ইসরাত লাইব্রেরিতে পড়তে গেল।এই সময় একটা মেয়ের সাথে লেগে গেলো ঝগড়া।ইসরাত খুব রেগে অস্থির।রেগে গিয়ে রনির একটা বই ছিঁড়ে ফেললো।রনি উঠে দাঁড়ালো।কি মনোযোগ দিয়ে বইটা পড়ছিল আর বই ছিঁড়ে ফেললো।রনিরও ভীষন রাগ হচ্ছিল।রেগে গিয়ে ইসরাতের চশমা ভেঙে মাটিতে ফেলে দিলো।
ইসরাত চশমার দিকে তাকিয়ে বললো,"এই আপনি কি করলেন এটা?"
"কি করলাম আর ?"
"আমার চশমা যে ভাঙলেন।"
"আমার যে বই ছিঁড়লেন সেটা কি?"
"আপনার বইয়ের সাথে আমার চশমার তুলনা করছেন?কেন ভাঙলেন?"
"মাত্র দুইশত টাকার চশমার জন্য এত রাগ করছেন কেন আপনি?"
"কি বললেন এটা দুইশত টাকা! এক হাজার টাকা।"
"কি বলেন আমার এক বন্ধুর দোকান আছে ওখানে দেখেছি এই চশমা দুইশত টাকা।"
"আপনি বললেন আর এই চশমা দুইশত টাকা দিয়ে দিবে ?টাকা বড় কথা নয় চশমাটাই আসল।চশমাটা ভেঙে ঠিক করেননি আপনি।"
ইসরাত লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে গেল।রনি চশমা হাতে নিয়ে বললো,"এই চশমাকে নিয়ে এরকম তর্ক করলো কেন?"
শান্ত বললো," দেখতো পাওয়ার আছে নাকি?"
রনি চোখে ধরে দেখলো পাওয়ার আছে।মনে মনে ভাবতে লাগলো,"চশমা পাওয়ার চশমা।মেয়েটার চোখের প্রবলেম এখন কি হবে?"
নীরব বললো,"কিরে কি ভাবিস রনি?"
রনি নিরবের দিকে তাকিয়ে বলল,"চশমাটা তো পাওয়ার চশমা।এখন ওই মেয়ের কি হবে?"
শান্ত বললো,"তুই জানিস কি হবে?আর এখনকার যে চশমা চোখে না ধরলে বোঝাই যায় না কোনটা পাওয়ার চশমা।"
রনি বললো ,"চল একটা চশমা কিনে দেই।"
পরদিন ইসরাত রেস্টুরেন্টে কফি খেতে গেল।রনিও সেখানে আসলো।রনি ইসরাতের জন্য চশমা কিনে এনেছে।এরই মাঝে ইসরাতকে দেখতে পেলো। ইসরাতের কাছে গেল।রনি বললো,"সরি।চশমাটা ভাঙার জন্য।আমি আসলে বুঝতে পারিনি আপনি কানা।"
ইসরাত রেগে গিয়ে বলল,"কি বললেন আপনি আমি কানা?আমি তো সবই চোখে দেখছি তো তো কোন হলাম কেমন করে?"
"ওহ সরি মানে আপনি চোখে কম দেখেন।"
"কেন এসেছেন এখানে?"
চশমাটা ইসরাতের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,"এটা রাখুন।"
"কি এটা?"
"আমি এখন আসি।"
রনি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেল।ইসরাত দেখলো চশমা।
ইসরাত চশমা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলো।তারপর চোখ দিয়ে দেখলো চশমা সবই ঠিক আছে।রিফাহ এসে ইসরাতের সামনে বসলো।ইসরাতের দিকে তাকিয়ে বললো,"নতুন চশমা কিনছিস নাকি!"
ইসরাত চশমা হাতে নিয়ে বললো,"নারে একটা ছেলে কালকে আমার চশমা ভেঙে ফেলেছিল।তারপর আজকে নতুন একটা চশমা কিনে দিলো।"
"ওহ তাই নাকি!"
"হুমম।ওই ছেলে একটা বই পড়ছি।আমি একজনের ওপর রাগ করে বইটা ছিঁড়ে ফেলেছি।তাই আমার চশমা ভেঙে ফেলেছে।"
"ওহ আচ্ছা।চশমাটা কিন্তু দারুন!"
"আচ্ছা আমি শো-রুমে যাবো।তুই যাবি?"
"না আমার কাজ আছে।তুই যা তালে।"
"আচ্ছা।আমি তাহলে যাই।"
ইসরাত শো-রুমে গেল।জামা দেখছে।এরই মাঝে রনিও এখানে আসলো।ইসরাত জামা দেখছে আর হাঁটছে।রনিও জামা দেখছে আর হাঁটছে।ইসরাত রনির সাথে ধাক্কা খেল।ইসরাত বললো,"কি ব্যাপার আপনি ধাক্কা দিলেন কেন?"
"আমি ধাক্কা দেইনি।জামা দেখছিলাম।"
"আপনি জামা দেখছেন কেন?বউ আছে নাকি গার্লফ্রেন্ড?"
"আরে না বউ গার্লফ্রেন্ড কিছুই না।ঐযে আমার এক বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডের জন্য কিনছিলাম।বন্ধু বলে যে তোর চয়েস ভালো একটা চয়েস কিনে দে।"
ইসরাত ভাবতে লাগলো,"আসলে আপনার চয়েস আছে। চশমাটা সুন্দর!"
"ওহ আচ্ছা।"
রনি এর আগে ইসরাতের মুখের দিকে কখনো ভালো করে তাকায়নি।আজ তাকিয়েছে।কেমন যেন একটা মায়াবী মুখ, মায়াবী চোখ।তাকিয়ে দেখতে লাগলো রনি।ইসরাত বললো,"সরি আপনার বই ছিঁড়ে ফেলার জন্য।"
"না ঠিক আছে।আপনার নামটা একটু বলবেন?"
"ইসরাত।আপনার?"
"রনি।"
"ওহ আচ্ছা।আপনি দেখেন কি জামা নিবেন বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডের জন্য।"
"একটা কথা বলি কিছু মনে না করলে।"
ইসরাত জামা দেখতে দেখতে বললো,"হ্যা বলুন।"
"আপনি যদি একটু চয়েস করে দিতেন ভালো হতো।আসলে মেয়েরাই তো মেয়েদের কাপড় এইসব ভালো কিনতে পারে।"
"আচ্ছা আমি চয়েস করে দিচ্ছি।"
ইসরাত রনিকে একটা জামা চয়েস করে দিলো।ইসরাতও একটা চয়েস করে কিনে ফেললো।রনি নীরবের কাছে গেল।জামাটা হাতে দিয়ে বললো,"দেখ কেমন হয়েছে।"
নিরব জামা বের করে বললো,"আরে জামাটা তো অনেক সুন্দর।"
"হ্যা আচ্ছা ভাবীকে দিস জামা।"
"হুমম ওই দেখ তোর ভাবি এসে গেসে।"
"আচ্ছা তাহলে আমি যাই।"
রনি বাসায় আসলো।কি যেন একটা মনের ভেতর ঢুকে গেল আজকে ইসরাতকে দেখার পর থেকে।এর আগে দুইদিন দেখা হয়েছিল কিন্তু চেহেরা ভালো করে দেখেনি।আজকে দেখে সত্যি অনেক ভালো লেগে গেল।দারুন একটা ভালো লাগা।রনি ছাদে গেলো।বাউন্ডারির ওপর বসে ভাবতে লাগলো।বার বার সেই হাসিমুখের চেহেরা ভাসতে লাগলো।আজকে রনির মন স্বাভাবিক নয় কি যেন একটা ঢুকে মনের ভেতর।রনি আবার বাসা থেকে বের হয়ে গেল।হাটতে লাগলো।হাটতে হাটতে খালাতো বোনের বাসার সামনে আসলো।ওপরে তাকিয়ে দেখলো বারান্দায় ইসরাত।রনি ইসরাতকে ডাক দিল।ইসরাত নীচে তাকিয়ে বলল,"কি হয়েছে ডাকছেন কেন?"
"আপনি কি এই বাসায় থাকেন?"
"জ্বি।"
"ওহ এখানে আমার খালাতো বোন রিফাহ থাকে।"
"তাই নাকি! রিফাহ আপনার বোন?"
"হ্যা।"
"ওহ।"
রিফাহ ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখলো ইসরাত কার সাথে যেন কথা বলছে।বারান্দায় এসে নীচে তাকাতেই দেখলো তার রনি ভাই।
রিফাহ বললো,"কি ভাইয়া এখানে কেন?"
"এইতো এমনি হাঁটছিলাম।"
"ওহ হাঁটো।"
"আচ্ছা থাক তুই আমি যাই।"
"যাও ভাইয়া।"
ইসরাত রিফার দিকে তাকিয়ে বলল,"ওহ এটাই তোর রনি ভাই যে কিনা সেই স্মার্ট হেব্বি দেখতে।"
"হ্যা।"
"তোর ভাইই আমার চশমা ভেঙেছে।"
" আবার কিনেও দিয়েছে।"
"হুমম।"
ইসরাত ঘরে ভেতর চলে এলো।
রাত ২ টা বাজে।রনি লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।গাছ বেয়ে ইসরাতের রুমের বারান্দায় গেল।রিফাহকে কল দিলো।রিফাহ ঘুম ঘুম চোখে কল ধরে বলল,"কি হয়েছে ভাইয়া?"
