রাতের বেলা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরছি। রাত বেশি না, সবে মাত্র ৯.০০ টা বাজে। চাঁদের আলোয় আস্তে আস্তে হাটতেছি। একটু দূরে রাস্তার ওপাশে একটা ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে খেয়াল করে দেখলাম একটা জিনিষ ঝিকিমিকি করতেছে।
প্রথমে ভাবলাম হয়তো কোনো চিপস বা অন্য কিছুর প্যাকেট হবে। কিন্তু মনের মধ্যে কেমন যেন একটা খটকা গেলো। রাস্তার ওপাশে গেলাম। ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে গিয়ে দেখি একটা নীল রঙের ডাইরি।
চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নাই। ডাইরিটা হাতে নিলাম। ভাবলাম বাসায় গিয়ে খুলে দেখবো।
হাটতে শুরু করলাম, মনে হলো পায়ের নিচে শক্ত কিছু একটা পড়ছে। নিচে তাকিয়ে দেখি মোটা ফ্রেমের একটা ভাঙ্গা চশমা। ভাবতে লাগলাম এটা কার হতে পারে? এতো রাতে কেউ তো চশমা ফেলে যাওয়ার কথা না।
ধুর এতো কিছু ভেবে লাভ নেই, চশমাটাও নিয়ে নিই। কেউ খোজ করলে দিয়ে দিবো।
ভাঙ্গা চশমা আর ডাইরিটা নিয়ে বাসার দিকে হাটা দিলাম। চলেন যেতে যেতে পরিচয় টা দিয়ে দিই।
আমি নয়ন, আপাতত স্টুডেন্ট, বাকীটা গল্প পড়তে পড়তে যেনে যাবেন।
একটু পর বাসায় চলে গেলাম। ডাইরি আর চশমা টেবিলের উপর রেখে আমি ফ্রেশ হতে চলে যাই। ফ্রেশ হয়ে এসে পড়তে বসলাম কিন্তু পড়ায় মন বসছে না। মনের মধ্যে একটা শয়তানি ঘুরতেছে। ডাইরিতে কি লেখা আছে তা পড়ার জন্য।
বাচ! যেই ভাবা সেই কাজ। ডাইরিটা নিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়তে লাগলাম।
নাম ফারিয়া কবির জান্নাত।
আর কোনো পরিচয় দেওয়া নেই, তারমানে একটা মেয়ে। কৌতূহল টা আরো বেড়ে গেলো। আমি আর কোনো কিছু চিন্তা না করে প্রথম পাতা থেকে পড়া শুরু করলাম.....
"" ডাইরি লেখা আমার শখ গুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্লাস থ্রি থেকে আমি ডাইরি লেখি। জীবনে অনেক গুলো ডাইরি লিখি আমি তবে এই ডাইরি টা আমার লাইফে একটু বেশিই স্পেশাল।""
আমি একটু থেমে নিশ্বাস নিলাম, কি এমন স্পেশাল তা পড়ার জন্য আমার আগ্রহের আর শেষ নেই। আমি আবার পড়তে শুরু করলাম.....
সেজান নামের একটা ছেলে আমাকে প্রতিদিন ফলো করতো, আমার পেছনে পেছনে ঘুরতো। সে যে আমাকে পছন্দ করে সেটা আমি তার চালচলন দেখেই বুঝছি। ছেলেটাও দেখতে অনেক হ্যান্ডসাম, ভালো ফ্যামিলির ছেলে মনে হয়।
এভাবে কিছু দিন চলে যায়, আমি কলেজ থেকে আসি, আর ও আমার পিছু পিছু আসে। আমার ভালোই লাগে এগুলো। আমিও ছেলেটাকে পছন্দ করতে শুরু করলাম। একদিন আমি কলেজ থেকে বাসায় আসতেছিলাম এমন সময় শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি ছেলেটা একটা ছাতা হাতে নিয়ে আমার কাছে আসলো।
সেদিন আমাদের প্রথম কথা হয়....
সেজানঃ এই নিন ছাতাটা ধরুন।
আমিঃ তো আপনি কি করবেন?
সেজানঃ সমস্যা নেই, আমি ভিজতে অভ্যস্ত।
আমি কিছু না বলে একটা মুছকি হাসি দিয়ে ছেলেটার হাত থেকে ছাতাটা নিলাম। তারপর বললাম....
আমিঃ আপনিও ছাতার ভিতর আসুন, আমার কোনো সমস্যা হবে না।
সেজানঃ ধন্যবাদ। আপনার নামটা জানতে পারি?
আমিঃ হুম, আমি জান্নাত। অনার্স ১ম বর্ষে পড়ি। আপনি?
সেজানঃ আমি সেজান, মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ার। পাশাপাশি বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করি।
আমিঃ ওহ গুড।
সেজানঃ আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি? (একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে)
আমিঃ হুম ওকে ফ্রেন্ডইতো, হওয়া যায় সমস্যা নাই।
সেজানঃ আচ্ছা ধন্যবাদ।
আমিঃ ওকে, শুনেন আমি বাসার সামনে চলে আসছি। আপনি এবার আসতে পারেন। আর হে ছাতা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
এভাবে আমার আর সেজানের পরিচয় হলো, ছেলেটার মাঝে কেমন যেন একটা জাদু আছে। ওর কথা বলার ধরনটাও অন্যরকম। আমারও ও কে ভালো লাগে।
২য় দিন....
আমি কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখলাম সেজানও একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে। আমি ইশারা দিয়ে কাছে আসতে বললাম। সে আসলো....
আমিঃ কি ব্যাপার আপনি এখানে কেন?
সেজানঃ গতকাল কেউ একজন আমার মনটা চুরি করে নিয়ে আসছে। মনটা নিতে আসলাম।
আমিঃ মানে কি মন চুরি করা যায় নাকি?
সেজানঃ হুম যায় তো। আচ্ছা বাদ দেন। চলেন ওদিকে একটু হাটি!
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে চলেন।
সেজানঃ আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে তুমি করে বলতে পারেন।
আমিঃ এতো তাড়াতাড়ি তুমি? আচ্ছা ঠিক আছে বলবো। তুমিও আমাকে তুমি করে বলিও।
সেজানঃ আচ্ছা ঠিক আছে। একটা কথা বলবো?
