অপেক্ষার শেষে এ কেমন পরিণতি

মৃন্ময় ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে।উদাস মন তার।জীবনের চলার পথে একটু যেন বাধা পেয়েছে।পিছন থেকে হৃদি এসেছে তাকে চমকে দিলো।মৃন্ময় বলল,"কিরে কখন এলি?"
"এইতো এখন।এসে দেখি তুই নেই ।ফুফু বলল তুই নাকি ছাদে তাই ছাদে চলে এলাম।"
"ওহ আচ্ছা।তোর তো এখন রেস্টের দরকার।জার্নি করে এসেছিস।"
"হ্যা চল।"
ঘরে ঢুকেই হৃদি ড্রেসটা চেঞ্জ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো।ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো।রাতে মৃন্ময় হৃদিকে ডেকে তুললো।
"চল হৃদি ছাদে যাই।"
"ওকে ।তার আগে কফি করে আনি।দুইজনে গল্প করবো আর কফি খাবো।"
"ওকে যা।"

মৃন্ময় কফি বানিয়ে হৃদির হাতে একটা কাপ তুলে দিয়ে বলল,"চল ছাদে।"
ছাদে জোৎসার আলো।মায়াবী চাঁদ।পূর্ণিমার রাত।
মৃন্ময় বলল,"দেখ কত সুন্দর চাঁদ উঠেছে।"
"হুমম।আচ্ছা মৃন্ময় তোর প্রেমিকের কি খবর?কোন খোঁজ মিললো তার?"
মৃন্ময় হতাশ মুখে বলল,"নারে।তার কোনো খোঁজ নাই।"
"তোকে কি ফাঁকি দিলো নাকি!"
"আমি তো জানি না।আচ্ছা আয়মানের কি খবর চাকরি পেলো নাকি ?"
"নারে এখনো পায়নি।বাসা থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে।আমি রাজি হইনি।আয়মান কিছু করতে পারলে তাহলে কিছু একটা হতো।"
"হুমম রে সবই কপাল।"
হৃদি কফির দিকে তাকিয়ে বলল,"দেখি কি করা যায়।তোর জন্য ছেলে দেখছে না?"
"খোঁজ করা শুরু করেছে।"
"ওহ।"
"হুমম।জীবনটাই বেদনার তোর আর আমার।"
হৃদি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল,"হ্যা।আয়মানের কিছু একটা হয়ে যেত।"
"চিন্তা করিস না হয়ে যাবে কিছু একটা।"
"মৃন্ময় তুই তো সুন্দর গান বলিস।একটা বলতো।"
 "তোমাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের ভিড়ে,
ছিল না কিছুর ঠাঁয় দুচোখের নীড়ে,
স্বপ্নগুলোকে হঠাৎ কেড়ে যে নিলে,
আমাকে যেন আঁধার পথে ঠেলে দিলে..
মৃন্ময় আর বলতে পারল।চোখে পানি এসে গেল।কন্ঠস্বর ক্ষীণ হলো।
"মৃন্ময় কাঁদিস না।দেখ স্বাভাবিক হ।"
"ওকে।"
গল্প করতে করতে রাত ১২ টা বাজলো।মৃন্ময় আর হৃদি  ঘরে ঢুকে ডিনার করে ফেললো।তারপর দুইজনে হাসি আড্ডা দিতে লাগলো।মনে হলো কতদিনের সজীবতা ফিরে এলো।দুইজন মন খুলে হাসাহাসি নাচানাচি করল।রাত ৩ টায় ঘুমিয়ে পড়লো।
সকালের মিষ্টি রোদ হৃদির চোখে এসে লাগলো।ঘুমটা তখনি ভেঙে গেল।বিছানা উঠে বারান্দায় চলে গেল।মৃন্ময় এখনো ঘুমাচ্ছে।বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিচিত্র মানুষকে দেখলে লাগলো হৃদি।
মৃন্ময় ঘুম থেকে উঠে দেখলো হৃদি নেই।বারান্দায় এসে দেখলো হৃদি একা দাঁড়িয়ে আছে।
"কিরে হৃদি কি করছিস?"
"নারে কিছু না।এমনি দাঁড়িয়ে আছি।"
"ওহ আচ্ছা।তুই মনে হয় এখনো ফ্রেস হাসনি।"
"ওহ আচ্ছা ফ্রেস হয়ে নে।আমি ফ্রেস হবো।তারপর দুইজনে একসাথে ব্রেকফাস্ট করবো।"
"ঠিক আছে চল।"

