখা শেষ চাকরি করো তারপরেও বলছো বিয়ের বয়স হয়নি।আচ্ছা ভাইয়া ইসরাতকে তোমার পছন্দ হয়?"
"মার খাওয়ার জন্য এখানে এসেছিস!!"
রিফাহ বিছানা থেকে উঠে বললো,"হ্যা মার তো আমাকে আর আয়শাকেই দিবে।ফ্রি ফ্রি মার।"
দুইদিন পর
ইসরাতরা চলে গেল।বাসায় এসে গেসে।আর এইদিকে রনি চুপচাপ বসে থাকে আর ভাবে ইসরাতের কথা।রনি রিফাহকে ফোন করলো।রিফাহ ফোন ধরে বলল,"ভাইয়া বলো।"
"তুই কি চাস না তোর ভাবি আসুক।"
"অবশ্যই চাই ভাইয়া।"
"তাহলে প্লিজ হেল্প কর।"
"হ্যা অবশ্যই কি করবো বলো।"
"আস্তে বল ইসরাত শুনবে।"
"ওহ তারমানে ইসরাতের বুঝেছি।কি করতে হবে বলো।"
রনি বললো,"ইসরাতের আইডি বল একটু।"
"ওকে আমি বলে দিচ্ছি।তুমি ফ্রেন্ডসরিকয়েস্ট দিও।"
"এপসেপ্ট করবে তো?"
"আরে ভাইয়া ওই চিন্তা করো না।এখনি বলে দিচ্ছি।"
ইসরাত দেখলো কেউ একজন ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট দিয়েছে।ইসরাত বললো,"এই রিফাহ দেখতো তোর রনি ভাই না!!"
রিফাহ দেখে বললো,"হ্যা এপসেপ্ট কর।"
"এপসেপ্ট করবো?"
"হুমম।"
"করেছি।"
রনির একটু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।সবসময় কি যেন ভাবে।আয়শা দেখলো রনি রোমান্টিক কবিতা পড়ছে।এটা দেখে রিফাহকে কল দিলো।রিফাহ কল ধরে বলল,"কিরে এ অসময়ে কল!"
"আরে আপি অসময়ে কল দিবো বেসময়ে কল দিবো।"
"কেন কি হয়েছে?"
"আপি ভাইয়া খালি রোমান্টিক কবিতা পড়ে আর বলে তুমি আমার সেই তুমি আমার তোমারে খুঁজে পেয়েছি।এই কথা সবসময় বলে।কি হলো ভাইয়ার?"
"আরে বুঝিস না কেন ভাইয়ার দিন এসেছে।ভাইয়া রোমান্টিক গান শুনবে।রোমান্টিক কবিতা পড়বে।রোমান্টিক নাটক দেখবে।মনের আনন্দে প্রতিদিন গিটার বাজাবে।"
"কেন কেন আপু?"
"কারন ভাইয়া প্রেমে পড়েছে আমার বান্ধবী ইসরাতের।"
"ওহ সত্যি বলতে কি আপু ইসরাত আপুকে আমারও পছন্দ ভাবি হিসেবে।এ আপি এখন রেখে দেই ভাইয়া ডাকছে।"
আয়শা রনির ঘরে গেল।
"এই ভাইয়া কি বলো?"
"যা চা করে নিয়ে আয়।"
"যাই।"
একটু পর চা নিয়ে এলো।রনির পাশে বসে আয়শা বলল,"ভাইয়া একটা কথা বলি?"
"বল।"
"ভাইয়া তুমি কি আমার ভাবীকে খুঁজে পেয়েছ?"
"ওই কিসের ভাবি?"
"না মানে ভাইয়া ভাবি তোমার বউ।"
রনি ধমক দিয়ে বললো
"যা তুই। কিসব মাথায় ঢুকেছে তোর আর রিফাহর যা।আর শোন একটু পর এসে কাপ নিয়ে যাস।"
রিফাহ আর ইসরাত বারান্দায় বসে আছে।ইসরাত বললো,"আচ্ছা তোর রনি ভাই কি কখনো প্রেম করেছে?"
"ভাইয়া যখন ক্লাস সেভেনে তখন একটা মেয়েকে প্রপোজ করে।দুইদিন পরে মেয়েটা এমন ছ্যাকা দেয় তারপর থেকে ভাইয়া আর জীবনে প্রেম করেনি।প্রেম করা তো দূর কোনো মেয়ের দিকেই ভালো করে তাকাইনি।অনেকদিন পরে সেদিন কোনো মেয়ের দিকে মানে তোর দিকে এইভাবে তাকালো।"
"ওহ ।"
ইসরাত হাসতে লাগলো।
হাসতে হাসতে বললো,"ভালো ।তবে নাকি অনেক দুষ্টু।"
"হুমম ভাইয়া অনেক দুষ্ট আর ফাজিল।তবে কি ভাইয়ার মনটা অনেক ভালো।ভালো মানের মানুষ।"
"ওহ ভালো মানুষ তো হতে হবে।"
"হুমম।চল বাইরে ঘুরে আসি।"
"চল।"
কিছুদিন পর
ইসরাত পার্কে বসে আছে।রিফাহ তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে বসে আছে।ইসরাত একা একা।তাই ফোন টিপছে।এরই মধ্যে রনি এসে হাজির।রনি বলল,"আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।"
"কি কথা?"