আমিঃ হুম বলো।
সেজানঃ তোমাকে ওই মোটা ফ্রেমের চশমায় অনেক কিউট লাগে।
আমিঃ তাই নাকি?
সেজানঃ হুম, মন কেড়ে নেওয়ার মতো।
আমিঃ ধন্যবাদ।""
এবার আমার মাথায় আসলো আসল কাহিনী। তারমানে ডাইরিটাও মেয়েটার আবার চশমাটাও মেয়েটার। কিন্তু এগুলো রাস্তায় আসলো কি করে? আমি আবার ডাইরি টা পড়তে লাগলাম....
সেজানঃ তোমার সাথে আমি প্রতিদিন দেখা করবো, কোনো সমস্যা হবে?
আমিঃ আরে না সমস্যা কেন? তবে বাসার ওই দিকে যেও না। সমস্যা হতে পারে।
সেজানঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
সেদিন আমি (জান্নাত) আমার সব গুলো ছোট ছোট স্বপ্নের কথা বলে দিলাম, আমার ফেভারিট সব গুলো জিনিষ এর নাম বললাম। সেজানও বললো তার সব ফেভারিট জিনিষের নাম। আসার সময় সেজান আমার fb আইডিটা নিলো। তারপর একটু বাসার দিকে এগিয়ে দিলো।
সেদিন রাতে মেসেঞ্জারে অনেক কথা হয় আমাদের। ছেলেটাকে নিজের অজান্তেই মন দিয়ে দিলাম। সব সময় ওর কথা মনে পড়ে।
৩য় দিন...
সেজান আমাকে কলেজে ওখানে একটা কফিশপে ডেকে নিয়ে যায়। দুজনে বসে বসে কফি খাচ্ছি এমন এময় সেজান আমাকে অনেক বড় একটা ব্যাগ দেয়, আমি জিজ্ঞেস করলাম...
আমিঃ কি এটাতে?
সেজানঃ তোমার জন্য সামান্য গিফট।
আমিঃ আরে কি বলো এতো বড় ব্যাগ, আর তুমি বলো সামান্য। কি আছে এটাতে?
সেজানঃ বাসায় গিয়ে দেখো। এখানে খুলবে না।
আমিঃ ওকে।
বাসায় এসে প্যাকেট টা খুললাম, ভিতরের জিনিষ দেখেই তো আমি অভাক, এতো গুলো গিফট?
একটা পুতুল, অনেক গুলো নীল চুড়ি আর কিটকেট সহ অনেক রকমের চকলেট। আমি সেজানকে কল দিয়ে অনেক গুলো ধন্যবাদ দিলাম। """
ডাইরিটা এভাবে পড়তে ছিলাম, ভালোই লাগছিলো, জীবনে তো কখনো প্রেম করিনি, তাই প্রেমের ১ম অবস্থাটা কেমন হয় জানতাম না। ডাইরিটা পড়ার পর জানলাম আরকি। পরের পাতা উল্টিয়ে পড়তে যাবো এমন সময় আম্মুর ডাক....
আম্মুঃ নয়ন, এই নয়ন! খেতে আয়। অনেক রাত হলো।
আমিঃ এইতো আম্মু আসছি। তুমি রেড়ি করো।
আম্মুঃ তাড়াতাড়ি আয়।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১১.০০ টা বাজে। ডাইরি পড়তে পড়তে কখন যে এতো সময় হয়ে গেলো টেরও পাইনি।
আমি গিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে আবার রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে আবার পড়তে শুরু করলাম....
৪র্থ দিন.....
আমি রাতে পড়তেছি। সময় সেজান আমাকে কল দিলো....
আমিঃ হ্যালো সেজান বলো..
সেজানঃ কি ব্যাপার আজকে কলেজে আসো নি। আবার মোবাইলও বন্ধ।
আমিঃ আসলে আম্মু অসুস্থ তো তাই, আর মোবাইলে চার্জ ছিলো না। তো কিছু বলবে?
সেজানঃ কালকে তো ভ্যালেন্টাইন ডে মনে আছে?
আমিঃ হুম। কেন?
সেজানঃ কালকে একটু দেখা করতে পারবে প্লিজ?
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
সেজানঃ ওকে তুমি একটা নীল শাড়ি পড়ে, পার্কে চলে আসিও। আমি ওখানে থাকবো।
আমিঃ ওকে চেষ্টা করবো। বাই...
কলটা কেটে দিলাম, আমি সিউর যে সেজান আমাকে প্রপোজ করবে। খুশিতে আমার ঘুম আসছে না।
পরের দিন.....
আমি একটা নীল শাড়ী পড়ে, একটু সেজেগুঁজে পার্কে গেলাম। দেখলাম সেজান আগে থেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সেও অনেক সেজে গুঁজে এসেছে। নীল রঙ্গের একটা পাঞ্জাবি পড়ে এসেছে। ইচ্ছা করছে আমি নিজেই সেজানকে প্রপোজ করি।
তারপর সেজান হাটু ভাঙ্গিয়ে বসে দু হাতে অনেক গুলো গোলাপফুল বাড়িয়ে দিয়ে ফিলমি স্টাইলে আমাকে বললো...
জান্নাত হবে কি আমার একলা পথের পথ চলার সাথী? হবে কি আমার বৃষ্টিতে ভিজার সঙ্গী? হবে কি আমার মনের রাজ্যের রাণী? হবে কি আমার ঘুম ভাঙ্গানো পাখি? ধরবে কি হাত আমার! কথা দিলাম পুরো পৃথিবী ছেড়ে দিবো তবুও তোমার হাত ছাড়বো না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি জান্নাত।
I Love You Jannat
I Low You So Much
আমি আর কিছু চিন্তা না করে সেজানের প্রপোজ একসেপ্ট করে নিলাম।
আমিঃ আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি সেজান।
I Love You Too...