ব্রেকফাস্ট শেষে মৃন্ময় তার রুমে গেল।একটু পরে হৃদি মৃন্ময়ের রুমে ঢুকলো।বিছানায় বসে বললো"ফুফু তোর জন্য ছেলে দেখছে।এই যে ওই ছেলের ছবি।আজকে তোকে দেখতে আসবে।"
মৃন্ময় হৃদির দিকে  বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে বলল,"আজকেই আসবে!"
"হ্যা আজকে আসবে।ছেলেটা নাকি ভালো।"
মৃন্ময়ের মুখে হতাশার ছাপ দেখা গেল।একটু পরে হৃদি বলে উঠলো,"দেখ মৃন্ময় সাদিক ভাইয়ার কিন্তু খোঁজ নাই।সে বেঁচে আছে নাকি মরে গেসে নাকি বিয়ে টিয়ে করছে কিছুই খোঁজ নাই।কি করে বুঝবি সে তোকে ভালোবাসে।আচ্ছা তুই দেখ ছেলেটা পছন্দ হয় নাকি।তারপর একটু মিশে দেখ ভালো লাগে কিনা।"
মৃন্ময় আস্তে করে বললো," ঠিক আছে।"

বিকেলে মৃণ্ময়কে দেখতে এলো।পাত্র দেখাশুনা সব দিক দিয়ে ভালো।তারপরেও মৃন্ময়ের মন টানছিল না এই ছেলের দিকে।পাত্র পক্ষ চলে যাবার পর মৃন্ময় বারান্দায় গিয়ে বসল।হৃদিও তার পাশে যেয়ে বসলো।
হৃদি বললো,"দেখ মৃন্ময় আর মন খারাপ করে থাকিস না।জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।আচ্ছা তোর যে এই ছেলেকেই বিয়ে করতে তা না।তুই একটু মিশে দেখ কেমন।"
"ঠিক আছে।"
"শোন এই ছেলেকে তোর ফোন নাম্বার দিয়েছি।যেকোনো মহুর্তে কল দিতে পারে।"
মৃন্ময় হৃদির দিকে তাকিয়ে বললো,কি?"
"আরে হ্যা।"
"আচ্ছা রং নাম্বারে কল আসলে ধরবো।"
    
 আয়মান ক্লান্ত মন নিয়ে বারান্দায় বসে আছে।কোনো জব পাচ্ছে না।এই দিকে হৃদির কথাও ভাবছে।কি করবে বুঝতে পারছে না।কবে  যে একটা জব হবে।আয়মানের মুড অফ দেখে কবির পাশে এসে বসলো।কবির আয়ামানের দিকে তাকিয়ে বললো,"কিরে মুড নাকি।"
আয়মান কিছু বললো না।কবির আয়মানের গায়ে হাত দিয়ে বললো,"কি হয়েছে রে বল।"
"জব পাচ্ছি না।কি যে করি?ঐদিকে হৃদির জন্য ছেলে দেখা শুরু করছে।"
"দেখ একটু চেষ্টা কর।ভালো কিছু পাবি।"
"চেষ্টা তো করছি রে।"
"আর আল্লাহর ওপর ভরসা কর পেয়ে যাবি।তোর জবও পেয়ে যাবি আবার  তোর ভালোবাসার মানুষকেও পেয়ে যাবি।"
আয়মান কিছু বললো না ।চুপচাপ বসে আছে।