"তুই একটু বারান্দায় আয় কিন্তু একা আসবি।"
"বারান্দায় কেন ভাইয়া?"
"আমি আসতে বলছি তুই আয়।"
রিফাহ বারান্দায় এসে দেখলো রনি দাঁড়িয়ে আছে।
"কি ব্যাপার ভাইয়া তুমি এখানে?"
"আস্তে বল ইসরাত জেগে যাবে তো।"
"এত রাতে কেন তুমি?"
"এই তুই কি ইসরাতের ব্রেস্ট ফ্রেন্ড?"
"হুমম তো!"
"এই ইসরাতের কি বিএফ আছে?"
"এটা শুনে তুমি কি করবে?"
"বল না আছে নাকি।"
"না বিএফ ,হাসবেন্ড, লাভার এসব কিছু নেই।কিন্তু তুমি এটা শুনে কি করবে?"
"ওর আইডির লিংকটা দে।"
রিফাহ আচার্য হয়ে বলল,"ভাইয়া তুমি ইসরাতের আইডি লিংক কি করবে?ওহ বুঝেছি হয়ে গেসে না!"
"আরে না।দে তুই।আমার লক্ষী সোনা ময়না বোন।ভাইয়ের জন্য এইটুকু করবি না!"
"ভাইয়ের জন্য তো অনেককিছু করবো।কিন্তু কেন করবো সেটা জানতে হবে না!"
"পরে বলবো তুই আগে লিংক দে।"
ইসরাত রিফাহকে না দেখতে পেয়ে ডাকতে লাগলো।রনি বললো,"তুই দে আমি এখন যাই।"
ইসরাত বারান্দায় এলো।রিফাহর সমানে দাঁড়িয়ে বললো,"কিরে এখন এখানে কি করিস?"
"কিছু না এমনি দেখছিলাম।"
"ওহ চল ঘুমাই।"
সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসরাত ফেসবুকে ঢুকলো।দেখলো রনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে।ইসরাত রিফাহকে আইডিটা দেখিয়ে বললো,"এটা তোর রনি ভাই না?"
"হ্যা এটাই তো ভাইয়া।ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে।ফ্রেন্ড কর।"
"ফ্রেন্ড করবো?"
"কর।"
ইসরাত রনিকে ফ্রেন্ড করে ফ্রেস হতে গেল।রিফাহ বারান্দায় এসে রনিকে কল দিলো।রনি কল ধরে বলল,"কি বলবি বল?"
"ভাইয়া আজকে দেখা করবে?"
"কেন?"
"দেখা করলে করে দিবো।"
"কি করে দিবি?"
"ঐযে।"
"ঐযে কি?"
"ঐযে করে দিবো।"
"আরে কি করে দিবি বল।"
"তুমি কি বুঝো না!আজকে দেখা করো আমার সাথে।"
"আচ্ছা।"
সন্ধ্যায় রিফাহ রেস্টুরেন্টে গেল।রনি আগেই এসেছে।রিফাহ রনির সামনে বসে বললো,"ভাইয়া হয়ে গেসে না!"
"কি তখন থেকে এইসব বলছিস?কি হয়ে গেসে?"
"ঐযে।"
"ঐযে কি বল।"
"ভাবি।"
"ভাবি কিসের ভাবি কার ভাবি?"
"আমার ভাবি তোমার বউ।ভাইয়া আমি কিন্তু দারুন হেল্প করে দিবো।এইযে আইডি দিলাম।ফ্রেন্ড হতে বললাম।এখন কথাও হবে।আর ভাইয়ের জন্য তো এইটুকু তো করতেই পারি।কিন্তু ভাইয়া তুমি আমার কাছে লুকাচ্ছ কেন?শুনো ভাইয়া এইসব লুকোচুরি খেলে লাভ নেই আমি সোজা বুঝে গেসি তুমি ইসরাতের প্রেমে পড়ে গেসো।"
"বলে দিলি তাহলে!"
"হ্যা বলে তো দিলাম।"
"আচ্ছা শোন একটু দেখা করিয়ে দিবি?"
"অবশ্যই দিবো।আমার বিএফকে আসতে বলবো সাথে ইসরাতও আসবে এসে দেখবে ও বাবা আমার বিএফ।তারপর একা একা কি করবে শেষে তোমার সাথে বসে কফি খাবে।"
"ওয়াও!ভালো আইডিয়া।এই না হলো আমার লক্ষী সোনা বোন।"
"তো এখন বলো কি খাওয়াবে?"
"তুই যা খাবি তাই।"
"আমি এখন কিছু খাবো না।এখন আমি যাই।"
"যা বোন।"
রিফাহ উঠে দাঁড়ালো।
"ওহ হ্যা ভাইয়া এইযে হেল্প করছি এই জন্য কিছু টাকা দাও।"
"তুই কেমন বল তো ভাইয়ের জন্য কিছু করবি আর টাকা নিবি?"
"তুমি কেমন ভাই বলতো বোন হেল্প করছে আর এর বিনিময়ে কিছুই দিবে না!"
"আচ্ছা ধর ১ হাজার টাকা।"
রিফাহ টাকা হাতে নিয়ে চলে গেল।
রিফাহ আর রনি প্লানমতে রেস্টুরেন্টে গেল।সাথে রিফাহর বিএফ।রিফাহ বললো,"ওই ইসরাত দেখ তোর দুলাভাই এসেছে।আমি জানতাম না।তুই থাক আমি যাই।"
ইসরাত বললো,"আমি একা একা কি করবো এখন?'
রিফাহ আশেপাশে তাকিয়ে বলল,"ওই দেখ ভাইয়া এসেছে।ভাইয়ার সাথে তোর পরিচয় আছে।যা সময় কাটা।আমি একটু ওকে সময় দেই।"
ইসরাত এখন একা কি করবে ভেবে না পেয়ে রনির কাছে গেল।ইসরাত দাঁড়িয়ে আছে।রনি বললো,"আরে আপনি এখানে?"
ইসরাত রিফাহর দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে বলল,"রিফাহর সাথে আসলাম তা দেখা হয়ে গেল।আর আমি একা।"
"ওহ প্রবলেম নেই।দাঁড়িয়ে আছেন কেন?বসেন।"
ইসরাত বসে পড়লো।রনি তাকিয়ে আছে ইসরাতের দিকে।ইসরাত বললো,"আপনার বোন জোর করে আজকে নিয়ে এসেছে আমাকে।এখন দেখেন আমাকে রেখে।"
"কি আর করবেন বলুন?এইতো হলো চলছে।কফি অর্ডার দিবো?"
"এই আপনি কি করে জানলেন আমি কফি খাবো।"
"আপনার মুখ দেখেই বোঝা যায় আপনি কফি খেতে ভীষন পছন্দ করেন।"
রনি বার বার ইসরাতের দিকে তাকাচ্ছে।ইসরাত সেটা ভালো করেই খেয়াল করলো।
বাসায় এসে ইসরাত ফ্রেস হয়ে বারান্দায় গেল।নিচে তাকাতেই দেখলো রনি।কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে।রিফাহর সাথেই কথা বলছে দেখা করতে চায়।
পরদিন রিফাহ রনির সাথে দেখা করলো।রনি বললো,"আর কি করতে পারিস?"
"শুনো ভাইয়া তুমি এক কাজ করো তুমি ইসরাতের কাছে আর্ট শিখতে যাও।"
"কি বলিস এই বয়সে আর্ট শিখাবে নাকি!"
"ভাইয়া ইসরাত সব বয়সের মানুষকে আর্ট শিখায়।"
"ওহ।"
"হ্যা।"
"আমাকে শিখাবে?"
"হ্যা তাহলে তুমি আরো ফ্রি হবে।ফ্রেন্ড হবে তারপর ঐযে হবে দুইজনের মধ্যে।"
রনি বললো,"সত্যি?"
"হ্যা ভাইয়া।আমি ইসরাতকে বলে ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি।কিন্তু ভাইয়া..."
"কিন্তু কি আবার।"
"আমি কি এমনি এমনি এইসব করে নিবো নাকি।দাও না।"
"কত দিবো?"
"চল শরীর দোকানে।রিয়াল জামদানি কিনে দিবে।"
"ওই তুই রিয়াল জামদানি পরে কি বিয়া করতে যাবি নাকি!"
"কিযে বলো ভাইয়া বিয়া করবো কেন!মনু আপার বিয়েতে যাবো।তুমি কিনে না দিলে কিন্তু আমি ইসরাতের কাছে তোমার নামে এমনি একটা বাজে কথা বলবো।"
"আচ্ছা চল।"
রনি রিফাহকে নিয়ে শাড়ির দোকানে গেল।সেখানে ইসরাতকে দেখলে পেলো।ইসরাতকে দেখে রনি বলল,"ওই দেখ ইসরাত।"
ইসরাতের কাছে যেয়ে রিফাহ বললো,"ওহ ইসরাত আমার কল এসেছে আমি একটু কথা বলে আসি।"
আসলে রিফাহর কোনো কল আসেনি।রনির সাথে যেন ভালো করে কথা বলতে পারে এইজন্য এই কথা বলে একটু দূরে আসলো
রনি বললো,"শাড়ি কিনতে এসেছেন?"
"হুমম।"
"কার জন্য?"
