ডাইনী থেকে রোমান্টিক বউ

- এই যে মিস্টার, আপনার সমস্যা টা কি??

- মানে....???

রুমের দরজা বন্ধ করেই শাড়ির আঁচল কোমড়ে গুছে দিয়ে একদম রেগে গিয়ে জানতে চাইতেই মেয়েটির দিকে অবাক হয়ে জানতে চাইলাম। অবাক হবো না কেনো???

 " মেয়েটির সাথে আমার বিয়ের কথা চলছে। আজ মেয়েটিকে পরিবারের সাথে দেখতে আসলে অনেক টা জোর করেই পাঠিয়ে দেয় আলাদা কথা বলার জন্য।  অনিচ্ছা সত্বেও যখন মেয়েটির পিছু পিছু আসলাম কে জানতো এসেই রুমের দরজা বন্ধ করে অগ্নি রুপ ধারণ করবে। বেশ অবাক আর কিছুটা ভয় নিয়েই মেয়েটির দিকে ভয়ে ভয়ে বললাম। বাহবা, এতো রাগ আর তেজী মেয়ে প্রথম বারই এমন কথা।

- মানে কি আপনাকে বুঝাতে হবে? আপনি কি বুঝতে পারছেন নাহ?

 - না মানে আপনার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

- ন্যাকা, যেনো ভাজা মাছ উল্টো খেতে জানে না।

- মানে....? 

- মানে এই বিয়ে হবে না। 

" মেয়েটির কথা শুনেই চমকে উঠি। বলে কি? কিছুদিন পর বিয়ে সব ঠিক ঠাক আর এখন বলছে এই বিয়ে হবে না। তাহলে কি মেয়ের কোনো সম্পর্ক আছে কারো সাথে। শহরের মেয়ে থাকতেও পারে।  তাই থাকতে না পেরে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলেই ফেললাম.....

 

- কেনো আপনার কি কোনো প্রেমিকা আছে? 

" মেয়েটির কথা শুনে কথা গুলো বলতেই মেয়ে রেগে গিয়ে বললো.....

- একদম বাজে কথা বলবেন না। খুন করে ফেলবো,।আমার কোনো প্রমিক টেমিক নেই। আমি এখন বিয়ে করবো না। আর গ্রামে তো ভুলেও বিয়ে করবো না। তাই এই বিয়ে হবে না। আপনাকে এই বিয়ে ভাঙতে হবে।

" মেয়ের কথা শুনেই কেমন জানি সব গুলিয়ে যেতে থাকলো। এ কেমন মেয়ে রে বাবা? কাকে বিয়ে করতে এসেছিলাম? বিয়ে না হতেই এতো কিছু আর বিয়ে না হলে জানি কার কপালে কি আছে?

  মেয়েটির রাগী রাগী মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে আকাশ পাতাল ভাবছি তখনি মেয়ে টি বললো.....

- এই যে, কথা বলছেন নাহ কেনো?

- ভাবছি, এখন কি বলবো?

- কি বলবো মানে?

" আমার কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে জানতে চাইলে বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বললাম...

- আংকেল কে গিয়ে বলবো,আপনার মেয়ের বিয়ে তে ইচ্ছে নেই। তাই এ বিয়ে হবে না।

- কি? পাগল নাকি? এই কথা ভুল করেও বললে একদম খুন করে ফেলবো।

- তাহলে......???

 " মেয়েটির রাগী চোখ দেখে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে জানতে চাইলাম। এমনি তেই এখানে আসার পর থেকে ভয়ে ভয়ে ছিলাম। বন্ধুদের কাছে শুনেছি মেয়ে দেখতে গিয়ে কত রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে।  তাদের কথা শুনে কিছুটা ভয়ে ছিলাম আর এখানে এসে তো দেখি আরো ভয়ংকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হলো।

 " কোনো রকমে এখান থেকে ফিরে যেতেই পারলেই হয়। যে মেয়ে রা বাবা? আর ভূল করেও শহরে মেয়েকে বউ করার ইচ্ছে নেই। এতো শহরের মেয়ে নই যেনো সাক্ষাৎ ডাকাত।

 " আমার দিকে রাগে কটমট করে তাকিয়ে বললো....

- বলবেন,আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি। তাই এই বিয়ে করতে পারবেন না।

- কিন্তু আমি তো..........

- কিসের কিন্তু যা বলেছি সেটাই।  

- জ্বি.....

- ভাইয়া, হবু ভাবিকে নিয়ে আসতে বলেছে।

" মেয়েটির রাগী চোখ দেখে মাথা নেড়ে সম্মতি দিতেই বাহিরে ছোট বোনের ডাক শুনতে পেলাম। মেয়েটির দিকে আরেক নজর তাকিয়ে দরজা খোলে দিতেই  ছোট দাঁত বের করে হাসতে থাকে। ওকে দেখেই গা জ্বলে যাচ্ছে। যা কিছু হয়েছে তা সবকিছুর জন্যই দায়ী হারামি টা।

" রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা ড্রয়িংরুমে এসে হাজির হলাম। আমার পিছু পিছু মেয়েটিও বেশ ভদ্র ভাবে এসে হাজির। যেনো ভাজা মাছ উল্টো খেতে জানে না।

   "এই দিকে আব্বু আম্মু বিয়ান বেইয়ায় ডাকা শুরু করে দিয়েছেন। আব্বু অনেক আগে থেকেই ঈশিতার আব্বু কে চিনেন। শুধু চিনেন বললেও ভূল হবে দুজন দুজনের ভালো বন্ধুও বটে।

ওহ! ঈশিতা হচ্ছে আমার হবু বউ। তবে এখন সেটা হবু বউ হচ্ছে কি-না বলা যাচ্ছে না। কেনো না আব্বু আম্মু অলরেডি বউমা করে ফেললেও ঈশিতার এই বিয়ে তে ইচ্ছে নেই। তাই বিয়ে টা হবে না সেটাও বলা যাচ্ছে। ঈশিতা বেশ কয়েক বার রেগে আমার দিকে তাকালেও আব্বু কে কথাটা বলতে গিয়েও বলতে পারেনি। বাসায় গিয়ে বলবো মনে মনে ঠিক করে রেখেছি।

 

 " একসময় বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। আম্মু আসার সময় আবার জোর করে ঈশিতার হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দিলো। বেশ কয়েক বার না না করলে আম্মু  বলল....

- রাখো, তো!  তুমি আমার ছেলের বউ না শুধু আজ থেকে আমাদের বাড়ির মেয়েও।

" আম্মুর কথা শুনে ঈশিতা আড়চোখে আমার দিলে তাকিয়ে টাকা টা রেখে দিলো। আমার এক হাজার টাকা গঞ্জে গেলো। কি দরকার ছিলো এতো আধিখ্যেতা দেখানোর জন্য। আম্মু তো জানে না যে তাদের বাড়ির বউ হয়ে এ মেয়ে যাচ্ছে না। জানলে হয়তো টাকা দিতো না।

 " বাসায় আসার পথে রুবি তাঁর হবু ভাবীর গুন গাইতে গাইতে কান জ্বালাপোড়া করে ফেললো। একদিনেই এতো কিছু জেনে ফেললো অথচ বিয়ে হচ্ছে না সেটা জানতে পারলো না। আব্বু আম্মু সাথে থাকায় কিছু বলতেও পারে নি। সব কথা শুনে যাচ্ছি। 

" বাসায় পৌঁছে আমার রুমে যাওয়ার আগেই আম্মুকে বললাম...;

- আম্মু আমার রুমে আসো তো....

" আম্মু কে বলতেই। আম্মু আমার রুমে এসে হাজির। কিভাবে কথা টি ঠিক বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তবে বলতে হবে এটাই জানি। এমন মেয়ে কে আবার কে বিয়ে করবে? বিয়ের পর তো জীবন তেজপাতা করে ফেলবে।

 আম্মু তাড়া দিয়ে বললো....

- বল কি জন্য ডেকেছিস? 

- আম্মু আমি ওই মেয়ে কে বিয়ে করতে পারবো না।

- কি বলছিস তুই এইসব?

" আমার কথা শুনেই আম্মু বেশ অবাক হয়ে জানতে চাইলো। অবাক হওয়ার কথাই কেনো না কিছুক্ষন আগ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চললেও এখন মাঝখানে বেঁকে বলসাম।

 আম্মুর কথা শুনে বিচলিত না হয়ে বললাম....

- যা বলছি তাই। এই নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাই না। আমি এই মেয়ে কে বিয়ে করবো না এটাই শেষ কথা।

- অনন্ত শোন......

 আম্মু কে কথা গুলো বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে আসলাম। আম্মু বেশ কয়েক বার ডাক দিলেও না শোনার ভান করে চলে আসি। সোজা চলে যায় মাঠের দিকে।

 " সারাদিন বাসায় না ফিরলেও রাতের দিকে বাসায় ফিরে আসি। বাসায় এসেই বুঝতে পারি আব্বু রেগে আছেন। কারো মুখে কোনো কথা নেই, সবকিছুই কেমন নীরব হয়ে আছে। আব্বুকে বেশ ভয় পাই তাই চুপিচুপি রুমে চলে আসলেও আব্বুর কথা গুলো শোনা যাচ্ছে। 

" তোমার ছেলের মেয়ে পছন্দ হয়নি তো আগে বললো না কেনো? এখন আমি কিভাবে মুখ দেখাবো? আমার মানস্মানের কথা একটুও চিন্তা করলো না?

" সেদিন রাতে আর কারো সাথে দেখা করেনি। আম্মু না আসলেও ছোট বোন মুখ কালো করে বেশ কয়েক বার ডাক দিলো। বিয়ে করবো না সেটা শুনেই বেচারা মন খারাপ করে ফেলেছে। কত আশা ছিলো বিয়েতে। থাক যখন বিয়ে করবো তখন না হয় পূরণ করবে ইচ্ছে গুলো।

" দুদিন চলে গেলেও আব্বুর সামনে একবারো পড়ে নি। আম্মু অনেক বার বুঝাতে চেষ্টা করলো। অনেক বার জানতে চেষ্টা করলো কেনো বিয়ে করবো না। তবে প্রতিবারই বলতে গিয়ে চুপ হয়ে গেছি। বাবা রে বাবা যে মেয়ে যদি ভূল করে বিয়ে করে ফেলি  না হয় কি করে বসে?? 

 খুব সকাল বেলায় ঘুম ভেঙে যায় ফোনের শব্দ শুনে। আধোঘুমে ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো.....

- এই যে এতো বেলা অব্দি কিসের ঘুম?

 " মেয়েলি কন্ঠ শুনে কিছুটা চমকে উঠি। এমন ভাবে তো ডাকার কেউ নেই। আর এতো সুন্দর করে তাও আমাকে? বেশকিছু চুপ হয়ে গেলাম। আবার স্বপ্ন দেখছি না তো। নাহ আমি তো সজাগই আছি।

 আমার তন্দ্রা কাটে ওপাশ থেকে ফের কন্ঠ সুর শুনে। ওপাশ থেকে বেশ ঝাঁঝালো কণ্ঠে যেনো বলে উঠলো.....

- আপনার সাথে কিছু কথা আছে?

- কে আপনি? আর আমার সাথেই আপনার কিসের কথা?

- একসাথে এতো প্রশ্ন?  আমি আপনার ছোট বোনের হবু ভাবী বলছি।

- কি?

" মেয়েটির কথা শুনেই এক ঝটকায় শোয়া থেকে উঠে বসে পড়লাম। চোখের ঘুম যেনো মূহুর্তের মাঝেই হারিয়ে গেলো। বলে কি এই মেয়ে?  আমার নাম্বার কেথায় পেলো? আর হঠাৎ করেই কেনো ফোন করে দেখা করতে বললো?