প্রথমবারের মতো সেদিন সেজান আমার হাত ধরেছে। আমারও অনেক ভালো লেগেছে। অনেক সময় নিয়ে আমরা ঘুরলাম, খেলাম, আনন্দ করলাম""
জান্নাতের ডাইরিটা পড়ে একটা আফসোসের নিশ্বাস ছেড়ে ভাবতে লাগলাম, আমিও যদি জান্নাত আর সেজানের মতো প্রেম করতে পারতাম বা আমি যদি সেজান হতাম কতই না ভালো হতো।
এমন সময় আম্মু আসলো আমার রুমে....
আম্মুঃ কিরে কি করিস?
আমিঃ কি ব্যাপার আম্মু তুমি এখনো ঘুমাওনি?
আম্মুঃ রাত ২.০০ টা বাজে। তোর রুমের লাইট জ্বলছে তাই দেখতে এলাম। এই তোর হাতে এটা কি?
আমিঃ একটা ভালোবাসার ডাইরি?
আম্মুঃ কিহ! তুই প্রেম করিস?
আমিঃ আরে আমি কেন প্রেম করবো? রাস্তায় পেয়েছি। তাই পড়তে লাগলাম।
আম্মুঃ তোর আর কোনো কাজ নেই? যা ঘুমাই যা।
আমিঃ আচ্ছা আম্মু শোনো...
আম্মুঃ হুম বল!
তারপরে......
---তোর আর কোনো কাজ নেই, যা ঘুমিয়ে যা। (আম্মু)
---আচ্ছা আম্মু শোনো (আমি)
--- হুম বল।
--- এখানে একটু বসো, তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি।
--- তুই পড়, আমি ঘুমাবো।
--- আরে ৫ মিনিট বসো তো।
এরপর আমি আবার ডাইরিটা পড়তে শুরু করলাম.....
""সেজানের সাথে আমার সম্পর্ক টা দিন দিন ভালো হতে লাগলো, আমি সেজানকে আরো বেশি ভালোবেসে ফেললাম।
একদিন সন্ধ্যার সময় সেজান আমাকে মেসেজ দিলো সাদে যাতে, আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে তারওপর সেজান আমাদের সাদে কি করে গেলো..
আমি তাড়াতাড়ি সাদে গেলাম, দেখি সেজান আমার জন্য ওয়েট করতেছে। তারপর আমরা দুজন অনেকক্ষণ ভিজলাম।
এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছিলো। সে আমাকে প্রতিদিন দেখতে আসতো, কথা বলতো, অনেক অনেক স্বপ্ন দেখতো আমাকে দিয়ে।""
একটু থেকে আম্মুকে বললাম...
---- আমার জন্য এই রকম একটা বৌ নিয়ে আসিও (আমি)
--- আগে সেজানের মতো রোমান্টিক আর ভদ্র হয়ে নে, তারপর দেখা যাবে। (আম্মু)
--- কিহ! আমি রোমান্টিক না।
--- কচুর রোমান্টিক, যা ঘুমিয়ে যা। আমি গেলাম।
এরপর আম্মু চলে গেলো, আমি আবার ডাইরিটা পড়তে লাগলাম....
"" সেদিন রাতের বেলা সেজান আমাকে কল দিলো....
--- হ্যালো জান্নাত (সেজান)
--- হুম বাবু বলো! (জান্নাত)
--- অনেক বড় একটা বিপদ হয়ে গেছে।
--- কি বিপদ!
--- বাবা আমার জন্য মেয়ে দেখতেছে, আমি তোমার কথা বলেছি, কিন্তু উনি মেনে নিচ্ছে না।
--- কি বলছো এসব?
--- হুম আমি সত্যি বলছি। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁঁচবো না।
--- তো কি করবে এখন?
--- চলো না আমরা কালকে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি।
--- কি বলো এসব! আম্মু কি মেনে নিবে?
--- বিয়ের পর সবাই মেনে নিবে, প্লিজ না করো না।
--- আচ্ছা দেখি কি করা যায়।
--- দেখি না, তুমি কালকে রেড়ি থাকো। আমরা কালকেই বিয়ে করবো।
--- আমার অনেক ভয় লাগছে।
--- ভয়ের কিছু নাই, আমি তো আছি। তুমি তোমার জামাকাপড়, টাকা পয়সা আর স্বর্ণ অলংকার যা যা আছে সব গুলো নিয়ে নিবে, পারলে তোমার আম্মুর গুলাও নিবে।
--- আচ্ছা ঠিক আছে, কখন বের হবে।
--- কালকে সন্ধ্যার পর।
--- দিনের বেলা বের হও।
--- না, রাস্তায় মানুষ জন দেখে ফেলবে।
--- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি বের হবো।
এ কথা বলে কলটা কেটে দিলাম, তারপর আমি আমার সব গুলো জিনিষ ব্যাগে নিলাম।
পরের দিন দুপুরে আম্মু গোসল করতে গেছে, আমি আলমারি খুলে স্বর্ণ আর অনেক গুলো টাকা নিয়ে নিলাম।
সব কিছু ঠিকঠাক করে ফেললাম, বার বার শুধু সেজান কল দিচ্ছে আমাকে, আমিও কথা বলে যাচ্ছি।
সন্ধ্যা ৭.০০ টা, আমি ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লক্ষ টাকার মতো স্বর্ণ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম........""
ডাইরিটা পড়া শেষ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হলো সেটা আর জানা হলো না। মনের মধ্যে কেমন জেন খটকা গেলো, তাদের মিল হলো তো, নাকি হয়নি। ভাবতে ভাবতে ডাইরির পাতা গুলো উল্টাতে লাগলাম।
হঠ্যাৎ করে একটা ছবি দেখলাম, সাথে সাথে ছবিটা নিয়ে দেখতে লাগলাম আর মনে মনে বললাম...