"আমার।"
রনি একটা শাড়ি দেখিয়ে দিয়ে বললো,"ঐযে ওই শাড়িটা ব্ল্যাক শাড়ি এইটা পড়লে আপনাকে সুন্দর লাগবে।"
রনি শাড়িটা ইসরাতের গায়ে ধরে বলল,"আপনি ফর্সা মানুষ আপনাকে অনেক সুন্দর বানায় শাড়িটা।"
ইসরাত শাড়িটা হাতে নিয়ে বললো,"হুমম সুন্দর শাড়ি।আচ্ছা এটাই কিনি।আপনি এখানে কেন শাড়ির দোকানে?"
"ঐযে আমার থেকে শাড়ি কিনে নিবে।"
"বাহ ভালোই তো।কিনে দেন।"
রনি মনে মনে ভাবলে লাগলো,"ভালো না ছাই।তোমার জন্যই আজকে শাড়ি কিনে নিচ্ছে।"
রনি রিফাহকে ডাক দিল।রিফাহ কাছে এসে বললো,"ইসরাত শাড়ি কিনেছিস?"
"হুমম এখন কি করবি?"
"জুতা কিনতে যাবো।"
"জুতাখোর যা জুতা কিনে আন।"
"আচ্ছা টাটা।"
রনি বললো,"জুতাখোর কেন?"
"আর বলো না ভাইয়া ইসরাতের না হলেও ১৩-১৪ জোড়া জুতা আছে।আবার জুতা কিনতে যাচ্ছে।"
"শখ নাকি জুতা কেনা!"
"হ্যা মাসে মাসে জুতা কিনে।"
"আমার বিবি যখন হবে তখন তাকে অনেকগুলা জুতা কিনে দিবো।"
"এই দেখ ভাইয়া তোমার ধারের কাছেই আসেনি আর তুমি বিয়া নিয়ে পড়ে আছো।চলো শাড়ি কিনি।"
বিকেলে রনি বারান্দায় বসে আছে।হাতে চিকেন ফ্রাই।এখনি কামড় তখনি দেখলো ইসরাত একটা ছেলের সাথে রিক্সায় যাচ্ছে।খাওয়া বন্ধ করে রিফাহকে কল দিলো।রিফাহ কল ধরে বলল,"কি হয়েছে ভাইয়া?"
"এই ইসরাত কার সাথে রিক্সায় গেল?"
"ওহ শওকতের সাথে।"
"শওকত কে?"
"আমাদের ফ্রেন্ড।ভাইয়া তুমি কিছু ভেবো না এই নিয়ে।ইসরাত আর শওকত অনেক ভালো ফ্রেন্ড।"
"আচ্ছা।"
রনি ফোন রেখে দিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে আয়শা তার চিকেন ফ্রাই খাচ্ছে।রনি বলল,"তুই খাচ্ছিস কেন?তোকে কি এনে দেই না!"
"আজকে কি এনে দিয়েছিস যে।ভাইয়া ইসরাত কে?"
"কেউ না যা।"
"আমি কিন্তু রিফাহ আপুর থেকে সব শুনবো।"
"যা বলছি।"
রনি,শান্ত আর নীরব বসে আড্ডা দিচ্ছে।রনি বললো,"ধর তোদের ভাবি এখন আসলো এই দিকে পায়ে পেন্সিল জুতা ,গায়ে নীল শাড়ি , লম্বা লম্বা চুল ছেড়ে দিয়ে দুই হাতে নীল চুরি।কেমন হবে বলতো?"
শান্ত বললো,"দারুন!"
রনি দান দিকে তাকালো।প্রথমে চোখ পড়ল পায়ে।কি সুন্দর পেন্সিল জুতা পড়েছে!নীল শাড়ি চুল ছেড়ে দিয়ে দুই হাতে নীল চুরি আরেকটু ওপরে তাকাতেই দেখলো ইসরাত।রনি অবাক হয়ে গেল কি করে মিলে গেল তার কথা।নীরব বললো,"রনি,তুই আগে থেকে জানিস ভাবি এই এই স্টাইল নিয়ে আসবে।"
রনি বললো,"কসম খেয়ে বলছি আমি জানি না কিছু। আমি এমনি এমনি আমার ভালো লাগা থেকে বলেছি।"
শান্ত বললো,"বাহ তোর প্রেম তো 100% সত্যি।"
রনি বললো,"দাঁড়া আমি যাই ইচ্ছা করে ধাক্কা খাবো।"
রনি ফোন বের ফোনের দিকে তাকিয়ে হাঁটছে।ইসরাতের সাথে ধাক্কা খেল।ইসরাত ধাক্কা খেয়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে পরে যাচ্ছিল আর রনি এক হাত দিয়ে তাকে ধরে ফেলল।রনি ইসরাতের দিকে তাকিয়ে আছে।ইসরাতও রনি দিকে তাকিয়ে আছে।শান্ত আর নীরব হা করে দেখছে কি সুন্দর রোমান্টিক কাহিনী।রনি বলে ফেললো,"তুমি আমার কেড়েছ হৃদয়,কি করে থাকি তোমায় ছাড়া।ভালোবাসি তোমায়।"
ইসরাত বললো,"কি বলছেন এসব?"
রনি ইসরাতকে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলল,"না কই কি বললাম?"
"আপনি কিন্তু কিছু একটা লুকাচ্ছেন।"
"না কিছুই লুকাইনি।"
ইসরাত কিছু বললো না।রনির দিকে শুধু কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে চলে গেল।রনি ইসরাতের চলে যাওয়া দেখছে।শান্ত আর নীরব রনির কাছে আসলো।শান্ত বললো,"হয়েছে চল।"
রনি বললো,"কোথায়?"
নীরব বললো,"খোলা আকাশের নিচে।"
রনি নীরবের দিকে তাকিয়ে বলল,"কেন?"
নীরব বললো,"তোর ভাবি বলেছে প্রেমে পড়লে খোলা আকাশের নিচে যেতে হয়।"
রনি বললো,"তুই গেছিস নাকি!"
নীরব বললো,"হ্যা গেসি।"
তারা হাটতে হাটতে খোলা আকাশের নিচে গেল।শান্ত বললো,"দেখ কত বড় সীমাহীন আকাশ।তোদের ভালোবাসাও যেন এমন সীমাহীন হয়।"
ইসরাত একা চুপচাপ বসে আছে।রিফাহ পাশে বসে বললো,"ইসরাত তোকে হেব্বি লাগছে।"
ইসরাত রিফাহর দিকে না তাকিয়ে বলল,"এই একটা সত্যি কথা বলতো।"
"কি সত্যি কথা?"
"তোর রনি ভাই কি আমাকে ভালোবাসে!"
"তোকে কি ভাইয়া বলেছে?"
"সে তো ভাবনার ঘোরে বলে ফেলেছে।বলে যে তুমি আমার কেরেছ হৃদয়,কি করে থাকি তোমায় ছাড়া।ভালোবাসি তোমায়।আমি বললাম কি বলছেন এসব।আর বলে যে কিছু না।বল সত্যি কথা।"
"হুম। ভাইয়া তোকে পছন্দ করে মনে হয় ভালোবাসে।"
ইসরাত বললো,"ওহ তার মানে সবকিছু তোদের প্লান্ট।এইযে সেদিন চশমা ভেঙে দেওয়া ,রেস্টুরেন্টে যাওয়া ,তোর থেকে ফেসবুক আইডি নেওয়া আবার শাড়ির দোকানে যাওয়া সবকিছু প্লান্ট!"
"না ইসরাত সবকিছু না।যেদিন ভাইয়া চশমা ভেঙে ফেলে সেদিন তোদের প্রথম দেখা।তারপর ভাইয়া ভাবছিল তোর আর কোনো চশমা নাই নিজেকে অপরাধী মনে করে চশমা কিনে দিয়েছিল আর সেদিনই তোকে ভালো লেগে যায় আর ভাইয়া আমাকে সবকিছু বলে।তারপর ভাইয়া বলে তোর আইডির লিংক দিতে।আমি দিলাম।"
"আর উনি বলেন যে ফেসবুকে দেখলাম যে আপনার আইডি আপনার পিক দেওয়া তাই বুঝে গেছি ঐটা আপনার আইডি।কিন্তু আমি তো জানিই না তুই আইডি দিয়েছিস।"
"ইসরাত রাগ করিস না।"
ইসরাত কিছু না বলে আবার সেই জায়গায় এলো যেখানে রনি আড্ডা দিচ্ছিল।রনি সেখানেই বন্ধুদের সাথে বসে আছে।ইসরাত রনির সামনে দাঁড়ালো।রনি ইসরাতের সামনে দাঁড়িয়ে গেল।রনি বললো,"কি আপনি এখানে?"
"রিফাহকে কি বলছেন?"
"রিফাহকে তো অনেক কিছুই বলি।কোনটার কথা বলছেন?"
"আমার কথা কি বলছেন?"
"বলছি আপনি কোন ক্লাসে পড়েন কি নিয়ে পড়েন।আপনারা ব্রেস্ট ফ্রেন্ড হয়েও এক সাবজেক্ট নেননি।তবে আপনার সাবজেক্ট কিন্তু দারুন!"
"আর কি বলছেন?আমাকে কি ভালোবাসেন?"
"না।"
ইসরাত ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে আর এক হাত দিয়ে রনির শার্টের কলার চেপে ধরে বললো,"এটা কি দেখছেন?"
রনি মনে মনে ভাবতে লাগলো,"মেয়ে না কি মেরে ফেলবে নাকি!"
ইসরাত বললো,"কি হলো চুপ করে আছেন কেন?বলেন সব সত্যি কথা।"
রনি চুপ হয়ে আছে।ইসরাত ছুরি রেখে একটা পিস্তল বের করে বললো,"এখনও মিথ্যে বলবেন নাকি?"