 মনের মাঝে তখনো হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ঈশিতা তখন মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো....

- জ্বি হে।

- আমার সাথে কেনো দেখা করতে চাচ্ছেন?

- সেটা সময় হলেই জানতে পারবেন। আজ বিকাল চারটায় দেখা হচ্ছে। মনে থাকে যেনো.........

- এই যে শো.......

" কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিলো। ধূর কি হচ্ছে সকাল সকাল কিছুই বুঝতে পারছি না। আবার নাম্বার টায় ডায়াল করেতেই ফোনের সুইচ অফ দেখাচ্ছে। মাথায় তখন যেনো দুঃশ্চিতা ভর করেছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।

 " শুয়ে শুয়ে ভাবছি কে হতে পারে তখনি আব্বুর ডাক শুনতে পেলাম। অনিচ্ছা সত্বেও উঠে গেলাম। নয়তো সকাল সকাল বকা শুনতে হবে। এতো বেলা অব্দি ঘুমিয়ে থাকিস? 

 " ওহ! আমি অনন্ত। পড়াশোনা শেষ করেই করেই চাকরির জন্য ছুটবো তখনি বাসায় বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লাগে। যখন অনেক কষ্ট করেও বুঝাতে পারছি না তখন বাধ্য হয়ে রাজি হতো হলো। আব্বুর একটাই কথা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করতে হবে এমন কোনো কথা? আমার ব্যবসার দেখাশোনা করলেও হবে। আর ঈশিতা হচ্ছে আব্বু বন্ধুর মেয়ে। সবে মাত্র অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করেছে। 

 " মেয়েটি দেখতে খারাপ নাহ। শ্যামলা গড়ন, মায়াবী চেহারা যেনো। প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যায়। যখন রুবির কাছ থেকে ছবি নিয়ে দেখি তখন দেখেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করি। কে জানতো স্বপ্ন দেখার আগেই ভেঙে যাবে। মায়াবী চেহারার আড়ালে একটা ডায়নী বসবাস করে।

- স্যার,কিছু লাগবে?

"  হঠাৎ করেই ওয়েটার এসে বললো। সেই কখন থেকে অপেক্ষায়। কারো জন্য অপেক্ষা যেনো পৃথিবীর সব থেকে কঠিন কাজ। আর এখন আমি সেই প্রতিক্ষায় প্রতিক্ষণ মান।  কিছু না বলে ফিরিয়ে দিলাম।

" সেই কখন থেকে অপেক্ষায় আছি। চার টা বেজে পনের মিনিট এখনো আসার খবর নেই কারো। শুধু মাত্র ফোন পেয়ে দেখা করতে চলে এসেছি এটা যে নেহাত বোকা করে ফেলেছি বুঝতে পারছি।

" বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। সেই কখন থেকে বসা। চলে যাবো তখনি এক সুন্দরী রুমণী এসে বললো....

- আপনি কি মিস্টার অনন্ত....?

- জ্বি,তবে আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারছি না?

" আমার কথা শুনেই মেয়ে টি হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে বলল.....

- আমি নীলিমা। ঈশিতার বান্ধবী। 

- আমি অনন্ত....

" মেয়েটির কথা শুনেই হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দিলাম। তবে কিছুটা খটকা লাগছে হঠাৎ করেই ঈশিতা না এসে বান্ধবী কেনো আসলো।

ঈশিতার বান্ধবী আমার দিকে তাকিয়ে বললো....

- ঈশিতার মুখে আপনার সম্পর্কে সব জেনেছি। তবে.......

- তবে কি? আর ঈশিতা কোথায়?

" আমার কথা শুনেই মুচকি হেসে বললো...

- ওই যে আপনার ঈশিতা আসছে।

 

 " নীলিমার কথা শুনে তাকাতেই দেখি বেশ হাসি খুশি মনে হেসে হেসে কথা বলে এগিয়ে আসছে ঈশিতা। তবে ঈশিতা একা নয় সাথে একজন ছেলে। খুব সম্ভবত একই বয়স হবে কিংবা একই সাথে পড়াশোনা করে। তাহলে কি ঈশিতার...... 

" নাহ!  নাহ কি ভাবছি সেটা কিমকরে সম্ভব?  ঈশিতা তো বলেছে কারো সাথে সম্পর্ক নেই। তাহলে কি মিথ্যা বলেছিলো?

" ঈশিতা কে দেখে ভাবছি তখনি নীলিমা বলে উঠলো......

- কি?  এতো..........................

- কি?  এতো মনোযোগ দিয়ে কি দেখছেন?

- কিছু না।

- ঈশিতা আর ছেলে টিকে পাশাপাশি বেশ মানিয়েছে তাই নাহ!

" নীলিমার কথা শুনেই বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। যেনো বুকের বুকের মাঝে কেউ আঘাত করছে। যাকে নিয়ে রোজ স্বপ্ন দেখা সেই মানুষ টিকে অন্য কারো পাশে দেখবো সেটা তো ভাবতেই পারেনি। গলায় কেউ যেনো ধরে রেখেছে। কথা বলতে গিয়েও কথা বলতে পারছি না। 

" নীলিমার দিকে তাকিয়ে ধরুধরু কন্ঠে মাথা নাড়িয়ে বললাম....

- হে, অনেক সুন্দর মানিয়েছে।

- জানেন, আমি অনেক বার বলেছি। তবে আমার কথা বিশ্বাস করতে চাই না। সেই কবে দেখে বলছি তোরা দুজনে অনেক তো প্রেম করলি লুকিয়ে লুকিয়ে এখন বিয়ে টা করে ফেল।

" নীলিমা আমার দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলতে থাকে। যেনো কাটা গায়ে নুনের ছিটা!"

 " নীলিমার কথা গুলো ঠিক এই মূহুর্তে মন যেনো কাটার মতো বিধ করছে। কিছু বলতেও পারছি না,আবার চুপ করেও থাকতে পারছি না। নীলিমা কথা গুলো বলছে আর মুচকি মুচকি হাসছে যা আমার কাছে অসহ্য লাগছে।

 ঈশিতা ছেলেটির হাত ধরে ধরে হাসি মুখে সামনে এসে দাড়ালো। যা দেখে শরীর জ্বলে যাচ্ছে, ইচ্ছে হচ্ছে কান বরাবর একটা চড় দিয়ে জিজ্ঞেসা করি....

- সেদিন তো বড় গলায় বলেছিলে লাইফে কেউ নেই। তাহলে এই ছেলে কে? আর এতো হাত ধরেই হাঁটার ইচ্ছে কেনো? নাকি আমাকে দেখানোর জন্য?

" ঈশিতার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখে অন্য দিকে তাকাতেই ঈশিতা বলে উঠলো....;

- সরি, আসতে একটু দেরি হয়ে গেলো। প্লিজ কিছু মনে করবেন না।

- না না ঠিক আছে। কোথায় দেরি হলো? 

- আচ্ছা, পরিচয় করিয়ে দেই। ও হচ্ছে..... 

- থাক,ঈশিতা আমি বলেছি।

ঈশিতা বলতে চাইলে নীলিমা বাঁধা দিয়ে বললো। নীলিমার কথা শুনেই হাসি মুখে ঈশিতা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললো......

- রাসেল, ও হচ্ছে অনন্ত। যাকে তোমার কথা বলেছিলাম।

" ওহ! তাঁর মানে ছেলেটির নাম রাসেল। আমার কথা আগেই বলে রেখেছে। বাহ! ভাবা যায়, আর এটা বললো না তাদের মাঝে এতো সুন্দর সম্পর্ক আছে।

" মনে মনে কথা গুলো বলে যাচ্ছি তখনি ছেলেটি হাত বাড়িয়ে দিলো। ভদ্রতার জন্য আমিও হাত বাড়ালাম। ওয়েটার কে বলে খাবার দিতে বললাম।

" ঈশিতা ছেলে টিকে কত নামে ডেকে যাচ্ছে। সেটা দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে। আর নীলিমা শুধু মুচকি মুচকি হাসছে। ভদ্রতার জন্য আমিও মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে যাচ্ছি। 

- বাবু, এই টা খাও। ওই টা খাও.....

" ঈশিতার বত্রিশ দাঁতের বাবুকে দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে। ভাবছি কখন এখানে থেকে যেতে পারবো। আমাকে দেখিয়ে যেনো আরেকটু আদর ঢেলে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে। শুধু বত্রিশ দাঁতের বাবু টাকে নিজের মুখে চিবিয়ে খাইয়ে দিতে পারছে না।

 " ঈশিতার কান্ড গুলো দেখে হাত গুলো নিষপিষ করছে যদি পারতাম চর দিয়ে বত্রিশ দাঁতের বাবুর দাঁত গুলো ফেলে দিতাম। যেনো চিরতরের জন্য বাবু হয়ে যায়।

- জান, তুমি এখানে বসে আড্ডা দিচ্ছো? আমি তোমাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান।

   " হঠাৎ করেই কে যেনো পিছনে এসে কথা গুলো বলে জড়িয়ে কাঁধের উপর হাত রাখলো। মেয়ের কন্ঠে কথা শুনেই পিছনে ফিরে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম।

- এ কি? এনি আবার এখানে কোথায় থেকে এলো?

" রিতাকে দেখে মনে মনে কথা গুলো বলতেই সবাই ওর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। এমন ভাবে কেউ এসে আমাকে বলবে কে ভাবতে পারলো?

" রিতাকে দেখে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম....

- না গো, তোমার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ করেই এদের সাথে দেখা হয়ে গেলো।

- দেখো মিথ্যা বলবে না। আমি কিন্তু অনেক রেগে যাচ্ছি।

" রিতার অভিমানী রগ দেখে ওঠে রিতার কাছে গিয়ে বললাম....

- লক্ষীটি রাগ করে না। এই শেষ বার আর ভূল হবে না।

- ওয়েট ওয়েট, কে এই মেয়ে....??

" রিতা কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই ঈশিতা নিজের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে কিছুটা রেগে গিয়ে জানতে চাইলো। ঈশিতা তো ভাবতেই পারছে না। আর ঈশিতা কি করে ভাববে আমি নিজেও ভাবতে পারছি না যে রিতার সাথে এমন ভাবে দেখা হয়ে যাবে।

 "ঈশিতার কথা শুনেই রিতা বললো....

- জান কে এই মেয়ে যে আমার সম্পর্কে এমন ভাবে জানতে চাচ্ছে?? 

- তোমাকে বলেছিলাম নাহ!  যে বাসা থেকে একটা ডাইনী আর পেত্নীর সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে  লেগেছে। এই সেই মেয়ে, ভাগিস্য তোমার মতো লক্ষী বউ আছে আমার। নয়তো.......

- কি? আমি ডাইনী, পেত্নী?? 

" আমার কথা শুনেই ঈশিতা রেগে গিয়ে তেড়ে আসলো। যেনো পারলে আমাকে এখনি গিলে খাবে

 তবে এই মূহুর্তে ঈশিতা কে রাগাতে পেরে বেশ ভালোই লাগছে। কিছুক্ষণ আগের কাটা গায়ে নুন ছিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ টা নেওয়া হয়ে গেলো। 

" ঈশিতা দেখতে যথেষ্ট সুন্দর আর রেগে যেনো লাল টকটকে বর্ণ ধারণ করেছে। ঈশিতার হাত থেকে রক্ষার জন্য রিতা ঢাল হয়ে সামনে এসে বাধা দিয়ে বললো.....

- খবর দার। আমার বরের গায়ে হাত তুলবেন না। খুব খারাপ হয়ে যাবে?