 রাতে মৃন্ময় আর হৃদি ছাদে গেল।এই সময় মৃন্ময়ের ফোনে রং নাম্বারে কল আসলো।ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল,"দেখ রং নাম্বারে কল এসেছে।"
"আরে ধর দেখ কি ছেলে নাকি।"
"আচ্ছা।"
মৃন্ময় কল ধরে বললো,"হ্যা কে বলছেন?"
"মৃন্ময় আমাকে চিনতে পেরেছো?"
"জ্বি না চিনিনি।বলেন তো কে আপনি?"
"আমি শুভ্র।"
মৃন্ময় ইশারায় হৃদিকে বলল শুভ্র কে।হৃদি জানিয়ে দিল ওই ছেলে যে আজকে দেখতে এসেছিল।বেশি আগ্রহ নেই বলে নামও জানতে চায়নি মৃন্ময়।
"মৃন্ময় তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?"
"ওহ আপনি  তাহলে।"
"হ্যা আমি।কেমন আছো?"
"এইতো ভালো।"
"আচ্ছা আমরা কি কাল দেখা করতে পারি?"
"দেখা!"
"হ্যা দেখা করতে পারি।"
হৃদি ইশারায় বললো কর দেখা।
মৃন্ময় বললো,"আচ্ছা কালকে বিকেলে দেখা করবো।"
"ঠিক আছে।"

মৃন্ময় ফোন রেখে দিল।হৃদিকে বলল,"দেখ আবার দেখা করতে চায়।"
"তো কর দেখ কেমন।ভালো লাগে নাকি দেখ।"
"ঠিক আছে।"
 
রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেল।মৃন্ময়ের ঘুম ভাঙলো ফোনের শব্দে।কে যেন কল দিসে।ফোন হাতে নিয়ে শুভ্র কল দিয়েছে।মৃন্ময় কল ধরে বলল," হুমম বলেন।"
"ঘুম হলো?"
"হ্যা হয়েছে।"
"ফ্রেস হয়েছ?"
"না এখনো হইনি হবো।"
"ওহ আচ্ছা আমরা আজকে কোথায় দেখা করবো?"
"রেস্টুরেন্টে দেখা করি।"
"ঠিক আছে।"
"আচ্ছা এখন ফোন রাখি।"
হৃদি এখনো ঘুমাচ্ছে।মৃন্ময় হৃদিকে ডাক দিল।ঘুম ঘুম চোখে হৃদি বললো,"কি হয়েছে?"
"উঠ সকাল হয়েছে।"
"উঠছি।"
"উঠ।"
 
বিকেলে মৃন্ময় রেস্টুরেন্টে গেল।উনি আগে থেকেই এসেছেন।অপেক্ষা করছিল মৃন্ময়ের জন্য।মৃন্ময় বসতে বসতে বললো,"আপনি কখন এসেছেন?"
"এইতো একটু আগে।কি খাবে?"
"আমি কফি খাবো।"
চুপচাপ হয়ে বসে আছে মৃন্ময়।শুভ্র বললো,"আচ্চা আমাকে তোমার কেমন লাগে?"
"দুইদিনের পরিচয়ে একজন মানুষকে কেমন লাগে!"
"কেমন !"
"একজন মানুষকে দুইদিনে চেনা যায় না।না মানে আমি এটা বলছি না আপনি ভালো মানুষ না।তবে আপনি এটা ভেবে দেখুন আমি কেমন সেটা তো আপনি ঠিক ভাবে জানেন না।আগে আমাদের মিশতে হবে কথা বলতে হবে তারপরে বুঝতে পারব।"
"হ্যা ঠিক কথা।আচ্চা আপনি কোথাও ঘুরতে যাই।"
"না আজ না অন্যদিন।"
"আজ গেলে কি হবে!"
"না আজ বাসায় যাবো।"
"ওহ।"
"আমি তাহলে উঠি।"
"তাহলে কখন ঘুরতে যাবে।"
"কালকে।"
"আচ্ছা।"

মৃন্ময় বাসায় এলো।রুমে ঢুকতেই হৃদি কাছে এসে বললো,"কিরে কি দেখলি?"
"কি আর দেখবো।যা দেখার দেখা দেখলাম।বলে যে কালকে ঘুরতে যাবে।"
" ওহ ঘুরে আয় ।"
মৃন্ময় হৃদির মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,"সাদিক কি কখনো আসবে না?"
"এই সাদিক সাদিক আর কত করবি ?কয়েক মাস হয়ে গেল কোনো খোঁজ খবর নাই।সাদিক সাদিক জীবনটাই শেষ করে দিলি।শোন এই ছেলেকে যদি ভালো লাগে তাহলে এই ছেলেকে হ্যা বলে দিস।আর ফ্রেস হ।এম তোর জন্য চা করে আনছি।"