"না।"
"বলুন সত্যি কথা।"
"হুমম ভালোবাসি অনেক।"
"আর কোনোদিন যদি এইভাবে সামনে দেখি তাহলে গুলি করে দেব।আর এই দুটোকেও যদি দেখি তাহলেও মেরে ফেলব।"
শান্ত একটু এগিয়ে এসে বলল,"আপু আমাকে মেরো না।আমি মরে গেলে আমার বউ বিধবা হয়ে যাবে।"
নীরব বললো,"শুধু কি তোর বউ বিধবা হবে আমার বউ তো বিধবা হয়ে যাবে।"
রনির গলা শুকিয়ে গেসে।চুপচাপ হয়ে আছে।ইসরাত তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেল।শান্ত আর নীরব কাছে আসলো।নীরব বললো,"ভাই কি এই মেয়েকে ছেড়ে দে।"
রনি কিছু না বলে বাসায় গেল।
৫ দিন পর
রনি মন আর মানছে না।কিছুই ভালো লাগছে না।শান্ত আর নীরবকে অনেক বলে রাজি করালো ইসরাতের কাছে যেতে।এক ঘন্টা পর ইসরাত আসলো।রনি ইসরাতের পথ আটকালো।
ইসরাত বললো,"কি আপনি?"
"হ্যা আমি।"
"কেন?"
"ভালোবাসি তোমাকে।"
"যদি গুলি করি।"
"দাও আমার হাতে দাও আমি নিজেই করি।"
ইসরাত ছুরি বের করে রনির হাতে দিলো।রনি ছুরিটা হাতে নিয়ে হাতে লিখতে লাগলো।ইসরাত ভালো করে দেখল রনি লিখেছে,"তোমাকে ভালোবাসি ইসরাত।আমি পারি না তোমাকে ছাড়া থাকতে।"
রনির হাত থেকে রক্ত পড়ছে।ইসরাত রনির হাত থেকে ছুরিটা কেড়ে নিয়ে বললো ,"কি করছেন এসব?"
"দাও পিস্তল।"
"পিস্তল দিয়ে কি করবেন?"
"নিজেকে মারবো।"
ইসরাত ব্যাগ থেকে একটা ওড়না বের করে রনির হাতে পেঁচিয়ে দিতে দিতে বললো,"খুব কেটেছেন তো।মনে হয় ওড়না দিয়ে হবে না।আর হসপিটালে যান।"
ইসরাত আস্তে আস্তে বলতে লাগলো,"আর শুনেন আমার পিস্তল কিন্তু রিয়াল না।নিজেকে রক্ষার জন্য এই খেলনা পিস্তল রেখেছি যেটা দেখতে রিয়ালের মত।তবে ছুরিটা রিয়াল।"
"ওহ।"
"হসপিটালে যান।আমি এখন যাই।"
ইসরাত চলে গেল।রনির মাথা ঘুরছে।শান্তর দিকে তাকাতেই অজ্ঞান হয়ে গেল।
ইসরাত বাসায় এসে বিছানায় বসে পড়লো।রিফাহ কাছে এসে বললো,"কিরে কি হয়েছে?"
"তোর রনি ভাই যা করলো ।হ্যা আমার পিছে এতদিন এত ছেলে ঘুরেছে এরকম পাগল তো কোনোদিন দেখিনি।"
"কি করেছে ভাইয়া?"
"যেয়ে দেখ কি করেছে।ওই ইয়ার বাসায় শান্ত।"
"শান্ত ভাইয়ের বাসায়?"
"হ্যা।"
রিফাহ তাড়াতাড়ি শান্তর বাসায় গেল।গেটে নক করছিল।শান্তর বউ গেট খুলতেই রিফাহ বলে উঠলো,"রনি ভাই আছে এখানে?"
"হ্যা আছে।"
রিফাহ রনির কাছে গেল।রনির হয়ে দিকে তাকিয়ে বলল,"একি ভাইয়া কি হয়েছে হাতে?মারামারি করেছ নাকি?"
শান্ত বললো ,"না মারামারি না তোমার ভাই ভালোবাসার পরীক্ষা দিচ্ছিল।তাই হাতে ছুরি দিয়ে লিখেছে 'আমি তোমাকে ভালোবাসি ইসরাত।আমি পারি না তোমাকে ছাড়া থাকতে।"
রনি চোখ বন্ধ করে আছে।চোখ না খুলেই বললো,"এখনও যদি সে আমার ভালোবাসা না বুঝে তাহলে রেললাইনে দাঁড়াবো।"
রিফাহ বললো,"কি বলছ ভাইয়া এসব!পাগল হলে নাকি!"
"হু পাগল করেছে তোর ওই বান্ধবী।"
রিফাহ রনিকে সান্তনা দিয়ে বললো,"আরে ভাইয়া এতকিছু ভেবো নাতো।ইসরাত তোমার হবেই দেখে নিও।"
"হুমম।"
রিফাহ বললো ,"কি করেছ হাতটা?"
"গলায় ছুরিও মারতে চেয়েছিলাম।"
"ভাইয়া পাগলামি করো না।"
রনি চোখ খুলে বললো,"ইসরাত,ইসরাত কোথায়?"
"বাসায়।"
"বাসায় কেন?"
"বাসায় থাকবে না তো কোথায় থাকবে ভাইয়া?"
"ওহ হ্যা।বাসায় থাকবে।"
"ভাইয়া তুমি রেস্ট করো আমি যাই।"
"যা।আর ওকে দেখে রাখিস ওর যেন কিছু না হয়।"
"আরে কিছু হবে না।"
রিফাহ উঠে দাঁড়ালো।।শান্তর চা হাতে এদিকে এলো।রিফাহর দাঁড়ানো দেখে বললো,"কি চলে যাচ্ছ নাকি?"
"হ্যা ভাবি।"
,"চা তো খেয়ে যাও।"
"আজ না।"
দুইদিন রনি বের হলো।রাস্তা দিয়ে হাঁটছে।ইসরাতের সাথে দেখা হয়ে গেল।রনি ইসরাতের পথ আটকালো।ইসরাত বললো,"কি ব্যাপার পথ আটকালেন!"
রনি কিছু বলেছে না।শুধু তাকিয়ে আছে।ইসরাত আবারো বললো,"কি হলো পথ ছাড়ুন।"
,"না।"
"না!"
"হুমম।"
ইসরাত রনিকে একটু সরিয়ে চলে গেল।রনি তাকিয়ে তাকিয়ে ইসরাতের যাওয়া দেখছিল।
ইসরাত ক্যাম্পাসে গেল।সেখানেও দেখলো রনি।রনির কাছে যেয়ে বললো,"আমি যেখানে আপনি সেখানে কেন?"
"আরে এটাই তো হবে।তুমি যেখানে আমি সেখানে।"
ইসরাত কিছু না বলে চলে যাচ্ছিল।এই সময় রনি বলে উঠলো,"না বুঝলে রেললাইনে যেয়ে দাঁড়াবো।"
ইসরাত আবার ঘুরে রনির কাছে এসে দাড়ালো,"কি বলবেন?"
"কিছু না।"
ইসরাত রিফাকে বললো,"এই তোর ভাই আমার পিছে লেগে আছে।"
"ভাইয়া তো তোর পিছেই তো লেগে থাকবে।"
"তুইও না।যেমন ভাই তেমন বোন।"
কিছুদিন পর.........
ইসরাতের ভাল লেগে গেল রনিকে।কিন্তু বলতে পারছি না।কি করে বলে এখন! রিফাহকে বলবে নাকি।ইসরাত রিফাহকে ডাক দিল।রিফাহ পাশে এসে বললো,"কি বলবি!"
"কি আর বলি।"
"বল।"
"আচ্ছা রনি কি সত্যি ভালোবাসে আমাকে!"
"ওহ বুঝেছি।"
"কি।"
রিফাহ রনিকে কল দিলো।রনি কল ধরে বললো,"কি এই সময় কল দিলি।"
"ভাইয়াআআআ।"
"কিইইই।"
"ইসরাত তোমাকে পছন্দ করে।"
"সত্যি!"
"হ্যা তবে শর্ত আছে।"
"কি শর্ত?"
"কাল ইসরাতের সাথে দেখা করে ইসরাতকে বলবে।আমি তোমাকে বলছি কি শর্ত।"
রিফাহ ফোন কেটে দিল।
ইসরাত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। সাথে রিফাহ।রনি ইসরাতের পথ আটকিয়ে দাঁড়ালো।ইসরাত বললো,"কি আপনি এখানে!"
"হ্যা আমি তো থাকবো।"
"কেন?"
"এই চাঁদ, সূর্য,পৃথিবী,পাহাড়-পর্বত,আমার এই তিন বন্ধু আমার বোন রিফাহ সবাইকে সাক্ষী রেখে এবং আমার হৃদপিণ্ডের কসম খেয়ে বলছি আমি তোমাকে কখনো কষ্ট দিবো না।তুমি যখন যা চাইবে তাই দিবো কিন্তু আমি শুধু তোমাকে চাই শুধু তোমাকে।দরকার হলে আমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবো তারপরেও তোমাকে আগুনের তাপের কাছে যেতে দিবো না।
আমি সেই সুতো হবো যে তোমায় আলোকিত করে নিজে জ্বলে যাবো
আমি সেই নৌকা হবো যে তোমায় পাড় নিজেই ডুবে যাবো"
ইসরাত শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল আর শুনছিল।রনি বললো,"দেখ সত্যি ভালোবাসি বলছি।"
ইসরাত আরেকটু কাছে আসলো।রনির দিকে তাকিয়ে আছে।রনি বললো,"সত্যি বলছি।"
ইসরাত কিছু না বলে চলে যাচ্ছিল।রনি ইসরাতের হাত ধরে ফেলল।বললো,"কেন চলে যাচ্ছ?কিছু বলো।হ্যা/না বলো।"
"বলবো?"