- ঈশিতা থাম! কি করছিস? সবাই তাকিয়ে আছে।

 " নীলিমা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি ঈশিতাকে গিয়ে বাঁধা দিলো। ঈশিতা চেষ্টা করলেও ছুটে আসতে পারেনি। একসময় ঈশিতার সাথে হাত ধরে আসা সেই ছেলেটি গিয়ে শান্ত হতে বললো। রেস্টুরেন্টের অনেকেই তাকিয়ে ছিলো আমাদের দিকে।

" ঈশিতা রেগে গিয়ে জানতে চাইলো.....

- এই মেয়ে বউ হই কি করে?

- বাবু, তুমি বলো নি যে আমাদের ছয় বছরের সম্পর্কের পর ছয় মাস হয়েছে বিয়ে করেছি। তোমার জন্যই তো এতো এই কথা লুকিয়ে রেখেছি।

" ঈশিতার কথা শুনে রিতা কথাগুলো বলতে রিতার কাছে আবার ফিরে আসলাম। ঈশিতা যখন তেড়ে আসছিলো তখন অবস্থা সুবিধার নই দেখে দূরে সরে গিয়েছিলাম। বলা তো যায় না আবার রাগের মাথায় কি করে বসে।

  "রিতা কে বললাম.....

- জানু, তোমার কাছে তো সবই বলেছি। বলার সময় পেলাম কই। তবে এইবার আমাদের কথা বাসায় বলে দিবো।

" আমার কথা শুনে ঈশিতা রেগে ফুসফুস করে বলতে শুরু করলো.....

- কি? চিট, বাটপার বিয়ে করেছিস অথচ আবার আমাকে বিয়ে করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিস? একবারো বললি না বিয়ে করেছিস। আবার আমার জীবন নিয়ে খেলা করতে লেগে পড়েছিস?

" ঈশিতার রাগ মুখ দেখেও এইবার ভয় পেলাম না। কেনো ভয় পাবো এখন তো রিতা আছে পাশে। কাজেই ভয় পাবার প্রশ্নই আসে না। ঈশিতার চোখে চোখ রেখে বললাম......

- এই যে একদম বাজে কথা বলবেন না। আমি আপনাকে নিয়ে কি খেলা করলাম? আপনি তো সব শুরু করেছেন।

- আমি কি শুরু করেছি? তুই বললি না কেনো বিবাহিত? 

- আমাকে বলার কই সুযোগ টা দিলেন? তাঁর আগেই তো কথা বলে দিলেন। বিয়ে ভেঙে দিতে হবে? আর আপনার যে এমন বত্রিশ দাঁতের বাবু আছে সেটাই তো বললেন না। আবার বলে কি না কোনো প্রেম টেম করে না। জীবনের এই প্রথম দেখলাম বত্রিশ দাঁতের বাবু!  তাও ভালবাসার মানুষ........ 

- আপনি চিট করেছেন....

" ঈশিতার কথা শুনেই রিতা আমার দিকে  রেগে তাকিয়ে বললো....

- কিসের চিটের কথা বলে....?

- তোমাকে বলেছিলাম না যে পেত্নী টা কে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলো। আমাকে বলেছিলো তার কোনো প্রেমিকা নেই অথচ দেখো এই বত্রিশ দাঁতের বাবু। আর আমাদের বিয়ে হয়েছে সেই কথা তো বলার সময় টাই দেয় নি।

- খবর দার তুই আমাকে পেত্নী বলবি না। তুই মিথ্যা বলেছিস। আমাকে কেনো বলিস নাই তুই বিয়ে করেছিস?

" আমার কথা শুনে ঈশিতা রেগে কথা গুলো বলে তেড়ে আসতেই ছেলেটি বাঁধা দিয়ে বললো....

- ঈশিতা তুই এমন করিস না। একটু.....

- রাখ তোর ঈশিতা। তুই তোর প্রেমিকার হাত ধর,আমার হাত ছাড়...তোদের কথা শুনেই এতো কিছু হয়ে গেলো।

" ঈশিতা ছেলেটির হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো। ঈশিতার কথা শুনে থ হয়ে গেলাম। বলে কি? কার প্রমিকা কার হাত ধরতে বলে??

 " ঈশিতার কথা শুনে ওর দিকে তাকিয়ে আছি তখনি  নীলিমা বললো......

- আমি বলছি, রাসেল আমার বর। ঈশিতার জিজু,আর আমাদের বুদ্ধিতেই এতো কিছু হয়েছে। আসলে আপনাকে একটু বাজিয়ে দেখার জন্য এতো কিছু।

- এখন দেখেছিস। তুই কেনো মিথ্যা বলেছিস...?

" নীলিমার কথা শেষ না হতেই ঈশিতা বেশ রেগে গিয়ে জানতে চাইলো। ঈশিতার চোখের কোণায় পানি ঝলমল করছে। ঈশিতার কথা শুনেই বলললা....

- এই মেয়ে কে বিশ্বাস করা যাবে না। কথায় কথায় পাল্টি মারে আবার কবে না জানি বলে বসে আমি বিয়ে করে ফেলেছি।

" আমার কথা শেষ না হতেই রিতা হাত ধরে বললো....

- চলো গো। এই সব ঝামেলায় আমাদের থাকার দরকার নেই। যাদের ঝামেলা তারা বুঝবে। তুমি আজই বাসায় আমাদের বিয়ের কথা বলে দিবে।

- হুম, চল। এখানে থাকার কোনো মানে হয় না।

" রিতার কথা শুনে হাত ধরে চলে আসার পথেই ওয়েটার বিল নিয়ে এসে বললো....

- স্যার,আপনাদের বিল টা.....

" ওয়েটারের হাতে বিলের কাগজ টা দিয়ে বললাম....

- ওই যে দেখছেন, রেগে আছে মেয়েটা। ওনি বিল দিবেন।

" ওয়েটার কে কথা গুলো বলে রিতার হাত ধরে বেড়িয়ে আসার জন্য পা বাড়াতেই বিলের জন্য গেলো ঈশিতার কাছে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখি ঈশিতা বিলের কাগজ টা নীলিমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বেড়িয়ে গেলো। তাতে আমার কি?? আমার তো বউ আছে....

- মামা, আজ তুই যা অভিনয় টাই না করলি। সাক্ষাৎ সিনেমার টপ নায়িকা হতে পারতি।

" রিতার সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে বেড়িয়ে রিকশায় বসে হাসতে হাসতে কথা গুলো বললাম। রিতাও হাসতে হাসতে শেষ,আমাদের দুজনের হাসি দেখে রিকশাওয়ালা বেকুব সেজে রিকশা দাঁড় করিয়ে তাকিয়ে রইলো। 

" রিতা অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বললো....

- শা*** তুই তো কম অভিনয় করতে জানিস না। ঈশিতাকে কেমন জব্দ করে ফেললাম। 

- আজকে সেই হয়েছে। এসেছিলো আমাকে জব্দ করতে। ভাগিস্য তুই সময় মতো এসে হাজির। আর তুই যদি চোখ টিপ না দিতি তাহলে কিছুই বুঝতাম নাহ।

- মেয়েটা চেয়েছি কি? বার বার আমার কাজিন কে বোকা বানাবে?

- হুম, দেখ আজকে কেমন কান্না করতে করতে গেলো?

 " আমার কথা শেষ না হতেই রিতা হাসি থামিয়ে বললো....

- দে, একহাজার টাকা দে।

- কি টাকা? কেনো...?

- বাহরে, তোর জন্য এতো সুন্দর অভিনয় করলাম আর ট্রিট দিবি না?

- তাই বলে একহাজার.....? 

 " রিতার কথা শুনেই চমকে উঠলাম। বলে কি? আমাকে চমকে দিয়ে বললো....

- জ্বি, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবো তাই। তোর রেস্টুরেন্ট বিল বাঁচিয়ে দিলাম আর এক হাজার টাকা দিতে পারবি না? আবার হবু বউয়ের সাথে দেখা করতে চলে যাও..?

- যা এতো টাকা নেই। দিতে পারবো না।

" আমার কথা শুনেই রিতা হাসি মুখে বললো...

- টাকা টা দিবা নাকি আবার অভিনয় করতে হবে??

- নাহ,এই নে টাকা....

 " রিতার কথা শুনেই ভয়ে টাকা টা দিয়ে দিলাম। নয়তো যে মেয়ে আবার এখানে কি করে বসে কি জানে? টাকা টা নিয়ে হাসি মুখে নেমে যেতে যেতে বললো.....

- বাই, রিকশা ভাড়া টা দিয়ে দিস। পরের বার কিন্তু ট্রিট চাই।

" কি সাংঘাতিক মেয়েরে বাবা। এমন মেয়ে জীবনেও দেখেনি। তবে আমাকে মাঝে মাঝেই বিপদ থেকে উদ্ধার করে।

  ওহ, রিতা কে সেটাই বলা হয়নি। রিতা আমার কাজিন + ক্লাস ফ্রেন্ড। যদিও হঠাৎ করেই অসুস্থতায় পিছিয়ে পরে তবে অনেক ভালো বন্ধও। ঈশিতা যখন এমন করলো তখন সবকিছু খোলে বলেছিলাম। আজ এমন হবে কেউ জানতাম নাহ।

 " হুট করেই রিতা যখন এসে চোখ টিপ দিয়ে বললো তখন বুঝতে অসুবিধা হয়নি। এর আগেও দুজনে বেশ ভালো অভিনয় করেছি কেউ বুঝতে পারেনি। একদিন ট্রাফিক পুলিশ ধরলে রিতা বেশ অভিনয় করে ছুটিয়ে নিয়ে আসে। রিতা আমার বউ আর তাঁর আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে। অবশ্য সেদিন ট্রাফিক পুলিশ ছেড়ে দিলেও পরের বার যেনো ভূল না হয় সেটা বলে দিয়েছিলো।

  আজও তাঁর ব্যাতিক্রম হয়নি। যথা সময়ে এসে হাজির, দূর থেকে দেখেই বুঝতে পারে। যদিও ঈশিতার ছবি দেখিয়ে ছিলাম। কিছুটা অনুমান করে নিয়েছিলো।

" ঈশিতা চলে যেতেই একহাজার টাকার আপসোস নিয়ে বাসার পথে রওনা হলাম। যদিও একহাজার টাকার থেকে বেশি আপসোস হচ্ছে বেচারি ঈশিতার জন্য। যা ভেবেছিলো তা হয়নি, উল্টো জব্দ হয়ে গেলো।

 " বাসায় আসতে পারেনি। বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে যাওয়া তে তাঁদের সাথে আড্ডায় চলে গেলাম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতেই আম্মু ডাক দিলো।

" আম্মুর ডাক শুনেই কাছে যেতে জিজ্ঞেসা করলো....

- তুই  নাকি বিয়ে করেছিস?

- তোমাকে এই কথা কে বললো?

- যা জানতে চাইছি সেটার উত্তর দে।

" আম্মুর রাগী কন্ঠ শুনে একটু রাগানোর জন্য বললাম.....

- হুম, ভেবে ছিলাম আজ বলবো। ভালোই হলো তুমি জেনে গেছো।

- কিহ? রুবি ঝাড়ু টা নিয়ে আয়, আজ হাড্ডি গুলো এক করে ফেলবো।

" আম্মুর কথা শুনেই রুবি আসছি বলে উঠলো। এই সেরেছে, ফাজলামো করতে গিয়ে দেখি নিজের বিপদ ডেকে আনলাম। নিজেকে বাঁচানের জন্য দৌড়ে গিয়ে রুমের দরজা লাগিয়ে দিতেই কেউ বলে উঠলো.....