রনি বলল,"ইসরাত, আমি তোমাকে ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি।"
রনির কথা শুনে ইসরাত দাঁড়িয়ে গেল।কিছু বলছে না।শুধু রনির দিকে তাকিয়ে আছে।
রনি বলল
'বিশ্বাস কর সত্যি তোমাকে ভালবাসি।'
ইসরাত কিছু বললো না।চুপচাপ রিফাহর কাছে যেয়ে বলল
'চল রিফাহ বাড়িতে যাই।আমার ভালো লাগছে না।'
'চল।'
বাসায় এসে ইসরাত চুপচাপ বসে আছে।কি বলবে সে রনির এ কথায়।সেও যে রনিকে ভালোবেসে ফেলেছে এটা তো রনিকে বলেনি।
রিফাহ ইসরাতের নীরবতা দেখে কাছে এসে বলল
'কিরে এত চুপচাপ কেন?'
ইসরাত কিছু বলল না।শুধু তাকিয়ে থাকলো রিফাহর দিকে।
'কিছু হয়েছে?রনি ভাইয়া কিছু বলেছে?'
'রিফাহ আমি মনে হয় রনিকে ভালোবেসে ফেলেছি।'
'ওহ আচ্ছা।'
'রনি আজকে প্রপোজ করেছে।আমি কিছুই বলিনি।'
'বলে দে।আরে ভাইয়ার মত ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।'
'আচ্ছা বলে দেই তাহলে।'
ইসরাত কাগজে কিছু লিখে ভাঁজ করে রিফাহকে বললো 'তুই এটা রনিকে দিস।'
রিফাহ রনির কাছে গেল।রনি বললো
'কিরে এ সময় কিসের জন্য?'
রিফাহ কাগজটা রনির হাতে দিয়ে বলল' ভাইয়া এটা ইসরাত দিয়েছে।আমি এখন আসি পরে কথা হবে।'
রনির কাগজের ভাঁজ খুলল।লেখা আছে
'আজ তুমি আমাকে বললে তুমি আমাকে ভালোবাসো।আমি তখন কিছুই বলতে পারি না।তুমি অপেক্ষা করছিলে উত্তর শুনার জন্য।আমিও তোমাকে ভালোবাসি।'
ইসরাত এ সময় এক কোনে দাঁড়িয়ে ছিল।রনির কাছে আসলো।রনি বলল
'তখন বললে কি হত?'
'কিছুই হত না।'
'তাহলে?'
'তাহলে কিছুই না এখন আমি আসি।'
'ওই কই যাও?'
'বাসায়।'
'যাও।'
পরদিন ইসরাত পার্কে আসলো।রনিও আসলো।রনি বললো
'তুমি আমার শার্ট আনতে বললে কেন?'
'এমনি ।এনেছ কি?'
'হ্যা।এই নাও।'
ইসরাত শার্টটা ব্যাগের ভেতর রেখে বললো
'এখন থেকে এটা আমার।আর শোন তুমি এটা নাও।'
'এই ওড়না দিয়ে কি করবো?'
'কিছু করবে না।তুমি আমাকে শার্ট দিলে বিনিময়ে ওড়না দিলাম।আর শোন ওড়নার ভাঁজটা সাবধানে খুলো।কিছু পেতেও পারো।আমি এখন আসি।'
'আরে এখনি যাবে।'
ইসরাত চলে গেল।রনি ওড়নার ভাঁজ সাবধানে খুলতে লাগলো।ওড়নার ভেতর থেকে একটা চুরি বেরিয়ে এলো।
'ওহ আচ্ছা এই ব্যাপার।চুরি কিনে দিবো তাহলে।'
আকাশে চাঁদ উঠেছে ।ইসরাত রনির শার্ট বের করে নিজের গায়ে দিল।শার্টের ভেতর কেমন যেন একটা গন্ধ।সবার কাগরেই নিজস্ব একটা গন্ধ থাকে।রনির এ শার্টেও নিজস্ব গন্ধ আছে।ইসরাতের অনেক ভালো লাগছে।
এইদিকে রনি ওড়না বের করলো।বাহ কি সুন্দর গন্ধ!ওড়নাটা গলায় পেঁচিয়ে নিলো।ইসরাতের কথা ভাবতে লাগলো।রনি ইসরাতকে কল দিলো।ইসরাত কল ধরে বলল'বলো কি বলবে?'