"হ্যা বলো।"
"যদি না বলি!"
"না বলতেই হবে।"
"না বললে কি হবে?"
"কি আর হবে,রেললাইনে দাঁড়িয়ে যাবো সময়মত।"
রিফাহ একটু এগিয়ে এসে বললো,"না ভাইয়া তোমাকে কোথাও যেতে দিবো না।"
রনি ইসরাতের হাত ছাড়েনি এখনো।ইসরাত বললো,"রিফাহ তুই যা আমি আসছি।আর আপনার বন্ধুদেরকেও যেতে বলেন।"
রনি বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বলল,"এই যা তোরা।কি দেখিস!"
সবাই চলে গেল।ইসরাত বললো,"হাত ছাড়ুন।"
রনি আরো শক্ত করে ধরে বললো,"না আগে বলো।"
"হাত না ছাড়লে আমি বলবো না।"
রনি হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,"এখন বলো।"
ইসরাত রনিকে জড়িয়ে ধরলো।রনি কি বলবে ভেবে না পেয়ে ইসরাতকে জড়িয়ে নিলো।রিফাহ লুকিয়ে সব দেখছিল।শান্ত আর নীরবও সব দেখছিল।ইসরাত রনিকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেল।রনি দাঁড়িয়ে থাকলো।ভীষন একটা ভাবনার মধ্যে ডুবে আছে রনি।ইসরাত চলে গেলে শান্ত আর নীরব রনির কাছে আসলো।শান্ত ডাক দিল।রনি শুনলো না ভীষন ভাবনার মধ্যে আছে।নীরব একটু জোরে ধাক্কা দিলো রনিকে।রনির ভাবনার ঘোর কেটে গেল।রনি বললো,"চল।"
নীরব বললো,"কোথায়?"
রনি বললো,"খোলা আকাশের নিচে।"
শান্ত বললো,"আজকে কি আমরা যাবো নাকি!আজকে তুই ভাবীর সাথে যাবি।ভাবি এখন ক্যাম্পাসে।তুই যা।"
রনি ক্যাম্পাসে গেল।দেখলো ইসরাত ফ্রেন্ডের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে।রনি রিফাহকে কল দিলো।রিফাহ কল ধরে বলল,"হ্যা ভাইয়া আমি আসছি।"
"তুই না ইসরাতকে আসতে বল।"
"আরে সে পরে আগে আমি যাই।"
রিফাহ রনির কাছে গেল।রিফাহ বললো,"ভাইয়া।"
"কি?"
"ভাইয়াআআ।"
"কি নিবি বল?"
"আজকে কিছু নিবো না।খাওয়াবে শুধু।"
"আচ্ছা খাওয়াবোনি।ওকে ডাক দে যা।"
একটু পরে ইসরাত এলো।ইসরাত বললো,"কি?"
"কিছু না।"
"তাহলে যাই।"
ইসরাত চলেই যাচ্ছিল।রনি ইসরাতের হাত ধরে বলল,"কোথায় যাচ্ছ?"
"ওখানে?"
"তুমি আজকে আমার সাথে যাবে।"
"কোথায়?"
"খোলা আকাশের নিচে।"
"কেন?"
"প্রেমে পড়লে নাকি খোলা আকাশের নিচে যেতে হয়।"
ইসরাত রনির হাত ধরে হাটতে শুরু করলো।ইসরাত বললো,"তাই!কে বলেছে তোমাকে?"
"নীরব বলেছে।"
"ওহ চলো।"
রনি আর ইসরাত কাশবনে গেল।রনি বললো,"দেখ কি সুন্দর আকাশ।"
"হুমম।আচ্ছা শুনো চলো রেস্টুরেন্টে যাই।"
"চলো।"
ইসরাত চিকেন ফ্রাই খেতে খেতে বললো,"আমার মাঝে মাঝে ভাতের রুচি একদম হারিয়ে যায়।একদম খেতে ইচ্ছে করে না।তখন খালি মুরগি খেতে মন চায়।"
"ওহ এখনকি ভাত খেতে মন চাচ্ছে না নাকি!"
"না এখন এমনি খাচ্ছি।"
"ওহ আচ্ছা।"
ইসরাতের খাওয়া শেষ।ইসরাত বললো,"আচ্ছা শুনো আমার এখন যেতে হবে।"
"এখনি যাবে?"
"আমার তো টিউশনি আছে।আর কয়েক মিনিট আছে আমাকে যেতে হবে।"
"আচ্ছা আমি তোমাকে পৌঁছে দেই।"
"চলো।"
ইসরাত বাসায় ফিরল সন্ধার পর।ঘরে ঢুকতেই রিফাহ বললো,"ভাবি আসেন ভাবি বসেন।কি খাবেন!কি খাবেন আপনি চা বা কফি পছন্দ করেন সাথে কি দিবো!ভাইয়া কোথায়?"
ইসরাত ব্যাগ থেকে ফোন বের করে বললো,"জি ননদ আমি আজকে কফি খাবো।যা করে আন।আর এত ঢং করতে হবে না।"
"ঢং কিসের হুমম!দুইদিন বাদে তোর সাথে আমার ভাইয়ের বিয়ে।তোকে তো ভাবি বলবো।"
"আচ্ছা আমি ফ্রেস হই তুই কফি কর।"
ইসরাত কফি খাচ্ছে।রিফাহ বললো,"কোথায় গেসিলি?"
"কাশবনে।"
"ওহ ভালো।"
"হুমম।"
"আমার খাওয়া শেষ।যাই পড়তে বসি।"
"যা।"
ইসরাত পড়ছে।ডাটা অন ছিল।একটা ম্যাসেজ আসলো।রনি ম্যাসেজ দিয়েছে।
ইসরাত রিপ্লাই দিলো,"হুম বলো।"
"কি করছো?"
"পড়ছি।"
"ডিস্টার্ব করলাম মনে হয়।"
"না ঠিক আছে।আচ্ছা ফ্রি হলে নক করবো।"
"ঠিক আছে।"
পড়া কমপ্লিট করে ইসরাত রনিকে কল দিলো।রনি কল ধরে বলল,"পড়া কমপ্লিট?"
"হ্যা।"
"আচ্ছা একটা কবিতা বলবে!রোমান্টিক।"
"আমি একটাই কবিতা পারি।"অনন্ত প্রেম" ।
"ওহ বলো।"
"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার"
রনি কবিতা শুনে বললো,"খুল সুন্দর কবিতা।"
"রবীন্দ্রনাথের।আমার খুব ভালো লাগে।"
"ওহ।আচ্ছা কাল তো দেখা করছি।"
"হুমম।বিকেলে।"
"আচ্ছা।"
"আমি এখন ফোন রাখি।"
"ঠিক আছে।"
পরদিন বিকেলে ইসরাত বের হচ্ছে।গেটে দাঁড়িয়ে।রনি আসলো বাইক নিয়ে।রনি বললো,"উঠে পড়।"
ইসরাত বাইকে উঠে বললো,"কোথায় যাবে?"
"যেখানে মন চায় চলো।"
"কাশবনে আজকে যাবো না কিন্তু।"
"আচ্ছা চলো।"
রনি ইসরাতকে অনেক দূরে নিয়ে গেল।নদীর পাড়ে নিয়ে গেল।রনি বললো,"পছন্দ হয় জায়গাটা!"
ইসরাত বললো,"হুমম হয়তো।আচ্ছা চলো পার্কে যাই।"
"এখনি যাবো?"
"হুমম চলো।"
ইসরাত আর রনি পার্কে গেল।রনি বললাম,"১৫ তারিখে তোমার বার্থডে!"
"হ্যা।"
"হুমম ভালো তো।"
"আচ্ছা শুনো কাশবনে চলো।"
"না যাবো না।"
"আরে চলো তো।"
রনি ইসরাতকে কোলে তুলে নিলো।ইসরাত বললো,"এই যাবো না।আমি বললাম তো কাশবনে আজকে যাবো না।নামিয়ে দাও না হলে কিন্তু ১ মাস কথা বলবো না।"
রনি ইসরাতকে নামিয়ে দিল।ইসরাত খুব রাগ করেছে।ইসরাত রেগে অন্য দিকে যাচ্ছিল।রনিও পিছে পিছে যাচ্ছে।
"এই শুনো কামড় দিও না নখ দিয়েও খামছি দিও না।এই আমি আর তোমার কথার অবাধ্য হবো না।এইযে প্রমিস করছি তোমার কথা শুনবো।"
রনি ইসরাতের ওড়না টেনে ধরে বলল,"প্লিজ রাগ করো না জানু।"
ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে বলল,"ওড়না ছেড়ে দাও।"
"না।"
"ছেড়ে দাও বলছি।"
রনি ওড়না ছেড়ে দিলো।ইসরাত রনির হাত ধরে বলল,"চলো।"
"কোথায়?"