- আসুন, মহারাজা আপনার অপেক্ষায় ছিলাম।

" কথা শুনেই পিছনে তাকিয়ে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে চিৎকার করে উঠলাম। এ কাকে দেখছি খাটের উপর পা তুলে বসে আছে।

- ভূত....

" দ্বিতীয় বার চিৎকার করার আগেই দৌড়ে এসে মুখ ঝাপটে ধরে বললো...

- এদকম চিৎকার করবি না। আমি ভূত না তোর জম...

" মুখ থেকে হাত সরাতেই তু ত লিয়ে জানতে চাইলাম..... 

- তু তু তু........

- হে, আমি। আমি না তো কে থাকবে? বউ তো রুমে থাকে তাই নাহ?

- আমি  বিয়ে কখন করলাম...?

" আমার কথা শুনেই হাসি মুখে বলে উঠলো.....

- কেনো? আজ না.......................

- কেনো? আজ না তুমি বললা আমাকে বিয়ে করেছো?
- কি? আমি তরে বিয়ে করেছি মানে? তুই এখানে আসলি কি করে? আমার রুমে কি করে আসলি?

" রিতা কে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠি। সেই সাথে রিতার কথা শুনে যেনো মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। বলে কি এই মেয়ে? 

" রিতা তখন বলল....

- আমার ঘরে আমি না তো কে থাকবে?
- দেখ, সবসময়ই ইর্য়াকি ভালো লাগে না।
- আমি কি ইর্য়াকি করছি নাকি?
-মানে...?

" আমার কথা শুনেই রিতা পায়ে যায়। রিতাকে সরাতে চেষ্টা করলেও সরাতে পারছি না। রিতা পা জড়িয়ে ধরেই অশ্রু চোখে বলল......

- ভাই, তোর পায়ে পড়ি। তুই আমাদের সম্পর্ক টা বাঁচা। 
- মানে কি?? 
- ভাই, তুই আমাকে বউ হিসেবে সবার সামনে মেনে নে। তাহলেই হবে.....
- কি....???

" রিতুর কথা শুনেই চমকে উঠি। বলে কি এই মেয়ে মাথা ঠিক আছে? নাকি আবার  বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে সেই জন্য টাকা চাওয়ার নতুন আইডি।  রিতার কথা শুনে কিছুই মাথায় যাচ্ছে না সবকিছুই যেনো কেমন হয়ে যাচ্ছে। শা**** যখনই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে তখনি এসে বান্দা হাজির। বেশ কয়েক বার বলেছি আমি কেনো টাকা দিবো?

" আমার কথা শুনেই প্রতিউত্তরে রিতুর একটাই কথা......

- বাহ রে! তুই হলি আমার বন্ধু সেই সাথে আমার ভাই। যদিও চাচাতো ভাই তাতে কি একই রক্তের যে।

" রিতার কথা শুনেই মাঝে মাঝেই বলি....

- তোর ভাই দেখে কি টাকা দিতে হবে? আর আমার চাচার টাকা নিতে পারিস না? তোর বয়ফ্রেন্ডের কাছে টাকা চাইতে পারিস না।

" আমার কথা শুনেই দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলে......

- হে হে, বাবার টাকা সে কত বার নিবো? প্রতি মাসেই তো নিচ্ছি শুনতে পারলে আম্মু ঝাড়ু পেটা করবে। আর বিয়ের পর ভালবাসার মানুষের টাকাই তো আমার টাকা। তখন তোর সব টাকা শোধ করে দিবো। এখন ওর কাছে টাকা চাইবো কেনো? এখন কথা কম বলে টাকা দে.....

 " রিতার সাথে কথায় না পেরে টাকা দিতেই হয়। শা** এমন হারামি বোন জীবনেও দেখি নি। রিতার সাথে থেকে রুবি টাও আজকাল কেমন হারামি হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের পর না জানি বরের জীবন ত্যানা ত্যানা করে ফেলে।

 " এই তো একদিন হুট করে দোকানে এসে হাজির। আব্বু বাসায় গেছে তখনি এসে রিতা হাজির। রিতা এসেই বলা শুরু...

- এই, অনন্ত পাঁচশ টাকা দে তো।

" রিতার কথা শুনেই চমকে উঠি। কি? এতো বড় স্পধা আমার নাম ধরে ডাকে। রিতার ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে কোনো লাট সাহেব আর আমি কর্মচারী।

 " রিতার কথা শুনেই রেগে গিয়ে বললাম.....

-  তোর সাহস কি করে হলো আমার নাম ধরে ডাকার? আর কিসের টাকা দিবো?
- সরি ভূল হয়েছে। ভাই পাঁচ টাকা দে তো।
- এই তো লাইনে আসছিস। যা ভাগ টাকা নেই, টাকা কি গাছে ধরে যে চাইলেই দিয়ে দিবো?

" আমার কথা শুনেই রিতা বেশ রেগে গেলো। রেগে গিয়ে বলল....

- কি টাকা দিবি নাহ?
- না দিবো না। যা ভাগ....
- দেখ ভালো হচ্ছে না কিন্তু..... 
- তুই যা পারিস কর।

" আমার কথা শুনেই রিতা রেগে জোরে জোরে কথা বলতে শুরু করলো। কে জানতো তাঁর মাথায় যে এমন বুদ্ধি খেলা করছে। বেশ কিছুক্ষণের মাঝেই আশে পাশের মানুষ এসে হাজির। অবাক হয়ে রিতার কান্ড কারখানা দেখছি তখনি রিতা সবার কাছে বললো আমি নাকি এক হাজার টাকার নোট ভাঙানোর জন্য দিলেও তাঁর টাকা ফিরত দিচ্ছি না।

 " রিতার কথা শুনেই থ বনে গেলাম। কি বলে এই মেয়ে? আমার কথা কেউ তখন বিশ্বাস করছে না। প্রমাণ স্বরুপ একহাজার টাকার নোট যে ড্রয়ারে রেখেছি সেটাও বললো।  

 আমার মাথায় কিছুই কাজ করছে না। তখন বুঝতে পারলাম যখন একহাজার টাকার নোট রেখেছি তখন সেটা খেয়াল করেছে। কিছুক্ষণ পরেই আব্বু এসে হাজির। শেষমেশ যখন আব্বু শুনলো তখন হেঁসেই শেষ। অবশ্য আব্বু বুঝতে পেরেছিলো।

" সেই থেকে রিতার অনেক কান্ডর সাক্ষী। এই মেয়েকে বিশ্বাস করা যায় না। কি জানি আবার কোন মতলব নিয়ে এসেছে।

 " কোনো কিছু না ভেবেই মানিব্যাগ রিতার হাতে দিয়ে বললাম......

- ভাই,তোর হাতে ধরি। যা টাকা লাগে এখান থেকে নিয়ে যা। লাগলে আরো দিবো..যেখানে ইচ্ছে বন্ধুদের সাথে ঘুরে আয়। বাসায় যা বলার আমি বলবো তুব এমন ইর্য়াকি করিস না। দেখ এমনি ভয়ে আর টেনশনে আছি।

" আমার মানিব্যাগ আমার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলল.....

- রাখ তোর টাকা। আগে আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার কর। তা না হলে আমি সবাই কে বলে দিবো তুই বিয়ে করেছিস আমাকে।
- তুই এমন করছিস কেনো? কি হয়েছে? 

" আমার কথা শুনেই রিতা বলতে শুরু করলো..... 

" তোর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বান্ধবী দের সাথে আড্ডা দিতে আইসক্রিমের দোকানে চলে যায়। সেখানেই গিয়েই তো যত ঝামেলা হয়েছে। 

- কি...?

" রিতার কথা শুনেই চোখ বড় বড় করে জানতে চাইলাম। রিতা তখন কান্না কান্না কন্ঠে বলতে  শুরু করলো...

" কে জানতো তোর হবু বউ এমন ডাইনী? হঠাৎ করেই ইতি রাতুলকে দেখিয়ে দিলো। রাতুলকে দেখেই চমকে উঠি। সাথে তোর হবু বউ....কি যেনো নাম.???

" ওহ! ঈশিতা। রাতুলের সাথে বসা। দেখেই রাগ ওঠে গেলো। কি? আমার সাথে ফ্লাট করছে? আমার আড়ালে অন্য মেয়ের সাথে তাও আবার তোর হবু বউ? কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারে নি।বেশ রেগে গিয়ে রাতুল কে বললাম...

- আমার আড়ালে অন্য মেয়ের সাথে?  ছিঃ তোর লজ্জা করে না?

" আমার কথা শুনেই ঈশিতা চমকে উঠে। ঈশিতার মামাতো ভাই  রাতুল কে জানতো? রাতুল যখন সব খোলে বললো তখন কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না। ঈশিতা আমার সম্পর্কে সব জেনে বেকে বসলো। কোন ভাবেই সে বেঁচে থাকতে এই বিয়ে হতে দিবে না। রাতুলের আব্বু ঈশিতাকে অনেক ভালবাসে অনেক আদর করে। শেষে উপায় না পেয়ে সব কথা খোলে বললাম। আর হাতে ধরে ক্ষমা চাইলাম এমন ভুল হবে না। এমন মেয়ে যে আমাকেও হার মানতে হলো। বস তোর কপালে শনি আছে। এই মেয়ে তোর পিছু লেগেছে।

" রিতার সব কথা চুপ হয়ে গেলাম। হাত থেকে মানিব্যাগ টাও পড়ে গেলো। এ কোন মেয়ের পাল্লায় পড়লাম?

 " রিতার দিকে বেশ ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে জানতে চাইলাম...... 

- কিন্তু তুই এখানে কেনো? আর ঈশিতা কি চাই...?
- ঈশিতাই নিয়ে এসেছে। আর হয় আজকে  সবার সামনে সত্যি টা বলে বলবি আর ঈশিতাকে বিয়ের জন্য রাজি হবি। নয়তো আমার রাতুলকে হারাতে হবে।
- আমি পারবো না।

" রিতার কথা শুনেই সাথে সাথে না করে ফেললাম। যে মেয়ে বিয়ের আগেই এতো পাল্টি খেতে পারে বিয়ের পর কি জানি কি করে বসে? আর প্রথম বারই তো বলে দিয়েছে গ্রামে বিয়ে বসবে না।

" আমার কথা শুনেই রিতা পায়ে পড়ে গেলো। পায়ে পড়ে বলতে লাগলো....

- ভাই, তোর পায়ে পড়ি। প্লিজ না করিস না। তুই ঈশিতা কে বউ করে মেনে নে।

" রিতার কথা শুনেই ভাবছি" এ কোন বিপদে পড়লাম? কোন মেয়ের পাল্লায় পড়লাম?

" হঠাৎ করেই বাহির থেকে আম্মুর ডাক শুনতে পেলাম। দরজা খোলতে বার বার চিৎকার করে যাচ্ছেন। কিছু বলার আগেই রিতা গিয়ে দরজা খোলে দিলো।

 " একে একে আম্মু আব্বু, চাচ্চু,রুবি আর সবশের্ষ সেই পেত্নী মানে ঈশিতা এসে হাজির।  সবাই চুপ করে চিড়িয়াখানার বাদর দেখার মতো আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আম্মু এসেই হুংকার দিয়ে জানতে চাইলো.....

- কি শুনছি এইসব? ছিঃ তুই এমন করবি ভাবতেও পারেনি।

" আম্মুর কথা শুনেই একবার রিতার দিকে আবার ঈশিতার দিকে তাকালাম। তারপর আম্মু কে বললাম.....

- আম্মু,তুমি কি........................

- আম্মু তুমি কি ওদের কথা বিশ্বাস করে ফেলেছো?