সেজান তোর কপালটা আসলেই অনেক ভালো রে, মেয়েটা যেমন সুন্দর তেমন পয়সাওয়ালা আর অনেক ভালো মনের। এই রকম মেয়ে পাওয়া আসকেই ভাগ্যের ব্যাপার।
মেয়েটার চোখে সেই চশমাটা যেটা আমি ভাঙ্গা অবস্থায় পেয়ে ছিলাম।
ছবিটা উল্টিয়ে দেখি একটা মোবাইল নাম্বার, খুশির আর সীমা রইলো না। নাম্বারটা নিয়ে কল দিবো এমন সময় ভাবলাম,,,
রাত ৩.০০ টা বাজে, এতো রাতে কল দেওয়া ঠিক হবে না, কালকে সকালে কল দিয়ে ডাইরিটা নিয়ে যেতে বলবো। এরপর আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম। তারপর রুমে গেলাম। টেবিলের উপর ডাইরিটা দেখে নাম্বারটার কথা মনে পড়ে গেলো। সাথে সাথে কল দিলাম, কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি। সিমটা অফ, কল যাচ্ছে না। অনেকবার দিয়েছি বাট সিম অফ।
তারপর ডাইরিটা আর চশমাটা একটা ব্যাগে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম, হাটতে হাটতে কালকে রাতের সেই ল্যাম্পপোস্ট টার ওখানে গিয়ে বসে আছি, আমার ধারনা মেয়েটা হয়তো আসবে ডাইরিটা নিয়ে যেতে, কিন্তু এলো না। দুপুরবেলা বাসায় চলে আসলাম।
খেয়েদেয়ে আবার সেখানে গেলাম কিন্তু কেউ আসলো না। বার বার কল দিচ্ছি নাম্বার বন্ধ।
এইভাবে ৭ দিন চলে গেলো, আমি ল্যাম্পপোস্ট এর ওখানে গিয়ে অপেক্ষা করি কিন্তু কেউ আসে না।
৮ম দিনের দিন বন্ধু এনামএর সাথে দেখা....
-- কিরে এতো রাতে এখানে কি করিস? (এনাম)
--- না এমনি বসে আছি (আমি)
--- আচ্ছা চল! চা খেতে খেতে কথা বলি।
এরপর আমি আর এনাম একটা চায়ের দোকানে ঢুকলাম, আপনাদের বলে রাখি এনাম পড়ালেখার পাশাপাশি একটা সিম কোম্পানিতে জব করে। আমি বললাম.....
--- দোস্ত একটা উপকার করতে পারবি? (আমি)
--- হুম বল। (এনাম)
--- একটা নাম্বার দিবো তোকে, ওই নাম্বারটা কোন NID কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা একটু দেখতে পারবি?
--- আচ্ছা দেখবো, আগে নাম্বার দে।
এরপর আমি নাম্বারটা দিয়ে দিলাম। চা খেয়ে দুজনে বাসায় চলে গেলাম। পরের দিন এনাম আমাকে NID কার্ডটার পুরো ডিটেলস দিয়ে দেয়।
পড়ে দেখলাম, জামিল আহমেদ নামের কেউ একজনের, মনে হয় মেয়েটার বাবা হবে। আমাদের পাশের এলাকায় থাকে ওরা। সেদিন বিকেলে হাটতে হাটতে ওই এলাকায় গেলাম, একজন মুরুব্বীকে বললাম জামিল আহমেদের বাসা কোনটা তিনি দেখিয়ে দিলেন।
দোতলা একটা বাড়ি, চারপাশে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। অনেকক্ষণ উঁকিঝুঁকি মারলাম কাওকে দেখতে পেলাম না।
রাতে আবার এনামকে কল দিলাম....
--- দোস্ত আর একটা উপকার করতে পারবি (আমি)
--- আরে বল! (এনাম)
--- ওই NID. কার্ড দিয়ে অন্য কোনো নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করা আছে কিনা দেখ।
-- ওকে আমি তোকে জানাবো।
--- ধন্যবাদ বন্ধ।
পরের দিন এনাম ২ টা নাম্বার আমাকে sms করে পাঠায়, মনে হয় এই দুইটা নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করা ছিলো।
সকালে কল দিবো ভাবছি কিন্তু দেইনি যদি ওর মা বা বাবা কল ধরে তাই। দুপুরবেলা কল দিলাম কারণ এ সময় হয়তো জান্নাতের আম্মু গোসল করতেছে। কয়েকবার রিং পড়ার পর,,,,
--- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (মেয়ের কন্ঠ)
--- ওয়ালাইকুম সালাম। আপনার নাম কি জান্নাত? (আমি)
--- হুম বাট আপনি কে?
--- আপনি আমাকে চিনবেন না, আপনার নাম্বার বন্ধ তাই আপনার মায়ের নাম্বারে কল দিলাম।
--- কিন্তু কেন, আপনাকে তো আমি ছিনিই না।
--- আপনার একটা নীল ডাইরি, আর চশমা আমি পেয়েছি। ওগুলো আপনাকে দেওয়ার জন্য।
--- আপনি পেয়েছেন, জানেন আমি কতো খুঁজেছি। তো কখন দিবেন?
--- দিবো আমার একটা শর্ত আছে।
--- আপনার আবার কিসের শর্ত?
--- হুম আছে একটা।
--- আচ্ছা ঠিক আছে বলেন।
--- আপনার ডাইরিটা আমি পুরো পড়েছি, তবে শেষে কি হলো জানি না। যদি শেষটা আমাকে বলেন তাহলে আমি ডাইরি দিবো।
--- ওগুলো আপনি জেনে কি করবেন?
--- সেটা পরে বলবো। আগে বলেন শেষটা কি বলবেন কিনা?
--- আচ্ছা ঠিক আছে বলবো।
--- সত্যিটা বলতে হবে, কোনো ধরনের ফাঁকিবাজি চলবে না।
--- আচ্ছা ঠিক আছে বলবো।
--- তাহলে বিকালবেলা এখানে আসবেন (ঠিকানা দিলাম)
--- ওকে, আপনি ডাইরি আর চশমাটা নিয়ে আসিয়েন।
--- আচ্ছা ঠিক আছে।
একথা বলে কলটা কেটে দিলাম, মনের মধ্যে কেমন যেন লাড্ডু ফুটতেছে।
দুপুরে খেয়ে আরর ঘুমালাম না, অনেক সেজে গুঁজে ডাইরি আর চশমা একটা ব্যাগে নিয়ে বিকালবেলা বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম।
পথটা কাছেই, তাই আস্তে আস্তে হেটে হেটে যাচ্ছি।
অতঃপর চলে আসলাম, দেখলাম সে কপিশপের ভিতরে কোনার একটা টেবিলে বসে আছে। আমি তার কাছে যাওয়ার পরেই.......