"কাশবনে।"
"তুমি তো না করলে আবার।"
"তখন যেতে মন চায়নি।এখন মন চাচ্ছে।"
"আচ্ছা চলো।"
ইসরাত বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে চা খাচ্ছে।রিফাহও খাচ্ছে।
"এই কাল দিন বাদে তোর বার্থডে।"
"হুমম।"
"এই শোন কালকে একটু রনি ভাইয়ের বাসায় যাবো।তুইও চল।"
"কি বলিস আমি যাব কেন?"
"আহা চল।বিয়ের আগে কি যাওয়া যাবে না!"
"হ্যা যাওয়া যায়।"
"তো চল।প্লিজ আমি রনি ভাইকে বলেছি।খালাকেও বলেছি তুই আসবি।"
"তুই আগে থেকেই বলে দিস।"
"হ্যা এখন না গেলে কেমন হবে।"
"ঠিক আছে চল।"
পরদিন ইসরাত রনিদের বাসায় গেল।রনি নিজের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।ইসরাত রনির চোখ ধরলো।রনি ইসরাতের হাতের ওপর হাত রেখে বললো,"ওহ জানু তুমি কখন এসেছ?"
ইসরাত চোখ ছেড়ে দিয়ে বলল ,'তুমি কি করে বুঝলে আমি?"
"আমার জানপাখি আমার চোখ ধরবে আমি বুঝবো না এটা কি হয়?আমি চোখ বন্ধ করে তোমার হাত ধরেই বুঝতে পারি যে তুমি।"
"হুমম ।আচ্ছা আমাকে কি দিবে কালকে?"
"গিফট কি বলা যাবে কি দিব!যা দিব তুমি খুব খুশি হবে।"
"ঠিক আছে।"
রাত ১১:৫৭ মিনিটে।রনি কল করলো।ইসরাত কল ধরে বলল,"এই তুমি কোথায় যে কল দিচ্ছ?"
"ইসরাত একটু ছাদে এসো।তাড়াতাড়ি।"
"আমি বলতে পারছি না তুমি এসো তাড়াতাড়ি।কিযে হবে বুঝতে পারছি না।"
"রনি তোমার কি হয়েছে বলো।এই রনি ,রনি কি হয়েছে!কি হলো কথা বলছে না।"
ইসরাত দেখলো বাড়িতে কেউ নাই।সবাই কোথায় গেল।ইসরাত ছাদে যেয়ে রনিকে ডাকতে লাগলো।কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ আসছে না।চারদিকেও অন্ধকার।রনি পিছন থেকে বলে উঠলো,"happy birthday to you Eshrat."
তারপর সবাই বেরিয়ে এলো।চারদিকে সুন্দর করে সাজানো।ইসরাত বললো,"ওহ তাহলে এই প্লান।আমাকে ছাদে ডাকিয়ে আনা হলো এইভাবে।আমি তো ভয় পেয়ে গেসিলাম কি হলো।"
রনি বললো,"এবার তুমি চোখ বন্ধ কর।তোমার গিফট।"
ইসরাত চোখ বন্ধ করলো।রনি যখন খুলতে বললো তখন খুলল।ইসরাত দেখে অবাক সে তো এটাই কিনতে চেয়েছি।৫ ফুট সাইজের টেডিবিয়ার।ইসরাত খুশিতে টেডিবিয়ারকে জড়িয়ে ধরে বললো,"wow! Very nice.I like it"
সবাই গিফট দিলে কেক কাটলো।
পরদিন ইসরাত বাসায় আসলো।বিকেলে ইসরাত পার্কে গেল।দেখলো রনি কার সাথে যেন গল্প করছে।ইসরাত রনির হাত ধরলো।ওই মেয়েটা বললো,"কে ভাবি নাকি?"
রনি বললো,"হ্যা পিঙ্কি,তোর ভাবি।"
পিঙ্কি বললো,"কয় নাম্বার ভাবি?"
ইসরাত বললো,"কয় নাম্বার মানে?"
রনি বললো,"কি বলছিস কয় নাম্বার হবে!এটাই তো ফাস্ট।"
ইসরাত বললো,"আপনি ভালো করে বলুন তো কয় নাম্বার।"
পিঙ্কি বললো,"কি আর বলবো আপু এ তো ১২ ভাতার।আমার সাথে ২ বছর আগে রিলেশন ছিল ব্রেকআপ করেছে।অন্য একটা মেয়ে দেখলেই ব্রেকআপ করে দেয়।জানি না কয়টা যে করলো।আপু তোমার বিশ্বাস না হলে আমি প্রমান করে দিবো।আমি বড় আপু হয়ে বললাম ভালো মনে করলে ভালো।"
রনি বললো,"পিঙ্কি তুই কি চাস! তুই এইভাবে মিথ্যা বললি কেন?"
পিঙ্কি বললো,"আমি মিথ্যা বলিনি।"
ইসরাত রনির হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,"ওহ তোমার মাঝে যে এই আছে আমি তো জানতাম না।তোমার বোন আর তুমি আমার সাথে ঠকবাজি করেছ।আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করবে না।এই যে এখনি সব দিক দিয়ে ব্লক মেরে দিচ্ছি।আর কখনো আসবে না আমার সামনে।"
ইসরাত চলে গেল।রনি পিঙ্কিকে বললো,"কি করলি এটা! তোর সাথে আমার কোন কালে রিলেশন ছিল!কেন এমন করলি!"
"তুই আমাকে এপসেপ্ট করিসনি মনে আছে?তোকে আমি চেয়েছি।তুই আমার হবি না তোকে আর কারো হাতে দিবো না।"
পিঙ্কি চলে গেল।রনি চুপচাপ হয়ে ঘাসের ওপর বসে পড়লো।অনেক ভালবাসে সে ইসরাতকে।নীরব আর শান্ত সবই দেখছিল দূর থেকে।কাছে এসে রনির পাশে বসে রনিকে জড়িয়ে ধরলো।রনি চুপচাপ বসে আছে।নীরব বললো,"কেন হলো এমন?"
শান্ত বললো,"ওই পিঙ্কিকে আমরা ছাড়বো না।রনি তুই কিছু ভাবিস না ইসরাত তোরই হবে।"
রনি কিছুই বলছে না।ইসরাত বাসায় খুব রাগান্বিত হয়ে রিফাহকে গালি দিতে লাগলো চিল্লাচিল্লি করে।রিফাহ বললো,"কি বলছিস ভাইয়া তো এমন না।"
ওহ তোর ভাই ১২ ভাতার আমাকে বলিসনি কেন?আর কখনো তোর ভাইয়ের নাম আমার সামনে নিলে আমি এ বাসা ছেড়ে দিবো।আর তোর সাথেও সম্পর্ক রাখবো না।"
রনিকে নীরব আর শান্ত বাসায় আনলো।রনি কিছুই বলছে না।নড়াচড়াও করছে না।চুপচাপ বসে আছে নিজের রুমে।নীরব আর শান্ত রনির বাবা মাকে সব কিছু খুলে বললো।বিকেল পেরিয়ে রাত হয়ে গেল।রনি ওই একই অবস্থা।রনির মা প্লেটে খাবার এনে মুখে দিলো।রনি মুখ খুলল না।মা বললেন,"বাবা খেয়ে নাও।না খেলে কি হবে!হা করো বাবা।"
রনি তারপরেও চুপচাপ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অন্যদিকে।রনির মা প্লেট নিয়ে চলে গেল।
রনির এই অবস্থায় মা কাঁদতে লাগলেন।নিজেও কিছু লললো,"ভাইয়া কোথায়?"
"ভাইয়ার রুমে।"
রিফাহ রনির রুমে ঢুকে দেখলো চুপচাপ রনি।রিফাহ ডাক দিল।রনি রিফাহর দিকে তাকালো।রিফাহ বললো,"ভাইয়া।"
রনি বললো,"সে কি আসবে না!"
"আসবে।"
"কখন আসবে।আমি তো তার জন্য অপেক্ষা করছি।তুই একা কেন রে?তাকে রেখে এসেছিস নাকি?"
"ভাইয়া সে বাসায়।"
রনি অস্থির হয়ে বলল,
"কেন নিয়ে আসিছনি?আমি তার কাছে যাবো।"
"ভাইয়া।"
রনি বাসা থেকে বের হলো।রিফাহ আয়শার কাছে যেয়ে বললো,"ভাইয়া মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।"
"কি বলো?"