- ওরা কি মিথ্যা কথা বলছে? আর সবকিছুই তো আমার নিজের চোখে দেখা?? আমাদের  ছেলে হয়ে এমন কাজ করলি? একবারো মান সম্মানের কথা ভাবলি না??

" আম্মু কথা গুলো বলেই কান্না শুরু করে দিলো। আম্মুর কান্না দেখে চুপ হয়ে গেলাম। কোনো ভাবেই বুঝাতে পারছি না। আমার কথাই শুনতে চাচ্ছে না। এই হচ্ছে মেয়েদের নিয়ে এক সমস্যা, একবার কান্না শুরু করলে থামার লক্ষ্যণ নেই। হিমালয় গলে পানি হয়ে যাবে তবু যেনো তাদের কান্না থামবে না। কি করবো ঠিক এই মূহুর্তে কিছুই মাথায় আসছে না। 

" আম্মুকে কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি আব্বু এসে হাজির। আব্বু কে দেখেই গলার পানি শুকিয়ে গেলো। এই কাজ সেরেছে যদি আব্বু জানতে পারে না জানি আবার কপালে কি আছে??

" আব্বু কে দেখে ভয়ে ঈশিতার পিছনে দাঁড়ালেও ঈশিতা সরে যায়। ঈশিতা সরে যেতেই আব্বু বলে উঠলো......

- এখন এই মেয়ের পিছনে কেনো লুকাস? যখন আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলছিস তখন মনে ছিলো না??

- আব্বু তুমিও........ 

" আব্বু কে কিছু বলার আগেই আব্বু বলে উঠলো......

- চুপ কর বেয়াদব। আর একটাও কথা বলবি না। যা করার তো করে ফেলেছিস আমাদের মানসম্মানের দিকে একবারো তাকালি না।

" আব্বুর ধমক শুনে চুপ হয়ে গেলাম। আব্বু যে অনেক রেগে আছে তাই কোনো কথা বলা যাবে না। ইচ্ছে হচ্ছে ঈশিতা ডাইনী আর রিতাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত গুলো ফেলে দিতে। তাঁদের জন্যই এতো কিছু আমার কথাই শুনতে চাচ্ছে না।

 " সব থেকে বেশি রাগ হচ্ছে ঈশিতার প্রতি। কত বড় হারামি যে নিজেই এতো কিছু করে এখন আমাকে খল নায়ক করে নিজে সবার কাছে নায়ক বনে গেলো?

ওহ! না না নায়িকা হবে। নিজের মনে মনে কথা গুলো বলছি তখনি আব্বু বলে উঠলো......

- এই জন্য ঈশিতা কে বিয়ে করতে চাস নি? ভাগ্যিস মেয়েটা লোক জানার আগেই আমাদের বলে দিয়েছে। নয়তো মানসম্মান সব ধূলায় মিশে যেতো। একবারো জানানোর কথা ভাবলি না। এতটাই পর ছিলাম....???

" আব্বুর কথা শুনে থো হয়ে গেলাম। বলে কি?? সত্যি কাহিনী টা তো কাউকেই বলতে পারছি না। কেউ শুনতে চাচ্ছে না। সব দোষ আমার আর ওই দিকে রিতা হারামি টাও চুপ করে আছে।

" মনে মনে নিজের আপদ গুনে যাচ্ছি। না জানি আর কত কিছু শুনতে হবে? কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠলাম জানি না। এমন হবে জানলে কে করতে যেতো এতো অভিনয়। আর ঈশিতাও যে কম নই সেটা বেশ বুঝতে পারলাম। রিতাকে ভয় দেখিয়ে যা ইচ্ছে করছে। এর শেষ দেখে নিবো?

" আম্মু তখন কান্না কান্না কন্ঠে বললো......

- এখন কি হবে?

" আম্মুর কন্ঠ শুনেই আব্বু ধমক দিয়ে বললো...

- তোমার ন্যাকামি কান্না বন্ধ কর তো। তোমার ছেলেকে জিজ্ঞেসা কর এখন কি করবে???

" আব্বুর কথা শুনেই মনে কিছুটা সাহস পেলাম। এই তো এখন মোক্ষম সময়। এখনি যা করার করতে হবে। আমাকে এতো জ্বালিয়ে নিজেরা খুব হাসি তামাশা কর। এখন দেখো তোমাদের কি হাল করি.......!!

" মনে মনে কথা গুলো বলছি তখনি আব্বু রাগী কন্ঠে জানতে চাইলো.....

- কি মনে মনে বিড়বিড় করছিস?? কি বলেছি কানে যায় নাহ???

- আব্বু, আমি রিতাকে বউ করে ঘরে আনতে চাই।

" আমার কথা শুনেই যেনো রিতার পায়ের মাঠি সরে গেলো। আড়চোখে রিতা আর ঈশিতার দিকে তাকিয়ে দেখি ঈশিতার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছে। চোখে মুখে কেমন বিস্ময় এমন কথা বলবো ভাবতেই পারেনি। 

" আমার কথা শুনে সব থেকে বেশি চমকে উঠে রিতা। চোখ গুলো বড় বড় করে তাকায় আমার দিকে। এমন কিছু বলে ফেলবো ধারনার বাহিরে ছিলো। যেনো ভয় আর কান্না পেয়ে বসলো।

 রিতার দিকে তাকিয়ে থাকতেই আব্বু আমাকে ফের বললো.....

- রিতার আব্বুর সাথে কথা বলি। দেখি বিয়ে টা পারিবারিক ভাবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করিয়ে ফেলি। 

" আম্মুর দিকে ফিরে বললো.......

- তুমি রিতাকে তোমার ঘরে নিয়ে যাও। ঈশিতা, মামুনি আমাদের ক্ষমা করে দিও। আর এই বাদর টা যে বাসার বাহিরে যেতে না পারে?

" আব্বুর কথা শুনেই ঈশিতা বলে উঠলো.....

- না আংকেল,এই সব কি বলছেন? যা ভাগ্যে ছিলো না তা কি ভাবে পাবো? 

" আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। ঈশিতার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি চোখের পানি গুলো জ্বলজ্বল করছে। 

 "আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রিতাকে ঈশিতা বললো......

- তোমরা সুখী হও। আর তোমাদের বিয়েতে দাওয়াত দিতে ভূলে যেও না। আমি নিজের হাতে সাজিয়ে দিতে চাই।

" ঈশিতা কান্না অনেক কষ্টে দমিয়ে রাখলেও বুঝতে অসুবিধা হয়নি। রিতাও চুপ হয়ে গেলো? কি থেকে কি হয়ে গেলো ভাবতেই পারেনি। 

" আব্বু তখন আম্মুকে ধমক দিয়ে বললো.....

- এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো?

" আব্বুর ধমক শুনে আম্মু রিতাকে আর ঈশিতা কে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আব্বুও রেগে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। তবে রুবি যায় নি, সবাই চলে যেতেই এতোক্ষনে রুবি বলে উঠলো...... 

- ভাইয়া, এমন একটা কাজ করলি আমাকেও একবার জানানোর ইচ্ছে হলো না। আমাকে তো একবার বলতে পারতি???

- রুবি....

"  আমাকে রুবি কথা গুলো বলে চলে যেতে চাইলে পিছন থেকে ডাক দিলাম। রুবি কে ডাক দিয়ে নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়লাম। কি হতে কি হয়ে গেলো আমি নিজেও জানি না। আব্বু আর চাচ্চু যে মানুষ নির্ঘাত বিয়ে টা দিয়ে দিবে।

" একটু মজা করতে গিয়ে সব শেষ করে ফেলেছি। রিতার জীবন টাও নষ্ট হয়ে যাবে? কান্নায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারে নি?

" আমার কান্না দেখে রুবি অবাক হয়ে যায়। অবাক হয়ে আমার কাছে জানতে চাইলো......

- কি হয়েছে?  তুই এমন ভাবে কান্না শুরু করলি কেনো??

" রিতার কথা শুনে কান্না থামিয়ে একে একে সব কথা খোলে বললাম। আমার কথা শুনেই চমকে উঠে বললো......

- কি? তুই আগে সব বলিস নাই কেনো??

 "রবির কোনো কথার উত্তর দিতে পারেনি। রুবিও চুপচাপ রুম দেখে বের হয়ে যায়। একদিন পরেই বিয়ে ঠিক হয়ে যায় রিতার সাথে। তবে রুম থেকে একটুও বের হয়নি। কারো সাথে কথা হয়নি রিতা বা ঈশিতার সাথেও না।

" রুবি যখন খুশি হয়ে বিয়ের খবর জানালো তখন সবকিছুই অন্ধকার দেখতে শুরু করি। মাথায় অনেক কিছু  ঘুরতে থাকে। কখনো বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়া কিংবা সবাইকে সত্যি টা বলে দেওয়া। তবে কোনো কিছুই হয়ে ওঠে নি।

" সময় দেখতে দেখতেই কিভাবে চলে যায়। আমার বিয়ের সময় চলে আসে অনিচ্ছা সত্বেও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে টা করতে হলো। যখন কাজী সাহেব বিয়ে পড়ালেন তখন কিছুই শুনতে পাইনি। মাথায় হাজারো দুঃচিন্তা। শুধু মাথা নাড়িয়ে গেলাম।

" খুব ভালো ভাবেই বিয়ে টা হয়ে গেলো। একে একে সবাই চলে গেলে রুবি আমাকে আমার রুমে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এলো। সাথে আমার একমাত্র বন্ধুও আছে।

" রুমের দিকে পা চলছে না। কিভাবে যাবো? যেখানে বউ সেজে অন্য কারো বসে থাকার কথা ছিলো এখন সেখানে অন্য জন। যাকে কোনো দিনও অন্য চোখে দেখিনি।

" রুবি দরজা দিয়ে পাঠিয়ে আমাকল বললো.....

- যা, তুই অনেক ভাগ্যবান। তোর ভালবাসা তোর কাছেই রইলো আবার বউ পেয়ে ভুলে যাস না। ট্রিট পাওনা রইলো....

" রুবির কথা শুনেই মলিন মুখে হাসি দিতে চেষ্টা করলাম। রুবি কে বিদায় দিয়ে দরজা বন্ধ করে ধরুধরু বুকে এগিয়ে গেলাম রিতার দিকে। কি বলবো ভেবেই পাচ্ছি না। আর কোন মুখেই বা বলবো।

" অনেক সাহস নিয়েই তারপর বললাম.....

- দেখ, রিতা এতো কিছু হয়ে যাবে জানতাম না। কখনোই ভেবে নি,আমার জন্য তোর জীবন টা নষ্ট হয়ে গেলো। তোর ভালবাসা হারিয়ে গেলো। সবকিছুর জন্যই আমি দায়ী। পারলে আমাকল ক্ষমা করল দিস। আর তুই যদি চাস তাহলে তোর ভালবাসার মানুষের সাথে কথা বলে আমি সব ব্যাবস্থা করবো।

" একদমে কথা গুলো বলতেই রিতা মাথার ঘোমটা ফেলে দিয়ে রেগে তাকালো। মাথার ঘোমটা ফেলে দিতেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠি।

" মনের অজান্তেই অস্ফুটে বলে উঠি.....

- তু তো তুমি......

" আমার কথা শুনেই ঈশিতা হুংকার ছেড়ে একদম কাছে এসে পাঞ্জাবির কলার ধরে। ঈশিতার শ্বাস টুকু বুঝতে পারছি। রেগে গেয়েই বললো.......

- আমি না তো কে থাকবে? বিয়ে করার সময় কান কই ছিলো যে মেয়ের নামটাও শুনতে পাস নি। না জেনেই বিয়ে করতে পাগল হয়ে গেলি? কি ভেবেছিস তোকে এতো সহজেই ছেড়ে দিবো....???