অতঃপর চলে আসলাম, দেখলাম সে কপিশপের ভিতরে কোনার একটা টেবিলে বসে আছে। আমি তার কাছে যাওয়ার পর বললাম....
--- Hi.. (আমি)
--- আপনি সেই, যে আমাকে আসতে বলেছেন? (জান্নাত)
-- হুম! আমিই।
--- আমার জিনিষ গুলো কোথায়?
-- আছে, আগে আমাকে দেওয়া কথা গুলো বলেন।
--- আচ্ছা বলেন কি শুনতে চান?
--- এখানে না, বাইরে বলিয়েন। আগে একটা কফি খেয়ে নিই, হেটে আসছি তো তাই।
--- আপনার এলাকা কোথায়?
--- এই তো রাস্তার ওপাশে।
এভাবে কথা বলতে বলতে আমি আমার নাম, পরিচয়, পড়ালেখা সব কিছু বলে দিলাম। সেও বলে দিলো। কফি খেয়ে আমি আর জান্নাত বের হয়ে একটা পার্কের মধ্যে গেলাম। একটা ভালো জায়গা দেখে দুজনে ওখানে গেলাম, একটা ব্যাঞ্চের উপর দুইজন দুই মাথায় বসলাম। তারপর বললাম...
--- আচ্ছা এবার বলেন, ডাইরিতে যতটুকু লিখেছেন, তারপরে কি হয়েছে।
--- (চুপ করে আছে)
---- কি হলো বলেন।
--- সেদিন আমি সেজানের কথা মতো টাকা, স্বর্ণ আর আমার জিনিষ পত্র নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। একটা ঠিকানা দিলো ওখানে যাওয়ার জন্য, রিক্সা নিয়ে সেখানে গেলাম।
দেখলাম সেজানসহ তার অনেক গুলো ফ্রেন্ড দাঁড়িয়ে আছে, আমাকে দেখে সবাই ভাবি ভাবি বলে ডাকছে। সেজানকে জিজ্ঞেস করলাম ওদের কে কেন নিয়ে এসেছে? সে বললো বিয়েতে নাকি অনেক গুলো সাক্ষী লাগে তাই। আমি আর কিছু না বলে ওর দিকে চেয়ে আছি।
সে আমাকে বললো, এখন কাজী অফিস যাবে, একথা বলে আমার হার ধরে ওই দিকে হাটতে লাগলো, পিছনে তার বন্ধু গুলো রয়েছে।
একটা অন্ধকার গলির মধ্যে দিয়ে আমরা হাটছি, আমার অনেক ভয় হচ্ছিলো তাকে জিজ্ঞেস করলাম আমরা কোথায় যাচ্ছি, কাজী অফিস কোথায়? সে একটু সামনে বলে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে।
হাটতে হাটতে একটা নির্জন জায়গায় চলে যাই, সে আমাকে একটা ঘর দেখিয়ে বলে এটা কাজী অফিস। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এটা কোনো কাজী অফিস না।
ভিতরে গেলাম, দেখি কেউই নেই, মনে হচ্ছে অনেক দিন কেউ থাকেনা।
আমি সেজানকে কিছু বলতে যাবো এমন সময় সেজান আমার মুখ চেপে ধরে, আমি চিৎকার করতে চাচ্ছি বাট পারছি না।
ওর বন্ধুরা এসে আমার কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণ, আমার মোবাইল যা আছে সব গুলো নিয়ে যায়, সেজান রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে " এতো দিন এগুলোর অপেক্ষাই ছিলাম, আজকে তা পূরণ হলো। আজকে তোমার সব শেষ ডার্লিং, টাকা পয়সা এবংকি তোমার মিষ্টি মাখা এই শরীর।
আমি যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করাতে পারছি না।
যে সেজান আমাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতো সেই আমার সাথে এগুলো করছে?
সেজান এসে আমার গায়ে হাত দেয় সাথে সাথেই আমি একটা চড় দিয়ে হাতের পার্লস টা নিয়ে দৌড়াতে শুরু করি। সেজান আর ওর বন্ধুরা আমার পিছু পিছু আসে আমি একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়ি।
দৌড়াতে দৌড়াতে আপনাদের এলাকায় চলে যায়, দেখি সেজানের বন্ধুগুলো ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখে আমি আবার দৌড় দিই।
কখন যে আমার হাত থেকে ব্যাগটা পড়ে গেছে মনে নেই, সাথে চশমাটাও।
এরপর আমি একটা CNG ডেকে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাই।
দেখলাম জান্নাতের চোখ দিয়ে পানি ঝরতেছে। মনে মনে সেজানকে বললাম, হায়রে ফকিন্নি এই সামান্য জিনিষ গুলার জন্য তুই মেয়েটার সাথে এমন করলি? বিয়ে করলে তো সব কিছুই তোর হতো। তারপর আমি বললাম...
--- আপনার বাবা মা আপনাকে কিছু বলেনি?
--- কি বলবে! আমি যে বেঁচে ফিরেছি এটাতেই উনারা খুশি।
--- এই নিন আপনার ডাইরি আর চশমা। (সব গুলো দিয়ে)
--- ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না, যা করেছেন সারা জীবন মনে থাকবে। আচ্ছা একটা কথা
--- হুম বলেন।
--- আপনি আম্মুর নাম্বার কোথায় ফেলেন?
--- আপনার নাম্বার ছবিটার পেছনে ছিলো, ওটাতে কল দিয়েছিলাম বন্ধ, পরে এক বন্ধুর সহায়তায় একটা সিস্টেমে আপনার মায়ের নাম্বার টা নিলাম।
--- ও আচ্ছা, সময় পেলে বাসায় গিয়ে ঘুরে আসিয়েন।
--- বাসায় তো আজকেই যাবো। (আস্তে আস্তে)
--- কিছু বললেন?