হৃদি রান্না ঘরে গেল চা করতে।মৃন্ময় ফ্রেস হয়ে বারান্দায় গেল।হৃদি মৃন্ময়ের হাতে চার কাপ দিয়ে বললো,"কোথায় ঘুরতে যাবি?"
"জানি না।"
"জানিস না?"
"এখনো ঠিক করিনি।"
"ওহ।"
"হুমম।"

 

আয়মান বসে আছে চুপচাপ।কবির পাশে এসে বসলো।
"আয়মান এইভাবে বসে আছিস যে!"
"কি আর করবো বল ?"
"আরো একটু ট্রাই আর ধর্য ধর।কাল তো তোর ইন্টারভিউ আছে তাই না?"
"হ্যা ভালো করে দিস।"
"হুম। দিবো।"
"আর মুড অফ করিস না।আচ্ছা থাক আমার কাজ আছে।"

রাতে শুভ্র কল দিলো।মৃন্ময় কল ধরে বললো,"বলুন কি বলবেন।"
"ওহ হা কালকে কিন্তু ঘুরতে যাবো।সকালে বের হবো।"
"আচ্ছা।"
"আমি গাড়ি নিয়ে তোমাদের বাসার সামনে আসবো।"
"আচ্ছা।এখন রাখি।"
"ওকে।"
মৃন্ময় ফোন রেখে দিল।হৃদি বললো,"কি বললো?"
"কাল নাকি ঘুরতে যাবে আমার সাথে।"
"ওহ কোথায়?"
"সেটা বলেনি।বললো সকালে গাড়ি নিয়ে আসবে।"
"ওহ যা তালে।"

সকাল বেলা শুভ্র গাড়ি নিয়ে এলো মৃন্ময়ের বাসার সামনে।মৃন্ময় রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলো।
শুভ্র সামনে তাকিয়ে বলল,"কোথায় যাবে?"
"আপনি ঠিক করেননি কোথায় যাবো?"
"না তুমি যেখানে যাবে সেখানে যাবো তাই ভাবলাম।"
"পাহাড়ে চলেন।"
"পাহাড়?এখানে পাহাড় কোথায় পাবে?"
মৃন্ময় হাসতে হাসতে বললো,"এমনি বললাম।কাশবনে চলেন।"
"আচ্ছা চলো।"

মৃন্ময় খেয়াল করে দেখল শুভ্র বার বার তার দিকে তাকাচ্ছে।মৃন্ময় বললো,"এই আপনি আমার দিকে তাকাচ্ছেন কেন?সামনের দিকে তাকিয়ে ড্রাইভ করেন।"
"আচ্ছা।তুমি চাইলে আমি কিন্তু পাহাড়েও নিয়ে যাবো।"
"আজই যাবেন?"
"আজ?আজ তো কোনো প্রস্তুতি নেই।"
"হ্যা আমারও তো নেই।"
গাড়ি কাশবনে এসে থামল।মৃন্ময় গাড়ি থেকে বের হয়ে কাশবনের মধ্যে ঢুকে গেলো।শুভ্র তার পিছে পিছে আসতে লাগলো।মৃন্ময় ফোন বের করে বললো,"একটু পিক তুলে দিবেন?"
"হ্যা দাও ফোন।"
শুভ্র পিক উঠে দিলো মৃন্ময়ের।মৃন্ময় বললো,"আপনি পিক তুলবেন?"
"না।"
"আচ্ছা।তাহলে চলুন ঘুরে দেখি।"
একটু দূরে গিয়ে শুভ্র বললো,"রেস্টুরেন্টে যাবে?একটু দূরেই একটা  রেস্টুরেন্ট।"
"আচ্ছা চলেন।"
"গাড়িতে উঠো।"
তারা গাড়িতে উঠে গেল।রেস্টুরেন্টে এসে গেল।সুন্দর প্রাকৃতিক জায়গায় রেস্টুরেন্ট।শুভ্র বললো,"কফি অর্ডার দিবো?"
"হুমম দেন।"
তারা কফি খেতে খেতে আরো অনেক গল্প করলো।শুভ্র বললো,"চলো কোনো একটা গ্রামে যাই।"
"চলেন তবে আজ না।অন্য দিন।"
"ঠিক আছে।"
ঘোরাঘুরি শেষে মৃন্ময় বাসায় এলো।মৃন্ময় ভেতরে হৃদি তার কাছে এলো।হৃদি বললো,"কেমন লাগলো ছেলেটা।?"
"হুমম ভালো।উনি বলেন যে গ্রামে নিয়ে যাবেন ঘুরতে।"
"তো যা।আর শোন আমি এখন বেরুচ্ছি।আয়মানের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।"
"আচ্ছা সাবধানে যা।"
হৃদি পার্কে গেল আয়মানের সাথে দেখা করতে।হৃদি বললো,"কি খবর তোমার?"
"কিসের?"
"চাকরির।"
"এখনো পাইনি।"
"তো কবে পাবে আয়মান।আমি অন্য কাউকে বিয়ে করলে পাবে?"
আয়মান হৃদির দিকে তাকালো।বললো,"অন্য কাউকে বিয়ে করবে কেন!এই যে আমি খুব তাড়াতাড়ি একটা জব খুঁজে নিবো।"
"আচ্ছা দেখবোনি।"
"হুম দেখে নিও।"