" ঈশিতার রাগী চোখ দেখে ভয়ে ভয়ে বললাম.....

- না মানে.....

- আর না মানে করতে হবে না। তোর জন্যই এতো কিছু হয়েছে, ফের যদি কখনো এমন করেছিস তো হাত পা ভেঙে দিবো।

" ঈশিতা কথা গুলো বলেই কান্না শুরু করে দিলল। ঈশিতার কান্না দেখে চুপ গেলাম। কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না। ঈশিতা কান্না থামিয়ে নিজে নিজেই একে একে সব বলতে লাগলো।

" বিয়ে যখন ঠিক তখনি রুবি আব্বুর কাছে সব কথা খোলে বলে। আব্বু সব শুনে রেগে আগুন হয়ে যান। তবে রুবির জন্য কিছু বলতে পারে নি। হাজার হোক আদরের মেয়ে বলে কথা। তখন রুবি আর আব্বু মিলে বাকী কাজ সম্পূর্ণ করেন।

" মানে আমার সাথে ঈশিতার বিয়ে আর রিতার সাথে তার ভালাবাসার মানুষ টির বিয়ে। যদিও এখন আমার বিয়ে টা হয়েছে রিতার টা পরে হবে। আব্বু যে ভালবাসেই আম্মু কে বিয়ে করেছে তাই ভালবাসার মূল্য টা ঠিক বুঝেন।

" ঈশিতার মুখে সব কথা শুনেই হেসে বলে উঠলাম....

- যাক, রুবির জন্য সব ঠিকঠাক হলো। নয়তো......

- নয়তো কি? বিয়ে করার সময় হুস ছিলো না কাকে বিয়ে করিস??

" ঈশিতা রেগে গিয়ে জানতে চাইলে কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে বললাম.....

- হুস থাকবে কি করে?? যে টেনশনে ফেলেছিলেন, ভাগিস্য পালিয়ে যায় নি নয়তো এই বিয়ে টাও হতো না।

- কি??

" ঈশিতা কিছুটা রাগ আর অবাক চোখে জানতে চাইলে কথা বাড়াতে চাইলাম নাহ। নয়তো যে মেয়ে বাবা রে বাবা না জানি আবার কি করে বসে। তাই বিছানার দিকে যেতে যেতে বললাম....

- কিছু না। ঘুম পাচ্ছে, আমি ঘুমাবো।

" আমার কথা শুনেই ঈশিতা বলে উঠলো....

- ঘুম পাচ্ছে তো উপরে কি? নিচে বালিশ নিয়ে ঘুমান। আমি উপরে ঘুমাবো আর আপনি আজ থেকে নিচে ঘুমাবেন। খবর দার যদি কখনো কাছে আসার চেষ্টা করেছেন তো হাত ভেঙে ফেলবো।

" কথা গুলো বলেই একটা বালিশ নিচে ছুড়ে ফেলে দিলো। ঈশিতার দিকে অবাক হয়ে জানতে চাইলাম...

- মানে কি?

" ঈশিতা তখন অগ্নি চোখে তাকিয়ে বললো.......

- কি ভেবেছিস? আমি তোকে এইসব বলে দূরে সরিয়ে দিবো? ভূলেও এমন চিন্তা ভাবনা মাথায় আনবি না।

- মানে? আর তুই তুই করে কেনো বলছেন??

" ঈশিতার কথা শুনে অবাক আর কিছুটা ভয় নিয়ে জানতে চাইলাম। বলছে কি মেয়ে টা? পাগল হয়ে গেলো নাকি? আবার কখন কি করে বসে ঠিক নেই।

 " আমার কথা শুনেই ঈশিতা আমার দিকে তেড়ে আসলো। ঈশিতার চোখের চাহনী আর আমার দিকে এগিয়ে  আসা দেখে পিছিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। 

" ঈশিতা প্রথম বার পাঞ্জাবির কলার ছেড়ে দিলেও ফের দ্বিতীয় বার এসে ধরে ফেলে। শুধু ধরে ফেললেও ভূল হবে।  একদম কাছাকাছি এসে চোখে চোখ রেখে বললো......

- ন্যাকা, যেনো কিছুই বুঝে না। বিয়ে করেছি বরের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য নই। আমার সবটুকু অধিকার নিয়েই থাকবো। শা** আমার বর কে একটু বাজিয়ে দেখতে গেলাম আর সে কি-না আমার সাথেই গেইম খেলে দিলো।

- কি?

- আনার কি না? একটু বাজিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম। আর আপনি যে তো সুন্দর অভিনয় করেন জানা ছিলো না। প্রথমে ভয় পেয়ে গেলাম।

" ঈশিতার কথা শুনেই হাসতে শুরু করে দিলাম। এই রাগী মেয়ে টিও তাহলে ভয় পায়। আমার হাসি দেখেই বললো....

 

- দাঁত বের করে হাসবি না। পরের বার যদি এমন ভয় দেখাস খুন করে ফেলবো।

" ঈশিতার কথা শুনেই হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই চুপ থাকাই ভালো। এতোদিনের টেনশনে ঘুম হয়নি। আজ বড্ড বেশি ঘুম পাচ্ছে। তাই কথা এড়িয়ে জন্য বললাম.....

- আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমাবো......

" কথা গুলো বলেই কোল বালিশ আর কাথা নিয়ে সোফায় ঘুমাতে চলে গেলাম। এ রকম পেত্নীর সাথে এখন ঝগড়ার ইচ্ছে নেই। আর ঝগড়া করার ইচ্ছে টাই আসবে কোথা থেকে??

" ঈশিতা যে রাগী মেয়ে আবার কি না করে বসে। শেষে বিয়ের প্রথম রাতেই মধুর রাত হয়ে যাবে বিষের রাত।

" ঈশিতার কাছ থেকে সরে গিয়ে কোলবালিশ নিয়ে শোফায় আসতেই ফের হুংকার দিয়ে ঈশিতা বললো....

- কোল বালিশ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস? তরে না বলছি আমার সাথে ঘুমাতে? আর আজ থেকে কোনো কোলবালিশ থাকবে না। মাত্র একটা বালিশ থাকবে।

- একটা বালিশ থাকবে মানে? আমি কোথায় ঘুমাবো? 

- তুই বালিশে ঘুমাবি আর আমি তোর বুকের মাঝে মাথা রেখে প্রতিদিন ঘুমাবো এখন বুঝছিস??

- আমি পারবো না এমন ভাবে ঘুমাতে। 

" আমার কথা শুনেই হাতের কাছে থাকা কলম দানি হাতের কাছে নিয়ে বললো.....

- পারবি না মানে কি? 

" ঈশিতা কে দেখেই ভয়ে ভয়ে বললাম....

- না, পারবো পারবো....

- এই তো লক্ষী ছেলের কথা। এখন যাও বাবু আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

" ঈশিতাকে কথা গুলো বলেই ফ্রেশ হতে চলে গেলো। সেই কখন থেকেই বিয়ের সাজে বসে ছিলো।  

 

" ঈশিতার কথা শুনে মাথা ঘুরতে শুরু করলো। এ কেমন মেয়ে বিয়ে করলাম রে। এখনি এই দশা,আরো তো বাকী জীবন পরে আছে। বন্ধুদের মুখের শুনেছি বিয়ের প্রথম রাত নাকি মধুর হয় আর আমার তো দেখি পুরাই উল্টো। 

" ঈশিতার সাথে কথা না বাড়িয়ে বাধ্য ছেলের মতো উপরে এসে ঘুমালাম। যদিও কোল বালিশ নিয়ে ঘুমানোর ইচ্ছে ছিলো তবে ঈশিতার জন্য সেটা বাদ দিতে হলো। আমার আবার কোল বালিশ ছাড়া ঘুম আসে না।

" বিছানায়  একপাশে শুয়ে কথা গুলো ভাবছি তখন বুঝতে পারি ঈশিতা বিছানায় আসলো। ইচ্ছে থাকলে অনিচ্ছায় অন্যদিকে ফিরে শুয়ে রইলাম। কি জানি যদি আবার....... 

" হঠাৎ করেই ঈশিতা জড়িয়ে ধরে বললো....

- এই যে মিস্টার কি ভাবছেন??

" ঈশিতার জড়িয়ে ধরা দেখে চমকে উঠি। তাড়াতাড়ি নিজেকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলেও ঈশিতা যেনো আরো ঝাপ্টে ধরে।

- এ কি করেছেন? ছাড়েন আমাকে আপনার লজ্জা করে না।

" আমার কথা শুনেই ঈশিতা হেসে উঠে বললো...

- বাহ রে! আমার বরকে জড়িয়ে ধরবো আর এতে লজ্জার কি আছে? 

- তাই বলে....

- তাই বলে কি? দাঁড়াও দেখাছি...... 

 " ঈশিতা কথা গুলো বলেই ঠোঁট গুলো নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো। তারপর............ না থাক! এতো কিছু জানার দরকার নেই......????

- এই যে উঠেন, আযান হচ্ছে নামাজ পড়তে হবে।

" ঈশিতার ঘুম ডাক শুনেই ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি ঈশিতা ফ্রেশ হয়ে একদম অপ্সরীর মতো সেজে সামনে দাড়িয়ে আছে।যদিও এই মূহুর্তে কোনো অপ্সরী দেখার ইচ্ছে নেই। কেন না  অনেক ঘুম পাচ্ছে আমি আবার একটু ঘুম পাগল। এই জন্য কত কি হয়েছে। 

" ঈশিতাকে একনজর দেখেই পাশে ফিরে শুয়ে বললাম.....

- বিরক্ত করো না তো। একটু ঘুমাবো....

- ঘুমাবেন মানে? নামায কে পড়বে?

- পরে পড়ে নিবো...

- কি??  এখন মানে এখন,নয়তো মাথায় পানি ঢেলে দিবো।

" ঈশিতার কথা শুনেই লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়ি। চোখ বড় করে ঈশিতার দিকে তাকিয়ে বললাম....

- কি মেয়ে রে বাবা? এমন কথা তো জীবনেও শুনে নি?

- কি শুনেন নি? আমি তো আপনার মতো মানুষ জীবনেও দেখি নি যে এতো সুন্দর ঘুমাতে পারে। সামনে সুন্দরী বউ দেখেও....

- হু, সুন্দরী না একটা পেত.....

- কি বললি....?

- না কিছু না। নামাজ পড়বো সেটা বললাম.... 

" আমার সাধের ঘুম হারিয়ে গেলো। আগে জানলে এমন বিয়ে জীবনেও করতাম। সারাজীবন অবিবাহিতের কাতারে নাম লেখিয়ে রাখতাম। অনিচ্ছা সত্বেও বাধ্য ছেলের মতো উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়তে চলে গেলাম। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই আর যদি পেত্নী টাও বলে ফেলি তাহলেই হয়েছে। 

" নামাজ পড়ে আবার ঘুমাতে চলে গেলাম। যদিও এবার নিজের ইচ্ছেতেই ঈশিতা কাছে টেনে নিলাম। ঈশিতা বুকের মাঝে আগলে ঝাপিয়ে পড়ে। ঈশিতাকে বুকের মাঝে আগলে নিলাম। 

 

" কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম জানা নেই। হঠাৎ করেই ঈশিতার ডাকে ঘুম ভাঙে। সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য যেতে বললো। ঈশিতা কে দেখে কাছে নিতে চাইলে সেটা বুঝতে পেরেই বুকের মাঝে আলতো কিল দিয়ে পালিয়ে গেলো। পিছন থেকে ধরতে গিয়েও ধরতে পারেনি। 

- এখন তো পালিয়ে গেলে পরের বার প্রতিশোধ টা নিবো।

" ঈশিতাকে কথা গুলো বলতেই দরজা আড়ালে থেকে মুখ ভেংচি কেটে চলে গেলো। 

" সবার সাথে নাস্তা খেতে বসলেও ঈশিতা উল্টো দিকে বসলো। সবাই একসাথে তাই ইচ্ছে থাকলেও ঈশিতার পাশে গিয়ে বসতে পারেনি। ঈশিতা দিকে তাকালেই মুখ ভেংচি কেটে দেয় সবার চোখের আড়ালে। খাওয়া রেখে ভাবছি ঈশিতাকে কিভাবে টাচ করা যায়।

হঠাৎ করেই আব্বু ধমক দিয়ে বলে উঠলো....