--- না বলছি যে সময় পেলে যাবো
--- ও আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তাহলে যাই, আম্মু চিল্লাচিল্লি করবে দেরি করলে।
--- ওকে, আল্লাহ হাফেজ। ভালো থাকবেন।
--- আপনিও ভালো থাকবেন, Bye
বিদায় নিয়ে জান্নাত চলে যাচ্ছে, আমি ওর পথ চলার মাঝে চেয়ে আছি। কেমন জানি একটা মায়া বসে গেছে মেয়েটার উপর।
কিছুক্ষণ বসার পর আমিও বাসায় চলে গেলাম।
একটু পর আম্মু আসলো রুমে....
--- কিরে এতোক্ষণ কোথায় ছিলি? (আম্মু)
--- তোমার বৌমার সাথে দেখা করতে গেছিলাম। (আমি)
--- বৌমা মানে?
---- মানে তোমার ছেলের বউ।
--- আরে কি বলিস! মেয়েটা কে ছবি দেখা।
--- ডাইরির সেই মেয়েটা।
--- ফাইজলামো করিস? ওর তো অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে।
--- আরে নাহ হয়নি। (সব গুলো ঘটনা আম্মুকে বললাম)
--- কি বলিস এই সব সত্যি নাকি?
--- হুম, আচ্ছা শোনো তুমি কালকে মেয়েটার বাসায় যাবে, বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।
--- তুই পাগল নাকি? এই অবস্থায় মেয়েটা বিয়ের জন্য রাজি হবে নাকি? আর তোরও তো খুব একটা বয়স হয়নি।
--- আমি কি বলছি আমি এখন বিয়ে করবো? আমি বলছি যে বিয়েটা ঠিক করে রাখার জন্য।
--- মেয়েটা যদি রাজি না হয়?
--- সেটা পরে দেখা যাবে। তুমি তো আগে যাও।
--- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে যাবো। এখন খেতে আয়।
পরের দিন বিকালবেলা আম্মু আর ছোট আন্টিকে জান্নাতদের বাসায় পাঠালাম, আমি যাই নি। আমি বাসা দেখিয়ে চলে আসলাম।
ওরা বাসায় গেলো, সবার সাথে পরিচিত হলো। বিয়ের কথা বলার পরেই......
ওরা বাসায় গেলো, সবার সাথে পরিচিত হলো। আম্মু জান্নাতের মায়ের সাথে বিয়ের কথা বলে, যদিও ওর আম্মু রাজি বাট এই মুহূর্তে জান্নাত বিয়ে করবেনা।
তারপর আম্মু জান্নাতের আম্মুকে বলে জান্নাতকে দেখানোর জন্য, বিয়ের কথা না বলে সিস্টেম করে জান্নাতকে দেখে। হাতে কিছু টাকা দিয়ে চলে আসে।
বাসায় এসে ছোট আন্টি আমাকে বলে,,,
--- বাহ! মেয়েতো একটা দারুণ দেখেছিস। এবার চাকরী একটা দেখ। না হলে বিয়ে করে খাওয়াবি কি?
--- আন্টি মাত্র পরীক্ষা শেষ হয়েছে, আর কিছুদিন পর রেজাল্ট দিবে। তারপর না হয় চাকরীর কথা চিন্তা করবো।
--- আচ্ছা ঠিক আছে।
এ কথা বলে আন্টি চলে গেলো। রাতের বেলা আম্মু আমার রুমে আসলো,,,,,
--- কিরে কি করিস? (আম্মু)
--- কিছু না, আমিও ডাইরি লেখা শুরু করছি।
--- কোনো লাভ নেই, যার জন্য ডাইরি লেখছিস সে বিয়ে করবেনা।
--- করবেনা মানে?
--- হুম, ছেলেদের উপর থেকে তার বিশ্বাস চলে গেছে। সে এখন আর বিয়ে করবেনা। করলেও সেটা পরে দেখা যাবে।
মনে মনে ভাবলাম বিয়ে না করে যাবে কোথায়? আজ থেকে যে কদিন বন্ধ আছে সে কদিন ওর পিছে পিছে হাটতে হবে। যদি একটুও ভালো লাগা কাজ করে তাহলে তো কোনো কথাই নাই।
এগুলো ভাবছি এমন সময় অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল আসলো...
--- নিজেকে কি মনে করেব, হুম? একদিন দেখলেন আর ভালো লেগে গেলো? তার উপর সোজা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে দিলেন? (মেয়ে)
তারমানে এটা জান্নাত হবে, তারপর আমি বললাম...
--- আচ্ছা আপনি আমার কথাটা শুনুন!
--- কিসের কথা শুনবো? এ বিষয়ে আর কোনো বাড়াবাড়ি করবেন না, যদি করেন তাহলে আপনার খবর করে ছাড়বো। বলে দিলাম,,,
--- কি খবর করবেন?
যাহ বলার আগেই কেটে দিলো, যেমন টা ভেবে ছিলাম তেমন টা না। আমি ভাবছি খুব ভদ্র আর শান্তশিষ্ট হবে এখন দেখি তার উল্টো। জেদি আর রাগি, যাইহোক এতো কিছু ভেবে লাভ নেই। কালকে থেকে ওর পিছে লাগমু।
পরের দিন ওর ক্যাম্পাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু তাকে দেখলাম না, মনে হয় আসেনি। এই ভাবে ২ দিন গেলাম কিন্তু ক্যাম্পাসে আসেনা।
আমিও নাছোড় বান্দা, একদিন না একদিন তো আসবেই।
এরপরের দিন আবার গেলাম। কলেজ ছুটি হয়ে গেলো, দেখলাম উনি আসছেন। মনের মধ্যে তো লাড্ডু ফুটতেছে।
দেখেও না দেখার ভান করে একপাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল টিপতেছি...
--- এই যে মি. এখানে কি করেন? (জান্নাত)
--- আরে আপনি! আমি তো একটা ফ্রেন্ডের বাসায় আসলাম। (আমি)
--- ও আচ্ছা।
--- হুম, তো আপনি এখানে কেন?
--- আমি এই ক্যাম্পাসেই পড়ি
মনে মনে বললাম সেটা তো আমি জানি, ওই দিন কফিশপে বলছে যে ভুলে গেছে মনে হয়।
এ কথা গুলো বলে জান্নাত চলে গেলো।
পরেরদিন আবারও গেলাম, ১২.০০ সময় দেখলাম আরো ২টা মেয়ে সহ বাহিরে আসছে, আমি আবারও নিচের দিকে তাকিয়ে মোবাইল টিপতেছি। আমাকে দেখে...