 পরদিন সকালে শুভ্র আর মৃন্ময় বের হলো।সারাটা দিন ঘুরলো।ফোনে কথা বলে।মৃন্ময়ের একটু একটু ভালো লাগতে লাগলো।কয়েকদিন পরে মৃন্ময় শুভ্রর সাথে ঘুরতে গেলো।
শুভ্র বললো,কেমন লাগছে তোমার?"
"হুমম ভালো লাগছে।আপনার!"
"তুমি আমাকে আপনি বলো কেন!তুমি বলতে তো পারো।"
"সেটা না হয় পরে বলি।"
"ঠিক আছে।"
এই সময় একটা লোক শুভ্রর গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করলো।শুভ্র গাড়ি থামিয়ে ওই লোককে হসপিটালে নিয়ে গেল।মৃন্ময়ও সাথে গেল।মৃন্ময় একটু ঘুরে দেখছিল তখনি একটা চেনা মুখ তার সামনে পড়ে গেল।মৃন্ময় যেন থমকে গেল সেই মানুষটাকে দেখে।বেড়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।মৃন্ময় কাছে যেয়ে ডাক দিল,"সাদিক,এই সাদিক।"
সাদিক একটু একটু চোখ খুলে বললো,"তুমি এখানে?"
"আমার কথা হলো তুমি এখানে কেন?"আর এতদিন তুমি কোথায় ছিলে সাদিক?"
"তুমি আমাকে ভুল বুঝেছি তাই না!দেখে মৃন্ময় আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি।"
"কিন্তু কেন এতদিন নিখোঁজ হলে?"
"মৃন্ময় আমি নিজের থেকে নিজেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলাম মৃন্ময়।আমার কমায় চলে গেসিলাম।৬ মাস পর আমি কমায় থেকে ফিরে এসেছি।আর কালকে আমি বাড়ি যাবো।"
মৃন্ময় কথাটা শুনে চমকে উঠলো।দরজায় দাঁড়িয়ে শুভ্র সব শুনছিল।শুভ্রকে দেখে সাদিক বললো,"উনি কে?তোমার স্বামী?"
"না আমার বিয়ে হয়নি।"
"ওহ।"
"উনি শুভ্র আমার ভালো বন্ধু।"
"উনাকে এখানে আসতে বলো।"
শুভ্র নিজেই কাছে এলো।শুভ্র অবশ্য একবার হৃদির কাছে সাদিকের কথা শুনেছিল।কিন্তু শুভ্ররও যে মৃন্ময়কে ভালো লেগে গেসে।হয়তো ভালোবেসে ফেলেছে।শুভ্র বললো,"মৃন্ময় আমাদের বাড়ি যেতে হবে এখন।"
"হ্যা যাচ্ছি।"
সাদিক বললো,"বাড়িতে গেলে তোমাকে কল দিবোনি।আমার ফোন বাড়িতে।"
মৃন্ময় বললো,"আচ্ছা দিও।"
মৃন্ময় বাড়িতে গেল।খুশি খুশি মুড নিয়ে রুমে ঢুকে হৃদির সামনে বসে বললো,"কফি খাবি?"
হৃদি বই পড়তে পড়তে বললো,"না।"
"কেন খাবি না?"
হ্রদি এখন মৃন্ময়ের দিকে তাকিয়ে বলল,"কি হয়েছে বল তো এত খুশি কেন!"
"সাদিকের সাথে দেখা হয়েছিল।"
"তাই নাকি কোথায়?"
"হসপিটালে।"
তারপর মৃন্ময় সব খুলে বললো।সব শুনে হৃদি বললো,"সত্যি?"
"হুমম রে।"
"আহারে।কিন্তু শুভ্র ভাইয়ের কি হবে?"
"কি হবে মানে?"
"উনি তোকে ভালোবাসেন।"