- খাওয়া রেখে কি ভাবছিস?  কি বলে কথা কানে যায় না।

" আব্বুর ধমক শুনেই সাথে সাথে বলে উঠি....

- হ্যা.... 

- কি হ্যা, এতোক্ষণ ধরে কি বলছি?

- না মানে কিছু বুঝি নি।

- বুঝবা কি করে? এখন.......

" আব্বু আর কিছু বলার আগেই আম্মু থামিয়ে দিয়ে বললো....

- চুপ করো তো। তখন শুনতে পাই নি এখন আবার বললেই হয়।

" আম্মুর কথা শুনেই আব্বু কিছুটা শান্ত হলো। মাঝে মাঝেই আম্মুর কথা শুনে একদম শান্ত ছেলে হয়ে যায়। যেনো কিছুই বুঝে না। তখন সেটা দেখে অনেক হাসি পায়।

" অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে রাখি। আব্বু নরম গলায় বললো.....

- সবাই মিলে একসাথে ঘুরতে যাবো। তোমার কোনো আপত্তি আছে? 

" আব্বুর কথা শুনেই ঈশিতার দিকে আড়চোখে একবার তাকালাম। দেখি খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে বৃথা চেষ্টা করছে।

 তখনই আব্বুকে বলে উঠি.....

- না না আমার কোনো আপত্তি নেই। কবে যাবেন.....??

- পরশু যাবো। আজকাল কের মাঝেই সব ঠিকঠাক করে ফেলবো।

- জ্বি আব্বু। আপনি যা বলেন..

" চুপচাপ খাওয়া শেষ করে ঈশিতাকে ডাকলেও আসে নি। কাজের অজুহাত দেখিয়ে থেকে যায়।ঈশিতার প্রতি অনেক রাগ হলেও আম্মু থাকায় চুপচাপ রুমে চলে আসি। রুমে ভালো না থাকায় ড্রয়িং রুমে গিয়ে টিভি অন করে টিভি দেখতে শুরু করলে তখনি রিতা এসে হাজির।

" রিতাকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠি। সেই যে রুমের ভিতর আবদ্ধ হয়েছিলাম তারপর থেকে রিতার সাথে দেখা নেই। হবে কি করে? আমি যে আজই রুম থেকে বের হলাম। 

" রিতাকে দেখেই বললাম..

- কি রে তুই কোথায় ছিলি দেখি নি যে??

" আমার কথা শুনেই রিতা মুখ ভেংচি কেটে বললো.....

- দেখবি কি করে? এখন তো সুন্দরী ভাবী কে পেয়েছিস। আমাদের বোনকে কি এখন চোখে দেখবি?

- দেখ,বাজে বকবি না। যা কিছু হয়েছে সব তোর আর ঈশিতার জন্য। তো বিয়ের সময় কোথায় লুকিয়ে ছিলি?

- কোথায় নাহ। তুই তো চোখ বুজে ছিলি দেখবি কি করে? বয়রা ছিলি নাকি যে কনের নামটাও শুনিস নি।

- আরে রিতা আপু যে। কখন আসলি......??

" আমাদের কথার মাঝেই হঠাৎ রুবি এসে হাজির। রুবি এসেই আমার পাশে বসে কথা বলতে শুরু করলো। তারা দুজনে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেই রুবি আমার দিকে ফিরে বললো.....

- ভাইয়া, পাঁচশ টাকা দে তো। 

" রুবির কথা শুনেই চমকে উঠে বলি....

- পাঁচশ টাকা! কিসের টাকা? কেনো দিবো....?

" আমার কথা শুনেই রুবি বললো....

- আমার যে ট্রিট পাওনা ছিলো তার থেকে কিছু দে।

- ট্রিট? আর আমি কেনো টাকা দিবো?

- দেখ, ভাইয়া তোর জন্য এতো কিছু করলাম আর তুই এখন জানতে চাচ্ছিস?

" রুবির কথা শুনেই বললাম...

- কি করছিস? 

- ঈশিতাকে পাইয়ে দিলাম সেটা ভুলে গেছিস?

- তুই পাইয়ে দিলি কই? আর না পেলেই ভালো হতো! যা কোনো টাকা নেই...

" আমার কথা শুনেই রুবি রেগে গিয়ে বললো....

- টাকা নেই মানে? খুব খারাপ হবে বলে দিলাম।

- যা কি করবি করিস।

" তখনি ঈশিতা এসে হাজির। রিতাকে দেখেই বললো.....

- রিতা,তোমার এখন বুঝি সময় হলো? আর রুবি কি নিয়ে তোমরা দুই ভাই বোন তর্ক করছো??

" ঈশিতার কথা শুনেই রিতা বলতে লাগলো.....

- ভাবি, ভাইয়া ভাইয়া আবার নাকি

রিতাকে.......................

" ঈশিতার কথা শুনেই রুবি বলতে লাগলো.....

- ভাবি, ভাইয়া নাকি আবার রিতা আপুকে বিয়ে করতে চায়। আই মিন তোমাকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাচ্ছে। এটা নাকি ভাইয়ার অনেক দিনের স্বপ্ন। 

" রুবির কথা শুনে থো হয়ে গেলাম। বলে কি মেয়ে টা? আমাকে এ কোন বিপদে ফেলার ধান্দায় আছে। পাঁচশ টাকার জন্য এতো বড় মিথ্যা কথা? 

" ঈশিতার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে ঢোক গিলে বললাম.......

- ঈশিতা,তুমি বিশ্ব....... 

- চুপ কর। তোরে বেশ ভালো করেই জানি। তোর আবার বিয়ে করার ইচ্ছে নাহ? রুমে চল তোর দ্বিতীয় বার বিয়ে করার শখ মিটাবো।

- ঈশিতা, রুবি ডাহা মিথ্যা বলছো......

- ওই, মিথ্যা বলছে নাকি তুই বলছিস? রুমে চল...... 

" ঈশিতা কথা গুলো বলেই হাত ধরে রুমের দিকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকলো। ঈশিতার দিকে অসহায় ভাবে তাকালেও ঈশিতার কোনো মায়া দয়ার লক্ষণ নেই। কে যে বলছি এমন দজ্জাল মাইয়ারে বিয়ে করার জন্য।  না জানি কপালে আজ কি আছে.....??

" রুবি আর রিতার দিকে একবার রেগে তাকালাম। দু'জনেই দেখি মিটমিট হাসছে। একবার পেয়ে নিই তোদের মজা দেখাবো। এমন বরের কাছে বিয়ে দিবো না তিন বেলা নিয়ম করে পেটাবে। দরকার হয় জামাই কে নিজে শিখিয়ে দিবো। এমন বজ্জাত মেয়েদের কে যদি না পিটায় তাহলে কপালে শান্তি থাকবে না।

 

" ঈশিতা এসেই দরজার লক করে দিলো। শাড়ির আঁচল কোমড়ে গুছে আমার দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে রেগে তাকিয়ে রইলো। ঈশিতার চাহনী দেখে ভয়ে ভয়ে বললাম.......

- সোনা, বউ তুমি বিশ্বাস করো এমন কোনো কথা বলেনি। সব মিথ্যা কথা,রুবি এই সব মিথ্যা বলেছে।

হঠাৎ করেই ঈশিতা হুংকার দিয়ে বলে উঠলো.....

- শা** রুবি মিথ্যা বলেছে নাকি তুই বলছিস? আবার ইচ্ছে হলে বিয়ে করাবো তবে আমার অধিকার একটুও ছাড় দিবো না। বিয়ে করেছি, কড়ায় গন্ডায় আমার অধিকার চাই।

" ঈশিতার কথার অর্থ কিছুই বুঝতে পারছি না। কি বলছে এই সব? সব কেমন মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে 

গুলিয়ে যাচ্ছে। 

" ঈশিতার দিকে ভয়ে তাকিয়ে রইলাম। হঠাৎ করেই অভিমানী কন্ঠে অন্যদিকে ফিরে বলতে লাগলো........

- শা*** কত আশা ছিলো আমার বর টা একটু রোমান্টিক হবে। যখন রান্না করবো জড়িয়ে ধরবে। দুষ্টমি করবে, আদর করে খাইয়ে দিবে। সবার আড়ালেই কাছে টেনে নিবে আর এতো দেখছি পুরাই উল্টো......!  এ কেমন বর জুটলো...??

- মানে? কি বলছো....???

- তুই বুঝবি না। শিখাতে হবে.....

" ঈশিতা কথা গুলো বলেই কিছু বুঝার আগেই বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। ঈশিতাকে সরাতে চেষ্টা করেও আবার কি মনে করে কাছে টেনে নিলাম। ঈশিতার ঠোঁটের উষ্ণতার অনুভবে নিজেকে হারিয়ে গেলাম। একে অপরের উষ্ণতা গুলো অনুভব করছি ঠিক তখনি......

" বাহিরে আম্মুর কন্ঠ শুনা গেলো। ঈশিতাকে ডাকছে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে মার্কেটে যাওয়ার জন্য। এক ঝটকায় ঈশিতা সরে গেলো আম্মুর কন্ঠ শুনেই। ঈশিতার কাছে যেতে চাইলে বুকের উপর হালকা কিল দিয়ে পালিয়ে গেলো।

 

" সারাদিনের মাঝেও ঈশিতা কাছে আসে নি। কাছে যেতে চাইলে আম্মুর পিছুপিছু আর মিটিমিটি হাসে। একবার পেয়ে নিই মজা দেখাবো। 

" এর মাঝেই সব ঠিক করে ফেললো আব্বু। পরের দিন রাতে আমাদের রওনা দিতে হবে। ঈশিতা আম্মুকে রান্নার কাজে সাহায্য করছে। বেশ কয়েক বার গিয়েও ব্যার্থ হয়ে ফিরে আসি।

 যখন রান্না ঘরে বার বার যেতে থাকি তখন আম্মু বলে উঠে.....

- এতো বিলাইয়ের মতো ঘুরঘুর করছিস কেনো? যা রান্না হলে খেতে দিবো।

   আম্মুর কথা শুনে ঈশিতার দিকে তাকালাম। কি দরকার ছিলো রান্না ঘরে আসার। আম্মু তো বারণ করে ছিলো নতুন বউ রান্না করতে হবে না। অবশ্য ফিরে আসার ইচ্ছে ছিলো না তবে ঈশিতার রাগী চোখ আর আম্মুর ধমক শুনে মন খারাপ করে ফেরি আসি। সেটা দেখে ঈশিতা হেসেই শেষ।

" রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে চুপচাপ টিভি দেখছি। ঈশিতা আম্মুর কাছে হেল্প করে এসে আমার পাশে বসলো। ঈশিতাকে দেখেও না দেখের ভান করে টিভির দিকে তাকিয়ে রইলাম।

 " হঠাৎ করেই ঈশিতা বুকের মাঝে মাথা দিয়ে বললো.....