--- কিহ আজকেও কি ফ্রেন্ডের বাসায় আসছেন নাকি মি:?? (জান্নাত)
--- না মানে আজকে এলাকার ছোট ভাই একটার সাথে আসলাম। একটু দরকার ছিলো।
--- আপনার না পড়ালেখা শেষ, বসে আছেন কেন? কোনো জব করতে পারেন না?
--- হুম সব করবো আগে আপনি বিয়েতে রাজি হয়ে যান।
--- দেখুন মিঃ আপনি এখানে কেন আসেন সেটা আমি খুব ভালো করে জানি। শুধু শুধু সময় নষ্ট করছেন আপনার। আমি বিয়ে করছি না।
আর কোনো কথা না বলে ক্যান্টিনের দিকে চলে গেলো, আমি ভাবছি কি করা যায়।
এভাবে আরো ৫ দিন জান্নাতের পিছন পিছন হাটলাম কিন্তু কোনো কাজ হলো না। এর মধ্যে আমার রেজাল্ট দিয়ে দেয়।
খুব একটা খারাপ রেজাল্ট হয়নি আবার বেশি ভালোও না। মামা যেই কোম্পানিতে চাকরি করে ওটাতে আমার জন্য একটা দেখছে। সব গুলো কাগজ মামার কাছে জমা দিয়ে আসলাম।
৩ দিন পর মামা জানালেন যে চাকরির ইন্টার্ভিউ নিবে, আমাকে রেড়ি হয়ে চলে যেতে। আমিও গেলাম। ইন্টার্ভিউ দিয়ে চলে আসলাম।
সারা দিন চাকরীর পিছনে দৌড়াচ্ছি আর সন্ধ্যার সময় জান্নাতদের বাসার সামনে গিয়ে ঘুর ঘুর করি। সেদিন সাদে ছিলো আমাকে দেখে ফেলেছে।
আমিও না দেখার ভান করে মোবাইল চালাতে চালাতে বাসায় চলে আসছি। সেদিন রাতে মামা জানালেন চাকরি হয়ে গেছে।
১ সপ্তাহ পর জয়েন করতে। সব কিছু ঠিকঠাক।
পরেরদিন আবারো তার ক্যাম্পাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। একবার তাকিয়ে ভিতরে চলে গেলো। ধুর এতো কষ্ট করে পিছন পিছন হাটি আর আমাকে পাত্তাই দেয় না।
সেদিন রাতে বাসায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি, ৪ দিন আর ওর সামনে যাবো না। দেখি আমাকে মিস করে কিনা? হয়তো করবে না তুবও দেখি।
৪ দিন গেলাম না। কিন্তু কোনো কাজ হলো না। কি মেয়েরে বাবা একটুও দয়া মায়া নেই। এতো জেদি এরো রাগি মানুষও দুনিয়ায় থাকে।
সেদিন রাতে আম্মু রুমে আসলো। আম্মু আবার আমার সব প্লান সম্পর্কে জানে, আমাকে বললো....
--- কিরে কাজ হলো?
--- ধুর আর বলো না, তোমার বৌমা অনেক রাগি আর জেদি।
--- আমি গিয়ে আর একবার ওর মায়ের সাথে কথা বলবো?
--- না দরকার নেই। আরো কিছুদিন যাক তারপর দেখা যাবে।
--- আচ্ছা ঠিক আছে, কালকে না তুই জয়েন করবি? এতো রাত না জেগে ঘুমিয়ে পড়।
--- আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি যাও।
মনে মনে ভাবছি বালিকা বিয়ে করলে তোমাকেই করবো, আমাকে এতো ঘুরানোর ফল বিয়ের পর সুধে আসলে আদায় করবো।
পরের দিন অফিসে গেলাম, ভালোভাবেই দিনটা কাটলো।
এভাবে আরো ৩ দিন অফিস করলাম, জান্নাতের সাথে আর কোনো কথা হয়নি। সেদিন রাতে রুমে শুয়ে আছি আর ভাবছি জান্নাতের সাথে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে, এভাবে আর হবে না।
আমি জান্নাতকে কল দিলাম....
কয়েকবার দিলাম ধরলো না। ৫ম বারের সময় ধরলো...
--- কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন।
--- আপনার সাথে শেষ বারের মতো কথা বলতে চাই।
--- ওকে, কি বলবেন বলেন।
--- মোবাইলে নয়, সরাসরি বলবো।
--- সরি আমি দেখা করতে পারবো না।
--- কালকে তো শুক্রবার, প্লিজ শেষ বারের জন্য দেখা করেন। ওয়াদা দিলাম আর কখনো আপনাকে বিরক্ত করবো না।
--- আচ্ছা ঠিক আছে কোথায় আসতে হবে বলেন।
--- নাম্বারে sms করে দিচ্ছি।
--- আচ্ছা ঠিক আছে।
পরের দিন বিকালবেলা আমি রেড়ি হয়ে জান্নাতকে দেওতা ঠিকানায় চলে গেলাম। হাতে করে আমার লেখা সেই ডাইরিটা নিয়ে গেলাম। যেটা আমি জান্নাতের জন্য লিখেছিলাম।
প্রায় ৩০ মিনিট পর সে আসলো...
--- কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন আমার বাসায় কাজ আছে!
--- হুম বলছি। আগে বলেন কি খাবেন?