"আচ্ছা থাক আমি ভাইয়ার সাথে যাই দেখি কি করে।"
"আচ্ছা যাও।"
রনি ইসরাতের বাসায় সামনে দাড়িয়ে গেল।ইসরাতকে বারান্দায় দেখতে না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।রিফাহও পিছে পিছে গেল।রনি গেটে নক করছে।ইসরাত গেট খুলে রিফাহর হাতে এক টান দিয়ে ভেতর ঢুকিয়ে গেট লাগিয়ে দিল।রিফাহ বললো,"ভাইয়া।"
ইসরাত কোনো কথা না শুনে রিফাহর হাত রুমের মধ্যে নিয়ে এলো।রনি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।অনেক্ষন হয়ে গেল গেট খুলছে না।৩ ঘন্টা হয়ে গেল।রনি সিঁড়ির ওপর বসে আছে।আবার গেটে নক করলো।কিন্তু গেট খুলল না।বিকেলে ইসরাত বের হলো।রনি ইসরাতের দিকে তাকিয়ে থাকলো।ইসরাত সোজাসুজি চলে গেল।রনিও ইসরাতের পিছনে পিছনে যেতে লাগলো।রিফাহ রনিকে থামিয়ে শান্ত আর নীরবের কাছে নিয়ে গেল।রনি চুপচাপ বসে আছে।শান্ত আর নীরবও মন খারাপ করে আছে।রাতে রনি আবার ইসরাতের বাসার ভেতর গেটের সামনে থাকলো।কিন্তু গেট খুলল না।কেউ গেট খুলতে চাইলেও ইসরাত বাধা দেয়।রনি সারারাত সিঁড়ির ওপর বসে থাকলো।কিন্তু ইসরাত এলো না।সকালে বাসায় গেল।রনির মা বললো ,"আয় বাবা খা।"
টেবিলে মুরগির তরকারি চোখে পড়তেই রনির মনে হলো ইসরাত মুরগি খেতে পছন্দ করে।রনি মুরগির বাটি হাতে নিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিলো।ভাতের প্লেটও ফ্লোরে ফেলে দিয়ে নিজের রুমে যেয়ে দরজা লাগিয়ে দিল।রিফাহ বললো,"আন্টি ভাইয়াকে গালি দিবেন না।ভাইয়ার মাথা ঠিক নেই।"
রনি মা খেলেন না।বাবা যেটুকু খেয়েছেন খেয়েই উঠে গেলেন।মা বসে আছেন খাবার সামনে রেখে।আয়শা খেয়ে উঠে গেল।রিফাহ রনির দরজায় নক করতে করতে বললো,"ভাইয়া গেট খুলো ভাইয়া।ওই ভাইয়া ইসরাত আসবে তো,ভাইয়া।"
রনি গেট খুলল না।মাঝরাতে রিফাহ উঠে রনির রুমের সামনে দাঁড়ালো।গেটে হাত রাখতেই গেট খুলে গেল।রুমে রনি নেই।বারান্দায় যেয়ে দেখলো বারান্দার এক কোনে রনি বসে আছে চোখ বন্ধ করে।হয়তো ঘুমোচ্ছে।রিফাহ আর ডাক দিল না।ডাক দিলে হয়তো আর ঘুম আসবে না।সকালে ঘুম থেকে উঠে রিফাহ রনির রুমের বারান্দায় যেয়ে দেখলো রনি নেই।রিফাহ দেরি না করে বাসায় গেল।দেখলো রনি গেটের সামনে সিঁড়ির ওপর বসে আছে।রিফাহ রনির পাশে বসলো।
ইসরাত রাত ২ টায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে আর রনির কথা ভাবছে।আর এদিকে রনি বারান্দার এক কোনে বসে আছে আর বার বার বলছে ইসরাতের কাছে যাবো।রনির ঠিকমতো ঘুম হয় না।ঘুমোতে গেলেও ঘুম আসে না।ঘুমোলেও কি যেন স্বপ্নে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে।তারপর পুরো বাড়ি ছুটোছুটি করতে থাকে।ঠিকমতো খায় না।বাবা মা খুব টেনশনে আছেন রনিকে নিয়ে।
সকালে উঠে বাইরে গেল।রনির মা রনির রুমে ঢুকে দেখলেন রনি নেই।পুরা বাড়ি খুজলেন নেই।এদিকে খাওয়ারও নাম নেই।রনি হেটে যেতে শুরু করলো।ইসরাতের বাড়ির সামনে এসে থেমে গেল।বারান্দার দিকে তাকিয়ে দেখল ইসরাত কাপে কি যেন খাচ্ছে হয় কফি না হয় চা।ইসরাতকে দেখলেই রনির মন খুব খারাপ হয়ে যায়।কি যেন হারিয়ে ফেলেছে,পেয়েও না পাওয়া হয়ে গিয়েছে।কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেল পার্কে।শান্ত আর নীরব পার্কেই ছিল।রনিকে দেখে রনির কাছে এসে শান্ত বললো,"কিরে রনি কই যাস?"
রনি বললো,"ইসরাতের ওখানে গিয়েছিলাম।কিন্তু সে আমাকে উপেক্ষা করেছে।"
নীরব বললো,"আরে ইসরাত ঠিকই বুঝবে।"
রনি বললো,"কোথায় বুঝে?আচ্ছা শোন আমাকে একটু একা থাকতে দে।"
নীরব মুখ গোমড়া করে বললো,"তুই তো এখন সবসময় একা থাকিস।মুড অফ করে থাকিস।একটুও হাসিছ না।মুখ গোমড়া বানিয়ে থাকিস।"
রনি কিছু না বলে পার্ক থেকে বের হলো।তার চাই একটা নির্জন জায়গা সেখানে কেউ নেই।শুধু সে।
নীরব আর শান্ত চেষ্টা করে রনিকে হাসিখুশি রাখতে।কিন্তু তাদের এ চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে।অথচ আগে রনি কত হাসিখুশি ছেলে ছিল।কখনো কষ্ট পেয়েছে কিনা বলতে পারা যাবে না।
রনি কাশবনে গেল।তার মনে পড়ে গেল একদিন ইসরাত এই নিয়ে রাগ করেছিল আবার তখনি বললো যাবে।কয়েক দিন হয়ে গেল তাও কিছু বুঝছে না ইসরাত।রনি বার বার বোঝাতে চায় এর আগে তার কারো সাথে রিলেশন ছিল না।এটাই ফাস্ট।
রনি বাসায় যখন ফিরল তখন রাত ১ টা বাজে।বাবা মা এখনো জেগে আছেন রনির অপেক্ষায়।মা এগিয়ে এসে বললেন,"কিরে বাবা,এত দেরি করলি যে।ভাত খাবি না!"
রনি টেবিলের কাছে এসে সবগুলা খাবার ফ্লোরে ফেলে দিলো।তারপর নিজের রুমে যেয়ে দরজা লাগিয়ে দিল।রনির বাবা বললেন,"একটা ডক্টরের সাথে কথা বলেছি।ডক্টর না দেখালে রনির মানসিক অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হয়ে যাবে।এরপর যখন সুস্থ হবে তখন একটা ভালো পাত্রী দেখে বিয়ে দিয়ে লন্ডনে পাঠিয়ে দিবো।"
রনির মা বললেন,"ছেলেকে এত দূর পাঠিয়ে দিবে!"
"তো কি করবে দেশে থেকে পাগল করে দিবে!পাগলই হয়ে গেসে।"
রিফাহ চুপচাপ শুনে যাচ্ছিল।রনির বাবা বললেন,"কি রিফাহ ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি না!"
রিফাহ বললো,"হ্যা আঙ্কেল।আমারও মনে হয় ঠিক সিদ্ধান্ত।"
"আচ্ছা তোমরা যাও ঘুমাও।আর রনির মা চলো ঘুমাতে যাই।"
রনি দরজা লাগিয়ে রুমের এক কোনে ফ্লোরে বসে আছে।সবসময় যেন মনে হয় ইসরাত তাকে কাছে ডাকছে।কিন্তু ইসরাত কিছুই বলে না।আর পিঙ্কির ওপর রনির অনেক রাগ হচ্ছে।
রনির আজকেও ঘুম ধরলো না ।সারারাত ফ্লোরে বসে কাটিয়ে দিলো।এইভাবে আর কিছুদিন চললে রনির শরীর অনেক বেশি ভেঙে পড়বে।অন্তত ঘুমটা তো প্রয়োজন।তাই শান্ত আর নীরব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো রনিকে স্পে করিয়ে ঘুম দিয়ে দিবে।
সকাল বেলা শান্ত আর নীরব এলো রনির বাসায়।রনির মা গেট খুলে দিল।ভেতরে ঢুকে শান্ত বললো,"আন্টি রনি বাসায় নেই?"
"আছে ওর রুমে।ওকে ডাক দাও।"
"আচ্ছা আন্টি।রনি কি ঘুমিয়েছে আজকে!"
"কি করে বলি রুমের তো গেট লাগিয়েছে।তোমরা ওকে ডাক দেও।"
শান্ত আর নীরব রনির গেটে এসে নক করলো।একটু পরে রনি গেট খুলল।রনির গেট খোলার সাথে সাথে স্প্রে মেরে দিলো।তারপর রনিকে বিছানায় সুন্দর করে শুয়ে দিয়ে গায়ে চাদর দিয়ে দিল।এরপর শান্ত আর নীরব রুম থেকে বেরিয়ে এলো।রনির মা বললেন,"রনি কি করে?"
নীরব বললো,"ঘুমোচ্ছে।"
"ওহ এখন উঠবে।"
"না আন্টি ৬-৭ ঘন্টা ঘুমাবে স্প্রে মেরে দিয়েছি।ঘুম থেকে উঠলে খায়ে দিবেন।এখন আমরা যাই।"
বিকেলে রনি ঘুম থেকে উঠলো।রনির মা খাবার রেডি করে আনলেন রনির জন্য।
রনি বললো,"মা ইসরাত কি আমার কথা আমাকে বুঝবে না?"
মা খাবার মুখে দিয়ে বললেন,"হ্যা বাবা ঐতো বলেছে আসবে।তোকে সারপ্রাইস দিবে।এখন খেয়ে নে।না খেলে ওর সামনে দাঁড়াবি কি করে!চেহেরার যে অবস্থা হয়েছে মরা মরা।তাজা তাজা চেহেরা কর ভালো হবে।"
"আচ্ছা রিফাহ একা আসে কেন?ইসরাতকে সাথে করে নিয়ে আসলেই তো পারতো।"
"হুমম আজকে।নে খা।"
"খাচ্ছি তো।অনেক খেয়েছি আজকে।পানি দাও।"
"আর একটু খা।"
এই সময় রিফার রনির রুমে ঢুকলো।রিফাহকে দেখে রনি বললো,"এই ইসরাত কোথায়?কিরে চুপ কেন বল।মা রিফাহ কিছু বলছে না কেন?"