'তো আমার রানী এখন কি করছে?'
ইসরাত কিছু না বলে একটু হাসলো।
'কি হলো হাসছো যে!'
'তোমাকে আকছি এখন।'
'সত্যি আমাকে আকছো?'
'হ্যা সত্যি।'
'আমাকে দেখাইও ওই ছবি।'
'আচ্ছা।'
'একটু বারান্দায় যাও তো।'
'কেন?'
'যেতে বলছি যাও।'
ইসরাত বারান্দায় এসে বললো'হ্যা আসলাম।'
রনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল'দেখো কি সুন্দর চাঁদ হাসছে।'
'হ্যা।'
'তোমার মত সুন্দর চাঁদ।'
'ইস কি যে বলো।'
'চাঁদের আলো অনেক সুন্দর।চারদিকে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।'
ইসরাত বললো,'হ্যা আর এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে তুমি আর আমি খালি পায়ে হাঁটবো।'
'হ্যা তুমি আর আমি।'
তারপর দুইজন অনেক কথা বললো।কথা শেষ হলে ইসরাত আবার ছবি আঁকতে লাগলো।রিফাহ বললো'বাহ ভালোই প্রেম চলছে।'
'হ্যা চলছে।যা এখন আমি আকঁছি।'
'হ্যা।'
ইসরাতের পরনের শার্টটার দিকে তাকিয়ে বললো'এই শার্টটা চেনা চেনা লাগে।কোথায় পেয়েছিস?'
'এই শার্টটা আমার রনি দিয়েছে।'
'ওহ তাই তো বলি চেনা চেনা লাগে।ভাইয়ার গায়ে দেখেছি।এত ভালোবাসা!'
'যা তো তুই।'
ইসরাত আঁকা শেষ করলো।
পরদিন
ইসরাত পার্কে গেল।দেখলো রনি।কাছে যেয়ে বললো'কি বলো কেন ডেকেছ?'
'এখানে বসো।'
'বসলাম।'
'চোখ বন্ধ কর।'
'করলাম।'
রনি ইসরাতের হাতে কিছু দিয়ে বললো'এবার চোখ খুলে দেখ।'
ইসরাত চোখ খুলে দেখলো এক সেট চুরি।
'ওয়াও এত সুন্দর চুরি!!দেখি তো একটু পড়ে।'
ইসরাত চুরি পড়তে পড়তে বলল'অনেক সুন্দর হয়েছে!দেখ হাতে কি সুন্দর বানাইছে!'
ইসরাত চুরিগুলো পেয়ে আনন্দে আত্নহারা হয়ে গেসে।ইসরাতের চুরি পড়তে ভীষন পছন্দ।প্রিয় মানুষ দিয়েছে সেজন্য আরো খুশি।রনি তাকিয়ে দেখছে ইসরাতকে।এত খুশি হতে পারে এই সামান্য একটা জিনিস নিয়ে।হয়তো এটাই তার কাছে অনেক দামি কিছু।ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে বলল,'সত্যি অনেক সুন্দর।'
ইসরাত আর রনি অনেক্ষন সময় কাটালো।সন্ধ্যায় বাড়ি আসলো ইসরাত।
এক মাস পর
রনি ইসরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,'ইসরাত সরি।'
'সরি কেন বলছো?'
'আমি ব্রেকআপ করতে চাই।'
'কিসের ব্রেকআপ রনি?'
'তোমার আমার রিলেশনের।'
'কিন্তু কেন?'
'এমনি।'
'এমনি কেউ ব্রেকআপ করে নাকি!কেন করবে বল?'
'আমার ইচ্ছা হয়েছে।'
'রনি তুমি কি বলছো এসব?দুদিন বাদে তুমি আমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিবে আর এখন বলছো ব্রেকআপ।সত্যি করে বলো কি হয়েছে?'
'কিছু হয়নি ব্রেকআপ।তোমাকে ফেসবুক থেকে ব্লক করে দিয়েছি।সব জায়গা থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি।সরি ইসরাত।ব্রেকআপ।'
রনি চলে যাচ্ছিল।ইসরাত চিৎকার করে ডাকতে লাগলো।চিৎকার করে বলতে লাগলো
'তুমি এটা করতে পারো না রনি।তুমি আমাকে ভালোবাসো।তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না।রনিইইই।'
ইসরাত ভীষন কাঁদতে লাগলো
ইসরাত কাঁদতে কাঁদতে বাসায় আসলো।রিফাহকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।রিফাহ বলল,'কিরে কাঁদছিস কেন?এই কিছু বল।রনি ভাইয়া কিছু বলেছে?কিছু করেছে?'