--- না আমি কিছু খাবো না।
--- আগে খেয়ে নিন, তারপর বলছি।
(এই মামা ২টা পিজ্জা আর ২ টা স্পাইট দেন)
দুজনে খেয়ে নিলাম, বললাম চলেন বাইরে যাই, ওখানে বলবো।
বাইরে এসে রাস্তার পাশে একটা গাছের নিচে বসলাম।
--- এবার বলুন কি বলবেন (জান্নাত)
--- যেদিন আমি আপনার ডাইরিটা পেয়ে ছিলাম সেদিন বাসায় এসে পড়তে শুরু করলাম। আর আপনাকে আমার ভালো লেগে যায়, বিশ্বাস করেন আপনার ছবিটা তখন আমি দেখিনি। অনেক বার আফসোস করলাম ওই সেজান ছেলেটা যদি আমি হতাম কতই না সুন্দর হতো। সেদিন আপনার ডাইরিটা আমার আম্মুকেও পড়ে শুনিয়েছি। আপনার কথা শুনে আম্মুও বলেছে আপনার মতো একজনকে আমার বউ বানাবে। তখন আমরা জানতাম না যে আপনার সাথে সেজান এমন একটা আচরণ করেছে।
ডাইরিটা পড়ার পড় আপনাকে পুরোপুরি আমি ভালোবেসে ফেলি, আপনার ডাইরি আর চশমা নিয়ে আমি ৮ দিন ওই রাস্তার বসে আছিলাম। আপনি আসবেন ভেবে। কিন্তু আসেন নি।
আমিও হাল ছাড়িনি। আমার বন্ধুকে দিয়ে আপনার সিমের সব ডিটেলস বের করি। আপনাকে কল করে আসতে বলি।
যেদিন শুনলাম সেজান আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে, সেদিন আপনার প্রতি আমার ভালোবাসাটা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
মনে মনে বললাম বিয়ে করলে আপনাকেই করবো, আর কাওকে নয়।
প্রথমে ভাবলাম আপনাকে প্রপোজ করবো, বাট আপনি হয়তো আমাকে আর বিশ্বাস করবেন না, সেজন্য সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। আমার ধারনা ছিলো বিয়েতে আপনার অমত থাকবে না।
কিন্তু আপনি বিয়েটা না করে দিলেন। তবুও আমি হাল ছাড়িনি। আপনার পিছনে লাগা শুরু করলাম।
বেহায়ার মতো দিন নেই রাত নেই আপনার পিছে ঘুরেছি। আমার আম্মুও বলেছে যে আপনার
সাথে সাথে থাকার জন্য। আপনার যত গুলো ভালো লাগা ছিলো সব গুলো আমি করেছি।
আপনার কদমফুল পছন্দ ছিলো, তাই আপনার বাসার নিচে প্রতিদিন কদম ফুল দিয়ে আসতাম আর দূর থেকে দেখতাম আপনি কি করেন।
অনেক রাত পর্যন্ত আপনার বাসার নিচে ঘুরেছি, শুধু একবার আপনাকে দেখার জন্য।
কয়েকদিন হলো আমার চাকরী হয়ে গেছে, তাই এই কয়েকদিন আপনাকে আর জ্বালায় নি।
যেটা বলার জন্য আসছিলাম। এই পৃথিবীর সব গুলো মানুষ খারাপ নয়, জীবন তো একটাই। কেন একজনের জন্য সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকবেন।
আমি বলবো না যে আমাকে বিয়ে করেন, অন্য কাওকে হলেও বিয়ে করে জীবনটা নতুন করে শুরু করেন।
এতে আপনার বাবা মা একটু হলেও শান্তি পাবে, দুঃচিন্তা মুক্ত হবে। ওনাকের কথা চিন্তা করে নাহয় জীবনটা শুরু করেন।
আর এতো দিন ডিস্টার্ব করার জন্য সরি। আমি আর আপনার পিছন পিছন ঘুরবো না। যদি কোনো খারাপ কথা বলে থাকি ক্ষমা করে দিবেন। নিজের পছন্দ মতো কাওকে নিয়ে জীবনটা আবার শুরু করেন।
আর কষ্ট করে আসার জন্য ধন্যবাদ। এটা নিন... (ডাইরি টা হাতে দিয়ে)
----- কি এটা? (জান্নাত)
--- একটা ডাইরি। যেদিন থেকে আপনাকে ভালো লাগে সেদিন থেকে আমিও ডাইরি লিখি কিন্তু আমার ভালো লাগায় তো আপনার কিছু আসে যায় না, তাই ভাবলাম আর লিখবো না। ধরেন এটা নিন।
---- (ডাইরি টা নিলো)
--- আমার কথা শেষ, এবার আপনি আসতে পারেন।
জান্নাত আর কিছু না বলে ডাইরিটা হাতে নিয়ে চলে গেলো। আমি তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি।
১ সপ্তাহ চলে গেলো জান্নাতের কোনো খবর নেই।
আমি রাতে রুমে বসে বসে এনামএর সাথে চ্যাট করতেছি এমন সময় আম্মু আসলো....
--- কিরে কি করিস?
--- কিছু না।
--- একটা খুশির সংবাদ আছে।
--- কি!
--- জান্নাত বিয়েতে রাজি হয়েছে!
--- আরে কি বলছো এসব?
---- হুম, কিন্তু...
--- কিন্তু কি?
--- ও চায় বিয়েটা কালকেই করতে এবং ঘরোয়া পরিবেশে হবে, কয়েকজন রিলেটিভ থাকবে আর কেউ নই। আর ওর স্টাডি শেষ হতে আর কিছু দিন সময় লাগবে। তারপর অনুষ্ঠান করবে।
--- আরে এটা কোনো ব্যাপার না, তুমি শুধু আব্বুকে সিস্টেমে রাজি করিয়ে দাও।
--- আচ্ছা ঠিক আছে।
বাহ! অবশেষে বিয়েটা করতে রাজি হলো। ওই দিনের কথা গুলো কাজ হয়েছে। ইশ! লুঙ্গি ড্যান্স দিতে ইচ্ছা করছে।
পরের দিন ওদের বাসায় বিয়েটা শেষ হলো, আমরা পাশাপাশি বসে আছি। আমি বললাম....
---- ওহে বালিকা! শেষ পর্যন্ত আমাকে বিয়ে করলে?
--- হুম, না করে উপায় আছে? ডাইরিটা পড়ে তো আমি ফিদা হয়ে গেছি।
--- তাহলে এতো দিন যে আমাকে কষ্ট দিলে ওগুলোর প্রতিশোধ নিবো।
--- দেখা যাবে কে কি করে! তার আগে আপনাকে সাইজ করবো।
---- হিহিহি তাই নাকি?
---- হুম তাই। (কানটা একটু টেনে দিয়ে)
....