রিফাহ বললো,"ভাইয়া ইসরাত তোমার কথা শুনতেই পারে না।রেগে যায়।আর তাহলে আসবে কি করে?কয়েকদিন ধরে তো দেখছ।"
"মা রিফাহ এইসব কি বলে!ইসরাতকে আনেনি কেন?আর তুমি মিথ্যুক আমাকে মিথ্যা বলো।সবসময় বলো তোমরা কেউ ভালো না।ইসরাতের কাছে যেতে দাও না।তোমরা অনেক খারাপ।"
রনি প্লেট ফেলে দিলো ফ্লোরে।এই কয়েকদিন অনেক কিছু ভেঙে ফেলেছে।
চিৎকার করে বললো,"আমি কিছু জানি না আমার ইসরাতকে চাই।আর তুই যা বের হ আগে ইসরাতকে নিয়ে আসবি যা বের হ।"
রনি রিফাহর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেয়ে বের করে দিল।রনি এখন সবকিছু চিৎকার করে বলছে।রিফাহ বললো,"ভাইয়া ইসরাত না আসলে কি করবো!"
"কেন আসবে না?সে আজকে আসতে চেয়েছে তুই জানিসনি।যা আন বলছি।"
"ভাইয়া বোঝার চেষ্টা কর।"
"না বুঝি না।তুই যাবি না আমি যাবো।"
রনি বের হলো।
ইসরাতের বাসার সামনে যেয়ে জোরে জোরে ইসরাতকে ডাকতে লাগলো।ইসরাত বারান্দায় এসে বললো,"কি হয়েছে এমন চিল্লাচিল্লি করছো?"
"আমি তোমাকে ভালোবাসি ইসরাত।আমি শুধু তোমাকেই চাই।তোমাকে চাই শুধু তোমাকেই চাই আর কিছু জীবনে পাই না পাই।"
"ওরে সালমান শাহ রে তোমাকে চিনি আমি।"
"কতটুকু চিনো আমাকে!দুইদিনে কি চিনেছ আমাকে?তুমি আমার লাইফ হিস্ট্রি সম্পর্কেই ঠিকভাবে জানো না।"
"যাও বলছি যাও।"
"আমি যাবো তোমাকে সাথে করেই নিয়ে যাবো।আমি এখান দাঁড়ালাম এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো।"
বিকেল থেকে রাত হয়ে গেল আকাশে প্রচুর মেঘ।যেকোন
মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে।রনি বাসায় গেল না।দাঁড়িয়ে আছে বাসার সামনে।রাত ১০ টার পর বৃষ্টি নামলো।রনি তারপরে কোথাও গেল না।ভিজতে লাগলো।সারারাত বৃষ্টি হলো।সারাটা রাত রনি ভিজলো ওখানে।সকালে বৃষ্টি থামল।রনি ভেজা কাপড়ে দাঁড়িয়ে আছে ইসরাতকে পাওয়ার জন্য।তবুও ইসরাত এলো না।খুব ক্লান্তবোধ করছিল রনি।শান্ত বাজারে যাচ্ছিল।রনিকে দেখে থেমে গেলো।শান্ত বললো,"কিরে তুই তো পুরা ভিজে গেসিছ।চল বাসায়।"
"আমি যাবো না।ইসরাতকে না নিয়ে আমি যাবো না।"
"দেখ তোর তো কাপড় সব ভিজে গেসে।"
"যাক গে ভিজে আমি তাও যাবো না।আমি ইসরাতকে নিয়েই যাবো।"
শান্ত আর কিছু বললো না।দাঁড়িয়ে থাকলো রনির পাশে।রনির মাথা ঘুরছে।চোখ অন্ধকার দিয়ে আসছে।
রনির জ্ঞান ফিরলো।প্রচন্ড জ্বর এসেছে রনির।চোখ না খুলেই বিড়বিড় করে কি যেন বলতে লাগলো।কাছে না গেলে বোঝা যায় না কি বলছে।রিফাহ কাছে যেয়ে শুনতে লাগলো রনি কি বলছে।রনি বিড়বিড় করে বলছে,"আমি ইসরাতকে ভালোবাসি তাকেই চাই।তাকে কেউ বোঝাও আমি ভালোবাসি।অনেক ভালোবাসি।আমি আর পারছি না।আমার ভালো লাগে না কিছু।রিফাহ,এই রিফাহ।"
"ভাইয়া বলো।"
"সে কি এসেছে?"
"আসবে।"
"সেই কবে থেকে বলিস আসবে আসবে।আসে নাতো।কাল সারারাত ভিজে ভিজে অপেক্ষা করলাম তাও তো এলো না।"
"ভাইয়া এখন তুমি খাও।"
"সে খাইয়ে দিলে খাবো।তা না হলে আমি খাবো না।খালি ভেঙে ফেলবো।"
রিফাহ আর কিছু না বলে বাসায় গেল।
রিফাহ ইসরাতের সামনে চুপচাপ বসে আছে।ইসরাতও মনমরা হয়ে বসে আছে।ইসরাতের কোনোকিছুতেই মন বসে না।তারও রনির কথা মনে হয়।কিন্তু ইসরাত রনিকে ভুল বুঝছে।
তিনদিন পর রনির জ্বর কমলো।বাইরে বের হলো রনি।কোথায় যাচ্ছে সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।এক জায়গায় এসে থামলো নদীর পাড়ে।এখানেই রনি বসে পড়লো।
রিফাহ ইসরাতের সামনে যেয়ে বললো,"ধর এই যন্ত্রটা।"
"এটা দিয়ে আমি কি করবো?যার ফোন তাকে দে।"
"এটা যার তাকে দিয়ে কি হবে?সেতো একটা পাগল।পাগলের আবার ফোন লাগে নাকি!"
"পাগল,কে পাগল?"
"কে আবার ওই আমার ১২ ভাতার ভাই।ভাইয়া আসলে সেরকম ছেলেই না।তুই ভুল বুঝেছিস।"
"কি প্রমান আছে তোর কাছে?"
"ওহ তুই তো লোয়ার সবকিছুতেই প্রমান লাগে।এইযে এই যন্ত্রটা প্রমান।হায়রে প্রেমের জন্য মানুষ কি না কি হয়ে যায়।শেষে পাগলও হয়ে যায়।ভাইয়াকে খুব শীঘ্রই ডক্টর দেখাবে তারপর বিয়ে দিয়ে লন্ডনে পাঠিয়ে দিবে।যাই বের হতে হবে।তোর দুলাভাই ওয়েট করছে আমার জন্য।"
রিফাহ বের হলো।ইসরাত ফোন করলো।প্রথমেই দেখলো তার পিক।রনির ওয়ালপেপারে ইসরাতের পিক।প্ৰথমে ম্যাসেঞ্জারে ঢুকলো।কোনো মেয়ের সাথে যে কথা হয়েছে সেইভাবে সেটা নেই।তাও ইসরাতের সন্দেহ গেল না।যদি ম্যাসেজ ডিলেট দেয়।ইসরাত এবার ঢুকলো গ্যালারিতে।পুরো গ্যালারি জুড়ে ইসরাতের পিক।ইসরাত একটা রেকর্ডিং শুনতে পেল।সেখানে পিঙ্কির সাথে রিফাহর ঝগড়ার কিছু কথা হচ্ছে।ইসরাত তখন বুঝতে পারলো সে রনিকে ভুল বুঝছে।নিজের কাছে নিজেকে অনেক খারাপ মনে হতে লাগলো।ইসরাত ভাবতে লাগলো যদি রনির বিয়ে হয়ে যায় তার আগে রনির কাছে যেতে হবে।ইসরাত রনির বাড়িতে গেল।সেখানে পেলো না।সারা শহর খোঁজল।কিন্তু কোথাও পেলো না।ইসরাত ক্লান্ত হয়ে গেল।ক্লান্ত শরীর নিয়ে নদীর দিকে যেতে লাগলো।সেখানে যেয়ে দেখলো রনি।রনির পাশে দাঁড়িয়ে বললো,"তুমি এখানে আর আমি তোমাকে কতক্ষন ধরে খুঁজছি।সে তিন ঘন্টা ধরে একটানা খুঁজছি।"
রনি ইসরাতের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,"আমাকে খুঁজছ কেন?"
"তোমাকে খুঁজবো নাতো কাকে খুঁজবো!"
রনি দাঁড়িয়ে বললো,"কিন্তু তুমি তো-"
"সরি আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি রনি।আমাকে তুমি ক্ষমা করে দেও।"
"আমি তো তোমাকে প্রতি মুহূর্তে ক্ষমা করে দেই।"
ইসরাত রনিকে জড়িয়ে ধরে বললো,"আর কখনো হবে না এমন।কারো কথা বিশ্বাস করবো না।এখন চলো।"
"কোথায়কোথা।"
"সবাই বলে পেট ভরে খাবো আর তুমি বলছো মন ভরে।"
"আরে পেট তো ভরবেই কিন্তু মনের তৃপ্তি মেটে খাবো।"
"চলো।আমিও মন ভরে খাবো।"
তারা আবার এক হয়ে চলতে লাগলো আগামীর পথে