ইসরাত কাঁদতে কাঁদতে বললো,'রনি কিছু বললেও কাঁদতাম না।মারলে কাটলেও কিছু কাঁদতাম না।কিন্তু সে কি করলো?'
ইসরাত রিফাহকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
রিফাহ ইসরাতের মাথায় হাত দিয়ে বললো,'কি হয়েছে বল?'
'ব্রেকআপ।'
'ব্রেকআপ?কিসের ব্রেকআপ?'
ইসরাত রিফাহকে ছেড়ে দিয়ে বলল,'রনি ব্রেকআপ করে দিয়েছে।'
'কিন্তু কেন?'
'সেটা জানি না।সেটা বলে নাই।'
ইসরাত কাঁদতে লাগলো।চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যাচ্ছে।
দুই বছর পর............
ইসরাত অন্যদিকে তাকিয়ে হাঁটছে।কার সাথে যেন ধাক্কা খেল।তাকাতেই দেখলো রনি।সেই প্রথম দিনের মত ধাক্কা লাগলো।রনি ফোন টিপতে টিপতে আসলো।ধাক্কা লেগে ফোনটা পড়ে গেল।ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে আছে।রনি ফোনটা তুলে তাকাতেই দেখলো ইসরাত।
রনি বললো,"ইসরাত।"
ইসরাত দেরি না করে চলে যাচ্ছিল।রনি বললো'ইসরাত দাঁড়াও।কিছু কথা আছে।'
ইসরাত রনির কাছে এসে বললো,'কি কথা?'
'সরি সেদিনের জন্য।'
ইসরাত অন্যদিকে রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে বলল,'সরি কেন বলছো?আর সরি বলে কি হবে?'
'ইসরাত দেখো আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি।বিশ্বাস করো।'
'বিশ্বাস তো করেছিলাম।বিশ্বাস করেই ভুল করেছি।'
'হিংস্র বাঘিনীর মত তাকিয়ে কেন?'
'হিংস্র বাঘের সামনে হিংস্র বাঘিনীর মতই তাকাতেই হয়।'
'দেখো সত্যি তোমাকে ভালোবাসি।'
'তাহলে ব্রেকআপ করলে যে।'
রনি চুপ হয়ে গেল।ইসরাত বললো,'চুপ করে আছো কেন?বলো।'
'বাজি ধরেছিলাম।'
'কিসের বাজি?'
'হ্যা বাজি।আমার একটা ক্লাসমেট বলেছিল তুই যদি ব্রেকআপ করতে পারিস তাহলে বুঝবো বীরপুরুষের মত কাজ করেছিস।আমি বললাম আমি পারবো না সত্যি ভালোবাসি তাকে।কিন্তু তারা এমনভাবে বাজি ধরেছিল যে আমি রাজি হয়েছিলাম।বাজিতে ৫০ হাজার টাকা ছিল।'
ইসরাত রনির শার্টের কলার চেপে বললো,'এই মাত্র ৫০ হাজার টাকার জন্য আমার সাথে এরকম করলে তুমি!তোমার কি টাকার কম পড়েছিল তোমার বাবার কি টাকার অভাব হয়েছিল বাজি ধরেছ।'
'না টাকা বড় ছিল না।বাজিটাই বড় ছিল।আমি সত্যি ভালোবাসি তোমাকে।'
ইসরাত রনিকে ছেড়ে দিয়ে বললো,'এখন বলে কি হবে?দুদিন বাদে আমার বিয়ে।আর এখন এসব বলা হচ্ছে।'
'কি বিয়ে?কই রিফাহ তো আমাকে কিছুই বলেনি।'
'রিফাহ কেন তোমাকে বলবে?'
'ব্রেকআপ করলেও তোমার খোঁজখবর রিফাহর কাছ থেকে নিতাম।'
'রিফাহকে বিয়েতে ইনভাইট করেছি আয়শাকেও।পারলে তুমিও এসো।'
এই বলে ইসরাত বলে ইসরাত চলে যাচ্ছিল।দুইমিনিট হাঁটার পর পিছন ফিরে দৌড়ে যেয়ে রনিকে জড়িয়ে ধরে বলল,'আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি।আমিও রিফাহর কাছ থেকে তোমার খোঁজখবর নিয়েছি।'
'তোমার বিয়ে,তাহলে?'
ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে বলল,'ওটা এমনি বলেছিলাম।তোমাকে চমকে দেওয়ার জন্য।'
'ওরে আমার রানী রে এমন মজা করে।আমি ভয় পেয়েছি।'
'হ্যা বিয়ে তো হবেই তোমার সাথে।'
'চলো এখন।'
'কোথায়?'
'এই সুন্দর পথ দিয়ে হাঁটবো এখন তোমার হাত ধরে।'
ইসরাত রনির হাত ধরলো।তারা হাটতে লাগলো।