মৃন্ময় বললো,"উনি আমাকে ভালোবাসলেও লাভ নেই।আমরা দুইজন দুইজনকেই অনেক ভালোবাসি।"
"হুমম সেটাই রে।আর আমি কিন্তু কালই চলে যাচ্ছি।"
"কালই যাবি?"
"হুম কাল নাকি আয়মানের ইন্টারভিউ আছে।"
"ওহ হলে তো ভালো।"
"হুমম।আচ্ছা তুই ট্রায়ার্ড অনেক।আমি চা নিয়ে আসি তোর জন্য।"
"যা।"
মৃন্ময় সাদিকের কথা ভাবতে লাগলো।তবে শুভ্র লোকটাও খারাপ না।সহজ সরল মনের মানুষ।
রাতে ঘুমানোর সময় দুইজন অনেক গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো।

সকালে আয়মান রেডি হয়ে ইন্টারভিউ দিতে গেল।চাকরিটাও হয়ে গেল।ভালো চাকরি পেয়ে গেসে আয়মান।আয়মান সবার প্ৰথমে হৃদিকে ফোন  করলো।হৃদি ফোন ধরে বলল,"কি হলো বলো।"
"কি আর হবে!"
"মানে?"
"মানে চাকরিটা আমি পেয়ে গেসি।"
খুশিতে মৃন্ময়কে জড়িয়ে ধরে বলল,"সত্যি?"
"হুমম সত্যি।এবার দেখ কিছুদিনের মধ্যে তোমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিবো।"
"আমি সেই আশাতে মনের দুয়ার খোলা রেখেছি।"
"আচ্ছা রাখি।"
"আচ্ছা।"
হৃদি বললো,"আয়মানের চাকরি হয়েছে ভালো চাকরি পেয়েছে।"
"ওহ তালে তো ভালো।এবার বিয়ের প্রস্তাব দিলেই হবে।"
"তোরও হবে কিন্তু শুভ্র ভাইয়া।"
"উনার জন্য মেয়ে আমি খুঁজবো।"
"তাই নাকি!"
"হুমম ।"
 
হৃদি ব্যাগ গুসাতে লাগলো।একটু পরেই চলে যাবে।
হৃদি বের হতেই দেখলো আয়মান।হৃদি বললো,"তুমি এখানে?"
"হ্যা চলো কোথায় যাই।"
"চলো।"
হৃদি বের হবার একটু পরেই সাদিক তার বাবা মাকে সাথে করে নিয়ে এলো মৃন্ময় বাসায়।সবকিছু খুলে বললো সাদিকের মা।শুভ্র আগেই জানিয়েছিল ঘটনাটা।উনারা মৃন্ময়কে আন্টি পড়াতে এসেছেন।মেয়েকে খুব পছন্দ করলেন।আর দুইজন দুইজনকে খুব ভালোবাসি তাই কেউ কিছু বললেন  না।রাজি হতে গেলেন।মৃন্ময় আন্টি পরিয়ে সাদিকরা চলে গেল।
পরদিন আয়মানও বিয়ের প্রস্তাব দিতে গেল হৃদির বাসায়।যেহেতু কেউ কাউকে ছাড়তে রাজি না তাই হৃদির বাড়ির সবাই রাজি হয়ে গেল।

মৃন্ময়ের বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক করা হলো কেনাকাটাও করা হয়েছে।আর মাত্র কয়েকদিন দিন তারপরে বিয়ে।শুভ্র একটু ডিপ্রেশনে চলে গেল।মৃন্ময়কে তো ভালোইবেসে ফেললো।কিন্তু এখন যেহেতু দুইজনই দুইজনকে ভালোবাসে এতে কিছু বলার নেই।