- ওরে আমার জানু, রাগ করেছে বুঝি।

" কথা বলতে না চাইলেও জোর করে জড়িয়ে ধরে। হুট করেই গাল কিস দিয়ে বসে। হঠাৎ জোর করো টিভির রিমোট নিয়ে বললো....

- এই সব খেলা দেখে কি শিখছো? রোমান্টিক কিছু দেখতে পারো না। তাহলে তো রোমান্টিক হতে পারো।

" কথা গুলো বলেই সেই বিখ্যাত জলসার টিভির সিরিয়ালে নিয়ে গেলে। ঈশিতার দিকে চাইতেই........ 

" না থাক!" এতো কিছু বলার দরকার নেই.....????

" সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে পরের দিন রওনা দিলাম।আমাদের গাড়ি নষ্ট বিদায় বাসে যেতে হলো। ঈশিতা জানালার পাশো বসলো। বাতাস এসে ঈশিতার চুল গুলো এলেমেলো করে দিলো। বারবার ঈশিতার মুখ ঢেকে যাচ্ছিল। অপূর্ব সুন্দর লাগছি, মাঝে মাঝেই চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে অপলকভাবে তাকিয়ে রইলাম। এতো সুন্দর.........!! 

 

 " ঈশিতার চুল গুলো বার বার মাথার কাছে চলে আসে। ঈশিতা বাহিরের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। চাঁদের আলোয় মন মাতানো দৃশ্য। অনেক দুষ্টমি করেই রাস্তায় কাটালো। মাঝ রাতে ঈশিতা বুকে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। 

 

" খুব ভোর বেলায় পৌঁছে গেলাম। সবাই ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিতে চলে গেলেও ঈশিতার পাগলামির জন্য বাধ্য  হয়ে রুম থেকে বের হতে হলো। বিশাল সমুদ্র দেখে যেনো ছোট্ট শিশু পানি দেখলে যেমন খুশি হয় তাঁর থেকেও বেশি। নিষেধ সত্বেও পানিতে ভিজলো। শুধু একা নই আমাকেও ভিজালো....অনেক হৈচৈ করে কাটলো।

" তিন দিন থাকার কথা। বাহিরে বের হলে অবুঝ শিশুর মতো বায়না ধরে গোসল করবে। ওখানে যাবে ওখানে যাবে আর রুমে এসেই শুরু হয় আরেক অত্যাচার।

" বাবু,আমার জ্বর আসবে। একটু জরিয়ে ধরো, তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো।ঈশিতার রোমান্টিক অত্যাচারের জ্বালায় আমার ঘুমের বারোটা বেজে গেলো সেই সাথে শান্তির। কে যে বলেছিলো শহুরে রোমান্টিক বউ বিয়ে করার জন্য। আর এতো রোমান্টিক হতে হয়।

" একবার ঈশিতাকে বেশ রেগে ধমক দিয়ে বলেছিলাম.....

- জ্বর আসছে। তখনি তো বারণ করেছি এতো গোসল করতে হবে না। কে শুনে কার কথা?

" আমার কথা শুনেই অভিমান করে কান্না কান্না কন্ঠে বলে উঠলো......

- তুমি, আমাকে বকা দিয়েছো?

" কিছু বলার আগেই কান্না শুরু করে দেয়। অনেক কষ্টে সেই কান্না থামালাম। যদি কেউ জানে হানিমুনে এসেছি তারপর বউ কান্না করছে মান সম্মান কিছু থাকবে না। তাঁর থেকে অত্যাচার গুলো মেনে নেওয়া টাই ভালো। আমারো তো অনেক ভালো লাগে।

" পরের দিন আবার শুরু হলো। সবার সাথে ঈশিতা গোসল করছে আমি ছাতার নিচে বসে আছি। ঈশিতার ছেলে মানুষি দেখছি। তখনি পাশ থেকে একজন বলে উঠলো......

- ভাই, হানিমুনে এসেছেন বুঝি?

" লোকটির কথা শুনে চমকে উঠে। পাশ ফিরে দেখি আমার সমবয়সী হলেও কেমন হতাশার ছাপ। মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বললাম....

- হ্যা, ভাই......

" তখন লোকটি বললো.....

- ভাই, জীবনটা ত্যানা ত্যানা করে ফেললো। আগে জানলে বিয়ে করতাম না। বউয়ের বায়নার শেষ হয়না। এই দেখেন এখন গোসল করছে।মাঝ রাতে হুট করে বায়না ধরে গান শোনাতে....ভাই আগে জানলে হানিমুন নামক এই কথা মুখেও আনতাম নাহ।

" লোকটি একগাধা ফিরিস্তি দিলো। অনেক হতাশা মনে হচ্ছে বউয়ের অত্যাচারের। মনে মনে বলতে ইচ্ছে হলো...

- ভাই,আসেন কপাল ঘষা দেই। আপনার দেখেও কম নাহ আমি।

" তখনি ঈশিতা ডাক দিলো গোসল করতে। কিছু না বলেই মুচকি হেসে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি লোকটিও মলিন মুখে আসলো। বেশ কিছুক্ষণ গোসল করে রুমে  চলে আসি। তবে আজকের গোসল বেশি হয়ে যায়। যার দরুন ঠান্ডা লেগে যায়। তখন তো আরো বিপদ। ঈশিতার কি শাসন? কে বলেছিলো গোসল করতে? এটা করো না ওটা করো না। এটা খাও.......

" তখন নিজেকে মনে হলো জেলখানার আসামি। বাসায় ফিরে আসি সবাই মিলে। বাসায় এসেই ঈশিতা চলে গেলো ফ্রেশ হতে। তখনি রুবি বলে উঠলো.....

 

- ভাইয়া, ঈশিতা ভাবি তো অনেক রোমান্টিক। তোর কত খেয়াল রাখে। ভাগ্যগুনে পেয়েছিস.....

" রুবির কথা শুনেই বলে উঠলাম.....

- রোমান্টিক না ছাই! আমাকে তেজপাতা করছে ফেলছে। এটা করো না ওটা করো না....বাবা রে বাবা....আগে জানলে শা** র বিয়ে করতাম নাহ!

- কি? ভাবির নামে এই কথা। আমি এখনি বলছি.....

- এই শোন....

" তখনি ঈশিতা এসে কোথা থেকে হাজির। আমার দিকে রেগে তাকিয়ে বলতে লাগলো.....

- কয় বার ডাক দিলাম? কানে যায়নি?  এখনি রুমে এসে.....

" ঈশিতার কথা শুনে ভয়ে ভয়ে তাকালাম।শুনে ফেললো না তো?রুবি দেখি মুচকি মুচকি হাসছে। ঈশিতার সাথে সাথে রুমে আসতেই দরজা লক করে বললো.....

- ওখানে বসে কিসের কথা হচ্ছিলো? রুমে আসার মন থাকে না?

- না মানে.....

- না মানে কি?? কোন শাড়িটা পড়বো চয়েজ করো।

" ঈশিতার কথা শুনেই রেহাই পেলাম। যাক কিছু শুনতে পাই নি। ভয় পাবার কিছু নেই। ঈশিতার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে নীল শাড়ি হাতে নিয়ে বললাম..... 

- আমার রোমান্টিক বউকে নিয়ে কথা হচ্ছিলো। এই নীল শাড়িতে বেশ ভালো মানাবে....

- হু, রোমান্টিক না ছাই। 

" হুট করে ঠোঁটে স্পর্শ করলো।যেই ধরতে যাবো এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেলো। ঈশিতাকে ধরতে গিয়েও ধরতে পারেনি। চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। যাওয়ার সময় তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রেডি হতে বললো। আজকে বাহিরে খাবো সবাই মিলে।

" ঈশিতা চলে যেতেই বাধ্য ছেলের মতো রেডি হয়ে গেলাম। বেশকিছু পর ঈশিতা ফিরে আসলেও ধরা দেয়নি। মুচকি হেসে চলে যায়। ঈশিতাকে আজ অপূর্ব সুন্দর লাগছে, নীল শাড়িতে.!

  " সবাই একসাথে রেডি হয়ে বাহিরে যাওয়ার জন্য নিচে নামতেই রুবি আর রিতা এসে হাজির। রিতা আর রুবিকে দেখে দূরে সরে গেলাম।  না জানি হারামি দুইটা আবার কি মতলব করে আছে। মনে আছে দুইটার বাদরামির শাস্তি........ ????

"  রুবিকে তো আম্মুর চোখের আড়াল হতেই দেয়নি। আম্মুকে বলেছিলাম......

" দেখো আম্মু, অচেনা জায়গা। রুবিকে একা ছেড়ে দিও না। না জানি আবার কো বিপদ হয়।

" আমার কথা শুনেই রুবিকে এক মূহুর্তের জন্য হাত ছাড়া করেনি। রুবির আনন্দ টাই মাঠি হয়ে যায়।

 " সেই থেকে রুবি আমার উপর ক্ষেপে আছে। আর রিতা ওহ! রিতার তো ফোনই জব্দ করে রাখি। সেই সাথে চাচির চোখের আড়াল হতে দেয়নি।

" রিতার যখন ফোনের দিকে নজর তখন চাচিকে দেখিয়ে বলেছিলাম......

- এতো ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখ গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। কি আছে এই ফোনে? আর ওকে দেখে রাখবেন দেশের পরিস্থিতি ভালো না।

" তারপর বাকীটা ইতিহাস। এক ঝটকায় ফোন কেড়ে নিলো। চোখের আড়াল হতে পারেনি। তারা দুজনেই ক্ষেপে আছে আমার উপর। এর প্রতিশোধ  নিয়ে ছাড়বে।

 এদের দেখছি আর নিজের বিপদ গুনে যাচ্ছি। না জানি মনে মনে কি ফন্দি আটছে। আর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ঈশিতার কথা ভাবছি এখন না জানি কোথায় আছে। ঈশিতা থাকলে ধারে কাছে আসার সাহস পাবে না।

 " হুট করেই কে যেনো এসে হাত ধরে ফেললো। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি ঈশিতা। 

" আমার চোখে চোখ পড়তেই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো। সবার আড়ালেই জড়িয়ে ধরে কপালে স্পর্শ করে বললাম....

- আমার শহুরে রোমান্টিক বউ। এমন ভাবে বাকীটা সময় পাশে থাকলেই হবে।

" ঈশিতা লজ্জা কন্ঠে বলে উঠলো......

- বিয়ে করেছি কি ছেড়ে যাওয়ার জন্য? হু....

" তখনি রুবি এসে ফিসফিস করে বললো.....

- ভাইয়া, কিসের এতো রোমান্টিক কথা বলিস?

" রুবি কে ধমক দিয়ে বললাম......

- সেটা তোর শুনতে হবে না। আমার শহুরে রোমান্টিক বউ শুনলেই হবে। তুই তোর রাস্তা মাপ.....তাই না বউ।

- হুম.......

" আমাদের কথা শুনে রুবি মুখ ভেংচি কেটে চলে গেলো। হয়তো ভেবে ছিলো একটা ঝগড়া লাগাবে..তবে সেটা হয়নি। যতই ইতরামি করো এখন সেটা বুঝা হয়েছে। 

 " দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে এক অপূর্ব হাসি দিয়ে পথ চলতে শুরু করি। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আজ শহর টা ঘুরে দেখবো। দুজনে রিকশায় পাশাপাশি বসে কিংবা হাতে হাত রেখে পিচ ঢালা পথটা হাঁটবো। পাশে যে শহুরে রোমান্টিক বউ। এমন শহুরে রোমান্টিক বউ পাশে থাকলে আর কি চাই......

 

 

....
👁 1225