বিকেলে সাদিক বাইক নিয়ে বের হলো অনেক খুশি মুড।কয়েকদিন বাদে বিয়ে।মৃন্ময়ের ভাবনায় মুগ্ধ।কোনো দিকেই খেয়াল নেই সাদিকের।সাদিক এতটাই ভাবনার চলে গেল যে সে নিজে যে ড্রাইভ করছে এটার খেয়াল নেই।এই সময় সাদিক এক্সিডেন্ট করে ফেললো।রাস্তার ওপারেই মৃন্ময় দাঁড়িয়ে ছিল।সাদিকের কাছে মৃন্ময় অজ্ঞান হয়ে গেল।চোখের সামনে এইভাবে ভালোবাসার মানুষকে দেখে নিজেকে সামলাতে পারলো না মৃন্ময়।
মৃন্ময়ের যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলো সে হসপিটালে।সঙ্গে সঙ্গেই মনে হলো সাদিকের কথা।মৃন্ময় রুম থেকে বের হয়ে দেখলো একজনের দেহের ওপর সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা।সেখানে মৃন্ময়ের বাবা মা সাদিকের সবাই দাঁড়িয়ে আছে।মৃন্ময় কাছে যেয়ে কাপড় তুলতেই বড় রকমের একটা হচট খেলো।তখনি তার চোখের সামনে ভাসতে থাকলো তখনকার কথা যখন সাদিক তার চোখের সামনে একসিডেন্ট করলো।মৃন্ময় আবার অজ্ঞান হয়ে গেল।
মৃন্ময় যখন জ্ঞান ফিরলো তখন সে বাড়িতে।হৃদি শুভ্রকে কল করলো।ফোন ধরে শুভ্র বললো,"হুমম বলো।"
"ভাইয়া এখন একটু দেখা করবেন আমার সাথে?"
"এখন?"
"হ্যা ভাইয়া খুব দরকার।"
"আচ্ছা এসো।"

হৃদি শুভ্রের সাথে দেখা করতে গেল
শুভ্র বললো,"ভাইয়া আপনি তো মৃন্ময়কে ভালোবাসেন।"
"হুমম।কিন্ত মৃন্ময়ের বিয়ে হবে যাবে।"
"হ্যা বিয়ে তো হবে।আপনার সাথে হবে।"
"মানে?"
"মানে আজকে সাদিক  ভাই রোড এক্সিডেন্টে  মারা গেসে।"
"কি বলো!দেখো আমি মৃন্ময়কে ভালবাসি কিন্তু আমি এটা কখনো চাইনি।"
"ভাইয়া সবাইকে ইনভাইট করা হয়েছে এখন আপনি বিয়ে করবেন।আর মৃন্ময়কে বুঝিয়ে বলবেন।"
"হুমম।"
শুভ্র এক মুহূর্ত দেরি না করে মৃন্ময়ের কাছে গেল।মৃন্ময়ের পাশে বসে বললো,"মৃন্ময়।"
"আপনি আমাকে বিয়ে করবেন?"
"হ্যা আমি রাজি।কিন্তু আমি এটা  কখনো চাইনি।আমি চাইছি সাদিককে নিয়ে তুমি সারাটা জীবন কাটাও।"
"একেই বলে ভাগ্য।ঐযে বলা আছে বিয়ের কথা বলা যায় না করে সাথে হবে।ঠিকই দুইজন দুইজনকে ভালোবাসলেও বিয়ে হবে যে তা না। বিয়ে ঠিক হলেও যে বিয়ে হবে তাও কিন্তু না।"
"মৃন্ময় তুমি মন খারাপ করো না।এখন আল্লাহ যা করছেন তাই মেনে নিতে হবে।আমি তোমার জন্য সবকিছু করতে রাজি।"
"চলুন ঘুরে আসি অনেক দূর।"
"চলো।"

কয়েকদিন বাদে মৃন্ময়ের সাথে শুভ্রর বিয়ে হলো।তারপরে আয়মানও হৃদিকে বিয়ে করলো।বিয়ে ,জন্ম ,মৃত্যু আল্লাহর হাতে।

 

....
👁 1162